Tuesday, June 2, 2026

অপূর্ণ স্বপ্ন


অপূর্ণ স্বপ্ন 

বিপ্লব মাহাতো


পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা,
ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা।

ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে
যাবো দূরদেশে,
এ কী!
আজ তুমি অন্য এক বেশে।

সিঁথিতে সিঁদুর, হাতে শাঁখা,
যে ছবি দেখেছিলাম,
এ এক অন্য ছবি আঁকা।

Mukur online
বিপ্লব মাহাতো



কবি পরিচয় :
বিপ্লব মাহাতো জি.এন.আই.এইচ.এম.-এর দ্বিতীয় বর্ষ চতুর্থ সেমেস্টারের ছাত্র। বিষয় হোটেল ম্যানেজমেন্ট এন্ড ক্যাটেরিং টেকনোলজির ছাত্র। বিভিন্ন ব্লগে ও পত্রিকায় কবিতা লিখে থাকেন।

Friday, May 22, 2026

কাঁচা আমের ঝাল আচার

কাঁচা আমের ঝাল আচার

উষ্ণিক ভট্টাচার্য (জি.এন.আই.এইচ.এম.)




আমের আচার বাঙালির খাদ্যতালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। বাঙালির রসনা ভুবন বিখ্যাত। শুক্তো, ডাল, ঝাল, ঝোল, তরকারি, চাটনি, পায়েস – এমন হাজারো পদে সাজানো থাকে তার খাবার পাত। সেই খাদ্যতালিকায় আরও বৈচিত্র্য আনে কাসুন্দি, আচার প্রভৃতি বিচিত্র খাদ্যসামগ্রী। 

গ্রীষ্মকাল আমের মরসুম। যে বিপুল পরিমাণ আম বাংলার গাছে গাছে ফলে তাকে সারাবছর ধরে ধীরে ধীরে ব্যবহার করার একটি উপায় হল কাঁচা আমকে আচার বানিয়ে রাখা। তাই প্রাচীন কাল থেকেই বাঙালির ঘরে বহুবিধ আমের আচার প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। আজ আমরা তেমনই একপ্রকার আচার বানানো শিখব। যার নাম কাঁচা আমের ঝাল আচার। 

উপকরণ ~


এই আচার বানাতে কি কি উপকরণ প্রয়োজন? জেনে নিন নিচের লিস্ট থেকে:

কাঁচা আম – ১ কেজি
কালো সরিষা – ১ টেবিল চামচ
শুকনো মরিচ – ২টি
কালো জিরা – ১/২ টেবিল চামচ
পাঁচফোড়ন – ১ টেবিল চামচ
মৌরি – ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা – ২ টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়া – ১ চা চামচ
সাদা ভিনেগার – ১/২ কাপ
সরিষার তেল – ১ কাপ
নাগা মরিচ – ৫-৬ টি (বড় টুকরো করা)
লবণ – স্বাদমতো
চিনি – ১/৩ কাপ

প্রস্তুত প্রণালী ~


কীভাবে তৈরী করবেন কাঁচা আমের ঝাল আচার রেসিপি? নিচের ধাপগুলো ফলো করুন:

১. আম প্রস্তুত করুন: 
আমগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন। খোসা ছাড়ানো ছাড়াই মাঝখান থেকে কেটে বীজ ফেলে দিন। এরপর আমের টুকরোগুলোকে আপনার ইচ্ছেমতো আকারে কেটে নিন।

২. আম ভিজিয়ে রাখুন:
একটি বড় বাটিতে জল নিয়ে তাতে আমের টুকরোগুলো ১৫-২০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। এরপর জল বদলে আমগুলো আবার ধুয়ে নিন এবং শুকনো ট্রেতে ছড়িয়ে রোদে শুকিয়ে নিন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমের জল পুরোপুরি শুকিয়ে না যায়।

৩. মশলা তৈরি করুন:
একটি প্যানে মৌরি, কালো সরিষা, শুকনো মরিচ, কালো জিরা, পাঁচফোড়ন একসাথে ভেজে নিন। তারপর ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে গুঁড়ো করে নিন।

৪. মশলা মেশান:
গুঁড়ো মশলায় রসুন বাটা ও হলুদ গুঁড়া মেশান। তারপর সাদা ভিনেগার দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

৫. আচার রান্না করুন:
একটি পাত্রে এক কাপ সরিষার তেল গরম করে মশলার মিশ্রণটি দিয়ে নেড়ে নিন। নাগা মরিচের টুকরোগুলোও দিয়ে দিন এবং ১০ মিনিট কষিয়ে নিন।

৬. আমগুলো ঢেলে দিন:
এরপর তাতে আমের টুকরোগুলো দিয়ে দিন। স্বাদমতো লবণ দিয়ে মিশিয়ে নিন। কিছুক্ষণ পরে চিনি যোগ করুন এবং ভালোভাবে মেশান।

৭. জ্বাল করুন:
মাঝারি আঁচে ৪০ মিনিট ধরে আচারটি জ্বাল দিন। এই সময়ে আম থেকে যে জল বের হবে তা দিয়েই আম সিদ্ধ হবে, তাই আলাদা করে জল দিতে হবে না। ৪০-৫০ মিনিট পর আম সিদ্ধ হয়ে এলে স্বাদমতো লবণ-চিনি চেক করে নিন এবং প্রয়োজনে আরও দিন। এরপর আরও কিছুক্ষণ জ্বাল দিন।

৮. ফাইনাল টাচ:
শেষে কাঠির সাহায্যে কয়েকটি আমের টুকরো ভেঙে দিন যাতে মশলার ফ্লেভার আমের ভেতরে ঢুকতে পারে।


মুকুর অনলাইন


লেখক পরিচয় :

উষ্ণিক ভট্টাচার্য জি.এন.আই.এইচ.এম.-এর দ্বিতীয় বর্ষ চতুর্থ সেমেস্টারের ছাত্র। বিষয় হোটেল ম্যানেজমেন্ট এন্ড ক্যাটেরিং টেকনোলজির ছাত্র। বাঙালির খাদ্য-রসনা বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ আছে। তাই তা নিয়ে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করেন।

Monday, April 13, 2026

2026এপ্রিল

মুকুর অনলাইন

সকল কে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। তিনটি ভিন্ন স্বাদের কবিতা নিয়ে একটি ছোট্ট সংস্করণ প্রকাশিত হলো..
সকলের কাছে পড়ার অনুরোধ রইলো।


পাগলিনী

অনন্যা ঘোষ

হাহাকার

পাগলিনী

মুকুর অনলাইন


পাগলিনী।
সোমনাথ ঘোষ।


বেশ কয়েক দিন ধরে
দেখছি পাড়ায় করছে ঘোরাঘুরি
একটি শ‍্যামলা পাগলী গোছের মেয়ে
পরনে শতছিন্ন ময়লা এক জামা
কি জানি কোথা থেকে এল
নেই কাহারও জানা।

বয়স তো দেখি নয়তো বেশি
শীর্ন ক্লিষ্ট কিন্তু মুখে সদাই হাসি
কি জানি কি যে খায়
কোথায় যে রাত কাটায়?

পরিধেয় বস্ত্রের অবস্থা করুন
ঢাকতে লজ্জা যতটুকু প্রয়োজন
উপযাচক হয়ে করেনি কেউ তো আয়োজন
কহিত তো না কথা কভু কার‌ও সনে
অথবা বকবক করিত না আপন মনে ।

কেউ কিছু দিলে খাবার তরে
নিত খেয়ে দেখতাম তৃপ্তি করে
মাতৃ ভাষা কোনটি তাহার
ধর্ম টা বা কি
কেউ কখনও এটা নিয়ে মাথা
ঘামায়নি‌।

থাকতো সে নিজের মনে করতো ঘোরাঘুরি
করুন মুখটি ছিল বড় মায়াময়
কি জানি কাদের বাড়ির মেয়ে
সে যে বড্ড অসহায়।

বিগত বেশ কয়েক দিন ধরে
দেখি না তো পাগলী মেয়েটারে
কি জানি যে কোথায় গেল
শেষে কি ওর নিজের বাড়ি
ফিরে পেল?

হঠাৎ করে এক সকাল বেলায়
আসছে দেখি সেই অবলা অসহায়
প্রায় উলঙ্গ নারী শরীর নিয়ে
দেখি কোন এক পাপিষ্ঠ দূর্মুখ
মাতৃত্বের বীজ দিয়েছে বুনে।

ভারাক্রান্ত অসহায় মনটা নিয়ে
কত কিছুই করছি কাটা ছেড়া
লজ্জায় মরমে আমি দিশেহারা
অন‍্যায় করেছে এক পশুসম দূর্মুখ
আমি ও যে তার‌ই মত এক মানুষ।

বিগত এই পাশবিক অন‍্যায়ের
প্রতিবাদে
হয়েছে কত মোমবাতির মিছিল
মানবাধিকারের কত‌ই না কচকচি
কিন্তু আজ কে করিবে প্রতিবাদ
অবলা অসহায় পাগলীটারে যোগাতে আশ্বাস।

অনন্যা ঘোষ

মুকুর অনলাইন


অনন্যা ঘোষ 
পৃথ্বীরাজ কামিলা



তুমি যে অনন্যা -
"তোমার প্রাণেতে বহিছে প্রেমের বন্যা "।
নারীর প্রকৃত প্রেম নয়ন অশ্রু জলেতে গাঁথা স্বর্গের স্বপ্নে সাজানো এক প্রেম চিহ্ন ।
গোলাপ যতই সুন্দর, তবু তার নেই গন্ধ - 
আমার কাব্যে আছে শুধু প্রেম ছন্দ। 
আমায় তুমি ঝরে যাওয়া বাসি ফুলের মতো ফেলে দিও না ।।
তুমি যে রজকিনী - 
জ্যোৎস্নার রুপোলি আলোয় তোমার ফুলের খোঁপায় তুমি যে মায়াবিনী ।
এসেছো যেন স্বর্গের পরী , 
ময়াময় রসের রূপ ধরি । 
আমি কেমন করে চাইবো তারে -
তারি ঝরে যাওয়া মধুময়ী ফুলের গন্ধ ,
তারি নুপুরে লেগে থাকা নিঃশব্দ প্রেম ছন্দ 
তারি আঁচলে লেগে থাকা প্রেমময়ী স্পর্শ।
মধু বিনা কেমন চলে যায় আপন দিবস রজনী -
তুমি যে আপন ভালোবাসায় বাগানে ফুটে থাকা কামিনী 
মধু বিনা নিঃশ্ব এ জীবন তুমি যে একাকিনী 
ঝরে যাওয়া বাসি ফুলে নেইতো তোমার মধুযামিনী 
তুমি বিনা করুণ অসহায় নিঃশ্ব এ জীবন , হে সুপ্রিয়বাদিনী ।।
তুমিও মরবে একদিন -
তবু তুমি মোর প্রাণেতে তোমার হৃদয় দিলে না 
আর আমার মতো প্রেম তুমি মাটি খুঁড়েও কোথাও পাবে না ।
কত জনমের পর মধুর ফুল ফোটাবো বলে এসেছি 
অপেক্ষার আশায় তোমায় আমি ভালোবেসেছি।
তুমি তারে ফেলে দিয়েছো শুকনো ফুলের মতো 
ঠেলে দিয়েছো তারে তুমি বিরহের জ্বলন্ত চিতার অগ্নিকুন্ডের মতো ,
পরজনমে তোমার এই পাপ ছাড়বে না তো তোমারে। 


হাহাকার

মুকুর অনলাইন

হাহাকার
ডাঃ জাফর মোল্লা 



মনুষ্য সমাজ হিংস্র আজ 
চারধারে খুনোখুনি।
বারুদের গন্ধে মানুষের রন্ধ্রে 
চলছে শির কাঁপুনি।।

নতুন ভোরে কর্ণ গোচরে 
আসে হাহাকার ধ্বনি।
বাঁচার স্বপ্ন হয় রুগ্ন 
নয়নে রক্তিম পানি।।

হায়নার দল ছাড়ে অনর্গল 
গুলি বোমা রোজ।
মৃত্যু মিছিল হচ্ছে সামিল
কতো রয় আবার নিখোঁজ।।

মাংস হাড় হচ্ছে ছাড়
বোমার দগ্ধ আঘাতে।
পায়না ছাড় খাচ্ছে মার
শিশু মরে মার বুকেতে।।

মানবের চিৎকারে আর হাহাকারে
হচ্ছে ভারি বাতাস।
জীবিত যারা করছে তারা 
সদাই হায় হুতাশ।।

আর কতকাল চলবে এ হাল 
জীবন কাড়ার খেলা।
নিকৃষ্ট কাজে থাকলে মজে 
ভাব নি ফুরালো বেলা।।



নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন