Wednesday, November 26, 2025

শেষ বিকেলের ছায়া" সঙ্গীতা মহাপাত্র

মুকুর অনলাইন

শেষ বিকেলের ছায়া"
সঙ্গীতা মহাপাত্র

শহর থেকে দূরে, একটা শান্ত টিলার ওপর ছিল ওদের ছোট পৃথিবী। অনির্বাণ আর সৃজিতার ভালোবাসা ছিল অনেকটা এই টিলার মতোই – মজবুত, নিরিবিলি, আর চারপাশের কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ওদের প্রেম বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে। অনির্বাণ ছবি আঁকত, তার ক্যানভাসে থাকত সৃজিতার মুখ। আর সৃজিতা? সে কেবল হাসত, আর অনির্বাণের কাঁধে মাথা রেখে দেখত দূরের নীল আকাশ কীভাবে সন্ধ্যার রঙে ডুবছে।
সৃজিতা জানত, অনির্বাণ কোনোদিন বিখ্যাত শিল্পী হতে পারবে না। অনির্বাণও জানত, সৃজিতা একজন অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ডাক্তার, যার গন্তব্য এই টিলার নিচে, ব্যস্ত শহরের আরও গভীরে। তবু ওরা ভালোবাসত, যেন প্রতিটা দিন একে অপরের সাথে থাকার শেষ সুযোগ। প্রতিটা স্পর্শে, প্রতিটা নীরব চাহনিতে ওরা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিত। ওদের সেই গভীরতা বাইরের জগতের কাছে ছিল অদৃশ্য, যেন দুজন ডুবুরি মহাসমুদ্রের গভীরে নিজেদের এক আলাদা জগৎ তৈরি করেছে।
এরপর সেই দিনটা এল। সৃজিতার ডাক এল অনেক দূরের এক দেশ থেকে – এক বিশাল সুযোগ, যা তার জীবনের সব স্বপ্ন পূরণের চাবিকাঠি। অনির্বাণ একটাও কথা বলেনি। সে শুধু এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে সৃজিতার জন্য একটা ক্যানভাস তৈরি করে দিয়েছিল। ক্যানভাসে ছিল তাদের প্রিয় টিলাটা, কিন্তু উপরে কোনো আকাশ ছিল না, ছিল শুধু গাঢ় ধূসর মেঘের প্রতিচ্ছবি।
সৃজিতা চলে গেল। বিমানবন্দরে তারা শেষবার হাত ধরল, কিন্তু কেউ চোখের দিকে তাকায়নি। বিরহের শুরুটা হলো নীরব, কোনো অশ্রু বা চিৎকার ছাড়াই।
তারপর কেটে গেল এক বছর। অনির্বাণ আর টিলা ছাড়ে না। সে প্রতিদিন একই সময়ে, একই জায়গায় বসে থাকে, যেখানে সৃজিতা বসত। সে আর ছবি আঁকে না, কেবল পেন্সিল দিয়ে পুরনো ক্যানভাসের সাদা অংশে এলোমেলো রেখা টানে।
একদিন সকালে, অনির্বাণ একটি চিঠি পেল। সৃজিতার হাতে লেখা, কিন্তু তাতে কোনো ভালোবাসা বা প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি ছিল না। শুধু দুটি লাইন:
“তুমি যেখানে ছিলে, আমি সেখানে পৌঁছাতে পারিনি। আর আমি যেখানে এসেছি, সেখানে তোমাকে আনা সম্ভব নয়। তুমি ভালো থেকো।”
অনির্বাণের হাত থেকে চিঠিটা খসে পড়ল। সে দেখল, আজ তার ক্যানভাসের ওপর ধূসর মেঘগুলো সরে গিয়ে শুধু সাদা শূন্যতা পড়ে আছে। তার গভীর ভালোবাসা আজ আর গভীর নয় – তা এখন এক চিরন্তন বিরহ, যা টিলার মতো স্থির, কিন্তু ভেতরের দিকটা ফাটল ধরা। অনির্বাণ জানে, তার এই নীরব অপেক্ষার আর কোনো শেষ নেই। সৃজিতার পথ এগিয়ে গেছে, আর তার পথটা থেমে গেছে সেই শেষ বিকেলের ছায়ায়।






শৈশবের খোঁজে প্রভাত ভট্টাচার্য

মুকুর অনলাইন





শৈশবের খোঁজে
প্রভাত ভট্টাচার্য


সে খুঁজে বেড়াতে থাকে
তারা হারানো শৈশব
যেখানেই থাকুক না কেন
খুঁজে বার করবেই
জলে অরণ্যে গুহায়
অথবা কৃষ্ণগহবরে
চাই তার সাথে পুনর্মিলন ।
ঐ তো দাঁড়িয়ে আছে
সেই বিস্মৃত শৈশব
সেই উঠোন, ছাদ
হরেক মজা যত, আর
গল্পবলা ঠাকুমা
সবই রয়েছে আগের মত ।
সে হাঁটতে থাকে
শৈশবের হাত ধরে।





স্রোতের সঙ্গে সমীর কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

মুকুর অনলাইন



স্রোতের সঙ্গে
সমীর কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়


স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাই
আমজনতা আমরা সবাই
ভালো মন্দ ঠিক বেঠিক
এসব ভাবার সময় নাই
আসলে পিছনে কারা যেন
দিচ্ছে ঠেলা কষে হেন
নিরুপায় হয়ে ভাসছি ঠিক
জল মাপবার অবসর নাই।



ধারা শোভন মণ্ডল

মুকুর অনলাইন


ধারা
শোভন মণ্ডল

তোমাকে অবশেষে আবিষ্কার করি
খড়ের গাদার ঠিক বিপ্রতীপে আলোর কিরণ আসে
উল্টান তানপুরার মতো তুমি
পড়ে আছে একলাবেলায়

ঠিক তোমারই তলদেশ দিয়ে বয়ে যায় তরল, উষ্ণ স্রাব
বহুমাত্রিক সেই ধারা, স্রোত
কোথায় শঙ্খ, কোথায় তুমি
কোথায় ভগীরথ?


হারানো ঠিকানায় তসলিমা লস্কর

মুকুর অনলাইন


হারানো ঠিকানায়
 তসলিমা লস্কর



“ওরা আমাকে খুব মেরেছে দীর্ঘ তিন বছর ধরে । দেখুন , সেই সব আঘাতের চিহ্ন । রক্ত জমে আছে কালো হয়ে ।” বলতে বলতে সরিফান গভীর শোকে প্রায় বাগরুদ্ধ হয়ে দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে বেদনার নোনা জল ।
আহ্বায়ক বললেন – “এখানে আপনার কান্নাটা অপ্রাসঙ্গিক নয় । আমাদের এই “আপন ঠিকানা” অনুষ্ঠানে আপনার মত প্রায় ৮ শতাধিক মানুষ কেঁদেছে । কেউবা হারানোর বেদনায় , কেউবা ফিরে পাওয়ার আনন্দে । বলুন মন খুলে শুনবো আপনার সব কথা ।”

“আমার বাবা ভাঙ্গারির ব্যবসা করতে করতে অনেক টাকা দেনা হয় । দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে বাবা আমাদের ছোট্ট বাড়িটা বিক্রি করে দেয় । তারপর থেকে আমরা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতাম । দেনা মিটিয়ে বাবা বাড়িওয়ালির কাছ থেকে মোটা টাকা ধার নিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করে । কিন্তু দ্বিতীয় বারও বাবার আরো বেশি টাকা লোকসান হয় । গ্রামের পাঁচ কাঠা জমি বিক্রি করে বাড়িওয়ালির দেনা শোধ করে দেবে বলে বাবা আমাদের দুই ভাই বোনকে রেখে দেশের বাড়িতে চলে আসে । সপ্তাহখানেক পর বাবা ফোন করে বলে – “ আমি কাল টাকা নিয়ে যাচ্ছি ।” পরদিন সকাল দশটার পর আমার চাচার ফোন থেকে কল আসে । খরব শুনি বাবা হঠাৎ সকালে হার্ট অ্যাটাক করে এন্তেকাল করেছে । আমি আর দাদা কেঁদে বুক ভাসাই । কিন্তু বাড়িওয়ালি তবুও আমাদের ছাড়ে না । দু একদিন পর বাড়িওয়ালি দাদাকে ছাড়লো কিন্তু আমাকে ছাড়লো না । দাদা বাড়িওয়ালির কাছে প্রতিশ্রুতি দেয় আমি যে করে হোক এক মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে আমার বোনকে নিয়ে যাব । কথামতো দাদা এক মাসের ভিতরে টাকা জোগাড় করে নিয়ে আসে । কিন্তু ওরা টাকা কেড়ে নিয়ে দাদাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয় , আমাকে যেতে দেয় না । দাদা যাবার সময় কাঁদতে কাঁদতে বলে – “চিন্তা করিস না বোন গ্রামের সবাইকে জানিয়ে আমি এক-দু দিনের মধ্যে তোকে নিয়ে যাব । পরদিন হয়তো লোকজন নিয়ে আমার দাদা এসেছিল । কিন্তু বাড়িওয়ালি রাতারাতি বাড়ি বদল করে আমাকে নিয়ে অনেক দূরে কোন অজানা ঠিকানায় চলে যায় ।
তারপর থেকে আমার উপর অমানবিক অত্যাচার করতে শুরু করে । আমি প্রায় তিন বছর অত্যাচার সহ্য করতে বাধ্য হয়েছি । তারপর আমি একদিন অনেক কৌশলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে আসি । তখন আমার বয়স ১১ বছর । কোথায় যাব কি করব কিছু বুঝতে পারছিলাম না । একটা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম । এক ভদ্রলোক বর্তমানে যিনি আমার বাবা , কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করে । আমি ওনাকে সব কথা বলি উনি আমাকে ওনার বাড়িতে নিয়ে যায় । সেই থেকে ওনাদের মেয়ের পরিচয় আমি বড় হই । ওনারা আমাকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়েছেন । ওনারা না থাকলে হয়তো আমি ভেসে যেতাম । ওনারা আমাকে নিজের বাবা মা’র মতো ভালবাসেন । কিন্তু তবুও আমার জন্মদাতা মা , আর দাদার জন্য আমার মন বড় কাঁদে ।” বলতে বলতে বেদনায় সরিফানের দু’চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে ।
আহ্বায়ক বললেন – “ চিন্তা করবেন না আপনার আপনজনদের ফিরে পেতে আমরা সর্বতোভাবে সাহায্য করবো ইনশাল্লাহ ।”
যথাসম্ভব সরিফানের কাছ থেকে সংগৃহীত ঠিকানা আহ্বায়ক “আপন ঠিকানা” অনুষ্ঠানে প্রচার করেন ।
১৫ -১৬ দিন পর একদিন রাত ১১ টা নাগাদ সরিফানের ফোনে একটা নতুন নাম্বারে কল আসে । ফোন আলাপের পর বুঝতে পারে সেটা তার দাদা । সরিফানের আনন্দে হৃদয়টা উচ্চশিত হয়ে ওঠে । তার দাদা শামীম নিজের পরিচয় দিয়ে দু’-চার কথা বলে ,বলে – “মা সারাক্ষণ শুধু তোর কথা বলে । মা এখন ভীষণ অসুস্থ তাই তোর কোন খবর এখনো মাকে জানানো হয়নি । আগে মার সঙ্গে কথা বল ।”
পরিচয়ের পর সরিফানের মা ফরিদা বলে – “মারে তোর জন্য আমার জীবনটা হুহু করে । তোর একবার দেখা পেলে শান্তিতে মরতে পারবো । কখন আসবি তুই ?

সরিফান – “কাল আমরা যাচ্ছি কেঁদোনা মা , আল্লাহ সব ভালো করে দেবে ।”
  এই ২৫-২৬ বছর ,সাহানাজ নিজের মা দাদার আদর সোহাগ থেকে বঞ্চিত । এত বছর পর হারানো আপনজনদের ফিরে পাওয়া যে কি আনন্দের তা একমাত্র আল্লাহ জানেন । আনন্দে যেন সারারাত ভালো করে ঘুম এলোনা ।
        পরদিন খুব সকালে বের হয়ে তারা সপরিবারে পৌঁছে যায় তার মা দাদার কাছে । পুনর্মিলনের আনন্দে তারা পরস্পর কেঁদে বুক ভাষায় । মা ফরিদা বানুর শারীরিক অবস্থা ভালো নয় । বাঁচার আশা নেই বলে ডাক্তার ফিরিয়ে দিয়েছেন , গায়ে প্রচন্ড জ্বর বইছে । হারানো মেয়েকে ফিরে পেয়ে এক নিমিষে সম্পূর্ণ সুস্থ অনুভব করে ফরিদা বানু । মেয়ের সঙ্গে মন খুলে প্রায় মধ্য রাত পর্যন্ত গল্প করে ।
ফরিদা বানু বলে – “মা তোর পেয়ে যে আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছি দেখ । কত জ্বর ছিল আমার গায়ে সব সেরে গেছে । এখন গরম


লাগছে আমার মাথার কাছে জানালাটা খুলে দিয়ে তোরা গিয়ে সব শুয়ে পড় , রাত প্রায় একটা বাজে । সরিফান জানালা খুলে পাশের তক্তাপসে মেয়েকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে । ফজরের আজান শুনে ঘুম ভাঙ্গে । মা ..মা…বলে সরিফান ডাক দেয় মা আর সাড়া দেয় না ।
     কাছে গিয়ে দেখে , মাথার কাছে উন্মুক্ত জানালা‌ থেকে ওপাশের ফুটন্ত বকুল ফুল গুলো উড়ে এসে ছড়িয়ে পড়েছে মার সারা দেহে । মনে হয় কেউ ছড়িয়ে দিয়ে গেছে তার দেহের উপর । জানালা থেকে মিঠে রোদের আলো এসে স্পর্শ করেছে মার মুখ । ভোরের শান্ত স্নিগ্ধ বাতাসের ছোঁয়ায় এলোমেলো চুল গুলো উড়ছে প্রশান্তির বাতাসে । যেন পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছে মার স্পন্দনহীন দেহ… ।




December 2025

মুকুর অনলাইন 2025



কবিতা

  1. শুয়ে থাকি মানচিত্রে   || রানা জামান
  2. শৈশবের খোঁজে || প্রভাত ভট্টাচার্য
  3. ধূসররঙ || সঞ্জিত কুমার বর্মণ
  4. স্রোতের সঙ্গে || সমীর কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. ব্যাধ ও ব্যাধিনী ||শামীম নওরোজ 
  6. দুটো নদী" || নয়ন মণি মিশ্র
  7. কথা হবে না || রহিত ঘোষাল
  8. ভাগ্যের চাকা || মোঃ আব্দুল রহমান 
  9. শুভাকাঙ্খী || সোমনাথ ঘোষ।
  10. ধারা|| শোভন মন্ডল
  11. ছাতিম তলার পাশে || রাজর্ষি মন্ডল

গুচ্ছ কবিতা

রম্যগল্পঃ

  1. সতান  || প্রদীপ কুমার দে 

গল্পঃ

  1. শেষ বিকেলের ছায়া" || সঙ্গীতা মহাপাত্র
  2. হারানো ঠিকানায় || কলমে --- তসলিমা লস্কর 













 











 









কথা হবে না রহিত ঘোষাল

মুকুর অনলাইন


কথা হবে না
রহিত ঘোষাল



নিজেরই অতীত খুঁড়ে
নিজের পচন দেখি
যে কাঠ ভিজে গেছে
তা দিয়েই জ্বালাই চিতা
ও ঘাটের নাম বৈধব্য
সময় বড় বিপ্রতীপ
চূড়ান্ত কিছুই বলা যাবে না
তুমিও তো মূল্য দাওনি
আমি একা বয়েছি সব ভার
নিখুঁত বলে তোমায় ডাকি
উলে বোনা সেদিনের ঝড়
আর কক্ষনো কথা হবে না
আর কক্ষনো কথা হবে না



দুটো নদী নয়ন মণি মিশ্র

মুকুর অনলাইন


দুটো নদী
নয়ন মণি মিশ্র

দুটো নদী
বুক পকেটে কথা বলছিল
ওরা আর নদী
হয়ে বাঁচতে চায় না
মরুভূমি হবার আর্জি জানিয়ে
ওরা প্রবাহদের ছুড়ে দিয়েছে
স্মৃতির শহরে....
ওরা এত কিছু তো পেয়েছে
একথা শুনে
নদীগুলো হঠাৎ যেন
বৃষ্টি হয়ে গেল !



ব্যাধ ও ব্যাধিনী শামীম নওরোজ

মুকুর অনলাইন

ব্যাধ ও ব্যাধিনী
শামীম নওরোজ


পাখিময় রাতের খবর জানে না ব্যাধিনী।
ব্যাধকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে নিজস্ব নিবাসে।

খাঁচার ভেতর কতিপয় মর্মাহত পাখি ;
ভোর হলে ব্যাধ ও ব্যাধিনী অভূক্ত থেকে যাবে।

রোদ্দুর ছিলো না, তাই ঘুমিয়ে রয়েছে,
কাঁথার মমতা মেখে শুয়ে আছে বেশ।

ব্যাধপুত্র পাখিদের কোলাহলে নেই হয়ে গেছে।
ব্যাধকন্যা পালকের অভিসারে গেছে।

তির আছে...
প্রয়োজন নেই...

পাখিময় রাত্রিটি অসমাপ্ত থেকে গেল।



দুটি কবিতা রথীন পার্থ মণ্ডল

মুকুর অনলাইন


দুটি কবিতা
রথীন পার্থ মণ্ডল

১. খোঁজ

তোমায় দাঁড়াতে বলেছি, পালাতে বলিনি
পালাতে বলিনি জীবন থেকে
এমনকি জীবন থেকে ছেড়েও চলে যেতে বলিনি

তোমায় খুঁজতে বলেছি, হারাতে বলিনি
হারানো সহজ বলে হারিয়ে যেতেও বলিনি
হারাতে বলিনি নিজেকে অন্ধকারের মাঝে

তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে
তোমার সাথে পথ হারাতে হারাতে
তোমার সাথে বাস করার জন্য
আমি একটা শহর চেয়েছিলাম
যা আজও আমি খুঁজে চলেছি।।



২. শুনতে পেতাম তোমার ডাক



চিঠি আছে, চিঠি!

চিঠি আছে, চিঠি!

ডাকের অপেক্ষায় থেকে যাই আজও
শুনতে পেতাম দরজায় কড়া নাড়া--
চিঠি আছে, চিঠি!

জন্ম থেকে জন্মান্তরে
তোমার সাথে পথ চলা
মন থেকে মনান্তরে
জীবন থেকে জীবনের
পথ বেয়ে কত খবর
বয়ে আনা তোমার
রাতের বেলায় ঘুমিয়ে পড়ে
শুনতে পেতাম তোমার ডাক--
চিঠি আছে, চিঠি!

ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে চলে গেছে রানার
আছে শুধু পোস্টম্যান আর
ইমেল হোয়াটসঅ্যাপের টুং টুং করে দরজায়
কড়া নাড়া--
চিঠি আছে, চিঠি!



শুয়ে থাকি মানচিত্রে রানা জামান

মুকুর অনলাইন


শুয়ে থাকি মানচিত্রে 
রানা জামান




স্বদেশের মানচিত্রে দিনরাত শুয়ে থেকে
পারি নি দখলে নিতে এক ইঞ্চি স্বস্তি 
প্রখর রোদের তাপে শরীরের প্রতি অংশ
চৈত্রের কাঠফাটা জমি

এতো কূয়ো দেখি চৌহদ্দির মধ্যে 
সব সমুদ্রের জলে ছয়লাব হয়ে ভ্যাঙ্গায় মুখ
শরীরের রক্তে কী লাভ দরকারে
কোনো কাজে না এসে খেতে থাকলে চিন্তা 

উপার্জনের ইঁদুর পুষে যেতে পারলে
প্রয়োজনে ছেড়ে দিয়ে নো চিন্তা ডু স্ফুর্তি
কিংবা দেহ এ্যামিবার মতো হলে
ইচ্ছেমতো কেটে বেচে দাও মাংসাশীর কাছে

চাল নেই চুলু নেই জীবনের স্বপ্নে 
ঝড় লেগে ভেংগে যায় প্রত্যাশার ডাল-পালা 
জমিনের রত্তি মাত্র না থাকায় 
বীজ সংরক্ষণ করি না, অথবা করি না ক্রয়

মাকড়সার বাসার চেয়েও ভঙ্গুর অস্তিত্বে
ক্ষয়ে যাচ্ছে কাল মানচিত্রে গড়াগড়ি দিয়ে
গতকাল হতে একটু একটু করে খেয়ে যাচ্ছি
জমি না থাক মানচিত্র থাক শিরা-উপশিরায়।



ধূসররঙ সঞ্জিত কুমার বর্মণ

মুকুর অনলাইন





ধূসররঙ
সঞ্জিত কুমার বর্মণ

ভূগোল ইতিহাসের মধ্যে
না, ইন্দ্র ও ধনুর গদ্যে
সবকিছু ধূসররঙের।

ঘোলাটে জলের তলে
না, কাচ ভাঙ্গার ছলে
সবকিছু ধূসররঙের।

রাণীর চিবুকে চুষে
না, টেবিলের নিচে ঘষে
সবকিছু ধূসররঙের।

হেমন্তের পড়ন্ত বিকেলে
না, ময়ূরের পালক খোলে
সবকিছু ধূসররঙের।

গণতন্ত্রের আঁচলে
না, স্বৈরশাসকের অন্তরালে
সবকিছু ধূসররঙের।

দীঘল চুলের সুঘ্রাণে
না, পরকীয়ার টানে
সবকিছু ধূসররঙের।

অনন্ত যাত্রা পথে
না, সারথি’র রথে
সবকিছু ধূসররঙের।

যুগ যুগান্তরে
না, অভিসারে
সবকিছু ধূসররঙের।





সতান প্রদীপ কুমার দে

মুকুর অনলাইন



সতান
প্রদীপ কুমার দে



ছবিটা এরকম,
দাদাবাবু অম্লান ঝার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে বিছানায় পড়ে আছে, বৌদি আদুরী পরকীয়া করে পাড়ার কার্ত্তিককে নিয়ে দাদার সামনে দিয়ে পগারপার! আর সেই সুবাদে ঘরের কাজের পূর্ণ যুবতী ডলি দাদাবাবুর জন্য হা হুতাশ করে আদর করে দাদার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টায় বিফল।

ডলি মোবাইলে পাশের ফ্ল্যাটের রঞ্জনা বৌদির কাছে জানতে চায়,
--  হ্যাঁ বৌদি, দাদা তো অজ্ঞান হয়ে গেছে কি করব?

ওপরপ্রান্ত থেকে প্রশ্ন আসে,
--  কেন বৌদি কোথায়?

-- সে তো দাদাকে মেরে জল দেওয়া কাত্তিককে নিয়ে পালিয়েছে।

--  বাহঃ তাই নাকি তাহলে তুই ওই মিনসের মুখে জল মারতে থাক।

ডলির বেশ দরদ, জল ছিটিয়ে দেয়। বিফলে যায়।

এবার ডলি আর এক বৌদির কাছে সব জানিয়ে ফোন লাগায়,
--  দাদা অজ্ঞান, কি করি গো?

--  বৌদি যখন নেই তখন এই সুযোগ, বেশ করে আদর করতে থাক, দেখবি কাজ হবে।

ডলি সময় নষ্ট না করে দাদার পাশে শুয়ে দাদাকে আদর করে, দাদার জ্ঞান আসে তবে বউ ভেবে জড়িয়ে নেয়, আরও আদর আনন্দ করে জানতে চায়,
-- তুমি তাহলে ফিরে এলে, সোনা?

ডলির খুবই ভাল লাগে, দাদাকে বোঝায় ব্যাপারটা। দাদা ধড়ফড় করে উঠে জানতে চায়,
--  আদুরি ফেরেনিতো?

--  না দাদাবাবু যে যায় সে কি আর ফেরে?

--  যাক বাঁচালি! যাই এবার অন্তত ওই কার্ত্তিক শয়তানটাকে শায়েস্তা করে আসি।

ডলি ঢলিয়ে ঢলিয়ে অম্লানদাদাবাবুর নাগালে এসে আদর করে জানায়,
--  কাকে শয়তান বলছো বাবু? কাত্তিকতো এখন তোমার সতান, সতীনের পু:লিঙ্গ 😁








ভাগ্যের চাকা মোঃ আব্দুল রহমান

মুকুর অনলাইন


ভাগ্যের চাকা
মোঃ আব্দুল রহমান

জীবনে চলার পথটি সুসজ্জিত হলেও
সবার ভাগ্যের চাকা মসৃণ নয়,
রং মাখলেই কি জীবন রঙিন হয়?
যতবার ঐ পথটি বেয়ে যেতে চাই
মাঝ পথ না পেরোতেই---
পাঙ্কচার আর ব্লাস্টের প্রতিধ্বনি!
মেরামতি চলতেই থাকে...

সবার পেরেক গাঁথে না
কিন্তু আমার চাকার সাথে তার দারুন বন্ধুত্ব
তাই আর গন্তব্যে পৌঁছানো হল না!
তবে কি আমি সেই ব্যক্তি
যাকে সবাই ডাকে---
অভাগা!




শুভাকাঙ্খী। সোমনাথ ঘোষ

মুকুর অনলাইন


শুভাকাঙ্খী।
সোমনাথ ঘোষ


নিরুপদ্রবে শান্তি মনে
থাকতে যদি চাও
বল কথা কম শোন বেশি
লাগাতে লাগাম জীবের পেশী।

হয়তো তুমি অনেক জান
ভীষণ রকম বিজ্ঞ
এড়িয়ে চল তর্ক বিবাদ
সেজে থাক অজ্ঞ।

কথায় বলে বোবার
নাকি শত্রু নাই
কথাটা যে মিথ্যে নয়
হাড়ে হাড়ে বুঝছি তাই।

পাগল বুড়ো ভেবে আমায়
করবে জানি অবহেলা
ঘটনা যদি ঘটে এমন
বুঝবে তখন কত ঠেলা

নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন