SA
বয়সে প্রেম সন্দেহ বাতিক
প্রদীপ দে
মহামায়া লাফিয়ে উঠে মোবাইলের সবুজ ফোনের লাফানো ছবিটার উপড় মোটা বুড়ো আঙুল থেবড়ে বসিয়ে দিতেই অপরপ্রান্তের সুরেলা কণ্ঠ প্রশ্ন করে - মণিদা নেই …?
ঘুম টুটে বিগড়ে যাওয়া মাথায় মহামায়া রেগে লাল, -- কে বাছা তুমি হে ?
-- বাছা নই বাছি, ওকে বলুন না- রানী শর্মা ফোন করেছে।
-- সেটা আবার কোন রানী ?
-- আপনি না আমায় চিনবেন না। মণি আমার সাথে আলাপ করেছে একদিন, অনেক কিছু খাইয়েছে আর এই ফোন নম্বর দিয়েছে। বলেছে মধ্যদুপুরে অথবা মধ্যরাতে যেন আমি কথা কই , ওইসময়েই নাকি ওনার সুবিধা বেশী।
মহামায়ার মাথা গেল। রেগে লাল হয়ে রয়েছে। মনে হচ্ছে মুখপুড়িকে দিই ঠাটিয়ে একটা চড়। কিন্তু না বোকামি করলে চলবে না। বুড়ো মিনসে এখন যে মেয়ে দেখলেই চুক চুক করছে। যা ভাবনা তাই মিলে যাচ্ছে। ব্যাটার ছেলে, হাভাগা, ঘরে বউ, সমর্থ বিবাহিত ছেলেমেয়ে, নাতিনাতনী রয়েছে, সে কিনা এখন রানীর পিছু নিয়েছে। ওইজন্য খালি এদিক ওদিক ঘুরতে বেড়োনো ? দাঁড়াও মজা দেখাচ্ছি !
-- ওহঃ তা মামনি তুমি থাকো কোথায় ? কি করো ?
-- ওমাঃ সে কি কথা বৌদি? আমি কি ছোট্ট ? যে তুমি মামনি বলছো ? আমি একটি পাকা যুবতী নারী। কেন মণি বাবু আপনাকে কিছু বলেনি ? এই আমার কথা ? আমাকে যে কত মিষ্টি করে গল্প করে। আমার কত ভালো দাদা !
মহামায়ার মাথা চক্কর খায়। ওরে হারামজাদা মিনসে এতদূর এগিয়েছিস ? আর আমি কিছুই জানি না ? যাক আগেতো সব ব্যাপারখানা বুঝি !
-- মণির কি আজ দেখা করার কথা ছিল ?
-- না ও তো মঞ্জুরির কাছে আমার নামে মনের কথা অনেক কিছু বলেছে আমাকে তো কিছুই বলেনা - তাই ফোন করলাম এই মধ্য দুপুরে। আপনি কি ওনার বৌদি হন ?
-- ওনার ? বৌদি ? আমি ?
-- হ্যাঁ মানে ও বলেছিল ওর নাকি বড় দাদার বউ ওনার কাছেই থাকে। বড়দাদা নাকি রাগে দুঃখে গৃহ ত্যাগ করে হিমালয়ে চলে গেছে, তাই ওই বয়স্কা বৌদিকে ওকেই দেখতে হয়।
মহামায়া ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে মিথ্যাবাদী মিনসে ভোঁস ভোঁস করে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন, ইচ্ছা হয় ঝেঁটিয়ে বিষ ঝেড়ে দিই।
মহামায়া এবার মোবাইলের লালগোলা টা আঙুল দিয়ে বন্ধ করে দেয়। মর ! গিয়ে পোড়ারমুখি ! আমার যা জানার সব জানা হয়ে গেছে।
মোবাইল ছুঁড়ে ফেলে দেয় বিছানায়। রাগে গিজগিজ করে ওঠে শরীর। মনে হয় মিনসেটারে তুলে ধোলাই দিই। বুড়ো বয়সেও অল্পবয়সী মেয়েগুলোর সাথে ফষ্টিনষ্টি ! দাঁড়া তোর ব্যবস্থা আমি করছি এবার। অনেক সহ্য করেছি এবার বাকী শুধু উত্তম মধ্যম ধোলাই !
গজগজ করতে করতে মহামায়া মণিলালের কান ধরে হিড়হিড় করে টানতে থাকে, ঘুমন্ত মণিলালের শরীর থরথর করে কেঁপে ওঠে ,ভয়ে প্রান যায় উড়ে। তাড়াতাড়ি উঠতে গিয়ে লুঙ্গি যায় খুলে। সে এক বিচ্ছিরি অবস্থা !
আর তার মধ্যেই মহামায়ার চিৎকার শোনা যায়, -- লুঙ্গি খুলে দাও - তোমার পিরিতের কচি মেয়েদের দেখাও, রাণী, মঞ্জুরি তবেইতো তারা সকলে তাদের মণিদাকেই তাদের ভালোবাসা ঢেলে দেবে।
ওরে আমার কপাল রে - বুড়োকালে মিনসে যে আমার কচি মেয়েদের সঙ্গে নোংরামি করছে গো ?-- বলেই রোদনরত মহামায়া বিছানায় শুয়ে পড়ে।
মণিলাল থতমত খেয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বাথরুমে যায়, চোখেমুখে জল দেয়। বেড়োতেই আবার মোবাইল বেজে ওঠে।
এবার মণিলালই নিজেই ধরে। মহামায়া ছুটে আসে। আবার ফোন করেছে রে .......
মণি স্পীকার অন করে দেয় সবাই শুনতে পাক -- তার ভয়ের কিছু নেই।
-- হ্যালো .....
অপরপ্রান্তের গলা পুরুষের। ----মায়া নেই ?
-- কে আপনি ?
-- আমি মায়ার বন্ধু। ওকেই দিননা...
থরথর করে কাপে মণি। ফোন দেয় মহামায়াকে।
মহামায়া তো অবাক, -- কে আপনি ?
-- বাব্বা আবার আপনি কেন ? চিনতে পারোনি ?
আমি রোহিত। তোমার পুরানো ইয়ে......
ওহঃ বুঝেছি দাদা বোধহয় বাড়িতে আছে ? …
আমি ভুল সময়ে করে ফেলেছি -- তুমি কাল একবার বাজারে এসোনা অনেক কথা আছে। বিনয়ও তোমাকে একবার দেখতে চায়। কতদিন। দেখেনি ! যদি আসো খুব ভালো হয়! এসোনা লক্ষ্মী সোনা ……
মণিলাল রেগে ফোন কেটে দেয়। স্পীকারে কথাগুলো ঘরে গমগম করে বেজে ওঠায় মহামায়া তো লজ্জায় থ !
মণিলাল সুযোগ পেয়ে, -- ছিঃ ছিঃ কি লজ্জার কথা ? কি লজ্জা ! নাতি নাতনী আছে আর বুড়ি হয়েও কচি ছেলেদের মাথা খাচ্ছো ?
আর বিয়ের আগের প্রেম এখনো চালিয়ে যাচ্ছো …… আবার আমায় বলছো ....থুঃ থুঃ …… কি ঘেন্না কি ঘেন্না !
মহামায়া চুপসে গেল, হঠাৎই এই ঘটনা ঘটে যাওয়ায় !
ইতিমধ্যে ঘরে এসে হাজির ওদের দুই নাতি নাতনী -- জোনাক আর রূপসা।
দুজনায় কলেজে পড়ে।
জোনাক ওদের মেয়ের একমাত্র ছেলে মামারবাড়ি বেড়াতে এসেছে।
আর রূপসা এই বাড়িতেই থাকে। বড় ছেলের কন্যে !
নাতি জোনাক দিদা মহামায়াকে জড়িয়ে ধরে --- এটা কি হচ্ছে দিদা ?
আর নাতনী রূপসা দাদু মণিলালকে জড়িয়ে ধরে -- দাদু এই বয়সেও লুকিয়ে প্রেম ?
দাদু দিদা লজ্জায় আর লজ্জায় ……… লাল .....
ততক্ষণে ঘরে বাড়ির বাকিরা এসে হাজির। হো হো করে হাসির রব ওঠে !
দাদু দিদা দুজনায় মুখোমুখি -বোকা হয়ে যাওয়ার কারণ বুঝতে তাদের অনেক সময় লাগে। চেয়ে দেখে সব্বাই হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে।
ঠান্ডা মাথায় ব্যাপারখানা তাদের মাথায় ঢোকে, তবে সন্দেহের বীজ তাদের মনে থেকেই যায়
অন্যদিকে হাসির তীব্রতা ততোটাই বাড়ে…!
প্রদীপ কুমার দে
বিরাটী