Tuesday, November 19, 2024

কবিতার পাতা পুজো সংখ্যা

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

অরন্ধন 
অনুপ কুমার জানা


বরষার দৃষ্টি এখনও ফিকে
ফ্যাপসা গরমও দিকে দিকে ,
শরৎ আকাশের শুভ্র ভেলা 
শারদীয়ার আগাম হৃদয় দোলা ! 

ভাদ্রের রান্না আশ্বিনে খাওয়া
অরন্ধন উৎসবের বইছে হাওয়া , 
  গরম ভাতে ঠাণ্ডা জল ঢালা 
  হৃদয়ে হৃদয়ে মিলন মেলা ! 

   শ্রদ্ধা-ভক্তি মনসার নামে
  কৃপা যেন মিলে পরিণামে ,
প্রবীনাদের পূজা নিষ্ঠা ভরে 
প্রাচীন রীতি অনুসরণ করে ।

ভাদ্র সংক্রান্তির পূর্ব দিবস
গৃহিণীদের নিষ্ঠা অতি নিরলস ,
ভক্তিতে পূজিত উনুন মাতাজী 
রাতভোর রান্না কতো ভাজাভুজি । 

চালকুমরোর ঘন্ট, কচুর শাক  
ছোলার ডাল , আরও টুকটাক ; 
  এ'সকল পদ প্রতি অরন্ধনে‌ 
আয়োজক-আমন্ত্রিত প্রীতির বন্ধনে ! 

সব্জি, নারকেল ভাজায় ভাজায় 
  প্রীতির মিলন জমে মজায় ; 
  পান্তা ভাতেতে হৃদয় ঠাণ্ডা 
   শেষ পাতেতে মিষ্টি-মণ্ডা ! 

চিংড়ি , ইংলিশ অনেকের মতে 
পাতখানি তখন বেজায় মাতে !
বিশ্বকর্মা বাবার সাক্ষী রেখে
পাড়া-পড়শির আশীর্বাদ মাখে ! 

  রন্ধন রাতের ধৈর্য, পরিশ্রম 
   প্রীতির বাঁধনে খুশির দম ;
আয়োজক-নিমন্ত্রিতের মৌন প্রার্থনায়
বছর বছর উৎসবটি জমায় !  


জ্যান্ত লাশের সারি
নবী হোসেন নবীন



প্ল্যাটফরমে পড়ে আছে জ্যান্ত লাশের সারি
ধীরে ধীরে প্রাণ পায় মৃত রেলগাড়ি।
লাশেরা ঘুমায়
বেগে চলে যায় রেলগাড়ি।
বুকের ভেতর জেগে থাকে সর্বগ্রাসী ক্ষুধা
জেগে জেগে পাহারা দেয়
লাশ যেন না পালায়।
সজন হতে সমাজ হতে পালাতে পারলেও
ক্ষুধা হতে পালাতে পারে না লাশ।
প্রত্যুষে পুলিশের বেত্রাঘাতে 
ঘুম ভাঙ্গে জ্যান্ত লাশের।
ডাস্টবিনে চলে যায় 
উচ্ছিষ্ট খাবারের আশায়।
লাশে আর কুকুরে যুদ্ধ লেগে যায়
আবার সন্ধিও হয়ে যায়
সন্ধ্যায় ফিরে আসে প্ল্যাটটফরমের ঠিকানায়
রেল আসে রেল যায় লাশেরা ঘুমায়।
চলন্ত রেলের জানালা দিয়ে 
রঙিন চশমায় চেয়ে দেখে মানবতা
দেখে দেখে চলে যায় আপন ঠিকানায়।




 হোক সংগ্রাম 
 ডাঃ জাফর মোল্লা 



আর কতো দিন হবে বিলীন 
বিচার চেয়ে পথে?
প্ররোচনা প্রহসন কেনো ও এখন 
চলছে এদের সাথে??

ন্যায় বিচার পাবে কি আর
যারা গেলো চল?
বুঝতে পারিনা এই ঠিকানা 
দেবে একটু বলে??

ধর্ষণ কারি বধের ধাড়ি 
কেনো পাচ্ছে পার?
মজলুম রাই খুব অসহায় 
পাবে না সু বিচার??

রাঘব বোয়াল কোন গোয়াল 
করেছে এখন দখল?
চুপ থেকে চারিদিকে 
খোঁজ করো ভাই সকল।।

বিচারের বাণী কাঁদছে জানি
নিরবে নিভৃতে।
বিচার ব্যবস্থা অচল অবস্থা 
বেড়ি তাহার হাতে।।

আজকে আমার কালকে তোমার 
ভাই বা বোন মরবে।
তোমার পরাণ এমন পাষাণ 
চুপ করে শুধু দেখবে??

ধর্ম না খুঁজে জাত না ভেঁজে 
এসো সব একসাথে।
জালিমের শিরায় আগুন ধরায় 
ঘুমাতে দেব না রাতে।।

এক হও এক হও
সকল মানবগণ।
কঠিন শাস্তি উঠুক দাবি 
সংগ্রাম হোক আমরণ।।

ভয়
সোমনাথ ঘোষ



আমি একজন সাধারণ মেয়ে 
না রূপসী নয় কিন্তু কুৎসিত নয়
অবস্য মেয়ে বললে হবে ভুল 
এখন আমি একজন নারী 
একজন কন্যাসন্তানের জননী।

সমাজ সংসারটা কেমন যেন 
বদলে গেছে 
আমিও পড়েছি স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে 
কখনো মনে জাগেনি তো ভয়
লাঞ্ছিত বা ধর্ষণের শিকার হয়ে
ফিরতে হবে ঘরে।

এখন আমি প্রতিমুহূর্তে পাই যে ভয় 
মেয়ে কে কলেজে পাঠিয়ে ভাবি কি জানি কখন কি হয়
এখন আর রাতে নিশ্চিন্তে আসে না ঘুম আমার 
আগামীকাল কলেজে যে যাবে মেয়ে আবার।

Thursday, August 29, 2024

আগস্ট সংখ্যা

সাহিত্যের অঙ্গনে !!


সাহিত্যের অঙ্গনে

দাঁত কাহন

সাহিত্যের অঙ্গনে !!


দাঁত কাহন



শয়নে স্বপনে জাগরণে
তুমি ছিলে মোর সাথে
আগে তো বুঝিনি প্রিয়
আমার জীবনে তোমার
এতোটাই গুরুত্ব আছে।

কি জানি কোন অভিমানে
প্রবল বিদ্রোহের অভিলাষে
কেটেছিল মোর নিদ্রাহীন নিশি
অবিরাম ক্ষমাহীন কষাঘাতে।

সোমনাথ ঘোষ

যে কয়েকটি নিরীহ দাঁত ছিল 
কপাল দোষে সে কটাও তুলতে হল 
বিবাহ পরবর্তী কালে গিন্নি যখন এল ঘরে 
দিয়েছিল অতি যত্নসহকারে তুলি
মোর বিষ দাঁত গুলি।

গতকাল ত্যাজিয়া প্রিয় তোমারে
আজিকে বুঝি অন্তরে অন্তরে
কষ্টসাধ্য সকাল দুপুর রাত্রিরে
উদরস্থ করিতে সকল আহারে।

যমজ সন্তান

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

যমজ সন্তান


দুইটি আমার যমজ সন্তান
    সুন্দর ফুটফুটে তারা , 
উল্লসিত আমি ওদের পেয়ে     
   ভালোবাসায় দিশেহারা !

কাটিয়েছি আমি স্বাভাবিক জীবন
      ওদের গর্ভে রেখেই , 
কর্মে গেছি ঠিক পূর্ব দিনে 
  ভয়-ভীতি ব্যাতিরেকেই ! 

আশা ছিল একটি পুত্র সন্তান
       পূর্ণ হয়েছে আজ ,
দিয়েছে ভগবান দুহাত ভরে ‌
   আজ খুশিতে মমতাজ !

শশুর - শাশুড়ির আনন্দ কতো
       স্বামীরও স্বর্গ সুখ , 
প্রশংসায় আমার পঞ্চমুখ এখন 
      বিসর্জন সকল দুখ ! 

আনাগোনা সদাই আত্মীয় পরিজন
     প্রত্যেকের মুখে হাসি , 
দাদু-দিদার এখন স্বপ্ন পূরণ 
       গর্বিতও বড় মাসি ! 

অফিসের পম্পা পিসি বেজায় খুশি 
      খোঁজ নেয় প্রতিদিন , 
পাপিয়া , মাম্পি , পিয়ালীও অপেক্ষায়
    আঁতুর-অশুচির বিলীন ! 

টিউশনে ব্যাস্ত সন্ধ্যা সাতটায় 
      শম্পা দিল খবর ---- 
" জন্ম দিয়েছে উমা যমজ সন্তান
  আলোকিত উমেশের ঘর " !

" মানুষ করবো আমি মনের মতো "
        উমা নিয়েছে পন ,
" রাখবো সদাই কোলে-পিঠে
       সমৃদ্ধি হবে জীবন ! "


অনুপ কুমার জানা 

ঝঞ্ঝা

সাহিত্যের অঙ্গনে !!



ঝঞ্ঝা 

ঝড় বৃষ্টিতে কোথাও একটা আটকে পড়েছে
                    নিদ্রালু আশাবরী
অজান্তেই আপোষ করেছে কেয়ামতের সাথে 
আর সব সম্ভাবনা ছিকটে পড়ে নিশির ডাকে 
গুঁড়ো গুঁড়ো জল আঙিনা ভাসায় প্রপঞ্চময় 
আত্মঘাতী হাওয়া চতুর্দিক ফুঁড়ে বেরিয়েছে 
বাতি ক্ষয় হয় ফালাফালা ঝঞ্ঝায় এ রাত্রে 
           
চিবুকে রাখা আছে 
                            অঝোর বজ্রস্নান 

রহিত ঘোষাল 

মহাজীবন

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

মহাজীবন 

কুসংস্কার আর কুপ্রথার বেড়াজালে 
একসময় মানুষ হয়ে পড়েছিল জর্জরিত 
ঠিক সেইসময় সমাজকে বাঁচাতে 
মহাপুরুষদের আর্বিভাব হয়েছিল 
প্রদীপের শিখার মতো।

রামমোহন রায় থেকে বিদ‍্যাসাগর 
বিবেকানন্দ থেকে রবীন্দ্রনাথ 
এক,এক করে কত মহাপুরুষদের 
আর্বিভাব হয়েছিল আমাদের দেশে 
আমরা কতটুকু শিক্ষা নিচ্ছি 
এদের জীবন ও কর্ম থেকে?

আজ মানুষ ভোগবাদে নিমজ্জিত 
কর্তব্য ও আদর্শ থেকে হচ্ছে বিচ্যুত 
যতদিন যাচ্ছে দূর্নীতিতে হচ্ছে আসক্ত 
একমাত্র মহাজীবনের আলোই পারে 
সমাজকে করতে কলুষিত মুক্ত।


অভিজিৎ দত্ত

আমি এক উন্মনা মেঘের কাছে

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

আমি এক উন্মনা মেঘের কাছে



আমি এক উন্মনা মেঘের কাছে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি 
সৎ সন্ন্যাস পুষে মিশেছি মহামন শিল্পঘরে 
এই যে এঁকে যাচ্ছি অলেখা আলোর উন্মুখ অমরতা 
ফুলের সুবাসিত আদিগন্ত অন্তহীন নিরন্তর ব্যথায় 
কখনও দেখিনি শকুন খুঁজিনি মিথ্যের নিস্পৃহতা 
শুধু ওড়াতে চেয়েছি পাগলপ্রায় স্বপ্ন অভিসার 
মেঘের গায়ে লেগে থাকা অন্ধকার আস্তরণ নিংড়ে 
কীভাবে দলের অবিরত খেলা খোলস বদলায় 
একদিন সব জড় হয় পাখির নিসর্গ জলবন্ধন 
যা এতদিন অঙ্কুরে ছিল আজ আনত সঞ্চারি...



নজর উল ইসলাম 

কাঁপবে বাতিল

সাহিত্যের অঙ্গনে !!


কাঁপবে বাতিল 
 

  
রাজপথের ঐ লড়াইয়েতে
থাকতে তোমার হবে!
বাতিলের এ রাজপ্রাসাদ টা
উঠবে তবে কেঁপে।।

প্রয়োজন হলে দিতে হবে ঢেলে 
শরীরের তাজা খুন।
দাম্ভিক সবে ঝরে যাবে 
শিরায় ধরবে ঘুন।।

বলিষ্ঠ কন্ঠে নেমে মাঠে 
করা চাই প্রতিবাদ।
জুলুমকারীর রক্ত চক্ষু 
হবে তবে বরবাদ।।

যাদের হাতে রক্ত ঝরে 
নিপাত যাবে তারা।
লড়াইয়ের মাঠে এক সাথে 
শক্ত হয়ে দাঁড়া।।

হবে খর্ব সকল দর্প 
খসে যাবে রে গদি।
কাঁধে কাঁধ মিলি তোরা সকলে
এগিয়ে চলিস যদি।।

অত্যাচারের স্ট্রীমরোলার
স্তিমিত হয়ে যাবে।
তোদের হুঙ্কারে নতুন কোরে 
নতুনত্ব গঠন হবে।।

চুপটি করে ঘরের কোণে 
থাকিস না রে আর।
ছাত্র যুবক আর সব লোক 
হয়ে ওঠ দুর্বার।।



 ডাঃ জাফর মোল্লা 

Wednesday, August 28, 2024

তবুও

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

তবুও 

পাড় ভাঙলে নদীর যন্ত্রণা হয় না 
শুধু উপকূল হয় ব্যথায় বিবর্ণ,
 সীমাহীন নৈঃশব্দ শব্দের মধ্যে
 ছড়িয়ে পড়ে ভাঙ্গনের শব্দ |

প্রত্যাশা, তৃপ্তি ,পূর্ণতা না পেলে
 চলমান জীবন আর স্বপ্ন দেখেনা ,
পরাজিত সৈনিকের মত হারিয়ে যায় 
রাত্রির ভুবন ডাঙ্গার অন্ধকারে ৷
একটাও ভালোবাসার দোপাটি ফুল ফোটে না। 
চোখে ভাসে না সাত মহলা, 
শুধু মন খারাপের কৃষ্ণ মেঘ 
আলোহীণ করে জীবন উঠোন।

তবুও নদীকে ছুঁতে চাই 
গড়িয়ে যাওয়া পাথরের মতো
 কিংবা স্রোতের ভাসমান শ্যাওলার মতো
 না হলে পৌঁছানো যাবে না 
একদম কাঙ্খিত সাগর সঙ্গমে ৷


সত্যেন্দ্রনাথ বেরা

পাচন

সাহিত্যের অঙ্গনে !!


পাচন

দোষে-গুণেই মানুষ।
দোষ একটাই। হলধর প্রায় তিনজনের খাবার একাই গোগ্রাসে গিলে ফ্যালে; যেমন কুচকুচে গায়ের রং, তেমনি অসুরের মতো শক্তি শরীরে।
একবার মাঠে নামলে মোষের মতো ঘোঁস-ঘোঁস করতে করতে একসাথে তিনজনের কাজ চুটকিতে একাই সেরে ফ্যালে।

শশধর সমাজদারের মতো এককালের জমিদার গোছের কিছু মালিক তা মানতে চান না কিছুতে। তাঁদের কাজ চাই, একহাতে আরও বেশী কাজ চাই ওঁদের।
'বড়লোক' হলেও সবার মনটা তো আর ততটা 'বড়ো' হয় না; 'ছোটলোকি' স্বভাব আর কঞ্জুসি ভাবটা সহজে যায় না।

গড়িমসি আর গা-জোয়ারি করতে করতে 'জলপানের' সময়টা পার করে শশধর যখন 'গামলা' ভরা পান্তাভাতের পরিবর্তে স্রেফ বেতের একঝুড়ি সাদা খই নিয়ে 'জমির চাষ পরখ করতে' হাজির হয়েছিল হলধরের সামনে.....
মাথার উপরের জ্যৈষ্ঠের ঝনঝনে চড়া সূর্যের ঝাঁঝটা সহ্য করে তখনও হলধর ঘুড়ছিল বলদ জোড়ার পিছে পিছে!
বহুক্ষণ ধরেই পেটে তার আগুন জ্বলছিল, আর চিনচিন করে ভেতরটা সমানে পুড়ছিল....
তাই, মাথার উপরের চড়া সূর্যটাকে সহ্য করলেও হলধর আর কিছুতেই সহ্য করতে পারল না শশধরের এমন 'ইতরামো'!

আচানক, একলাফে তাড়া করে জাপটে ধরলো শশধরকে আর মুহূর্তে বলদজোড়াকে ছেড়ে 'হালের জোয়ালে' বেঁধে ফেললো শশধরকে!

তারপরই সপাসপ পিঠে 'হ্যালাপান্টির' পাচন....

চল!..হুট..হুট.! চল....

উত্তম ভট্টাচার্য

শিউলিফুল

সাহিত্যের অঙ্গনে !!


শিউলিফুল


এখানে বাস্তবিক ; জেগে আছে শিউলি ,
তার অপরূপ শোভন ঝরে পড়েছে 
নম্র ঘাসের কোলে
তার ঝরে পড়া প্রিয় সুন্দরম্ প্রায় যেন হাসছে
ও মোহনে ; হারিয়ে যায়নি সুঘ্রাণ এখনও ।
বড়ই মধুময় সে অনুভব আমার শিউলি
এতটুকু জীবনে সেই সত্য 
আমি তার নাম লিখেছি তারই ঝরে পড়া লাবণ্য দিয়ে ।

অপরিবর্তিত একাগ্রতায় ; একই বাস্তবে -
শরতের মধুর বাতাসের চুম্বনে ;
কাশফুল মাথা দুলে দুলে বুঝি ,
ও শিউলি তোমাকে জানায় বাহবা ।

এখানে কত অনুভূতি মিশে ,
দেখা যাচ্ছে চোখের সামনে
এখানে গভীর কত স্বপ্ন ,
জেগে থাকে চোখের আলোর মতন ;
জ্যোৎস্না জ্বলা রাতে 
শিউলির ছায়ায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে শিউলির দিকে ।

রাজকুমার ব্যাধ 




Saturday, July 20, 2024

জুলাই2024

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

জুলাই2024










বীজমন্ত্রের মুক্তি দাও নজর উল ইসলাম

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

বীজমন্ত্রের মুক্তি দাও
নজর উল ইসলাম 


বীজমন্ত্রের মুক্তি দাও খোরাকি বুকের অনুবাদ হোক
ফুলে ছেপে যাক ঘনঘোর ভালবাসা 
ভারসাম্যের আলো ফুটুক অভিমানী মনে 
সাঁতরে বেড়াক জোছনার অলি-ভ্রমরে 
মন ভেঁজে রাখা রাতের উপন্যাস হব
কুটিকুটি হবে ওজর অজুহাত 
তিতাসের দেশ নদীমাতৃকা জানি — রোজই সে 
ওড়ায় আকুল প্রেম-প্রপাত 
সব পাখিরাই বাসিন্দা প্রাণান্ত বনে 
না হয় পাগলামি একরাশ জোনাক ঝরে 
হারিয়ে ফেলেছি মন-ভাসানের কলি 
ঝরাপাতার শিল্প গড়া আগুন উন্মনে 
মৃগয়া তো জাতধর্মে লিখিনি কোনদিন 
বাঁশি ব্যাকুল অবিরত শুনি গল্পগাছে 
বোঝাও দেখি বিনত শিকড়ের সম্ভার খানি...

দুর্বৃত্তের রোষানল ডাঃ জাফর মোল্লা

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

 

 দুর্বৃত্তের রোষানল 
ডাঃ জাফর মোল্লা
 



দুষিত সমাজ বিষাক্ত আজ 
দুর্বৃত্তদের রোষানলে।
উষ্ণ শ্রাবণ ভরা নয়ন 
সৎ সততায় যারা চলে।।

সমাজের রন্ধ্র করছে ছিদ্র 
ক্ষতিকর কীটের রূপ ধরে।
কোন কীটনাশক করলে প্রয়োগ 
বলো এরা যাবে মরে??

এদের অন্তঃকোষ করে ফোঁস ফোঁস 
সময়ে অসময়ে।
সহজ সরল মানব সকল 
বাক্য হীন এদের ভয়ে।।

কুট মন্ত্রনা বিচার বিবেচনা 
জটিল এদের দিলে।
ছেঁড়ে বন্ধন লাগায় বিভাজন 
গুটি গুটি তলে তলে।।

ভীত সন্ত্রস্ত করে সর্বত্র 
ক্ষমতার দাম্ভিকতায়।
সাধারণ জনগণ হয় পেরেশান 
প্রতিবাদ হীনতায়।।

এরা আনাড়ি দল ভারী 
মিথ্যার বেসাতি পরা।
ছলে বলে কলে কৌশলে
ফাঁদ পাতে মানুষ মারা।।

এদের বংশ না করলে ধ্বংস 
সমাজ হবে শেষ।
সভ্যতার ধারা যাবে মারা 
ধ্বংস হবে দেশ।।

চাবির রিং জয়নাল আবেদিন

সাহিত্যের অঙ্গনে !!


চাবির রিং 
জয়নাল আবেদিন


দাড়িতে সাবান বোলাতে বোলাতে পরপর দুবার প্রেসার কুকারের সিটির আওয়াজ শুনলে মোবিন। রেজারে ব্লেড লাগাতে লাগাতে কান উঁচিয়ে মিলির উপস্থিতি টের পাওয়ার চেষ্টা করলো। অন্য সময় টুংটাং চুড়ির আওয়াজ ভাসে বাতাসে, যখনই কিচেন রুমে থাকে মিলি।
আজ কেমন যেন অস্বাভাবিক লাগছিল ব্যাপারটায়। তাহলে কি সে কিচেন রুমে নেই।
   কতবার এই ব্যাপারটা নিয়ে ঝগড়া করেছে মিলির সঙ্গে। মিলি মানতেই চায়না যে, কাজের লোক এনে তার রান্না মোবিনকে খাওয়াবেে। নিজের হাতে রান্না করবে, টেবিলে সাজিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে খাওয়াবে। এর অধিকার তার একচেটিয়া থাকবে। অন্য কেউ এ ব্যাপারে হাতে নিক বা দেওয়া হোক এটা ভাবতে মিলির কষ্ট হয়।
   সাদা সাবানের আস্তরণ সরে চকচকে- ঝলমলে একটা মুখ বের হল মোবিনের মিলিকে আস্তে করে হাঁক দিলে। আজ একটু তাড়া আছে বেরোনোর। অন্য দিন এর ফাঁকেই কিচেন রুম থেকে বারদুয়েক আসা হয়ে যায়। অথচ আজ...
   পৃথিবীতে একমাত্র মিলিই মনে হয় আছে, যে কিনা জন্মলগ্ন ছাড়া কোনদিন কাঁদে নি। এক বস্ত্রে যেদিন বাড়ি ছেড়েছিল মোবিনের সঙ্গে, সেদিনের কথা মিলি কোনদিন ভুলতে পারবে না।
 --এটাই কি তোমার শেষ কথা ?
 --হ্যাঁ ।
--মা- বাবা, কারো কথা তুমি ভাববে না ?
--ভাববো নিশ্চয় ই, তবে মোবিনকে ছোট না করে।
--তোমার এ কথা বলতে লজ্জা করেনা ? বেরিয়ে যাও। কোনদিন এ বাড়িতে তোমার মুখ দেখতে চাই না।
 মা ঢুকরে কেঁদে উঠলো। বাবার মুখ থমথমে। মিলি নিঃশব্দে বেরিয়ে এলো বাড়ি থেকে। তখনও তার চোখে কান্না আসেনি।

   দুটো বছর কি সংগ্রামের মাঝে কাটাল দুটো জীবন। অনভ্যস্ত জীবনে দুটি প্রাণী বেঁচে থাকার, টিকে থাকার কি অবিরাম সাধনা করে চলেছে।
 --কেন, এমন জীবন চাইলে মিলি ?
--সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার নামই তো জীবন।
--এ সংগ্রাম তো তোমায় মানায় না। আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে এতে।
--তোমায় সুখের অনুভূতিটুকু জাগিয়ে দিতে এ কষ্ট আমি সারা জীবন বুকে পেতে নিতে পারি।
 এভাবেই বছর কেটেছে দুটো জীবনের চাহিদা বিহীন। কৃত্রিম কিছুকে জীবনে কখনো ঠাঁই দেয়নি মিলি। ফলে ছোট্ট ভাড়া করা ঘরে কষ্ট করেও নতুন সংসার পেতে ছিল মবিনের সঙ্গে। সে জানতো মোবিনের বুকের মাঝে আশ্রয় পেলে আর কোন কিছুর প্রয়োজন থাকবে না তার।
  মনে পড়ে যায়, প্রথম দিনের সেই পরিচয় এর কথা। আজও ছবির মতো দৃশ্যপট সরে সরে যায় মনের ভিতর দিয়ে। মিলি দু চোখের পাতা বন্ধ করে সেই দৃশ্য দেখে তৃতীয় চোখ দিয়ে।

ইউনিভার্সিটি গিয়েছিলো কি একটা কাজে। দুপুর নাগাদ বাড়ি ফেরার জন্য দাঁড়িয়েছিলো সামনের বাসস্ট্যান্ডে। চারদিক হঠাৎ কেমন যেন শুনশান হয়ে গেল এক মুহূর্তে। গাড়ি যাওয়া- আসা করছে না। দোকানগুলো ক্রমশ বন্ধ হয়ে গেল। কোথায় যেন কি হয়েছে। একটা সময়ের মুহূর্তে কলেজ স্ট্রিটের মতো জনবহুল এলাকা শ্মশান ফাঁকা। লোকজন যারা আছে ফিসফাঁস- কানাকানি করছে। কেমন যেন হিম ধরা ভয় বুকে মোচড় দিয়ে উঠলো মিলির। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করার চেষ্টা করেও পেরে উঠেনি। আচ্ছন্ন করে দিল হাত পা। ঠায় দাঁড়িয়ে বাস স্ট্যান্ডে।
  --আপনি কি বাসের অপেক্ষায় আছেন ? হঠাৎ কন্ঠস্বর ভেসে এলো কানে, পাশে তাকিয়ে একটা যেন অবলম্বন পেলে মিলি।
 --হ্যাঁ, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি ! কোন গাড়ি দেখছি না।
 --পুলিশের গুলিতে মিছিলকারী কিছু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই সব কিছু বন্ধ হতে চলেছে। কিন্তু, আপনি কোন দিকে যাবেন ?
 --আমি বেহালা যাব।
 --এখান থেকে যাওয়া মুশকিল। হেঁটে শিয়ালদা গেলে কিছু পেতে পারেন।
 --আপনি কোথায় যাবেন ?
--উদ্দেশ্যহীন। সামনে কয়েক পা এগিয়ে গিয়েও ফিরে এলো। গেলে আসতে পারেন। অবশ্যই বাড়ি ফেরার ইচ্ছা থাকলে।
 বুকটা কেমন ছ্যাৎ করে উঠলো মিলির। কোথায় যেন তলিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। যা হোক অন্ধের যষ্টি, তবুও তো এ সময়ের অবলম্বন। আসতে পা চালিয়ে এগোল।
 কখনো পাশাপাশি। কখনো সামনে- পেছনে হাঁটছে ওরা। কেউ কোন কথা বলেনি। ফ্লাইওভারের সামনেই হঠাৎ একটা ট্যাক্সি পেল ওরা। প্রথমে সে কোনমতে রাজি হয়নি।
 --আরে নেহি সাব, উধার জানে সে বহুৎ মুসি বাত হো জায়েগা।
 --কুছ নেহি হো গা। চালিয়ে না। দিদি মনে হ্যায় না। বহুত মুশকিল হো জায়েগা।
--দেড়শ দেনা পারেগা ।
 --বহুৎ জাদা বল দিয়া তুম। শ লিজিয়ে না।
--ছোড়িয়ে সাব। জাউঙ্গা নেহি।
--গুসসা মাত কিজিয়ে। চালিয়ে।
  দুজনে দরজা খুলে গাড়িতে বসলে। ফ্লাইওভার টপকে গাড়ি এ জে সি বোস রোড ধরে এগিয়ে চললো।
কিছুটা নিশ্চিন্ত হল মিলি। এত সহজে সবকিছু সমাধান হলো যে মানুষটার জন্য। কেমন অদ্ভুত লাগছে তার। পাশাপাশি বসেও ছেলেটা তার দিকে তাকাইনি একবার ।কোন শব্দ খরচ করেনি একটাও । বড় অদ্ভুত তো !
 মিলি বললে, -- আপনি কোথায় যাবেন ?
 এই প্রথম মুখ ফিরিয়ে চোখাচোখি মোবিন বললে, -- আপনাকে চৌরাস্তা নামিয়ে দিয়ে, গাড়ি যদি আর নিয়ে যায়- তাহলে আর কিছুদূর যাব।
 মিলি বললে, -- কতদূর সেটা ?
 মবিন বললে, -- জোকা মোড়।
--যদি গাড়ি না যায় তাহলে কিভাবে যাবেন ? মিলির কৌতূহল। আপনি কলেজস্ট্রিট কোথায় গিয়েছিলেন ?
মোবিন একটু হেসে ফেলল, বললে - চরণযুগল তো সচল আছে অসুবিধে নেই। আর আপনার মতোই ইউনিভার্সিটি ক্লাস ফেরতা।
  বাকি রাস্তাটুকুতেই সহজ হলো কথাবার্তায়। শুনশান ফাঁকা রাস্তায় গাড়ির গতিবেগে, কম সময়ে চৌরাস্তা পৌঁছালো ওরা। তবে আর এগোতে চাইলে না ডাইভার। নেমে মোবিন ভাড়া দিতে গেলে মৃদু আপত্তি করলো মিলি।
--ভাড়াটা আমার দেওয়া উচিৎ। মিলি বললে।
--কেন ? আমার উচিৎ নয় কেন ? মোবিন টাকা দিতে দিতে বললে।
--আপনি তো আমার দায়িত্ব নিয়ে পৌঁছে দিলেন। না হলে কোথায় পড়ে থাকতাম। কি হতো ভাবতে পারছি না। মিলি বললে।
--ঠিক কথা। পরে কোনদিন সময় হলে শোধবোধ করে দেবেন। মৃদু হাসলো মোবিন।

টেবিল সাজানো ব্রেকফাস্ট। জামাকাপড় পরে খাবার খেয়ে- ব্যাগ হাতে বেরতে গিয়েও, মিলির সামনা-সামনি হলো মোবিন। গালে একটা টোকা দিয়ে লাভ ইউ বলে বেরিয়ে গেল। মুখে হালকা হাসির রেখায় চলে যাওয়া পথে চোখ রেখে উদাস হয়েছিল মিলি।
 কষ্টের জীবন ফেলে এসে- স্বপ্ন সফল সময় পেয়েছে তারা। বিগত এই ছ'বছরে তাদের জীবনে অনেক- অনেক পরিবর্তন এসেছে। মোবিন ভালো চাকরি পেয়েছে। সাদার্ন এভ্যিনিউতে ফ্ল্যাট নিয়েছে। মিলি চাকরি করতে চেয়েছিলো। তাকে চাকরি করতে দেয়নি মোবিন।
 --যে কষ্ট তুমি আমার জন্য করেছো। সমস্ত পৃথিবীকে দূরে ঠেলে এমন সেক্রিফাইজ অনেকেই করতে পারে না। আমার জীবনকে অনেকটা পালটে দিয়েছো। বাকি জীবনটা তোমার কোন কষ্ট আমি দেখতে চাই না।
-- যাহ, এভাবে বলছো কেনো ? কষ্ট দুজনেই করেছি । সফল হতে পেরেছি সেজন্যই। মিলি হাসিমুখেই বললে।

  প্রথম দেখা থেকেই মোবিনকে মিলি একজন সরল- সফল পুরুষ হিসেবে ভেবেছিল। তারপর মাঝেমধ্যে ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে দেখা হতো। দুজনের কথা হতো। বই পাড়ায় পুরনো বই কেনার নেশা ছিলো মোবিনের। সঙ্গ দিতো মিলি। পাশাপাশি হেঁটে শিয়ালদা স্টেশন। বাড়ি ফেরা। পরিচয় থেকে ক্রমশ প্রণয়ের পর্বেই গড়ালো তাদের সম্পর্ক। তখন দুজনেরই এম এ টা কমপ্লিট হয়েছে মাত্র। মিলি প্রথম জানালো মা'কে তাদের সম্পর্কের কথা।
 --কি বলছিস তুই ভেবে দেখেছিস ? একটা মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করবি ? কথাটা শুনলে তোর বাবা মেনে নেবে ? মা যেন আকাশ থেকে পড়লো।
--কেন ও কি মানুষ নয় বলে মনে হচ্ছে ? আর জাত-পাত আমি কখনোই মানি না। সোজা কথা, সোজা ভাষায় জানালে মিলি।
--তুই লেখাপড়া করে এতটা উচ্ছন্নে যাবি ভাবতে পারছি না ! পাড়ায় মান- সম্মান বলে কিছু থাকবে আমাদের ? তোর পরের ভাই- বোনদের কথা ভাববি না ? তাদের জীবনে তোর এই অপবাদ ক্ষতি করবে না ? মা যেন কঁকিয়ে উঠলো একটু।
--মা-গো, এখনো সেই পুরনো খোলস পরে থাকবে । যে মেয়েটা রোজ আমাদের দুধ দিয়ে যায় তার নাম রহিমা। যার কাছে রোজ সবজি কেনো, সেই ছেলেটার নাম ফারহাদ। যে মুদির দোকানে বাবা বাজার কেনে, তার নাম কালু চাচা।
--চুপ কর, আমাকে জ্ঞান দিতে হবে না। পয়সা দিয়ে কেনা হয়। ফাওয়া নিই না । মায়ের উত্তর।
  বাবাও ক'দিন পর জেনেছিল কথাটা। কোন প্রতি উত্তর দেয়নি তখন। কেমন যেন হতবাক হয়েছিলো। স্বাভাবিকতায় আসার দিন কয়েক পর, এক সকালে চা খেতে বসে আমাকে ডেকে বললে, --আমি শুনেছি তোমার জীবনের চরম সিদ্ধান্তের কথা। আর সেটা যদি তুমি একান্তই বাস্তবায়িত করতে চাও। তাহলে এই বাড়ির দরজা তোমার চিরদিনের জন্য বন্ধ থাকবে। তোমার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকবে না। আমার সিদ্ধান্ত জানালাম । তোমার যেটা পছন্দ করতে পারো। বাবা বেশ শান্ত গলায় বললে কথাগুলো।
   মোবিনের বাড়িতে ও বয়েছিলো ঝড়। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের ছোট ছেলে। এক দাদা, বিবাহিত দিদি। বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। দাদা কে এম সির ইঞ্জিনিয়ার। নির্ঝঞ্ঝাট সেকেলে পরিবার। বাবার কানে কথাটা যেতে সোজা বলে দিয়েছে।
--বিয়ে যেখানে ইচ্ছে- যাকে ইচ্ছে করতেই পারে। আমার আপত্তির কিছু নেই। তবে যেহেতু বাড়ির মতামতে বিয়ে নয়। বাড়ি এমন বিয়ে অনুমোদন করবে না। আর এই বাড়ি থেকে বিয়ে হবে না। বিয়ে করে এই বাড়িতে থাকাও যাবে না। এটাই আমার শেষ কথা।
  মোবিন চুপচাপ শুনেছিলো বাবার অভিমত। মায়ের চোখে দেখেছিলো জলের আভা। এক বন্ধুর সাহচর্যে মহামায়াতলায় এক প্রাইভেট স্কুলে মাস্টারি জুটে গেলো। বাচ্চাদের স্কুল। কলেবরে বেশ জাঁকজমকপূর্ণ । ছটা মাস চলার পর মোবিন বুঝেছিলো, কাছাকাছি ঘর ভাড়া নিয়ে সংসার বাঁধবে ওরা।
  শুরু হলো মোবিন- মিলির নতুন যাত্রাপথ। রেজিস্ট্রি বিয়ে করলে দুজন। সহজ জীবনের অঙ্গীকার নিয়ে। মানুষের পরিচয়ের জন্য দুটো নাম দুজনের। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। বাকিটা এক পুরুষ এক নারীর এগিয়ে চলার শপথ।
 মোবিন বলতো, -- জীবনটা একটা সংগ্রাম। এগিয়ে যাওয়া কখনো- পিছিয়ে পড়া আবারও। এভাবেই সময় চলে সময়ের সাথে।
   মিলি বলতো, -- জীবনটা একটা আপোষ শুধুই। বোঝাপড়ার উপর দাঁড়িয়ে। সুখ-দুঃখ, চাওয়া- পাওয়া, মান-অভিমান। সবটাই আপোষ আর বোঝাপড়ার গণ্ডির মধ্যে থাকলে। কোন সমস্যা থাকে না। হবেও না কোনকাল।
  এখন মোবিন- মিলির এক নির্ঝঞ্ঝাট সংসার। কোন সংস্কার নেই। কোন বিরোধিতা নেই। চাপিয়ে দেওয়া কোন মতবাদ নেই। দুটো মানুষ তাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সংস্কার মুক্ত এক পৃথিবী তৈরির অঙ্গীকার করেছে। তাদের একমাত্র সন্তানের নাম রেখেছে মানব।
  ছেলে ফিরেছে কিছুক্ষণ আগেই স্কুল থেকে। তারই পরিচর্যায় ব্যস্ত মিলি। সন্ধ্যা পেরিয়েছে। দিগন্তে অন্ধকার নেমেছে। মোবিন ফিরলো অফিস থেকে। প্রথমত তিনজনে দাঁড়িয়ে গোল হয়ে একে অপরকে আঁকড়ে ধরলো। ঠিক যেন একটা চাবির রিং।



কবিগুরুর মিনি অনুপ কুমার জানা

সাহিত্যের অঙ্গনে !!



কবিগুরুর মিনি
অনুপ কুমার জানা


পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ে 
       নাম তার মিনি ,
সহজ সরল অবুঝ মেয়ে
     সবাই মোরা জানি ।

   কাবুলিওয়ালার ডাক শুনে সে 
" কাবুলিওয়ালা , ও কাবুলিওয়ালা " 
  আসলো যখন কাবুলিওয়ালা
     ভীত হোল মিনির খেলা ! 

বন্ধু হোল অবশেষে দু'জন
    চললো কথা অনর্গল , 
অসম বয়স , -- কি হয়েছে তাতে
 রহমতের হৃদয়ে স্নেহের দোল !

আসতে থাকলো প্রত্যহ রহমত
       মিনি এখন সাহসী , 
কাটলো না ভয় মায়ের তবু 
       বাবার পাচ্ছে হাসি !  

  একি হোল সহসা একদিন -----
     হাতকড়া রহমতের হাতে !
বকেয়া পাওনায় গড়রাজি হওয়ায় 
       ক্ষিপ্ত হয়েছে অসতে !

  জেলে গেল খুনের দায়ে 
    কাবুলিওয়ালা রহমত ,
মিনির নিকট আসা-যাওয়া 
    বন্ধ হোল কিছু যাবৎ !

হাজির হোল রহমত একদিন
      মিনির সেদিন বিয়ে ,
আপত্তি সাধলো বাড়ির সবাই
    কবিগুরু আসলো নিয়ে ! 

" খোঁকি তুমি শ্বশুর বাড়ি যাবে ? " 
     জিজ্ঞাসিল রহমত মিনিরে ,
 নামিয়ে মুখখানি লজ্জায় মিনি 
     নীরবে ফিরলো অন্দরে ! 

 অশ্রু আসলো রহমতের চোখে ;
" আমার ল্যাড়কিটিও এ'বয়সের ,
সময় হয়েছে তারও বিয়ে দেবার
    একি অক্ষমতা বাপের "! 

নিদান সোমনাথ ঘোষ

সাহিত্যের অঙ্গনে !! 


নিদান
সোমনাথ ঘোষ



ডাক্তার হাকিম ও সব কবিরাজ
আর আছে যারা প্রিয়জন আমার
বলছে সবে থাকতে সুস্থ সবল ভাই
চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে সর্বক্ষণ তাই। 

এই নিদান শুনে আমার প্রশ্ন জাগে মনে
চিন্তা মুক্ত মানব কেমন দেখিনি তো জীবনে
একমাত্র দেখেছি তাদের যারা জড়বুদ্ধি পাগল
না আছে কোনও চিন্তা তাদের না আছে কিছু সম্বল। 

নিদান দিতে সবাই পারে অনিহা দায় নিতে
ব্যস্ত সবাই যে যার কাজে আছে ভীষণ মেতে
অচল যা কিছু আছে এ বিশ্বে বিদ্যমান
এতো ভাই চিরন্তন নেই যে কোনও এর দাম।

Wednesday, June 5, 2024

June 2024

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

June 2024


সাহিত্যের অঙ্গণে






সাহিত্যের অঙ্গণেসাহিত্যের অঙ্গণেসাহিত্যের অঙ্গণেসাহিত্যের অঙ্গণে








প্রত্যাশার চেয়ে বেশি

সাহিত্যের অঙ্গনে !! June2024

সাহিত্যের অঙ্গণে
বিজিত কুমার আচার্য্য



প্রত্যাশার চেয়ে বেশি


মিছামিছি জগৎ সংসারে 
করছি ছুটাছুটি অহর্নিশি।
ধন অর্থ ভালোবাসার টানাটানি, 
নিজ দেহ-মনে চলে হানাহানি।
দ্বন্দ্ব নিরসনে,অর্থ-প্রলোভনে,
চলে সর্বদা হিংসুটে রেষারেষি
শুধুই ক্ষমতার বাহাদুরি। 



নিদ্রা বিহীন

সাহিত্যের অঙ্গনে !! June 2024

সাহিত্যের অঙ্গণে
সোমনাথ ঘোষ


নিদ্রা বিহীন 


কতদিন কত বিনিদ্র রাত
কেটেছে আমার
নিজের সাথেই কত কথোপকথন
দ্বিধা দ্বন্দের মনের দোদুল্যতায়। 

রাত যতো গভীর হয় 
স্মৃতির পৃষ্ঠাগুলো যেন 
একের পর এক খুলে যায়
কিছুতেই পারিনা মিলাতে হিসাব
যা কিছু করেছি পুণ্য আর
কিছু পাপ।

এসে এই জীবনের পড়ন্ত বেলায় 
তবুও অন্তহীন চেষ্টা প্রতিবার
নিদ্রা বিহীন রাতে বারংবার।

গগনপ্রান্ত

সাহিত্যের অঙ্গনে !! June 2024



সাহিত্যের অঙ্গণে
রহিত ঘোষাল 

গগনপ্রান্ত


ক্ষতযােনি বিধবার মতো চাঁদ 
উঠেছে আজকে,
লাউডগা সাপের মতো ঘাসজমির 
মধ্যে দিয়ে পথ, বাঁশ বাগান, 
রোম ওঠা জামা গায়ে বদখত
আমাদের পুরনো বাড়ি
সদর দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকে,
অতীতের বৈশাখী বাতাস নিম্নভূমি হয়ে
প্রার্থনালয়ের চাতালে গঙ্গাস্নানের 
পর ভিজে পোশাক খুলে ফেলে,
খোঁপা খুলে ফেলে,
পদাবলী থেকে সামান্য অনুকম্পা
                         শূন্যে
মিশে যায়।।



তপ্ত ভূবন

সাহিত্যের অঙ্গনে !!june 2024

সাহিত্যের অঙ্গণে
ডাঃ জাফর মোল্লা 


তপ্ত ভূবন 



রোদ ঝাঁ ঝাঁ সব ই ফাঁকা 
তপ্ত এখন ভূবন।
তীব্র দহন উৎকণ্ঠিত মন 
ক্ষীপ্ত হয়েছে তপন।।

বারি বিহীন উষ্ণ জমিন 
হেঁটে চলা দায়।
বারুদের মতন দগ্ধ পবন 
লাগছে সবার গায়।।

পথে ঘাটে বাজার হাটে 
দেখা যায় না ভিড়।
শান্তি নেই কোনো খানেই 
অনলে জ্বলছে নীড়।।

ঘরে বাহিরে সবার কলেবরে 
জ্বলছে দহন জ্বালা।
পুকুর খাল শুকিয়ে জল 
ফেটে চৌচির নালা।।

গাছের শাখে চাতক ডাকে 
করুন কাতর স্মরে।
বৃক্ষ সকল সহিছে প্রবল 
উষ্ণতা অকাতরে।।

সদা সর্বদাই লু হাওয়া বয় 
মনে হয় দাবানল।
শরীরের বর্মে সদা ঘর্মে 
ঝরে চলেছে জল।।

আদিত্য তার মুখটি প্রখর 
উষ্ণ অংশু ছাড়ে।
কাটফাটা রোদে সবার হৃদে 
মৃত্যু কড়া নাড়ে।।

Saturday, April 13, 2024

শুভ নববর্ষ

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

আর কিছুক্ষণের ব্যবধানে আমার  বাংলা নতুন সনে প্রবেশ করবো, এই পরিবর্তন কর্ম গত ভাবে তেমন কার্যকরী না হলেও, বাঙালীর ভাবাবেগে কে প্রভাবিত করে।
এই ভালোবাসা সকলের অন্তর জুড়ে  বিরাজ করুক।
আমরা নতুন ভাবে সেজে উঠি সাজিয়ে তুলি।
শুভ নববর্ষ..



এই নববর্ষের প্রাক্কালে পত্রিকার নবতম সংখ্যা প্রকাশিত হল



ভালো আছি জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

ভালো আছি
জয়িতা চট্টোপাধ্যায়


বহু অপেক্ষার অথৈ জল পেরিয়ে সে যখন এলো
তার মুখে এক গভীর প্রশ্নের রেখা
তাকাতেই,
সে প্রশ্ন টুপ করে ঝরে পড়লো
নরম বৃষ্টির মতন সে জিজ্ঞেস করলো
'কেমন আছো'?
আমি বললাম
'ভালো আছি, সকাল হয়, দুপুর হয়,রাত হয়
আমি ভালো আছি'।

নারী তুমি বিশ্ব প্রসাদ ঘোষ

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

নারী তুমি 
 বিশ্ব প্রসাদ ঘোষ


নম্র টিলার সৌন্দর্য আভাস
এখন অনেকেই উদ্ভাসিত করতে
দ্বিধা বোধ করে না_

তবু হঠাৎ কোন নিভৃত আড়াল সরে গেলে
মনে হয় এই তো সেই অল্প আলোয়
কাছ থেকে পড়া রহস্য উপন্যাসের মতো
অপরূপ কুহক ; যার জন্য
আমি কৈশোর থেকে অপেক্ষায়
অনেক আগে থেকেই কবিরা (কালিদাস সহ)  

পথের বৃত্তান্ত উৎপলেন্দু দাস

সাহিত্যের অঙ্গনে !!


 পথের বৃত্তান্ত
 উৎপলেন্দু দাস

দুটো পথ ছিল পাশাপাশি ছুঁয়ে , আমি ছিলাম মোড়ে
একটি ঝলমল সবুজ মাঠে মিলিয়ে গিয়েছিল নীল দিগন্তে
অপরটি হারিয়ে ছিল গভীর অরণ্যের অন্ধকারে ঝরা পাতার ভিড়ে ।

ছিল হারানোর শঙ্কা অজানার ভয়
তাই বেছে নিয়েছিলাম সোজা পথ দুঃখ না চেয়ে
রোদে পুড়ে বহু দূরত্ব পেরিয়ে পথ হারালো সেই অরণ্যে ।

তারপর মোড়ে ফিরে গেলাম এবার আঁধার পথে 
ছিল আলোছায়া তন্বী জলধারা মিষ্টি ফল অচেনা সুবাস
একটু পরেই সন্ধান পেলাম আলোকোজ্জ্বল সেই মাঠের ।

দুটো পথ গেছে বেঁকে তবু মিলে যায় সেই মোড়ে
জীবনও তাই আলো আঁধার নিয়ে পৃথিবীর নীড়ে 
রয়েছে অপেক্ষায়, শুধু হেঁটে যাওয়ার আশ্বাসে
কোথাও সবুজ ঘাস কোথাও ঝরা পাতার ভিড় 
কোথাও পাখি ডাকে কোথাও দীর্ঘশ্বাস বয় বাতাসের সুরে l

উড়াল পাখির ডানায় তুষার ভট্টাচাৰ্য

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

উড়াল পাখির ডানায় 
তুষার ভট্টাচাৰ্য

উড়াল পাখির দু'ডানায় ঝিকমিক রৌদ্র দেখলেই
দু'চোখে ভেসে ওঠে রাঙা অশোক
পলাশের দিন ;
হলুদ ধানের খেতে মৃত পাখির পালক দেখলেই
হৃদয় কাননে জেগে ওঠে মৃত্যু ভয় ;
আর তখনই আমি অলৌকিক জোছনায়
আমি ক্ষ্যাপার মতন খুঁজে ফিরি
ভালবাসার আঁতুর ঘর l


   

নদীর ওপারে তুষার ভট্টাচাৰ্য

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

নদীর ওপারে 
তুষার ভট্টাচাৰ্য

সব কিছু ছেড়ে ছুঁড়ে নীরবে চলে যাবার আগে
 নিরুদ্দেশে
শুনতে চাইনা কারও কান্না ভেজা অশ্রুর গান ;
দুঃখের বাগানে আমি রেখে যাবো ভালবাসার
 সুরের সাম্পান ;
আমাকে দু'হাত তুলে ডাকছে সাঁই -
 'নদীর ওপারে যাবি আয় l '

ভেসে ওঠে মনোরঞ্জন ঘোষাল

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

ভেসে ওঠে
মনোরঞ্জন ঘোষাল

সে দিনও ছিল এক রাত
শুধু তুমি আমি ছিলাম অপরিচিত
পরস্পরের কাছে তখন।
একটা রাত আগুন আর লোকজন
জুড়েদিল মন জাগিয়েছিল প্রত‍্যয়
এখন থেকে আর একা নয়।
তার পর পরিচয় পথচলা
সুখ দুঃখে কেটে চলেছে সময়
কত ছবি ছড়িয়ে ছিটিয়ে সে পথে
কিছু স্মৃতি কিছু বিস্মৃতির অতলে আজ
শুধু ভেসে ওঠে দিনটা
ভেসে ওঠে মনে সে সময়।

ভুলতে কি পারা যায়" কার্ত্তিক মণ্ডল

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

ভুলতে কি পারা যায়"
  কার্ত্তিক মণ্ডল

ভুলতে কি আর যায় রে পারা
মেঠো পথে পিছলে পড়া
মাখতে কাদা কি আনন্দ
মেখেছি ভাই যে বা যারা। 

আমা খেজুর ও তালের সারি
বটের গায়ে কত ঝুরি
এখন দেখা পাওয়াটা ভার
মিথ্যে গল্প ভুরি ভুরি। 

রাখাল হয়ে চরাই গোরু
বাজাই সুরে পাতার ভেঁপু
আলের পথে জল ছপ্ ছপ্
হয়ে যাই সব দুর্গা অপু। 

ভাবতে বড়ো কষ্ট লাগে
ভাসে সে সব মনের খাতায়
আঁকতে থাকি সারাটা দিন
খোলা মাঠের নক্সিকাঁথায়। 

শারদ রাত অর্পন ঠাকুর

সাহিত্যের অঙ্গনে !

শারদ রাত
অর্পন ঠাকুর

তোমায় হেরেছি শারদ রাতে 
তাই খুঁজে মরি'গো শূন্য হাতে।
তবুও স্বপ্ন দেখি শয়ণে প্রাতে
দু'নয়নে কেঁদেছি অশ্রু খাতে।
তোমায় হেরেছি শারদ রাতে


বাঁকা চাঁদ মম হেরেছ চন্দ্র মুখে
নাহি গাহি গান তব চৈতন্য সুখে।
মিটিমিটি আলো জ্বলেছে দুঃখে
প্রশ্ন করি যদি, উত্তর দেয় রুখে।
বাঁকা চাঁদ মম হেরেছ চন্দ্র মুখে


ওমন হাসি দেখেছি রাত্রি হেসে
প্রহেলিকা ভেদিয়া নিত্য বেশে।
প্রণয়ে দেবে দর্শন ললাট ঘেঁষে 
খুঁজিতে তোমায় হন্যে সর্ব দেশে।
ওমন হাসি দেখেছি রাত্রি হেসে


আহা!স্বপনে দেখিতে পাই মনে
রহেনা টিকে মন দেখিতে ক্ষণে।
সর্বহারা ওগো আসিয়া মম সনে 
বেঁধেছি গাঁটছড়া মম হৃদয় বনে।
আহা!স্বপনে দেখিতে পাই বনে


স্মরণে সুবাদে আঁখি মেলে পানে
অভিপ্রায়ে রই গো তোমারি টানে।
যবে পাই শুনিতে সুর ছন্দ গানে
হঠাৎ! বলিবে ভালোবাসি কানে।
স্মরণে সুবাদে আঁখি মেলে পানে


তোমায় হেরেছি শারদ রাতে
তাই খুঁজে মরি'গো শূন্য হাতে।
তবুও স্বপ্ন দেখি শয়ণে প্রাতে
দু'নয়নে কেঁদেছি অশ্রু খাতে।
তোমায় হেরেছি শারদ রাতে

নতুন স্বপ্ন ডাঃ জাফর মোল্লা

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

 নতুন স্বপ্ন
 ডাঃ জাফর মোল্লা


এসো না আজ গড়ি সমাজ
সৎ ও সততার।
থাকবে না অসৎ মোটেও বলবত
ভরে থাকুক সব বিশ্বস্ততার।।

মায়া মমতা স্নেহ ভালবাসা
শপথ হোক পাশে থাকার।
হিংসা বিদ্বেষ করে দিই শেষ
পরিকল্পনা হোক এই সবার।।

যুদ্ধ বিবাদ করি বরবাদ
ফ্যাসাদ থেকে বাঁচি।
খুঁজি শান্তি ভুলি ক্লান্তি
জমাই পারের পুঁজি।।

সুস্থ দিলে হেসে খেলে
বেঁচে থাকার হোক লড়াই।
দম্ভ অহংকার হোক চুরমার
ধ্বংস হোক সব বড়াই।।

এমন সমাজ গড়ি এসো আজ
মানবতার হোক জয়।
বিবেক জ্ঞান মান সম্মান
আর যেন না হয় ক্ষয়।।।।

অজানা পলাশ তপতী রায়

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

অজানা পলাশ
তপতী রায়

মধুমিতার জন্য অনেকক্ষন অপেক্ষা করে রমা ভেতরে গিয়ে বসল।প্রচন্ড ভীর। অল্প বয়সের ছেলে মেয়ে খুবই কম।রমা কোনের দিকের একটি খালি চেয়ারে বসে এক কাপ কফি অর্ডার দিল।চারিদিকটা একটু দেখে নিল পরিচিত কেউ আছে কিনা। আজকাল এখানে বই এর দোকানের মালিক আর পাবলিশারের ভীর।আমাদের সময় কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী, প্রফেসারদের ভালো-মন্দ আলোচনার আড্ডা খানা। লেখক,লেখিকা, সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের মাঝে মধ্যে দেখা যেত। এক কাপ কফি নিয়ে ঘন্টার পর ঘ্ন্টা আড্ডা বা কিছু কাজের কথা বলে ফেলার জায়গা বোধহয় ভূ-ভারতে নেই।এর নাম কফি হাউস।

দিন সত্যিই বদলেছে। এ যুগের মেয়েরা মনে হয় অন্য ঠিকানা পেয়ে গেছে।রমা আর একবার চারি দিকে চোখ বুলিয়ে নিল, চেনা পরিচিত কেউ দেখা যায় কিনা।

 মনের গভীরে পুরনো দিনের কথা ঢিমে তালে দুলে চলেছে। যত চেষ্টা করছে প্রাক্তন কে জীবন থেকে কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলেছি। তবু বার বার ঘুরপাক করছে কফি হাউসে ঢোকা পর্যন্ত। অল্প অল্প প্রেমের গল্প। কলেজ ছেড়ে, সবে বিশ্ববিদ্যালয়।মনের নায়ক স্যাটা বোসকে যেন হাতের মুঠোয় পেয়ে গেলাম। পলাশ বোস। চেহারা থেকে কথা-বা্র্তা! আমার স্বপ্নের নায়ক। গরম কফিতে চুমুক দিতেই মনে হলো পাশের চেয়ারে কে যেন বসল। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি আমার স্যাটা বোস! প্রাক্তন স্বামী পলাশ বোস। এতক্ষন মন জ্বালাতন করছিল। এবার অতীত এসে পাশে বসল।

ব্যাগ নিয়ে উঠে পড়ছিলাম ,হাত ধরে বসিয়ে দিল।বলল, এই চেয়ারটার একটা আলাদা আকর্ষণ আছে। প্রথম পরিচয় এইখান থেকে।মন বলছে আবার শুরু হবে এইখান থেকে।অসহ্য! উঠে পড়লাম।শব্দ করে হেসে উঠল। আসপাশের লোক মিটি মিটি হাসছে।

মিটিমিটি হাসছে।অপেক্ষায়, পরের নাটক দেখার আশায়।আমি কফি হাউস থেকে বেড়িয়ে পড়লাম।

(২)ঘড়িতে প্রায় আটটা বাজে। পলাশের কাছে গাড়ি আছে।কোন রকম অনুরোধ করল না। ভালো করেই জানে যাব না। একটা ক্যাপ নিয়ে বাড়ি পৌছাতে প্রায় রাত দশটা হলো।মেয়ে গাড়ির শব্দ শুনেই দরজা খুলে রেখেছে, দেয়ালে হালান দিয়ে দা্ঁড়িয়ে।ঘরে যেতে যেতে বললাম, অনুরাধাকে ছেড়ে এলাম। দেরী হয়ে গেল।খেতে আয়।   

এই প্রথম ওকে চুপচাপ দেখলাম। ঘরে ঢুকলেই গল্পের তুবড়ি, আরম্ভ হলে শেষ হতে চায় না।খুশি খুশি মুড!শিস শিস দিতে দিতে নিজের ঘরে চলে গেল।মনে হলো আগ্নির সাথে দিনটা ভালোই কেটেছে।প্রতিদিন হাজার গন্ডা নালিশ।কথা গুলো শুনে মনে হয় একশ ভাগ সোনাই এর দোষ।মন্তব্য করি না। নিজের ভুল নিজেই সমাধান করা উচিত।একটা সমায়ের পর মা-বাবার উপদেশ তেমন কাজে লাগেনা।বিরক্ত হয়।বিশেষ করে এই যুগে।একদিন বলেই ফেলল, ভুল, ঠিক যাই করি নিজেই সামলে নেব।যেমন তুমি সামলে নিচ্ছ!

হাতে প্রচুর কাজ। এনজিও তে কাজ করি। এবার গ্রাম পরিক্রমা আছে। গ্রামের স্কুলের ছেলের পড়াশুনা ছারাও পরিবেশ সচেতনার ভার আমার ওপর পড়েছে।প্রথম প্রথম একটু আসুবিধা হতো। একবার বন্যার সময় তিনজন বন্ধু মাটির ঘরে আটকে পরে ছিলাম।ভাগ্যিস লীলা আর সালমা ছিল।ওদের ছেলে বেলা বাংলা দেশের গ্রামে কেটেছে।সত্যি কথা বলতে আমার জন্ম সোনার চামচ মুখে দিয়ে বললেই হয়। না পারি হ্যারিকেন জ্বালাতে, না পারি কাঠের আগুনে রান্না করতে। সব শিখে গেলাম।

এখন পুরনো বন্ধু-বান্ধবদের সাথে মিশতে একটু অসুবিধে হয়।সব হাই-ফাই সোসাইটি। আমিও ঐ রকমি ছিলাম। কিছুটা পলাশ এর কাছ থেকে কিছুটা নিজের পরিবেসে বদলে গেছে পথ চলার রাস্তাটা। মেয়েটাকে নিয়ে, সিধে সরল শিশু গুলোকে নিয়ে নতুন আলোর সন্ধানে এগিয়ে চলেছি। মনে মনে সঙ্কল্প করেছি ওদের মনে পৃথিবীর সবটুকু আলো পৌছে দেব একদিন।

 নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছি।তাই এক পরম শা্ন্তি অনুভব করি মনের অন্তরালে।    


(৩)

কোন কাজে মন বসাতে পাড়লাম না। ঘুরে ফিরে সেই রাতের কথা।

সেদিন জোর করে পলাশকে কলেজ কামাই করালাম।সোনাই এর জ্বর। কাজের মেয়ের ভরসায় রাখা যাবে না। কাজে মন লাগাতে পাড়লাম না। একটু আগেই বাড়ি চলে এলাম। বাড়ি তালা বন্ধ।পুরনো চাবি দিয়ে দরজা খুললাম। বাড়ি নিঃশব্দ। মেয়েটা নিজের ঘরে অকাতরে ঘুমচ্ছে। কাজের মেয়ে নীতুর কোন পাত্তা নেই। বেড রুমের দরজা বন্ধ। দরজা ধাক্কা দিতেই, আমাদের বহুদিনের পরিচিত বন্ধু বা ছোট বোন বলা যেতে পারে মালা আর পলাশ বেড়িয়ে এলো। হতবাক!

সেই মূহু্র্তে তিন বছরের মেয়ে নিয়ে মায়ের কাছে চলে আসি শান্তিনিকেতন। আমাদের কোন আইনের কাঠ গোড়ায় দাঁড়াতে হয়নি। কেউ কাউকে কোন প্রশ্ম করিনি।মালা বিবাহিত। পাকাপাকি ভাবে আমেরিকায় বসোবাস করে। কোন সন্তান ছিল না।এর পর ওর খবর কিছু জানতাম না বা জানার চেষ্টা করিনি। পলাশ মাঝে মাঝে মেয়ের কাছে আসত। শা্ন্তিনিকেতনের গেস্ট হাউসে থাকতো। পনেরো বছরে দু-এক বার দেখা হয়েছে।বহু বছর বাদে কফি হাউসে মুখো মুখি হোলাম।   

ভাবতে কোন দ্বিধা নেই এখনও সুপুরুষ। মাথার চুল সাদা কালো। ঝুলপি সাদা কালো সোনালি রং। রমা নিজের অজান্তে আয়নায় নিজেকে দেখে নিল।নিজের মনেই বলে ফেলল, কেউ কি বলবে আমার এত বড় মেয়ে। হেসে ফেলল বালিশে মাথা গু্ঁজে। 

ভোর বেলা ঘরের বাইরে গিয়ে দেখি, সোনাই খাবার টেবিলে বসে।–কী রে এত সকাল সকাল। কোথায় যাবার আছে। বলল, “না মা, তোমার সাথে একটু কথা আছে।আমার কথা একটু ধৈয্য ধরে শুনতে হবে। তোমার কথাও আমি শুনবো।

বাবার সাথে বেশ কিছু দিন আমার যোগাযোগ আছে।শরীর খুব খারাপ।তার চেয়ে কঠিন সমস্যা পুরনো ঘটনা।বাবার সাথে মালা মাসির বিয়ের কথা ছিল.। হয়তো তুমি জানো। বাবার পছন্দ ছিল না। ঠাকুমার কথায় রাজি হয়ে ছিল।ওদের সংসারের হাল এমন অবস্থায় পৌছায়, মালা মাসির বাবার বেশ কিছুদিন জেল হয়। বিয়ে ভেঙে যায়।মালা মাসি বাধ্য হয় এক অসুস্থ মানুষকে বিয়ে করে এবং আমেরিকা চলে যায়।  

এর পরের ঘটনা তোমার সাথে বাবার পরিচয় ও বিবাহ বন্ধন। একটি সুখী পরিবার। মালা মাসির স্বামীর প্রচুর টাকা। মালা মাসির পরিবার আজ দা্ঁড়িয়ে গেছে।মানুষটা কোনদিন সন্তান দিতে পারেন না।অক্ষম!সেদিন বাবার কাছে একটি সন্তন চেয়ে ছিল। কথা দিয়েছিল, কেউ জানতে পারবে না কেবল আমার বাঁচার রসদ। মানসিক অবস্থা এতই খারাপ ছিল, বাবা ফেরাতে পারেনি। তখন তোমাদের এক ভরপুর আনন্দের সংসার। তোমাকে ও আমাকে হারাতে চাইনি। আমার মাত্র দু বছর বয়স। আমেরিকা ফিরে যাবার আগে ওর বাড়ি সাতদিন ছিল। তুমি তখন শান্তিনিকেতনে আমাকে নিয়ে ছিলে।।বাচ্ছা হবার পর মালা মাসি চার দিন বেঁচে ছিল।বাবার সাথে আর কোন যোগাযোগ ছিলনা। ওর স্বামী মারা যাবার সময় সব কিছু জানিয়ে যান। বাবাকে ওখান থেকে জানায়। নিয়ে আসতে বাধ্য হয়। নাম এনা। বয়স চৌদ্দ। একেবারে আমার মতো দেখতে।

তুমি একজন সমাজ সেবিকা। শত শত অনাথ শিশু, পরিচয় হীন শিশুর জন্য লড়াই করে চলেছ।একই বাবার দুই মেয়ে। মা কেবল আলাদা। গ্রহন করতে পারবেনা”.         

      (৪)আমি দু-হাত দিয়ে ওকে জরিয়ে ধরলাম। বললাম, “জানি না কতদুর মেনে নিতে পারব তোমার বাবাকে, তোমার বোন এনাকে। একদিন তোমায় কলে নিয়ে অনেক কেঁদেছি। তোমার বাবা বহুবার এসে ফিরে গেছে।বহু চিঠি দিয়েছে। খুলে দেখেনি। সমাজ সেবা কাজে যখন নিজেকে লিপ্ত করলাম। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম ঈশ্বরের কাছে,মানুষের কাজে যদি কোন দিন আমাকে প্রয়োজন হয় সব বাঁধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাব।দায়িত্ব তোমায় দিলাম। আমার দিক দিয়ে তোমাদের কোন অসুবিধে হবে না।কেবল আমার ঘর এবং ছাদ আমার থাকবে”।

সোনাই হৈহৈ করে বাবা, মেয়ে নিয়ে চলে এলো। প্রথম প্রথম একটু অসুবিধে হতো। বহুদিন বাবা মারা যাবার পর পুরুষ মানুষ কেউ ছিল না। বিশেষ করে খাবার টেবিলে, সামনা সামনি পড়ে গেল, আমার অসুবিধে হতো।পলাশের হতো না।
যেমন রেখে এসে ছিলাম ঠিক সেই রকম। বয়স নামক সংখ্যাটাই বেড়েছে।একদিন কাজে বেড়চ্ছি দেখি গেটের সামনে দাঁড়িয়ে। আমাকে উদ্দেশ্য করেই বলছে, “আগের মতো জ্বর, মাথা ব্যাথা হয় না”। গেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে।হাতটা সজোড়ে টেনে বেড়িয়ে পড়লাম। বলল, “আশা করেছিলাম পাঞ্জাবিটা ছিঁড়ে বেড়িয়ে যাবে সিনেমার সুচিত্রা সেন এর মতো”। রিস্কা চালকও হাসতে শুরু করল।অনেক দূর পর্যন্ত হো হো করে হাসির শব্দ কানে এলো।

এই ভাবে এগিয়ে চলল জীবন। মেয়ে দুজনে বড় হয়ে গেল। বিদেশ চলে গেল।

আমরা দুজনে। সামনেই দোল। শান্তিনিকেতনে যাতায়াত বেড়েই গেল।আমার চেয়ে পলাশের চাহিদাটা বেশি ছিল। একবার ঢুকলেই হলো। ছেলে মেয়েরা চারিদিক থেকে ঘিরে ধরতো। সকলের সামনে আমার হাত ধরে টেনে আনতো।– “এই শোন, বউ পাশে থাকবে, তার চার দিকে তোরা।বহুবার বলেছি এই রকম করলে এক সাথে আসব না”।

একদিন শান্তিনিকেতন থেকে ফিরছি। সূর্য পশ্চিমে অস্ত শিখরে।আকাশ জুড়ে লাল আভা। টুপ টুপ করে পলাশ ফুল পড়ছে বৃষ্টির মতো। আমার কাঁধের ওপর একটা হাত রেখে বলল, “বসন্ত আবার এলো। আজ রাতে যে যাই বলুক আমি হোলি খেলবোই খেলব”!ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের হাসির হুল্লোড়। কি আর অভিমান করব এই অজানা পলাশের ওপর।   




Monday, April 1, 2024

নারীর মর্যাদা অর্ণব ঘোষ

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

নারীর মর্যাদা  

অর্ণব ঘোষ    


                       

 নারীর দিবস একটি দিনে, কতই হইচই                 

নারীর কথা কেই বা বোঝে, সমাজ বোঝে কই?    

আজও দেখি এই সমাজে নারীর ধর্ষণ              

প্রগতিশীল সমাজ খোঁজে নারীর দোষ গুণ।         

সমাজ শুধু চেঁচিয়ে মরে, পুরুষ নারী সমান          

নারী আজও ভোগ্য পণ্য, নারীর কোথায় মান?     

আজও যখন এই সমাজে জন্ম নেয় এক শিশু     

আঁতুড় ঘরে সবার নজর, সে পুরুষ না নারী!         

আজও আছে অনেক পুরুষ কামের জ্বালায় জ্বলে,                                                             

নারীর শরীর দেখলে পড়ে জিভেতে জল ঝরে,   

তাঁরাই এখন এই সমাজে ভদ্র মহোদয়,               

নারী নিয়ে জ্ঞানের ভাষণ তাঁরাই আগে দেয়।    

নারীর কোনো একটি দিবস হয়না কোনোদিন       

নারীর স্থান এই সমাজে সবার উপর থাকবে চিরদিন।                                                         

Thursday, March 28, 2024

অন্তরের মজলিস রবীন্দ্রনাথ সাহা

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

অন্তরের মজলিস
 রবীন্দ্রনাথ সাহা 

হৃদয়ে হৃদয়ে পলাশ শিমুল
বসন্তে জীর্ণ বেদনার হবে নির্মূল। 

এসো বসন্তে হই একাকার, 
পূর্ণিমা প্রাণদর্শন ভালবাসার। 

মাঝে মধ্যেই ঝিরিঝিরি বর্ষণে
সাড়া দিতে হবে একাত্মতার আলিঙ্গনে। 

রাশি রাশি হাসিমুখ পাবে ঐ মেঘের পানে, 
তারারা যেমন হেসে ওঠে অদৃশ্য টানে। 

জীবন একটাই শোনো মনপ্রাণে, 
আজ সুর বাঁধলে কাল তুমিই বাজবে গানে। 

মিটে যাক অভিমান এই মধুক্ষণের উঠোনে, 
অদৃশ্য আদর থাক পরস্পরের মননে। 

অন্তর সবুজায়ন যেন হয় সবার, 
জীবন ভীষণ মূল্যবান তপোবনে পেয়েছি উপহার। 

অনুভবেই হৃদয় পাবে হৃদয়ের হদিস, 
জমে উঠবে তখনই অন্তরের মজলিস।

ইদানীং আঙুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে শব্দ নেয় মুঠোফোন, 
এই বিশ্বমঞ্চ তোমার আমার আঙুল ছুঁতে চায় মাইক্রোফোন। 

হঠাৎ দেখা আমেনা বেগম

সাহিত্যের অঙ্গনে !!

হঠাৎ দেখা
আমেনা বেগম

ট্রেন চলছে সর্পিল গতিতে।চলন্ত ট্রেনের গর্ভে চেনা-অচেনা কত মানুষের আনাগোনা। কেউ হাসির আড্ডায় ব্যস্ত, কেউ বা আবার আনমনে প্রকৃতি উপভোগ করছে কিংবা কেউ একাগ্রচিত্তে বই পড়ছে।কারো হাতে মোবাইল আর কানে হেডফোন। নিশ্চয়ই গান কিংবা মুভি দেখা হচ্ছে। আমিও নিমীলিতলোচনে বইয়ের উপর নিবিষ্ট মনে পৃষ্ঠের পর পৃষ্ঠা উল্টিয়ে যাচ্ছি। বাপরে,উফ! কি বিরক্ত। মনে হচ্ছে ট্রেনটা তার বাপের সম্পত্তি আর যাত্রীরা তার বাবার ভাড়াটে।একবার দেখি তো এমন করে কে কথা বলছে।এই বলে মুখ তুলে পাশ ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখি একটা সুদর্শন পুরুষ একগাল অট্টহাসি দিয়ে তার সঙ্গীটার সাথে খুনসুটিতে মেতে আছে। কী ভাবছেন আপনারা? সঙ্গীটা হয়তো কোন মেয়ে হবে এমনই কিছু? না,আপনাদের ভাবনা ভুল।সঙ্গীটা একটা শান্ত হাবাগোবা স্বভাবের ছেলে। হয়তো চঞ্চল টাইপের ঐ ছেলেটির বন্ধু হবে নির্ঘাত। আমি রাগতমুখে তাকিয়ে আছি অট্টহাসি করা ছেলেটির দিকে। হয়তো ভাবছেন কিংবা ব্যঙ্গ করছেন রাগের মধ্যে আপনার চোখ পড়ল কীভাবে যে মানুষটি সুদর্শন? আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। এত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই।ছেলেটির চোখ দুইটি প্রথম অবলোকন করছি, ভারী সুন্দর। তার উপর চশমা পড়ছে।গায়ের বর্ণ গৌর কিছুটা। তাছাড়া যে অট্টহাসি দিয়েছে তার অল্পখানিক পরে তার মুখে মৃদু হাসি খেলে গেল।দেখতে অনেকটা মার্জিত লাগছে।দেখে মনে হচ্ছে সোনালি চিক চিক রোদের মিষ্টি আভাতে রাঙিয়ে দিয়েছে মুখটি।আমি কিছুটা অবাক চিত্তে সেই মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আপনারা কেন সুদর্শন বলেছি। তার পাশের মানুষটিকে ও দেখলাম এবার অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে। ভাবছি শান্ত স্বভাবের। এখন দেখছি পুরো উল্টো। হঠাৎ করে ঘড়ির দিকে তাকালাম কয়টা বাজল দেখার জন্য। দেখলাম চারটা ত্রিশ মিনিট।ওহ! আপনাদের তো বলা হয়নি আমি কে?

আমি রাত্রি।এবার অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ছি।আমার বাড়ি দিনাজপুর। যাচ্ছি চট্টগ্রাম। এখন তো গ্রীষ্মকাল। কয়েকদিনের জন্য গরমের ছুটি পড়ে গেছিল।ফলে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘদিন বাড়িতে সময় কাটিয়ে আবার পাহাড়ি ঘেরা সবুজ প্রকৃতির স্নিগ্ধ মায়াময় স্বপ্নপুরির উদেশ্যে পাড়ি জমালাম।খুব তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে বের হয়েছি।মা অনেক ব্যস্ততার মধ্যে ও আমাকে বারবার বলেছে যেন কয়েকদিন পর আবার ফিরে আসি।আমি ম্লান হাসি দিয়ে বলেছিলাম, আসবো মা,ফিরে আসবো।এই তো কয়েকটা দিন।তারপর দেখবে তোমার মানিক তোমার কাছে ফিরে আসছে।শুধু আশীর্বাদ করো আমার অভীষ্ট লক্ষ্য যেন পূরণ হয়।

ট্রেনের মধ্যে মা'র কথাগুলো কানে বাজতে ছিলো অনেকক্ষণ। সেজন্য মন দিলাম বইয়ে যাতে মন খারাপের বাতাসটা অন্য দিকে প্রবাহিত হয়।কিন্তু, এই পাশের সিটের মানুষটার অট্টহাসিতে কী আর উপন্যাস পড়বো!ইচ্ছে করছে অন্য কোন সিটে গিয়ে বসি আর না হয় ছেলেটাকে কিছু কটু কথা শুনিয়ে দিই।কিন্তু 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অমিতের মত মানুষটির বৈশিষ্ট্য দেখে আমি কিছুক্ষণ লাবণ্য হয়ে গেলাম। মনমাঝারে বয়ে যাচ্ছে ঠান্ডা হিমেল পরশ। কী এক অজানা অনুভূতিতে হৃদয়ের বরফ গলে পড়ছে। কিন্তু ছেলেটা ভ্রুক্ষেপহীন। অনেকক্ষণ পর ছেলেটি আড়চোখে একবার তাকালো আমার দিকে।আমি ততক্ষণে উপন্যাসের ক্লাইমেক্সে পৌঁছে গেছি।এরপর প্রায় আরো আধা ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর আমি কিছুটা ক্লান্তি -শ্রান্তি কাটানোর পর জানালার বাহিরে মুখ বাড়ালাম। গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা আসলে প্রকৃতি কিছুটা শান্ত হয়ে যায়। তেমনি শান্ত হয়ে গেছে ঝক ঝক ঝক ট্রেন চলার শব্দ। 

মুখ ঘুরিয়ে দেখি আমরা গৌরিপুর জংশনে এসে পৌঁছেছি। পরক্ষণেই দেখলাম ছেলেটা ও তার পাশের বন্ধুটা বাহিরে গেল। আমি ততক্ষণে ব্যাগ থেকে পানি বের করে খেলাম।ব্যাগের ভিতর দেখছি পুলি পিঠা কয়েকটা। আমি ভীষণ পছন্দ করি এই পিঠা। আমি রাতে ও সকালে অনেকগুলো পিঠা খেয়েছি।কিন্তু মা যে আরো কিছু আমার জন্য উপরি রেখে দিবেন ভাবতে পারিনি। আমি পিঠা দেখে খুশি হয়েছি।এমনিতে অনেকক্ষণ ধরে উদরে লেলিহান শিখা জ্বলে ক্ষিধার ছুটে। পিঠাগুলো পেয়ে পেটকে শান্ত করা যাবে। আমি পিঠা খাওয়া শুরু করলাম। এমন সময় তারা দু'জন ট্রেনে এসে প্রবেশ করল। আমার পাশে আরো অনেকে আছে।একটা ছোট বাচ্চাকে পিঠা দিলাম দেখি পিঠা পেয়ে সে আমার কাছে চলে আসল। কয়েক মিনিট পর তার মা তাকে নিয়ে নিল।এতবড় এই পৃথিবী। তার মধ্যে ছোট্ট এই বাংলাদেশে প্রায় ১৮ কোটি লোকের বাস।প্রতিদিন কত প্রয়োজনে মানুষের পদচিহ্ন পড়ে কত জায়গায়। কে তার খবর রাখে। 'শেষের কবিতা'  উপন্যাসের এক জায়গায় রবী ঠাকুর বলেছেন-
"ভালোবাসা ভালোবেসে শুধুই তাকে ভালোবেসে ভালোবাসায় বেঁধে যে রাখে।"
 এত কঠিন তত্ত্ব কথা বুঝা আমার সাধ্য নয়।তবুও আমি বিষণ্ন মনে বলতে লাগলাম কতজনকে বেঁধে রাখবো আমরা।পৃথিবী, সময় ঘণ্টার কাঁটা কি আমাদের কথা শোনে? শোনে না। সবকিছু নিজের গতিতে চলে। এই জংশন থেকে অন্য জংশনে কত মানুষ আসে যায়।কত মায়া সৃষ্টি করে।কে তার হিসাব রাখে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'পোস্টমাস্টার ' গল্পে বলেছিলেন,
"ফিরিয়া ফল কী!
পৃথিবীতে কে কাহার?"

সত্যি তো কে কার জন্য অপেক্ষা করে।আমার ভাবনার অলিগলিতে কতশত জিনিস উঁকি মারে তার ইয়ত্তা কে রাখে। সবই কি পূরণ হবে।

এই যে শুনন,কিছু না মনে করলে একটা প্রশ্ন করবো? আমি কে বলে পাশ ফিরিয়ে দেখি সেই অট্টহাসি দেওয়া ছেলেটা। আমি কিছুক্ষণ ইতঃস্তত বোধ করে পরক্ষণে উত্তর দিলাম,শিউর।ছেলেটি বলল,আপনি কি আমার জোর শব্দে কিংবা হাসিতে তখন বিরক্তিবোধ করেছেন?
যাক,বাবা! এ আবার বুঝলো কীভাবে আমার মনের কথা।হয়তো আড়চোখে তাকিয়ে ছিলো যে তখন বুঝতে পেরেছে। কিন্তু তখন তো দিব্যি আড্ডায় মেতে ছিল।এছাড়া লাগিয়েছে চার চোখ। এখন তো দেখছি পিছনেও দুটো চোখ আছে মনে হচ্ছে। আমি নিজেকে লুকিয়ে কনফিডেন্স নিয়ে বললাম,কই না তো! বিরক্ত হবো কেন?

না, আসলে আমার বন্ধু আমাকে বললো আপনি আমার জোরে কথা বলার সময় ডিস্টার্ব অনুভব করেছেন। আপনার তাকানো দেখে সে বুঝে ফেলেছে। ওরে শালা! দেখলাম তাকিয়ে এই আর অনুভব করেছে তার সৈন্য। এই দেখছি শান্ত স্বভাবের আড়ালে মিছকা শয়তান একটা।আমি বিড়বিড় করতেছি।

কিছু বলছেন মনে হচ্ছে,সে বলে উঠল। না,না,কি বলবো।আমি হেসে উত্তর দিলাম।আমি তাড়াতাড়ি অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেলেছি।আচ্ছা শুনন আমি আকাশ।আমি একটু এমনিই। কিছু মনে করবেন না। আমার বাড়ি রাজশাহী। আপনি চায়লে আমরা পরিচিত হতে পারি।

আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না।আচ্ছা, ধন্যবাদ আপনাকে। এই বলে আবার অন্য দিকে তাকানো শুরু করলাম। শুধুই ধন্যবাদ? আর কিছু বলেন।আমার মনে হচ্ছে আপনি যেমন ভান করছেন মোটেই সেরকম না আপনি।কোন সংকোচ না করে কথা বলতে পারেন।

কিরে? তুই কি শুরু করলি। আকাশের বন্ধু বলতে লাগল।

আমি চেয়েছিলাম একটু হেসে দিতে ওর বন্ধুর কথা শোনে। কিন্তু গম্ভীর ভাবে উচ্চারণ করলাম,আমি রাত্রি। 
ওহ! আচ্ছা, আপনার নাম তাহলে রাত্রি। আমিতো ভাবছি আরো অন্য কিছু।মানে! সাপ যেমন ফোঁস করে ফণা তুলে আমিও তেমনই আচরণ করতে চাইলাম। কিন্তু তিনি বলতে লাগলেন,এত জ্বলে উঠার কিছু নেই।দিবসের জ্বলকানো পরিবেশে পশ্চিমা অস্তগামী সূর্য ডুবে গিয়ে তিমিরে চেয়ে যাচ্ছে এই শহর। আর সেই লগ্নে আপনার নাম শুনে মনে হচ্ছে সোনায় সোহাগা কিংবা মনি কাঞ্চন যুগ।

আপনি দেখছি কাব্যিক ভাষায় কথা বলেন।এই বলে আমি মনে মনে বলতেছি ছেলেটার নাম তখন অমিত বলে তাহলে ভুল করিনি।

অত বেশি জানি না। তবে মাঝে মাঝে তাল খুঁজে পাই।তাই মুখ ফসকে বের হয়ে যায়। এরপর ছেলেটা আবার মৃদু হেসে দিল। পরস্পরের আর কোন কথা নেই।অতঃপর সন্ধ্যা হয়ে গেছে।আমার উপন্যাসের আর কিছুটা বাকী আছে। কথা প্রসঙ্গে পিঠা খেয়ে পানি খেতে ভুলে গেছি। উনাদেরকে পিঠা খাবে কি না জিজ্ঞেস করতে চেয়েও বেশি আধিখ্যেতা দেখালাম না।
পানি খেয়ে আবার মন দিলাম পড়ায়। হঠাৎ দেখা এই আকাশের প্রতিচ্ছবি বার বার চোখের পর্দায় ভেসে উঠছে। দুর ছাই! এসব কি হচ্ছে মনের মধ্যে। আচ্ছা আকাশের ও কি সেইম ভাবনা কাজ করছে এখন। আবার মনোযোগ সরে যাচ্ছে। পড়ায় কনসেনট্রেশান করো রাত্রি। নিজেকে নিজে বলতে শুরু করছি।

কখন যে পড়তে পড়তে এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে গেছি টের পাইনি। চোখ মেলে দেখি আমার গন্তব্যে চলে আসছি তখন রাত নয়টা। অবশ্যই ট্রেনের হুইশেলে ঘুম ভেঙে গেছে।আমার পাশে যারা ছিল তাদের দেখতে পারছি না।মনে হচ্ছে আমি ঘুমিয়ে গেছি বলে না জাগিয়ে তাদের গন্তব্যে নেমে গেছে।উফ! ঘুমটা নির্দিষ্ট সময়ে এসে ভেঙেছে। তা না হলে আজ স্টেশন মিস করতাম।মুখ ফিরিয়ে দেখি তারা দু'জন মোবাইলে গেইম খেলছে।আমি ব্যাগ পত্র নিয়ে নেমে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। এমন সময়ে দেখছি আকাশ আমার গতিবিধি লক্ষ্য করছে।আমি কিছু বলার আগে সে বলে উঠল,চলে যাচ্ছেন? আপনার গন্তব্যে বুঝি চলে আসছেন?
আমি শুধু 'জ্বি'।এই ছোট শব্দটি জবাব দিয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়বো এমন মুহূর্তে দু'জনের চার চোখ মিলে গেল। মনের ভিতর প্রেমের দোল খেয়ে গেল।আর সর্ব শরীরে বসন্তের শিহরণ জাগিয়ে দিল।কিন্তু কিছু বলতে পারেনি।আকাশও সম্ভবত কিছু একটা বলবে মনে হচ্ছে। বলে উঠার আগেই আমি ট্রেন থেকে নেমে গেলাম। সে ট্রেনের দরজায় এসে দাঁড়াল।আমি নিশ্চিত তার এসব কাণ্ড দেখে তার বন্ধু হয়তো অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমার কি আর!
আমি ট্রেন থেকে নেমে স্টেশনের ব্যস্ততার মিছিল দেখতে ছিলাম ব্যাগ রেখে। আর এই দিকে লক্ষ্য করছি আকাশ, রাত্রি বলে কিছু একটা বলতে গেল,আর অপর পাশ থেকে ট্রেনের হুইশেল বেজে উঠল।ট্রেন চলা শুরু করল আপন গতিতে। আকাশ মেঘবর্ণ ধারণ করে তাকিয়ে আছে।আমি মনে মনে, 
'হে বন্ধু বিদায়'
এই উক্তি স্মরণ করে হাঁটা দিলাম উত্তর দিকে।
 

Wednesday, February 7, 2024

কবিতার পাতা 2024দ্বিতীয় সংখ্যা

সাহিত্যের অঙ্গনে !!
Sahityer Angone


জীবন সৈকতে  - সোমনাথ ঘোষ


জীবন সমুদ্রের সৈকতে বসে
কত যে গড়ি প্রাসাদ কল্পনায়
মাঝে মাঝে ছোট বড় এসে ঢেউ 
আমার সাধের নীড় নিমেষে মিলায়। 

তবুও আবার গড়ি বুকে নিয়ে আশা অবিরত পিছনে ফেলে ছিল যতো হতাশা
আমার এ প্রাসাদ ভেঙ্গেছে যে কতবার
হলো না যে জীবনে শিক্ষা আমার। 

কখনও দেখি রৌদ্রজ্জ্বল ঝলমল দিন
মেঘমুক্ত তারা খচিত জোৎস্না রাতের
মোহিনী রূপ
পরক্ষণেই আবার ছেয়ে যায় কাল মেঘের আস্তরণে আকাশ
অবিরত পড়ে ঝরে জীবনের অশ্রু জল
এটাই তো জীবন বন্ধু এটাই তো ভাগ্যফল।

সাহস ও বশ্যতা - রহিত ঘোষাল


কাচের জানালা মেঘ ঢাকা,
বৃষ্টির চাদর আবৃত শিকারী আবহাওয়া, 
এই সময়ই তনুরুচির উৎপত্তি,
আবাসভূমির চারপাশে মায়া হরিণের মতো
পাক খায় অঘোষিত কর্মব্যস্ততা,
ইচ্ছেরা ঝাঁপ দেয় জমা পানিতে
সাঁতার দেয় সরল মনে। প্রতারিত মেয়েটার
উলঙ্গ ঘুঙুর যেন পুঁটি মাছের হৃদয়।
আমি আজও রাত্রিকামী,
আমি আজও গাছ,
স্বপ্ন শেষ করেছি বহু আগেই,
অবলীলায় সরে থেকেছি,
আর ভেবেছি তোমার হাতে গুঁজে দিতে
পারব একটা চিঠি। একটা দাগও কাটতে
পারিনি কাগজে, জানি না কীভাবে
এখন তোমার মুখের উপুড় নামিয়ে আনি
শ্বাস, সাহস ও বশ্যতা ।।



হৃদয়বান  - তসলিমা লস্কর  


ক'জন পারে,- দুঃখ ভুলে হৃদয় খুলে হাসতে !
ক'জন পারে,- কল্প পাখায় মেঘের সাথে ভাসতে !
ক'জন পারে,- মুক্ত মনে বাড়িয়ে দিতে হাত !
ক'জন পারে,- সামনে থেকে করতে প্রতিবাদ !
ক'জন পারে,- স্বামী হারার দুঃখের ভাগ নিতে !
ক'জন পারে,- স্বপ্ন হারার স্বপ্ন বুনে দিতে !
ক'জন পারে,- রক্ত দিয়ে বাঁচাতে একটি প্রাণ !
ক'জন পারে,- ক্ষুধার্ত কে করতে অন্ন দান !
ক'জন পারে,- দেখতে স্বপন তোর স্বপনের সাথে !
ক'জন পারে,- খুলতে দুয়ার ঝড় বাদলের রাতে !
ক'জন পারে,- পথ শিশুটার দিতে আশ্রয় !
ক'জন পারে,- বলতে এমন, সাথে আছি নিশ্চয়ই হবে জয় !
ক'জন পারে,- মন খুলে বলতে মনের কথা !
ক'জন পারে,- ভাগ নিতে অন্য মনের ব্যথা !




শীতের সকাল - অনুপ কুমার জানা


ঝলমলে ঐ শীতের সকাল
পড়ছে সোনা ঝরে ,
সূর্য মামা দিচ্ছে কিরণ
সমস্ত উজাড় করে ।

ঝির্ ঝির্ ঝির্ বইছে বাতাস
শৈত্য প্রবাহ মেলে ,
দুর্বা ডগায় শিশির কণা
হীরক দ্যুতি খেলে ! 

রং-বেরঙের ডালিয়া ফুলে
সৌন্দর্য শীতের সকাল ,
চন্দ্রমল্লিকার শুভ্র শুভ দৃষ্টি 
শুচিতার রেখেছে খেয়াল ।

পাখির কূজন সকাল বেলায়
মধুর ধ্বনি তুলে ,
মধু-র নেশায় পতঙ্গ বিহঙ্গ
ঘুরে ফুলে ফুলে ।

বাজছে ঘন্টা মন্দিরে মন্দিরে
ভক্তগনের আগমন ,
মসজিদের আযান ভাসছে হাওয়ায়
ভক্তিতে হৃদয়-মন ! 

পাকড়ি মাথায় কাছা এঁটে
যাচ্ছে চাষি ক্ষেতে ,
দু'কাঁধে জাল ফিরছে ধীবর
কাঁপছে থরথর শীতে ! 

ঝাঁকা মাথায় আনাজ নিয়ে
ছুটছে সব্জি ব্যবসায়ী ,
শীতের সবজি নানান রকম 
ঝুড়িগুলি সৌন্দর্যবাহী ! 

সৃষ্টিকর্তার দূরদৃষ্টি কতো
প্রকৃতি ঋতুর বাহার , 
ঠাণ্ডা , গরম , নাতিশীতোষ্ণতে
জীবন সুমধুর সমাহার !   

প্রেমিক - অনুপ কুমার জানা 


পড়েছি আমি প্রকৃতির প্রেমে
প্রকৃতি আমার প্রমিকা ,
আকাশ বাতাস মেঘের ভেলায়
শিল্পী প্রেমিকার তুলিকা ।

গ্ৰীষ্মকালে দিবাকরের তপ্ত বায়ু 
বদলায় ক্ষেতের শ্যামলিমা , 
কাঁচা সোনার রৌদ্র সর্বাঙ্গে মেখে 
জানাই সূর্যের মহিমা । 

সূর্যমুখি , গাঁদার হলুদ-রক্তিম চমক
ভোলায় আমার কবিমন ;
সুবাসে ওদের মম প্রাণ জুড়ায়
ঘর্মেও খুশি সারাক্ষণ !

প্রেমিকার হৃদয় নরম কতো ,
শান্ত নয় গর্মি দিয়ে ,
বরষায় ঝরঝর বৃষ্টি ধারায়
আগমন স্নিগ্ধ হৃদয়ে !

কামিনী , কদম , বকুল , জুঁই-এ
প্রকৃতি মাতে সুবাসে ,
প্রকৃতি প্রেমিক আমি যে প্রিয়া
উল্লাসে যাই মিশে !

শরতের আকাশে সুমধুর শামিয়ানা
হাঁকায় শারদীয়া আগমনি ,
হেমন্তের শুভ্র মেঘের পালক
ঘাসের আগায় মুক্তোমনি ।

শেফালী , শিউলি , ছাতিমের পরশে
প্রকৃতি মাতোয়ারা নেশায় ,
নদীর কিনারে কাশফুলের দোলায়
প্রেমিক-প্রেমিকা উতলায় !

যবু থবু যখন শীতের দাপটে 
রুক্ষতা শুষ্কতা প্রাণ ,
ভাস্করের সোনালী কিরণ মেখে
কষ্ট কেটে খান খান ।

ডালিয়া , কাঠমল্লিকার প্রেম বর্ষণে
রুক্ষতা যায় মুছে , 
হৃদয়-আকাশ আলোকিত হয়ে
দুঃখ সবই ঘুচে ! 

বসন্ত আসে আলোকিত হৃদয়ে
সর্বত্র জাগায় আগুন !
প্রকৃতির জীব হাঁকায় একসাথে ,
" ওরে , এসেছে আজ ফাগুন " !

শিমুল , পলাশের রক্তিম আলিঙ্গনে
হৃদয় সবার লালে লাল ,
প্রেম জোয়াড়ে ভাসে যে সবাই
প্রেমিকার হদয়ও বেসামাল !





নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন