Saturday, July 20, 2024

জুলাই2024

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

জুলাই2024










বীজমন্ত্রের মুক্তি দাও নজর উল ইসলাম

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

বীজমন্ত্রের মুক্তি দাও
নজর উল ইসলাম 


বীজমন্ত্রের মুক্তি দাও খোরাকি বুকের অনুবাদ হোক
ফুলে ছেপে যাক ঘনঘোর ভালবাসা 
ভারসাম্যের আলো ফুটুক অভিমানী মনে 
সাঁতরে বেড়াক জোছনার অলি-ভ্রমরে 
মন ভেঁজে রাখা রাতের উপন্যাস হব
কুটিকুটি হবে ওজর অজুহাত 
তিতাসের দেশ নদীমাতৃকা জানি — রোজই সে 
ওড়ায় আকুল প্রেম-প্রপাত 
সব পাখিরাই বাসিন্দা প্রাণান্ত বনে 
না হয় পাগলামি একরাশ জোনাক ঝরে 
হারিয়ে ফেলেছি মন-ভাসানের কলি 
ঝরাপাতার শিল্প গড়া আগুন উন্মনে 
মৃগয়া তো জাতধর্মে লিখিনি কোনদিন 
বাঁশি ব্যাকুল অবিরত শুনি গল্পগাছে 
বোঝাও দেখি বিনত শিকড়ের সম্ভার খানি...

দুর্বৃত্তের রোষানল ডাঃ জাফর মোল্লা

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

 

 দুর্বৃত্তের রোষানল 
ডাঃ জাফর মোল্লা
 



দুষিত সমাজ বিষাক্ত আজ 
দুর্বৃত্তদের রোষানলে।
উষ্ণ শ্রাবণ ভরা নয়ন 
সৎ সততায় যারা চলে।।

সমাজের রন্ধ্র করছে ছিদ্র 
ক্ষতিকর কীটের রূপ ধরে।
কোন কীটনাশক করলে প্রয়োগ 
বলো এরা যাবে মরে??

এদের অন্তঃকোষ করে ফোঁস ফোঁস 
সময়ে অসময়ে।
সহজ সরল মানব সকল 
বাক্য হীন এদের ভয়ে।।

কুট মন্ত্রনা বিচার বিবেচনা 
জটিল এদের দিলে।
ছেঁড়ে বন্ধন লাগায় বিভাজন 
গুটি গুটি তলে তলে।।

ভীত সন্ত্রস্ত করে সর্বত্র 
ক্ষমতার দাম্ভিকতায়।
সাধারণ জনগণ হয় পেরেশান 
প্রতিবাদ হীনতায়।।

এরা আনাড়ি দল ভারী 
মিথ্যার বেসাতি পরা।
ছলে বলে কলে কৌশলে
ফাঁদ পাতে মানুষ মারা।।

এদের বংশ না করলে ধ্বংস 
সমাজ হবে শেষ।
সভ্যতার ধারা যাবে মারা 
ধ্বংস হবে দেশ।।

চাবির রিং জয়নাল আবেদিন

সাহিত্যের অঙ্গনে !!


চাবির রিং 
জয়নাল আবেদিন


দাড়িতে সাবান বোলাতে বোলাতে পরপর দুবার প্রেসার কুকারের সিটির আওয়াজ শুনলে মোবিন। রেজারে ব্লেড লাগাতে লাগাতে কান উঁচিয়ে মিলির উপস্থিতি টের পাওয়ার চেষ্টা করলো। অন্য সময় টুংটাং চুড়ির আওয়াজ ভাসে বাতাসে, যখনই কিচেন রুমে থাকে মিলি।
আজ কেমন যেন অস্বাভাবিক লাগছিল ব্যাপারটায়। তাহলে কি সে কিচেন রুমে নেই।
   কতবার এই ব্যাপারটা নিয়ে ঝগড়া করেছে মিলির সঙ্গে। মিলি মানতেই চায়না যে, কাজের লোক এনে তার রান্না মোবিনকে খাওয়াবেে। নিজের হাতে রান্না করবে, টেবিলে সাজিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে খাওয়াবে। এর অধিকার তার একচেটিয়া থাকবে। অন্য কেউ এ ব্যাপারে হাতে নিক বা দেওয়া হোক এটা ভাবতে মিলির কষ্ট হয়।
   সাদা সাবানের আস্তরণ সরে চকচকে- ঝলমলে একটা মুখ বের হল মোবিনের মিলিকে আস্তে করে হাঁক দিলে। আজ একটু তাড়া আছে বেরোনোর। অন্য দিন এর ফাঁকেই কিচেন রুম থেকে বারদুয়েক আসা হয়ে যায়। অথচ আজ...
   পৃথিবীতে একমাত্র মিলিই মনে হয় আছে, যে কিনা জন্মলগ্ন ছাড়া কোনদিন কাঁদে নি। এক বস্ত্রে যেদিন বাড়ি ছেড়েছিল মোবিনের সঙ্গে, সেদিনের কথা মিলি কোনদিন ভুলতে পারবে না।
 --এটাই কি তোমার শেষ কথা ?
 --হ্যাঁ ।
--মা- বাবা, কারো কথা তুমি ভাববে না ?
--ভাববো নিশ্চয় ই, তবে মোবিনকে ছোট না করে।
--তোমার এ কথা বলতে লজ্জা করেনা ? বেরিয়ে যাও। কোনদিন এ বাড়িতে তোমার মুখ দেখতে চাই না।
 মা ঢুকরে কেঁদে উঠলো। বাবার মুখ থমথমে। মিলি নিঃশব্দে বেরিয়ে এলো বাড়ি থেকে। তখনও তার চোখে কান্না আসেনি।

   দুটো বছর কি সংগ্রামের মাঝে কাটাল দুটো জীবন। অনভ্যস্ত জীবনে দুটি প্রাণী বেঁচে থাকার, টিকে থাকার কি অবিরাম সাধনা করে চলেছে।
 --কেন, এমন জীবন চাইলে মিলি ?
--সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার নামই তো জীবন।
--এ সংগ্রাম তো তোমায় মানায় না। আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে এতে।
--তোমায় সুখের অনুভূতিটুকু জাগিয়ে দিতে এ কষ্ট আমি সারা জীবন বুকে পেতে নিতে পারি।
 এভাবেই বছর কেটেছে দুটো জীবনের চাহিদা বিহীন। কৃত্রিম কিছুকে জীবনে কখনো ঠাঁই দেয়নি মিলি। ফলে ছোট্ট ভাড়া করা ঘরে কষ্ট করেও নতুন সংসার পেতে ছিল মবিনের সঙ্গে। সে জানতো মোবিনের বুকের মাঝে আশ্রয় পেলে আর কোন কিছুর প্রয়োজন থাকবে না তার।
  মনে পড়ে যায়, প্রথম দিনের সেই পরিচয় এর কথা। আজও ছবির মতো দৃশ্যপট সরে সরে যায় মনের ভিতর দিয়ে। মিলি দু চোখের পাতা বন্ধ করে সেই দৃশ্য দেখে তৃতীয় চোখ দিয়ে।

ইউনিভার্সিটি গিয়েছিলো কি একটা কাজে। দুপুর নাগাদ বাড়ি ফেরার জন্য দাঁড়িয়েছিলো সামনের বাসস্ট্যান্ডে। চারদিক হঠাৎ কেমন যেন শুনশান হয়ে গেল এক মুহূর্তে। গাড়ি যাওয়া- আসা করছে না। দোকানগুলো ক্রমশ বন্ধ হয়ে গেল। কোথায় যেন কি হয়েছে। একটা সময়ের মুহূর্তে কলেজ স্ট্রিটের মতো জনবহুল এলাকা শ্মশান ফাঁকা। লোকজন যারা আছে ফিসফাঁস- কানাকানি করছে। কেমন যেন হিম ধরা ভয় বুকে মোচড় দিয়ে উঠলো মিলির। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করার চেষ্টা করেও পেরে উঠেনি। আচ্ছন্ন করে দিল হাত পা। ঠায় দাঁড়িয়ে বাস স্ট্যান্ডে।
  --আপনি কি বাসের অপেক্ষায় আছেন ? হঠাৎ কন্ঠস্বর ভেসে এলো কানে, পাশে তাকিয়ে একটা যেন অবলম্বন পেলে মিলি।
 --হ্যাঁ, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি ! কোন গাড়ি দেখছি না।
 --পুলিশের গুলিতে মিছিলকারী কিছু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই সব কিছু বন্ধ হতে চলেছে। কিন্তু, আপনি কোন দিকে যাবেন ?
 --আমি বেহালা যাব।
 --এখান থেকে যাওয়া মুশকিল। হেঁটে শিয়ালদা গেলে কিছু পেতে পারেন।
 --আপনি কোথায় যাবেন ?
--উদ্দেশ্যহীন। সামনে কয়েক পা এগিয়ে গিয়েও ফিরে এলো। গেলে আসতে পারেন। অবশ্যই বাড়ি ফেরার ইচ্ছা থাকলে।
 বুকটা কেমন ছ্যাৎ করে উঠলো মিলির। কোথায় যেন তলিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। যা হোক অন্ধের যষ্টি, তবুও তো এ সময়ের অবলম্বন। আসতে পা চালিয়ে এগোল।
 কখনো পাশাপাশি। কখনো সামনে- পেছনে হাঁটছে ওরা। কেউ কোন কথা বলেনি। ফ্লাইওভারের সামনেই হঠাৎ একটা ট্যাক্সি পেল ওরা। প্রথমে সে কোনমতে রাজি হয়নি।
 --আরে নেহি সাব, উধার জানে সে বহুৎ মুসি বাত হো জায়েগা।
 --কুছ নেহি হো গা। চালিয়ে না। দিদি মনে হ্যায় না। বহুত মুশকিল হো জায়েগা।
--দেড়শ দেনা পারেগা ।
 --বহুৎ জাদা বল দিয়া তুম। শ লিজিয়ে না।
--ছোড়িয়ে সাব। জাউঙ্গা নেহি।
--গুসসা মাত কিজিয়ে। চালিয়ে।
  দুজনে দরজা খুলে গাড়িতে বসলে। ফ্লাইওভার টপকে গাড়ি এ জে সি বোস রোড ধরে এগিয়ে চললো।
কিছুটা নিশ্চিন্ত হল মিলি। এত সহজে সবকিছু সমাধান হলো যে মানুষটার জন্য। কেমন অদ্ভুত লাগছে তার। পাশাপাশি বসেও ছেলেটা তার দিকে তাকাইনি একবার ।কোন শব্দ খরচ করেনি একটাও । বড় অদ্ভুত তো !
 মিলি বললে, -- আপনি কোথায় যাবেন ?
 এই প্রথম মুখ ফিরিয়ে চোখাচোখি মোবিন বললে, -- আপনাকে চৌরাস্তা নামিয়ে দিয়ে, গাড়ি যদি আর নিয়ে যায়- তাহলে আর কিছুদূর যাব।
 মিলি বললে, -- কতদূর সেটা ?
 মবিন বললে, -- জোকা মোড়।
--যদি গাড়ি না যায় তাহলে কিভাবে যাবেন ? মিলির কৌতূহল। আপনি কলেজস্ট্রিট কোথায় গিয়েছিলেন ?
মোবিন একটু হেসে ফেলল, বললে - চরণযুগল তো সচল আছে অসুবিধে নেই। আর আপনার মতোই ইউনিভার্সিটি ক্লাস ফেরতা।
  বাকি রাস্তাটুকুতেই সহজ হলো কথাবার্তায়। শুনশান ফাঁকা রাস্তায় গাড়ির গতিবেগে, কম সময়ে চৌরাস্তা পৌঁছালো ওরা। তবে আর এগোতে চাইলে না ডাইভার। নেমে মোবিন ভাড়া দিতে গেলে মৃদু আপত্তি করলো মিলি।
--ভাড়াটা আমার দেওয়া উচিৎ। মিলি বললে।
--কেন ? আমার উচিৎ নয় কেন ? মোবিন টাকা দিতে দিতে বললে।
--আপনি তো আমার দায়িত্ব নিয়ে পৌঁছে দিলেন। না হলে কোথায় পড়ে থাকতাম। কি হতো ভাবতে পারছি না। মিলি বললে।
--ঠিক কথা। পরে কোনদিন সময় হলে শোধবোধ করে দেবেন। মৃদু হাসলো মোবিন।

টেবিল সাজানো ব্রেকফাস্ট। জামাকাপড় পরে খাবার খেয়ে- ব্যাগ হাতে বেরতে গিয়েও, মিলির সামনা-সামনি হলো মোবিন। গালে একটা টোকা দিয়ে লাভ ইউ বলে বেরিয়ে গেল। মুখে হালকা হাসির রেখায় চলে যাওয়া পথে চোখ রেখে উদাস হয়েছিল মিলি।
 কষ্টের জীবন ফেলে এসে- স্বপ্ন সফল সময় পেয়েছে তারা। বিগত এই ছ'বছরে তাদের জীবনে অনেক- অনেক পরিবর্তন এসেছে। মোবিন ভালো চাকরি পেয়েছে। সাদার্ন এভ্যিনিউতে ফ্ল্যাট নিয়েছে। মিলি চাকরি করতে চেয়েছিলো। তাকে চাকরি করতে দেয়নি মোবিন।
 --যে কষ্ট তুমি আমার জন্য করেছো। সমস্ত পৃথিবীকে দূরে ঠেলে এমন সেক্রিফাইজ অনেকেই করতে পারে না। আমার জীবনকে অনেকটা পালটে দিয়েছো। বাকি জীবনটা তোমার কোন কষ্ট আমি দেখতে চাই না।
-- যাহ, এভাবে বলছো কেনো ? কষ্ট দুজনেই করেছি । সফল হতে পেরেছি সেজন্যই। মিলি হাসিমুখেই বললে।

  প্রথম দেখা থেকেই মোবিনকে মিলি একজন সরল- সফল পুরুষ হিসেবে ভেবেছিল। তারপর মাঝেমধ্যে ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে দেখা হতো। দুজনের কথা হতো। বই পাড়ায় পুরনো বই কেনার নেশা ছিলো মোবিনের। সঙ্গ দিতো মিলি। পাশাপাশি হেঁটে শিয়ালদা স্টেশন। বাড়ি ফেরা। পরিচয় থেকে ক্রমশ প্রণয়ের পর্বেই গড়ালো তাদের সম্পর্ক। তখন দুজনেরই এম এ টা কমপ্লিট হয়েছে মাত্র। মিলি প্রথম জানালো মা'কে তাদের সম্পর্কের কথা।
 --কি বলছিস তুই ভেবে দেখেছিস ? একটা মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করবি ? কথাটা শুনলে তোর বাবা মেনে নেবে ? মা যেন আকাশ থেকে পড়লো।
--কেন ও কি মানুষ নয় বলে মনে হচ্ছে ? আর জাত-পাত আমি কখনোই মানি না। সোজা কথা, সোজা ভাষায় জানালে মিলি।
--তুই লেখাপড়া করে এতটা উচ্ছন্নে যাবি ভাবতে পারছি না ! পাড়ায় মান- সম্মান বলে কিছু থাকবে আমাদের ? তোর পরের ভাই- বোনদের কথা ভাববি না ? তাদের জীবনে তোর এই অপবাদ ক্ষতি করবে না ? মা যেন কঁকিয়ে উঠলো একটু।
--মা-গো, এখনো সেই পুরনো খোলস পরে থাকবে । যে মেয়েটা রোজ আমাদের দুধ দিয়ে যায় তার নাম রহিমা। যার কাছে রোজ সবজি কেনো, সেই ছেলেটার নাম ফারহাদ। যে মুদির দোকানে বাবা বাজার কেনে, তার নাম কালু চাচা।
--চুপ কর, আমাকে জ্ঞান দিতে হবে না। পয়সা দিয়ে কেনা হয়। ফাওয়া নিই না । মায়ের উত্তর।
  বাবাও ক'দিন পর জেনেছিল কথাটা। কোন প্রতি উত্তর দেয়নি তখন। কেমন যেন হতবাক হয়েছিলো। স্বাভাবিকতায় আসার দিন কয়েক পর, এক সকালে চা খেতে বসে আমাকে ডেকে বললে, --আমি শুনেছি তোমার জীবনের চরম সিদ্ধান্তের কথা। আর সেটা যদি তুমি একান্তই বাস্তবায়িত করতে চাও। তাহলে এই বাড়ির দরজা তোমার চিরদিনের জন্য বন্ধ থাকবে। তোমার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকবে না। আমার সিদ্ধান্ত জানালাম । তোমার যেটা পছন্দ করতে পারো। বাবা বেশ শান্ত গলায় বললে কথাগুলো।
   মোবিনের বাড়িতে ও বয়েছিলো ঝড়। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের ছোট ছেলে। এক দাদা, বিবাহিত দিদি। বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। দাদা কে এম সির ইঞ্জিনিয়ার। নির্ঝঞ্ঝাট সেকেলে পরিবার। বাবার কানে কথাটা যেতে সোজা বলে দিয়েছে।
--বিয়ে যেখানে ইচ্ছে- যাকে ইচ্ছে করতেই পারে। আমার আপত্তির কিছু নেই। তবে যেহেতু বাড়ির মতামতে বিয়ে নয়। বাড়ি এমন বিয়ে অনুমোদন করবে না। আর এই বাড়ি থেকে বিয়ে হবে না। বিয়ে করে এই বাড়িতে থাকাও যাবে না। এটাই আমার শেষ কথা।
  মোবিন চুপচাপ শুনেছিলো বাবার অভিমত। মায়ের চোখে দেখেছিলো জলের আভা। এক বন্ধুর সাহচর্যে মহামায়াতলায় এক প্রাইভেট স্কুলে মাস্টারি জুটে গেলো। বাচ্চাদের স্কুল। কলেবরে বেশ জাঁকজমকপূর্ণ । ছটা মাস চলার পর মোবিন বুঝেছিলো, কাছাকাছি ঘর ভাড়া নিয়ে সংসার বাঁধবে ওরা।
  শুরু হলো মোবিন- মিলির নতুন যাত্রাপথ। রেজিস্ট্রি বিয়ে করলে দুজন। সহজ জীবনের অঙ্গীকার নিয়ে। মানুষের পরিচয়ের জন্য দুটো নাম দুজনের। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। বাকিটা এক পুরুষ এক নারীর এগিয়ে চলার শপথ।
 মোবিন বলতো, -- জীবনটা একটা সংগ্রাম। এগিয়ে যাওয়া কখনো- পিছিয়ে পড়া আবারও। এভাবেই সময় চলে সময়ের সাথে।
   মিলি বলতো, -- জীবনটা একটা আপোষ শুধুই। বোঝাপড়ার উপর দাঁড়িয়ে। সুখ-দুঃখ, চাওয়া- পাওয়া, মান-অভিমান। সবটাই আপোষ আর বোঝাপড়ার গণ্ডির মধ্যে থাকলে। কোন সমস্যা থাকে না। হবেও না কোনকাল।
  এখন মোবিন- মিলির এক নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কোন সংস্কার নেই। কোন বিরোধিতা নেই। চাপিয়ে দেওয়া কোন মতবাদ নেই। দুটো মানুষ তাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সংস্কার মুক্ত এক পৃথিবী তৈরির অঙ্গীকার করেছে। তাদের একমাত্র সন্তানের নাম রেখেছে মানব।
  ছেলে ফিরেছে কিছুক্ষণ আগেই স্কুল থেকে। তারই পরিচর্যায় ব্যস্ত মিলি। সন্ধ্যা পেরিয়েছে। দিগন্তে অন্ধকার নেমেছে। মোবিন ফিরলো অফিস থেকে। প্রথমত তিনজনে দাঁড়িয়ে গোল হয়ে একে অপরকে আঁকড়ে ধরলো। ঠিক যেন একটা চাবির রিং।



কবিগুরুর মিনি অনুপ কুমার জানা

সাহিত্যের অঙ্গনে !!



কবিগুরুর মিনি
অনুপ কুমার জানা


পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ে 
       নাম তার মিনি ,
সহজ সরল অবুঝ মেয়ে
     সবাই মোরা জানি ।

   কাবুলিওয়ালার ডাক শুনে সে 
" কাবুলিওয়ালা , ও কাবুলিওয়ালা " 
  আসলো যখন কাবুলিওয়ালা
     ভীত হোল মিনির খেলা ! 

বন্ধু হোল অবশেষে দু'জন
    চললো কথা অনর্গল , 
অসম বয়স , -- কি হয়েছে তাতে
 রহমতের হৃদয়ে স্নেহের দোল !

আসতে থাকলো প্রত্যহ রহমত
       মিনি এখন সাহসী , 
কাটলো না ভয় মায়ের তবু 
       বাবার পাচ্ছে হাসি !  

  একি হোল সহসা একদিন -----
     হাতকড়া রহমতের হাতে !
বকেয়া পাওনায় গড়রাজি হওয়ায় 
       ক্ষিপ্ত হয়েছে অসতে !

  জেলে গেল খুনের দায়ে 
    কাবুলিওয়ালা রহমত ,
মিনির নিকট আসা-যাওয়া 
    বন্ধ হোল কিছু যাবৎ !

হাজির হোল রহমত একদিন
      মিনির সেদিন বিয়ে ,
আপত্তি সাধলো বাড়ির সবাই
    কবিগুরু আসলো নিয়ে ! 

" খোঁকি তুমি শ্বশুর বাড়ি যাবে ? " 
     জিজ্ঞাসিল রহমত মিনিরে ,
 নামিয়ে মুখখানি লজ্জায় মিনি 
     নীরবে ফিরলো অন্দরে ! 

 অশ্রু আসলো রহমতের চোখে ;
" আমার ল্যাড়কিটিও এ'বয়সের ,
সময় হয়েছে তারও বিয়ে দেবার
    একি অক্ষমতা বাপের "! 

নিদান সোমনাথ ঘোষ

সাহিত্যের অঙ্গনে !! 


নিদান
সোমনাথ ঘোষ



ডাক্তার হাকিম ও সব কবিরাজ
আর আছে যারা প্রিয়জন আমার
বলছে সবে থাকতে সুস্থ সবল ভাই
চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে সর্বক্ষণ তাই। 

এই নিদান শুনে আমার প্রশ্ন জাগে মনে
চিন্তা মুক্ত মানব কেমন দেখিনি তো জীবনে
একমাত্র দেখেছি তাদের যারা জড়বুদ্ধি পাগল
না আছে কোনও চিন্তা তাদের না আছে কিছু সম্বল। 

নিদান দিতে সবাই পারে অনিহা দায় নিতে
ব্যস্ত সবাই যে যার কাজে আছে ভীষণ মেতে
অচল যা কিছু আছে এ বিশ্বে বিদ্যমান
এতো ভাই চিরন্তন নেই যে কোনও এর দাম।

নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন