Thursday, August 29, 2024
দাঁত কাহন
সাহিত্যের অঙ্গনে !!
দাঁত কাহন
শয়নে স্বপনে জাগরণে
তুমি ছিলে মোর সাথে
আগে তো বুঝিনি প্রিয়
আমার জীবনে তোমার
এতোটাই গুরুত্ব আছে।
কি জানি কোন অভিমানে
প্রবল বিদ্রোহের অভিলাষে
কেটেছিল মোর নিদ্রাহীন নিশি
অবিরাম ক্ষমাহীন কষাঘাতে।
সোমনাথ ঘোষ
যে কয়েকটি নিরীহ দাঁত ছিল
কপাল দোষে সে কটাও তুলতে হল
বিবাহ পরবর্তী কালে গিন্নি যখন এল ঘরে
দিয়েছিল অতি যত্নসহকারে তুলি
মোর বিষ দাঁত গুলি।
গতকাল ত্যাজিয়া প্রিয় তোমারে
আজিকে বুঝি অন্তরে অন্তরে
কষ্টসাধ্য সকাল দুপুর রাত্রিরে
উদরস্থ করিতে সকল আহারে।
যমজ সন্তান
সাহিত্যের অঙ্গনে !!
যমজ সন্তান
দুইটি আমার যমজ সন্তান
সুন্দর ফুটফুটে তারা ,
উল্লসিত আমি ওদের পেয়ে
ভালোবাসায় দিশেহারা !
কাটিয়েছি আমি স্বাভাবিক জীবন
ওদের গর্ভে রেখেই ,
কর্মে গেছি ঠিক পূর্ব দিনে
ভয়-ভীতি ব্যাতিরেকেই !
আশা ছিল একটি পুত্র সন্তান
পূর্ণ হয়েছে আজ ,
দিয়েছে ভগবান দুহাত ভরে
আজ খুশিতে মমতাজ !
শশুর - শাশুড়ির আনন্দ কতো
স্বামীরও স্বর্গ সুখ ,
প্রশংসায় আমার পঞ্চমুখ এখন
বিসর্জন সকল দুখ !
আনাগোনা সদাই আত্মীয় পরিজন
প্রত্যেকের মুখে হাসি ,
দাদু-দিদার এখন স্বপ্ন পূরণ
গর্বিতও বড় মাসি !
অফিসের পম্পা পিসি বেজায় খুশি
খোঁজ নেয় প্রতিদিন ,
পাপিয়া , মাম্পি , পিয়ালীও অপেক্ষায়
আঁতুর-অশুচির বিলীন !
টিউশনে ব্যাস্ত সন্ধ্যা সাতটায়
শম্পা দিল খবর ----
" জন্ম দিয়েছে উমা যমজ সন্তান
আলোকিত উমেশের ঘর " !
" মানুষ করবো আমি মনের মতো "
উমা নিয়েছে পন ,
" রাখবো সদাই কোলে-পিঠে
সমৃদ্ধি হবে জীবন ! "
অনুপ কুমার জানা
ঝঞ্ঝা
সাহিত্যের অঙ্গনে !!
ঝঞ্ঝা
ঝড় বৃষ্টিতে কোথাও একটা আটকে পড়েছে
নিদ্রালু আশাবরী
অজান্তেই আপোষ করেছে কেয়ামতের সাথে
আর সব সম্ভাবনা ছিকটে পড়ে নিশির ডাকে
গুঁড়ো গুঁড়ো জল আঙিনা ভাসায় প্রপঞ্চময়
আত্মঘাতী হাওয়া চতুর্দিক ফুঁড়ে বেরিয়েছে
বাতি ক্ষয় হয় ফালাফালা ঝঞ্ঝায় এ রাত্রে
চিবুকে রাখা আছে
অঝোর বজ্রস্নান
রহিত ঘোষাল
মহাজীবন
সাহিত্যের অঙ্গনে !!
মহাজীবন
কুসংস্কার আর কুপ্রথার বেড়াজালে
একসময় মানুষ হয়ে পড়েছিল জর্জরিত
ঠিক সেইসময় সমাজকে বাঁচাতে
মহাপুরুষদের আর্বিভাব হয়েছিল
প্রদীপের শিখার মতো।
রামমোহন রায় থেকে বিদ্যাসাগর
বিবেকানন্দ থেকে রবীন্দ্রনাথ
এক,এক করে কত মহাপুরুষদের
আর্বিভাব হয়েছিল আমাদের দেশে
আমরা কতটুকু শিক্ষা নিচ্ছি
এদের জীবন ও কর্ম থেকে?
আজ মানুষ ভোগবাদে নিমজ্জিত
কর্তব্য ও আদর্শ থেকে হচ্ছে বিচ্যুত
যতদিন যাচ্ছে দূর্নীতিতে হচ্ছে আসক্ত
একমাত্র মহাজীবনের আলোই পারে
সমাজকে করতে কলুষিত মুক্ত।
অভিজিৎ দত্ত
আমি এক উন্মনা মেঘের কাছে
সাহিত্যের অঙ্গনে !!
আমি এক উন্মনা মেঘের কাছে
আমি এক উন্মনা মেঘের কাছে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি
সৎ সন্ন্যাস পুষে মিশেছি মহামন শিল্পঘরে
এই যে এঁকে যাচ্ছি অলেখা আলোর উন্মুখ অমরতা
ফুলের সুবাসিত আদিগন্ত অন্তহীন নিরন্তর ব্যথায়
কখনও দেখিনি শকুন খুঁজিনি মিথ্যের নিস্পৃহতা
শুধু ওড়াতে চেয়েছি পাগলপ্রায় স্বপ্ন অভিসার
মেঘের গায়ে লেগে থাকা অন্ধকার আস্তরণ নিংড়ে
কীভাবে দলের অবিরত খেলা খোলস বদলায়
একদিন সব জড় হয় পাখির নিসর্গ জলবন্ধন
যা এতদিন অঙ্কুরে ছিল আজ আনত সঞ্চারি...
নজর উল ইসলাম
কাঁপবে বাতিল
সাহিত্যের অঙ্গনে !!
কাঁপবে বাতিল
রাজপথের ঐ লড়াইয়েতে
থাকতে তোমার হবে!
বাতিলের এ রাজপ্রাসাদ টা
উঠবে তবে কেঁপে।।
প্রয়োজন হলে দিতে হবে ঢেলে
শরীরের তাজা খুন।
দাম্ভিক সবে ঝরে যাবে
শিরায় ধরবে ঘুন।।
বলিষ্ঠ কন্ঠে নেমে মাঠে
করা চাই প্রতিবাদ।
জুলুমকারীর রক্ত চক্ষু
হবে তবে বরবাদ।।
যাদের হাতে রক্ত ঝরে
নিপাত যাবে তারা।
লড়াইয়ের মাঠে এক সাথে
শক্ত হয়ে দাঁড়া।।
হবে খর্ব সকল দর্প
খসে যাবে রে গদি।
কাঁধে কাঁধ মিলি তোরা সকলে
এগিয়ে চলিস যদি।।
অত্যাচারের স্ট্রীমরোলার
স্তিমিত হয়ে যাবে।
তোদের হুঙ্কারে নতুন কোরে
নতুনত্ব গঠন হবে।।
চুপটি করে ঘরের কোণে
থাকিস না রে আর।
ছাত্র যুবক আর সব লোক
হয়ে ওঠ দুর্বার।।
ডাঃ জাফর মোল্লা
Wednesday, August 28, 2024
তবুও
সাহিত্যের অঙ্গনে !!
তবুও
পাড় ভাঙলে নদীর যন্ত্রণা হয় না
শুধু উপকূল হয় ব্যথায় বিবর্ণ,
সীমাহীন নৈঃশব্দ শব্দের মধ্যে
ছড়িয়ে পড়ে ভাঙ্গনের শব্দ |
প্রত্যাশা, তৃপ্তি ,পূর্ণতা না পেলে
চলমান জীবন আর স্বপ্ন দেখেনা ,
পরাজিত সৈনিকের মত হারিয়ে যায়
রাত্রির ভুবন ডাঙ্গার অন্ধকারে ৷
একটাও ভালোবাসার দোপাটি ফুল ফোটে না।
চোখে ভাসে না সাত মহলা,
শুধু মন খারাপের কৃষ্ণ মেঘ
আলোহীণ করে জীবন উঠোন।
তবুও নদীকে ছুঁতে চাই
গড়িয়ে যাওয়া পাথরের মতো
কিংবা স্রোতের ভাসমান শ্যাওলার মতো
না হলে পৌঁছানো যাবে না
একদম কাঙ্খিত সাগর সঙ্গমে ৷
সত্যেন্দ্রনাথ বেরা
পাচন
সাহিত্যের অঙ্গনে !!
পাচন
দোষে-গুণেই মানুষ।
দোষ একটাই। হলধর প্রায় তিনজনের খাবার একাই গোগ্রাসে গিলে ফ্যালে; যেমন কুচকুচে গায়ের রং, তেমনি অসুরের মতো শক্তি শরীরে।
একবার মাঠে নামলে মোষের মতো ঘোঁস-ঘোঁস করতে করতে একসাথে তিনজনের কাজ চুটকিতে একাই সেরে ফ্যালে।
শশধর সমাজদারের মতো এককালের জমিদার গোছের কিছু মালিক তা মানতে চান না কিছুতে। তাঁদের কাজ চাই, একহাতে আরও বেশী কাজ চাই ওঁদের।
'বড়লোক' হলেও সবার মনটা তো আর ততটা 'বড়ো' হয় না; 'ছোটলোকি' স্বভাব আর কঞ্জুসি ভাবটা সহজে যায় না।
গড়িমসি আর গা-জোয়ারি করতে করতে 'জলপানের' সময়টা পার করে শশধর যখন 'গামলা' ভরা পান্তাভাতের পরিবর্তে স্রেফ বেতের একঝুড়ি সাদা খই নিয়ে 'জমির চাষ পরখ করতে' হাজির হয়েছিল হলধরের সামনে.....
মাথার উপরের জ্যৈষ্ঠের ঝনঝনে চড়া সূর্যের ঝাঁঝটা সহ্য করে তখনও হলধর ঘুড়ছিল বলদ জোড়ার পিছে পিছে!
বহুক্ষণ ধরেই পেটে তার আগুন জ্বলছিল, আর চিনচিন করে ভেতরটা সমানে পুড়ছিল....
তাই, মাথার উপরের চড়া সূর্যটাকে সহ্য করলেও হলধর আর কিছুতেই সহ্য করতে পারল না শশধরের এমন 'ইতরামো'!
আচানক, একলাফে তাড়া করে জাপটে ধরলো শশধরকে আর মুহূর্তে বলদজোড়াকে ছেড়ে 'হালের জোয়ালে' বেঁধে ফেললো শশধরকে!
তারপরই সপাসপ পিঠে 'হ্যালাপান্টির' পাচন....
চল!..হুট..হুট.! চল....
উত্তম ভট্টাচার্য
শিউলিফুল
সাহিত্যের অঙ্গনে !!
শিউলিফুল
এখানে বাস্তবিক ; জেগে আছে শিউলি ,
তার অপরূপ শোভন ঝরে পড়েছে
নম্র ঘাসের কোলে
তার ঝরে পড়া প্রিয় সুন্দরম্ প্রায় যেন হাসছে
ও মোহনে ; হারিয়ে যায়নি সুঘ্রাণ এখনও ।
বড়ই মধুময় সে অনুভব আমার শিউলি
এতটুকু জীবনে সেই সত্য
আমি তার নাম লিখেছি তারই ঝরে পড়া লাবণ্য দিয়ে ।
অপরিবর্তিত একাগ্রতায় ; একই বাস্তবে -
শরতের মধুর বাতাসের চুম্বনে ;
কাশফুল মাথা দুলে দুলে বুঝি ,
ও শিউলি তোমাকে জানায় বাহবা ।
এখানে কত অনুভূতি মিশে ,
দেখা যাচ্ছে চোখের সামনে
এখানে গভীর কত স্বপ্ন ,
জেগে থাকে চোখের আলোর মতন ;
জ্যোৎস্না জ্বলা রাতে
শিউলির ছায়ায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে শিউলির দিকে ।
রাজকুমার ব্যাধ
Subscribe to:
Posts (Atom)
নবতম প্রকাশিত সংখ্যা
অপূর্ণ স্বপ্ন
অপূর্ণ স্বপ্ন বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...
