Tuesday, June 2, 2026

অপূর্ণ স্বপ্ন


অপূর্ণ স্বপ্ন 

বিপ্লব মাহাতো


পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা,
ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা।

ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে
যাবো দূরদেশে,
এ কী!
আজ তুমি অন্য এক বেশে।

সিঁথিতে সিঁদুর, হাতে শাঁখা,
যে ছবি দেখেছিলাম,
এ এক অন্য ছবি আঁকা।

Mukur online
বিপ্লব মাহাতো



কবি পরিচয় :
বিপ্লব মাহাতো জি.এন.আই.এইচ.এম.-এর দ্বিতীয় বর্ষ চতুর্থ সেমেস্টারের ছাত্র। বিষয় হোটেল ম্যানেজমেন্ট এন্ড ক্যাটেরিং টেকনোলজির ছাত্র। বিভিন্ন ব্লগে ও পত্রিকায় কবিতা লিখে থাকেন।

Friday, May 22, 2026

কাঁচা আমের ঝাল আচার

কাঁচা আমের ঝাল আচার

উষ্ণিক ভট্টাচার্য (জি.এন.আই.এইচ.এম.)




আমের আচার বাঙালির খাদ্যতালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। বাঙালির রসনা ভুবন বিখ্যাত। শুক্তো, ডাল, ঝাল, ঝোল, তরকারি, চাটনি, পায়েস – এমন হাজারো পদে সাজানো থাকে তার খাবার পাত। সেই খাদ্যতালিকায় আরও বৈচিত্র্য আনে কাসুন্দি, আচার প্রভৃতি বিচিত্র খাদ্যসামগ্রী। 

গ্রীষ্মকাল আমের মরসুম। যে বিপুল পরিমাণ আম বাংলার গাছে গাছে ফলে তাকে সারাবছর ধরে ধীরে ধীরে ব্যবহার করার একটি উপায় হল কাঁচা আমকে আচার বানিয়ে রাখা। তাই প্রাচীন কাল থেকেই বাঙালির ঘরে বহুবিধ আমের আচার প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। আজ আমরা তেমনই একপ্রকার আচার বানানো শিখব। যার নাম কাঁচা আমের ঝাল আচার। 

উপকরণ ~


এই আচার বানাতে কি কি উপকরণ প্রয়োজন? জেনে নিন নিচের লিস্ট থেকে:

কাঁচা আম – ১ কেজি
কালো সরিষা – ১ টেবিল চামচ
শুকনো মরিচ – ২টি
কালো জিরা – ১/২ টেবিল চামচ
পাঁচফোড়ন – ১ টেবিল চামচ
মৌরি – ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা – ২ টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়া – ১ চা চামচ
সাদা ভিনেগার – ১/২ কাপ
সরিষার তেল – ১ কাপ
নাগা মরিচ – ৫-৬ টি (বড় টুকরো করা)
লবণ – স্বাদমতো
চিনি – ১/৩ কাপ

প্রস্তুত প্রণালী ~


কীভাবে তৈরী করবেন কাঁচা আমের ঝাল আচার রেসিপি? নিচের ধাপগুলো ফলো করুন:

১. আম প্রস্তুত করুন: 
আমগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন। খোসা ছাড়ানো ছাড়াই মাঝখান থেকে কেটে বীজ ফেলে দিন। এরপর আমের টুকরোগুলোকে আপনার ইচ্ছেমতো আকারে কেটে নিন।

২. আম ভিজিয়ে রাখুন:
একটি বড় বাটিতে জল নিয়ে তাতে আমের টুকরোগুলো ১৫-২০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। এরপর জল বদলে আমগুলো আবার ধুয়ে নিন এবং শুকনো ট্রেতে ছড়িয়ে রোদে শুকিয়ে নিন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমের জল পুরোপুরি শুকিয়ে না যায়।

৩. মশলা তৈরি করুন:
একটি প্যানে মৌরি, কালো সরিষা, শুকনো মরিচ, কালো জিরা, পাঁচফোড়ন একসাথে ভেজে নিন। তারপর ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে গুঁড়ো করে নিন।

৪. মশলা মেশান:
গুঁড়ো মশলায় রসুন বাটা ও হলুদ গুঁড়া মেশান। তারপর সাদা ভিনেগার দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

৫. আচার রান্না করুন:
একটি পাত্রে এক কাপ সরিষার তেল গরম করে মশলার মিশ্রণটি দিয়ে নেড়ে নিন। নাগা মরিচের টুকরোগুলোও দিয়ে দিন এবং ১০ মিনিট কষিয়ে নিন।

৬. আমগুলো ঢেলে দিন:
এরপর তাতে আমের টুকরোগুলো দিয়ে দিন। স্বাদমতো লবণ দিয়ে মিশিয়ে নিন। কিছুক্ষণ পরে চিনি যোগ করুন এবং ভালোভাবে মেশান।

৭. জ্বাল করুন:
মাঝারি আঁচে ৪০ মিনিট ধরে আচারটি জ্বাল দিন। এই সময়ে আম থেকে যে জল বের হবে তা দিয়েই আম সিদ্ধ হবে, তাই আলাদা করে জল দিতে হবে না। ৪০-৫০ মিনিট পর আম সিদ্ধ হয়ে এলে স্বাদমতো লবণ-চিনি চেক করে নিন এবং প্রয়োজনে আরও দিন। এরপর আরও কিছুক্ষণ জ্বাল দিন।

৮. ফাইনাল টাচ:
শেষে কাঠির সাহায্যে কয়েকটি আমের টুকরো ভেঙে দিন যাতে মশলার ফ্লেভার আমের ভেতরে ঢুকতে পারে।


মুকুর অনলাইন


লেখক পরিচয় :

উষ্ণিক ভট্টাচার্য জি.এন.আই.এইচ.এম.-এর দ্বিতীয় বর্ষ চতুর্থ সেমেস্টারের ছাত্র। বিষয় হোটেল ম্যানেজমেন্ট এন্ড ক্যাটেরিং টেকনোলজির ছাত্র। বাঙালির খাদ্য-রসনা বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ আছে। তাই তা নিয়ে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করেন।

Monday, April 13, 2026

2026এপ্রিল

মুকুর অনলাইন

সকল কে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। তিনটি ভিন্ন স্বাদের কবিতা নিয়ে একটি ছোট্ট সংস্করণ প্রকাশিত হলো..
সকলের কাছে পড়ার অনুরোধ রইলো।


পাগলিনী

অনন্যা ঘোষ

হাহাকার

পাগলিনী

মুকুর অনলাইন


পাগলিনী।
সোমনাথ ঘোষ।


বেশ কয়েক দিন ধরে
দেখছি পাড়ায় করছে ঘোরাঘুরি
একটি শ‍্যামলা পাগলী গোছের মেয়ে
পরনে শতছিন্ন ময়লা এক জামা
কি জানি কোথা থেকে এল
নেই কাহারও জানা।

বয়স তো দেখি নয়তো বেশি
শীর্ন ক্লিষ্ট কিন্তু মুখে সদাই হাসি
কি জানি কি যে খায়
কোথায় যে রাত কাটায়?

পরিধেয় বস্ত্রের অবস্থা করুন
ঢাকতে লজ্জা যতটুকু প্রয়োজন
উপযাচক হয়ে করেনি কেউ তো আয়োজন
কহিত তো না কথা কভু কার‌ও সনে
অথবা বকবক করিত না আপন মনে ।

কেউ কিছু দিলে খাবার তরে
নিত খেয়ে দেখতাম তৃপ্তি করে
মাতৃ ভাষা কোনটি তাহার
ধর্ম টা বা কি
কেউ কখনও এটা নিয়ে মাথা
ঘামায়নি‌।

থাকতো সে নিজের মনে করতো ঘোরাঘুরি
করুন মুখটি ছিল বড় মায়াময়
কি জানি কাদের বাড়ির মেয়ে
সে যে বড্ড অসহায়।

বিগত বেশ কয়েক দিন ধরে
দেখি না তো পাগলী মেয়েটারে
কি জানি যে কোথায় গেল
শেষে কি ওর নিজের বাড়ি
ফিরে পেল?

হঠাৎ করে এক সকাল বেলায়
আসছে দেখি সেই অবলা অসহায়
প্রায় উলঙ্গ নারী শরীর নিয়ে
দেখি কোন এক পাপিষ্ঠ দূর্মুখ
মাতৃত্বের বীজ দিয়েছে বুনে।

ভারাক্রান্ত অসহায় মনটা নিয়ে
কত কিছুই করছি কাটা ছেড়া
লজ্জায় মরমে আমি দিশেহারা
অন‍্যায় করেছে এক পশুসম দূর্মুখ
আমি ও যে তার‌ই মত এক মানুষ।

বিগত এই পাশবিক অন‍্যায়ের
প্রতিবাদে
হয়েছে কত মোমবাতির মিছিল
মানবাধিকারের কত‌ই না কচকচি
কিন্তু আজ কে করিবে প্রতিবাদ
অবলা অসহায় পাগলীটারে যোগাতে আশ্বাস।

অনন্যা ঘোষ

মুকুর অনলাইন


অনন্যা ঘোষ 
পৃথ্বীরাজ কামিলা



তুমি যে অনন্যা -
"তোমার প্রাণেতে বহিছে প্রেমের বন্যা "।
নারীর প্রকৃত প্রেম নয়ন অশ্রু জলেতে গাঁথা স্বর্গের স্বপ্নে সাজানো এক প্রেম চিহ্ন ।
গোলাপ যতই সুন্দর, তবু তার নেই গন্ধ - 
আমার কাব্যে আছে শুধু প্রেম ছন্দ। 
আমায় তুমি ঝরে যাওয়া বাসি ফুলের মতো ফেলে দিও না ।।
তুমি যে রজকিনী - 
জ্যোৎস্নার রুপোলি আলোয় তোমার ফুলের খোঁপায় তুমি যে মায়াবিনী ।
এসেছো যেন স্বর্গের পরী , 
ময়াময় রসের রূপ ধরি । 
আমি কেমন করে চাইবো তারে -
তারি ঝরে যাওয়া মধুময়ী ফুলের গন্ধ ,
তারি নুপুরে লেগে থাকা নিঃশব্দ প্রেম ছন্দ 
তারি আঁচলে লেগে থাকা প্রেমময়ী স্পর্শ।
মধু বিনা কেমন চলে যায় আপন দিবস রজনী -
তুমি যে আপন ভালোবাসায় বাগানে ফুটে থাকা কামিনী 
মধু বিনা নিঃশ্ব এ জীবন তুমি যে একাকিনী 
ঝরে যাওয়া বাসি ফুলে নেইতো তোমার মধুযামিনী 
তুমি বিনা করুণ অসহায় নিঃশ্ব এ জীবন , হে সুপ্রিয়বাদিনী ।।
তুমিও মরবে একদিন -
তবু তুমি মোর প্রাণেতে তোমার হৃদয় দিলে না 
আর আমার মতো প্রেম তুমি মাটি খুঁড়েও কোথাও পাবে না ।
কত জনমের পর মধুর ফুল ফোটাবো বলে এসেছি 
অপেক্ষার আশায় তোমায় আমি ভালোবেসেছি।
তুমি তারে ফেলে দিয়েছো শুকনো ফুলের মতো 
ঠেলে দিয়েছো তারে তুমি বিরহের জ্বলন্ত চিতার অগ্নিকুন্ডের মতো ,
পরজনমে তোমার এই পাপ ছাড়বে না তো তোমারে। 


হাহাকার

মুকুর অনলাইন

হাহাকার
ডাঃ জাফর মোল্লা 



মনুষ্য সমাজ হিংস্র আজ 
চারধারে খুনোখুনি।
বারুদের গন্ধে মানুষের রন্ধ্রে 
চলছে শির কাঁপুনি।।

নতুন ভোরে কর্ণ গোচরে 
আসে হাহাকার ধ্বনি।
বাঁচার স্বপ্ন হয় রুগ্ন 
নয়নে রক্তিম পানি।।

হায়নার দল ছাড়ে অনর্গল 
গুলি বোমা রোজ।
মৃত্যু মিছিল হচ্ছে সামিল
কতো রয় আবার নিখোঁজ।।

মাংস হাড় হচ্ছে ছাড়
বোমার দগ্ধ আঘাতে।
পায়না ছাড় খাচ্ছে মার
শিশু মরে মার বুকেতে।।

মানবের চিৎকারে আর হাহাকারে
হচ্ছে ভারি বাতাস।
জীবিত যারা করছে তারা 
সদাই হায় হুতাশ।।

আর কতকাল চলবে এ হাল 
জীবন কাড়ার খেলা।
নিকৃষ্ট কাজে থাকলে মজে 
ভাব নি ফুরালো বেলা।।



Monday, December 1, 2025

ছাতিম তলার পাশে রাজর্ষি মন্ডল

মুকুর অনলাইন


ছাতিম তলার পাশে 
রাজর্ষি মন্ডল

আবারও তো ফেরা যায়
ছাতিম তলার পাশ দিয়ে, শিউলি ঝরা পথ ধরে
চোখে মুখে হিম মেখে, দুহাতে এক আঁজলা হিমঝুরি ফুল নিয়ে
তোমার সমাধির পাসটিতে গিয়ে দাঁড়াতেও পারি।

বিকালে তোলা উনুনে রান্নার ফাঁকে
মরে আসা আবছা আলোয় ধোঁয়ায় আবডালে তোমার কুয়াশামাখা মুখে
নবান্নের আমন ধানের গন্ধ।
আলতো চোখে তাকিয়ে, হলুদ আলোর ওম মেখে,
তুমি বললে, চাদরে মাথাটা ঢেকে নিও।
তখনো নিকানো উঠোন জুড়ে ধান সিদ্ধর হাঁড়ি
আর নলেন গুড় জাল দেওয়া তোমার সেই আগুন রাঙা মুখে
মিঠা হাওয়ার বার বার করে ছুঁয়ে ছুঁয়ে ফিরে যাওয়া।

দূরের মাঠে একমুঠি জোনাকির নরম ডাকে
আঁকা ছবিগুলো অস্পষ্ট হতে হতে
বারে বারে ফিরে ফিরে আসে হেমন্ত।

সত্যিই কি ফিরে আসে?

Wednesday, November 26, 2025

শেষ বিকেলের ছায়া" সঙ্গীতা মহাপাত্র

মুকুর অনলাইন

শেষ বিকেলের ছায়া"
সঙ্গীতা মহাপাত্র

শহর থেকে দূরে, একটা শান্ত টিলার ওপর ছিল ওদের ছোট পৃথিবী। অনির্বাণ আর সৃজিতার ভালোবাসা ছিল অনেকটা এই টিলার মতোই – মজবুত, নিরিবিলি, আর চারপাশের কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ওদের প্রেম বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে। অনির্বাণ ছবি আঁকত, তার ক্যানভাসে থাকত সৃজিতার মুখ। আর সৃজিতা? সে কেবল হাসত, আর অনির্বাণের কাঁধে মাথা রেখে দেখত দূরের নীল আকাশ কীভাবে সন্ধ্যার রঙে ডুবছে।
সৃজিতা জানত, অনির্বাণ কোনোদিন বিখ্যাত শিল্পী হতে পারবে না। অনির্বাণও জানত, সৃজিতা একজন অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ডাক্তার, যার গন্তব্য এই টিলার নিচে, ব্যস্ত শহরের আরও গভীরে। তবু ওরা ভালোবাসত, যেন প্রতিটা দিন একে অপরের সাথে থাকার শেষ সুযোগ। প্রতিটা স্পর্শে, প্রতিটা নীরব চাহনিতে ওরা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিত। ওদের সেই গভীরতা বাইরের জগতের কাছে ছিল অদৃশ্য, যেন দুজন ডুবুরি মহাসমুদ্রের গভীরে নিজেদের এক আলাদা জগৎ তৈরি করেছে।
এরপর সেই দিনটা এল। সৃজিতার ডাক এল অনেক দূরের এক দেশ থেকে – এক বিশাল সুযোগ, যা তার জীবনের সব স্বপ্ন পূরণের চাবিকাঠি। অনির্বাণ একটাও কথা বলেনি। সে শুধু এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে সৃজিতার জন্য একটা ক্যানভাস তৈরি করে দিয়েছিল। ক্যানভাসে ছিল তাদের প্রিয় টিলাটা, কিন্তু উপরে কোনো আকাশ ছিল না, ছিল শুধু গাঢ় ধূসর মেঘের প্রতিচ্ছবি।
সৃজিতা চলে গেল। বিমানবন্দরে তারা শেষবার হাত ধরল, কিন্তু কেউ চোখের দিকে তাকায়নি। বিরহের শুরুটা হলো নীরব, কোনো অশ্রু বা চিৎকার ছাড়াই।
তারপর কেটে গেল এক বছর। অনির্বাণ আর টিলা ছাড়ে না। সে প্রতিদিন একই সময়ে, একই জায়গায় বসে থাকে, যেখানে সৃজিতা বসত। সে আর ছবি আঁকে না, কেবল পেন্সিল দিয়ে পুরনো ক্যানভাসের সাদা অংশে এলোমেলো রেখা টানে।
একদিন সকালে, অনির্বাণ একটি চিঠি পেল। সৃজিতার হাতে লেখা, কিন্তু তাতে কোনো ভালোবাসা বা প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি ছিল না। শুধু দুটি লাইন:
“তুমি যেখানে ছিলে, আমি সেখানে পৌঁছাতে পারিনি। আর আমি যেখানে এসেছি, সেখানে তোমাকে আনা সম্ভব নয়। তুমি ভালো থেকো।”
অনির্বাণের হাত থেকে চিঠিটা খসে পড়ল। সে দেখল, আজ তার ক্যানভাসের ওপর ধূসর মেঘগুলো সরে গিয়ে শুধু সাদা শূন্যতা পড়ে আছে। তার গভীর ভালোবাসা আজ আর গভীর নয় – তা এখন এক চিরন্তন বিরহ, যা টিলার মতো স্থির, কিন্তু ভেতরের দিকটা ফাটল ধরা। অনির্বাণ জানে, তার এই নীরব অপেক্ষার আর কোনো শেষ নেই। সৃজিতার পথ এগিয়ে গেছে, আর তার পথটা থেমে গেছে সেই শেষ বিকেলের ছায়ায়।






শৈশবের খোঁজে প্রভাত ভট্টাচার্য

মুকুর অনলাইন





শৈশবের খোঁজে
প্রভাত ভট্টাচার্য


সে খুঁজে বেড়াতে থাকে
তারা হারানো শৈশব
যেখানেই থাকুক না কেন
খুঁজে বার করবেই
জলে অরণ্যে গুহায়
অথবা কৃষ্ণগহবরে
চাই তার সাথে পুনর্মিলন ।
ঐ তো দাঁড়িয়ে আছে
সেই বিস্মৃত শৈশব
সেই উঠোন, ছাদ
হরেক মজা যত, আর
গল্পবলা ঠাকুমা
সবই রয়েছে আগের মত ।
সে হাঁটতে থাকে
শৈশবের হাত ধরে।





স্রোতের সঙ্গে সমীর কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

মুকুর অনলাইন



স্রোতের সঙ্গে
সমীর কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়


স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাই
আমজনতা আমরা সবাই
ভালো মন্দ ঠিক বেঠিক
এসব ভাবার সময় নাই
আসলে পিছনে কারা যেন
দিচ্ছে ঠেলা কষে হেন
নিরুপায় হয়ে ভাসছি ঠিক
জল মাপবার অবসর নাই।



ধারা শোভন মণ্ডল

মুকুর অনলাইন


ধারা
শোভন মণ্ডল

তোমাকে অবশেষে আবিষ্কার করি
খড়ের গাদার ঠিক বিপ্রতীপে আলোর কিরণ আসে
উল্টান তানপুরার মতো তুমি
পড়ে আছে একলাবেলায়

ঠিক তোমারই তলদেশ দিয়ে বয়ে যায় তরল, উষ্ণ স্রাব
বহুমাত্রিক সেই ধারা, স্রোত
কোথায় শঙ্খ, কোথায় তুমি
কোথায় ভগীরথ?


হারানো ঠিকানায় তসলিমা লস্কর

মুকুর অনলাইন


হারানো ঠিকানায়
 তসলিমা লস্কর



“ওরা আমাকে খুব মেরেছে দীর্ঘ তিন বছর ধরে । দেখুন , সেই সব আঘাতের চিহ্ন । রক্ত জমে আছে কালো হয়ে ।” বলতে বলতে সরিফান গভীর শোকে প্রায় বাগরুদ্ধ হয়ে দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে বেদনার নোনা জল ।
আহ্বায়ক বললেন – “এখানে আপনার কান্নাটা অপ্রাসঙ্গিক নয় । আমাদের এই “আপন ঠিকানা” অনুষ্ঠানে আপনার মত প্রায় ৮ শতাধিক মানুষ কেঁদেছে । কেউবা হারানোর বেদনায় , কেউবা ফিরে পাওয়ার আনন্দে । বলুন মন খুলে শুনবো আপনার সব কথা ।”

“আমার বাবা ভাঙ্গারির ব্যবসা করতে করতে অনেক টাকা দেনা হয় । দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে বাবা আমাদের ছোট্ট বাড়িটা বিক্রি করে দেয় । তারপর থেকে আমরা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতাম । দেনা মিটিয়ে বাবা বাড়িওয়ালির কাছ থেকে মোটা টাকা ধার নিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করে । কিন্তু দ্বিতীয় বারও বাবার আরো বেশি টাকা লোকসান হয় । গ্রামের পাঁচ কাঠা জমি বিক্রি করে বাড়িওয়ালির দেনা শোধ করে দেবে বলে বাবা আমাদের দুই ভাই বোনকে রেখে দেশের বাড়িতে চলে আসে । সপ্তাহখানেক পর বাবা ফোন করে বলে – “ আমি কাল টাকা নিয়ে যাচ্ছি ।” পরদিন সকাল দশটার পর আমার চাচার ফোন থেকে কল আসে । খরব শুনি বাবা হঠাৎ সকালে হার্ট অ্যাটাক করে এন্তেকাল করেছে । আমি আর দাদা কেঁদে বুক ভাসাই । কিন্তু বাড়িওয়ালি তবুও আমাদের ছাড়ে না । দু একদিন পর বাড়িওয়ালি দাদাকে ছাড়লো কিন্তু আমাকে ছাড়লো না । দাদা বাড়িওয়ালির কাছে প্রতিশ্রুতি দেয় আমি যে করে হোক এক মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে আমার বোনকে নিয়ে যাব । কথামতো দাদা এক মাসের ভিতরে টাকা জোগাড় করে নিয়ে আসে । কিন্তু ওরা টাকা কেড়ে নিয়ে দাদাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয় , আমাকে যেতে দেয় না । দাদা যাবার সময় কাঁদতে কাঁদতে বলে – “চিন্তা করিস না বোন গ্রামের সবাইকে জানিয়ে আমি এক-দু দিনের মধ্যে তোকে নিয়ে যাব । পরদিন হয়তো লোকজন নিয়ে আমার দাদা এসেছিল । কিন্তু বাড়িওয়ালি রাতারাতি বাড়ি বদল করে আমাকে নিয়ে অনেক দূরে কোন অজানা ঠিকানায় চলে যায় ।
তারপর থেকে আমার উপর অমানবিক অত্যাচার করতে শুরু করে । আমি প্রায় তিন বছর অত্যাচার সহ্য করতে বাধ্য হয়েছি । তারপর আমি একদিন অনেক কৌশলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে আসি । তখন আমার বয়স ১১ বছর । কোথায় যাব কি করব কিছু বুঝতে পারছিলাম না । একটা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম । এক ভদ্রলোক বর্তমানে যিনি আমার বাবা , কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করে । আমি ওনাকে সব কথা বলি উনি আমাকে ওনার বাড়িতে নিয়ে যায় । সেই থেকে ওনাদের মেয়ের পরিচয় আমি বড় হই । ওনারা আমাকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়েছেন । ওনারা না থাকলে হয়তো আমি ভেসে যেতাম । ওনারা আমাকে নিজের বাবা মা’র মতো ভালবাসেন । কিন্তু তবুও আমার জন্মদাতা মা , আর দাদার জন্য আমার মন বড় কাঁদে ।” বলতে বলতে বেদনায় সরিফানের দু’চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে ।
আহ্বায়ক বললেন – “ চিন্তা করবেন না আপনার আপনজনদের ফিরে পেতে আমরা সর্বতোভাবে সাহায্য করবো ইনশাল্লাহ ।”
যথাসম্ভব সরিফানের কাছ থেকে সংগৃহীত ঠিকানা আহ্বায়ক “আপন ঠিকানা” অনুষ্ঠানে প্রচার করেন ।
১৫ -১৬ দিন পর একদিন রাত ১১ টা নাগাদ সরিফানের ফোনে একটা নতুন নাম্বারে কল আসে । ফোন আলাপের পর বুঝতে পারে সেটা তার দাদা । সরিফানের আনন্দে হৃদয়টা উচ্চশিত হয়ে ওঠে । তার দাদা শামীম নিজের পরিচয় দিয়ে দু’-চার কথা বলে ,বলে – “মা সারাক্ষণ শুধু তোর কথা বলে । মা এখন ভীষণ অসুস্থ তাই তোর কোন খবর এখনো মাকে জানানো হয়নি । আগে মার সঙ্গে কথা বল ।”
পরিচয়ের পর সরিফানের মা ফরিদা বলে – “মারে তোর জন্য আমার জীবনটা হুহু করে । তোর একবার দেখা পেলে শান্তিতে মরতে পারবো । কখন আসবি তুই ?

সরিফান – “কাল আমরা যাচ্ছি কেঁদোনা মা , আল্লাহ সব ভালো করে দেবে ।”
  এই ২৫-২৬ বছর ,সাহানাজ নিজের মা দাদার আদর সোহাগ থেকে বঞ্চিত । এত বছর পর হারানো আপনজনদের ফিরে পাওয়া যে কি আনন্দের তা একমাত্র আল্লাহ জানেন । আনন্দে যেন সারারাত ভালো করে ঘুম এলোনা ।
        পরদিন খুব সকালে বের হয়ে তারা সপরিবারে পৌঁছে যায় তার মা দাদার কাছে । পুনর্মিলনের আনন্দে তারা পরস্পর কেঁদে বুক ভাষায় । মা ফরিদা বানুর শারীরিক অবস্থা ভালো নয় । বাঁচার আশা নেই বলে ডাক্তার ফিরিয়ে দিয়েছেন , গায়ে প্রচন্ড জ্বর বইছে । হারানো মেয়েকে ফিরে পেয়ে এক নিমিষে সম্পূর্ণ সুস্থ অনুভব করে ফরিদা বানু । মেয়ের সঙ্গে মন খুলে প্রায় মধ্য রাত পর্যন্ত গল্প করে ।
ফরিদা বানু বলে – “মা তোর পেয়ে যে আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছি দেখ । কত জ্বর ছিল আমার গায়ে সব সেরে গেছে । এখন গরম


লাগছে আমার মাথার কাছে জানালাটা খুলে দিয়ে তোরা গিয়ে সব শুয়ে পড় , রাত প্রায় একটা বাজে । সরিফান জানালা খুলে পাশের তক্তাপসে মেয়েকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে । ফজরের আজান শুনে ঘুম ভাঙ্গে । মা ..মা…বলে সরিফান ডাক দেয় মা আর সাড়া দেয় না ।
     কাছে গিয়ে দেখে , মাথার কাছে উন্মুক্ত জানালা‌ থেকে ওপাশের ফুটন্ত বকুল ফুল গুলো উড়ে এসে ছড়িয়ে পড়েছে মার সারা দেহে । মনে হয় কেউ ছড়িয়ে দিয়ে গেছে তার দেহের উপর । জানালা থেকে মিঠে রোদের আলো এসে স্পর্শ করেছে মার মুখ । ভোরের শান্ত স্নিগ্ধ বাতাসের ছোঁয়ায় এলোমেলো চুল গুলো উড়ছে প্রশান্তির বাতাসে । যেন পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছে মার স্পন্দনহীন দেহ… ।




December 2025

মুকুর অনলাইন 2025



কবিতা

  1. শুয়ে থাকি মানচিত্রে   || রানা জামান
  2. শৈশবের খোঁজে || প্রভাত ভট্টাচার্য
  3. ধূসররঙ || সঞ্জিত কুমার বর্মণ
  4. স্রোতের সঙ্গে || সমীর কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. ব্যাধ ও ব্যাধিনী ||শামীম নওরোজ 
  6. দুটো নদী" || নয়ন মণি মিশ্র
  7. কথা হবে না || রহিত ঘোষাল
  8. ভাগ্যের চাকা || মোঃ আব্দুল রহমান 
  9. শুভাকাঙ্খী || সোমনাথ ঘোষ।
  10. ধারা|| শোভন মন্ডল
  11. ছাতিম তলার পাশে || রাজর্ষি মন্ডল

গুচ্ছ কবিতা

রম্যগল্পঃ

  1. সতান  || প্রদীপ কুমার দে 

গল্পঃ

  1. শেষ বিকেলের ছায়া" || সঙ্গীতা মহাপাত্র
  2. হারানো ঠিকানায় || কলমে --- তসলিমা লস্কর 













 











 









কথা হবে না রহিত ঘোষাল

মুকুর অনলাইন


কথা হবে না
রহিত ঘোষাল



নিজেরই অতীত খুঁড়ে
নিজের পচন দেখি
যে কাঠ ভিজে গেছে
তা দিয়েই জ্বালাই চিতা
ও ঘাটের নাম বৈধব্য
সময় বড় বিপ্রতীপ
চূড়ান্ত কিছুই বলা যাবে না
তুমিও তো মূল্য দাওনি
আমি একা বয়েছি সব ভার
নিখুঁত বলে তোমায় ডাকি
উলে বোনা সেদিনের ঝড়
আর কক্ষনো কথা হবে না
আর কক্ষনো কথা হবে না



দুটো নদী নয়ন মণি মিশ্র

মুকুর অনলাইন


দুটো নদী
নয়ন মণি মিশ্র

দুটো নদী
বুক পকেটে কথা বলছিল
ওরা আর নদী
হয়ে বাঁচতে চায় না
মরুভূমি হবার আর্জি জানিয়ে
ওরা প্রবাহদের ছুড়ে দিয়েছে
স্মৃতির শহরে....
ওরা এত কিছু তো পেয়েছে
একথা শুনে
নদীগুলো হঠাৎ যেন
বৃষ্টি হয়ে গেল !



নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন