Wednesday, April 23, 2025

কবিতায় কৃষ্ণেন্দু নস্কর

সাহিত্যের অঙ্গনে ! 

সেই গল্পটা 
কৃষ্ণেন্দু নস্কর 


আচ্ছা মেঘের বিয়েটা তো পাহাড়ের সাথে হলো না!....

কেহ কি পাহাড়ের মরুহৃদয়,পাঁজরের খঞ্জনির
বারিধারা শুনিয়াছো ? সাতরাঙা সব স্বপ্ন কল্পতরীর !...
দেখিয়াছ কি বৃত্ত বিহীন মেঘের ধারা বেগ,
শিখর চূড়ার দিগন্ত চুমি ঝড়ের মত্তলীলা,
বজ্রপ্রিয়ার অন্তসীলা নির্জন গিরি শিরে।
শুভ্রতুষারে রাতের সূর্যাস্ত মরুসাগর নীড়ে,
সপ্ত-ঋষির তানপুরার নীরব রাগিনির লিন,
সোনার-অর্ঘ্যে ঘুঙুরের মতো কেঁদে ।
পাহাড় এখনো নোয়ায়নি শির, আকাশ হৃদয়ে আঁকে। 

মেঘ যে বড় পাহাড় খোঁজে!...ছায়াহীন মরুতলে।
আজি এ রণে সাধিব না কভু পড়ে থাকা রনস্থল,
সোহাগ দিয়ে ছুপিয়েছি তব সুপ্ত শিশুর ঘুমন্ত আঁচল।
বিপনী সময় বন্দীনু পুলকে জ্যোৎস্নার রঙে হেসে,
কল্পনা আজি চলিছে উড়িয়ে সোহাগের ফুলে ভেসে।
শিশির কাঁদেনা শীতের শুন্যে পাহাড় উদাসী থির 
নীলিমার জটা,কালো আঁখি পুটে শিশির বারি স্থির ।
অ-থই নিথর পাহাড় জ্বলে, মুদে আসে আঁখিপাতা মহিতলে,
হিমু-উষ্ণতা যে নেই তাহার করাল জ্যোৎস্নায় মৃয়মান।

ডাকহীন নিস্তব্ধ দুপুর স্তরে,ছটায় ছটায় জোছনা ঝরে 
বৃত্তবিহীন পরাগ টোপার বানাঘাত কি তব হরে ।
কাপয়ে গোধন বজ্র শনিতে ধার শিখন্ডি-পশ্চাতে,
গ্রহণ করোহ স্পর্শে অঙ্গ,অনল প্রাচীরে গ্রাসিলে বীরের যম।
নিজ গৃহ পথ সম্ভাশে শৃগাল,পঙ্খিল শলিলে নবমৃত সুকুমার।
বিমোহিত আজি ছন্দপতন আপন গতিতে ক্ষয় ,
চঞ্চলা ধারায় তবু যেন,ফেলে আসা পথ নিরব ছুটিয়া ধায়,
রক্তপ্লূত রৌদ্র অতীত শিঞ্জিতের তালে,এখনো কুসুম দামের ঘ্রাণ।

ভাবছো তোমরা ব্যাথা লাগে কিনা?
পাহাড় বহিয়া ছটায় ছটায় তপ্ত চাঁদোয়া পুলিন ।
পাথরের বুকে কামাতুর গিরি অথৈ পাদদেশ ।
এত দাবানলে বনদাহ,জ্বলিলো সকলি,
সাবক সহিতো মরিল,পক্ষী নিড়ের দগ্ধ কালিন্দী,
গবাক্ষ পথ স্নিগ্ধ ক্ষয়ে ক্ষয়ে,

যে !.প্রহর রাত্রে রুধীরের স্রোত পেশোয়ান পড়িয়া নাচে।
যে পুরুষ চিলিয়ানাওয়ালা দেখিয়াছে,
সেও হতাশ্বাসে এ রণে ভাসে ।
বনের লতার মত ফুলিয়া ফুলিয়া দুলিয়া,
কালিয়া দমনে কালনাগিনীরা, মেঠে শ্মশান ঘাস বনে।
কার ও মাথুর মিলনে অনন্ত নীল, আছে সমুদ্রের মৃদু মৃদু নিনাদ ।

দেখিয়াছ কি! আছে আমার মাঝে?...অপূর্ব এক সাজে 
দেখেছো তো শুধু বালারুণ রশ্মি, অনন্ত উজ্জ্বল রেখা,
তীরে জলচর-পক্ষিকুল নিল-জল শ্বেতরেখা,
তরঙ্গ শীরে ফেনোমালার অর্ণবপোত, 
শুষ্ক কুসুম আকাশ পৃথিবী, নব পল্লবীত চূতো বৃক্ষ,
সূর্যকিরণ ক্রীড়া,
গিরিখাদে ছিটিয়ে রয়েছে উদয় রক্তক্ষর।
চক্ষু বোধাতিত গুনে কাল-ভৈরব ,
ভাসিয়া বাল্য-প্রনয়ে অভিসম্পাত।

ফেনচক্র মধ্যে মেঘরুদ্ধতপ্ত, লহরির পর লহরী তুলিয়া,
প্রহর রাত্রে নিঃশ্বাস বায়ুর গর্জন।
যেন চন্দ্র-কর শরীর গড়িছে, নৃত্যে সবুজের উপবন।
পাহাড় ছিল মেঘের ঢেউ জলে সলিলে ,
মেঘ ছিল পাহাড়ের আলিঙ্গনে অন্ত-মিলে।.......
......আজীবন।





রঙিন মোড়কে
                                                    
কৃষ্ণেন্দু নস্কর 

পেশাদার জাদুকরের সাজানো মঞ্চে দাবানলের গভীর শ্বাসে অবসাদের স্বাদে,
 আজ বিশ্বাসের পুতুল ঝুলছে অবিশ্বাসের দেওয়ালের রঙিন মোড়কে ভোগের পণ্যে।

 অপ্রকাশিত অভিযোগ ভেতরে চাপা দিয়ে,
   ধমনীতে আর ঢেউ তুলি না,
হৃদ- যন্ত্রের জলপ্রপাতে মৃত্যুমুখী চোখের আঙিনে,
                                                 গঙ্গা-যমুনার যাত্রাপালায় পেশীদের বিদ্রোহ,
                      নাভিশ্বাসে চলে আজ দিনযাপন,
            গহিন লুকানো ব্যথার খবর পায়না নক্ষত্রপুঞ্জ।

 তাইতো নিকষ কালো অন্ধকারে প্রেমের আসক্তিতে,
                                                  শতাব্দী অস্তিত্ব কাল-গব্বরে স্থবির,
                              গিলে খায় পুরো আকাশটা,
উড়নচণ্ডী আমার মন-পাখি; সাজবেলার আকাশে; নিরব খুঁজে শুকতারাদের ঘুম,
                       কৃষ্ণ চাঁদের আলোয় স্বপ্নের আবেশ।
     অতি আদরে গড়ে তোলা আমার ভালোবাসার কুঞ্জটা ভেঙেছে ভূধরে,
      নাগপাশের বাঁধন ঔদ্ধত্যতার কথার বানে ছিঁড়েছে রঙিন মোড়ক।

 আমার ভালোবাসার অভ্যান্তরে উথাল পাতাল জোয়ার ভাটা,
 আখ্যায়িত সংজ্ঞা এভারেস্টের রূপ নেয়,
অপ্রকাশিত রাত্রির দ্বিপ্রহরে ভাবনার ছেদ,
দীর্ঘশ্বাসে আজও বয়ে চলা অবহেলার পাহাড়ে ;
তুমিহীন বিবর্ণতার আকাশ।
 আত্মসম্মান খর্ব হলেও!......
 আমাদের অবচেতনে জাগ্রত হয় ভুক্তভোগী আমিটার

" জলে আগুন ধরে স্নান ঘরে পুড়ে গেছে একটি সমুদ্র ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ”

 শেষ বিকালের স্মৃতিগুলো আজও মনে আড়াল করি;
                   কতশত খুনসুটি,হাজারো স্মৃতি ধুয়ে চলে পুড়িয়ে চোখের পাতা,
 তোমার মনের সুন্দর টকটকে ঝকঝকে পাঠাগারের মরীচিকায় ;
                    অহেতুন এলোমেলো ভাবনা ঝড় আজ স্মৃতির ছেড়া পাতায়।
 হাসনা মাতাল গন্ধে নিশুতি রাতে চলে শহরতলীর বাঁকে সেই একলা পাখির খোঁজ,
স্রোতের বিপরীতে বৈঠা জলের বুকে এলোচুলে জড়ানো ঝড়ো বাতাসে ; 
                                    শুনবো তোমার আহ্বান,
 আমি যে ভালোবাসা হীন শহরে এক ক্ষুদ্র ছাপোষ প্রাণী।

 জীবন খাতার পরিধি গেলে অন্য বর্ণের ভিন্নমাত্রা যোগ করে অর্ধ সমাপ্তির ছবির আদলে,
শূন্যতার খাতায় অবাধ বিচরণ আলোক রশ্মি জ্বলে।
সেথায় হিসেবের অংক ভুল চুল, ছন্দ হারিয়ে খুঁজি মিঠে কবিতায় ঝরনার সুখ।
 কড়া ভাষা পাওয়া তার উত্তরের অপেক্ষায় উন্মুখ ছিদ্র নৌকায় প্রকাশিত ইচ্ছেগুলো মুক্ত চন্দ্রে লাজের তালে সাজায় জীবনপাতা,
ঘোমটা তোলে মুগ্ধনীয় হরেক রকম সাজ।
 সুযোগ-সন্ধানী বহুরূপী মন কোথায় লুকাবে এ-লাজ … সুযোগ এসেছে আজ শেষবার আকাশ দেখার,
 বুকের গহীন জমানো কালো মেঘে আবার হারিয়ে যাব প্রেয়সির হাতের ভাঁজে, অমৃত সুধার সন্ধানে শতাব্দীর পর শতাব্দী বিশ্বের কলঙ্ক কুড়াইয়া।



নীলদর্পণ 
 কৃষ্ণেন্দু নস্কর



🫀অবহেলার বাতায়নের রুদ্ধ দ্বারের নীলনদে;
       উত্তাল ঢেউয়ে আজীবন অপেক্ষায় সূর্য ডোবে;
 দৃষ্টি থমকে আলো নিভে যায়।
                   সম্পর্কের তিক্ততার চে বিচ্ছেদটাই শ্রেয়!..
 একই বৃত্তে বাস তবুও ঐ কয়েক আলোকবর্ষ;
     দূরত্বের ছেদ ছুঁয়ে যায় না ;ইচ্ছে পূরনের বোবা চিৎকার।
   যে তুমি দিয়েছো আমার বিরান স্নেহের এক আকাশ পরশ,
 ঐ নীলস্রোতের আদরে;
আমি অজস্র বার দিয়েছি ডুব-সাঁতার।
  তোমারে জ্যোৎস্নামাখা বিনিদ্র আঁখির ;
কাজল হরণীর-শুক্লা-দ্বাদশীর রাতে,
  এক মাতাল ঝড়ে অজস্র কামনাগুলো;
মিশে পদ্মপাতায় জ্বলে; ঠোঁটে চিলতে হাসির তট।
 আমি মেলবোনা আর স্বপ্নডানা কৃষ্ণচূড়ার বুকে ;
                        ঐ নীল মেঘের ছোঁয়ায়,
  আমি লিখবো না আর রাতের সূর্যের জ্বলে-নেভা কোন কাব্য কথা ;
                       ঐ ছেড়া স্মৃতির পাতায়।

  
🫀তুমি তো ছিলে শীতল ভরের কুয়াশায় চাদরের-আলিঙ্গন,
                উষ্ণ-উত্তপ্ত বৈ রোদে; বৃষ্টি ভেজা ছোঁয়া।
 নিশীথের ঘন কালো নিঃসঙ্গতায় দেখ তবুও প্রদীপ জ্বলে!.
 অতল স্মৃতি হাতড়ে আপন বাহুডোরে;
                                         আবেগ জড়ানো অশ্রুকণায় ;
                 আমি আকাশ ছুঁতে পারিনি, 
কোন অভিমানী মেঘের আড়ালে-করছে গ্রাস;
                       পুরো আমিত্বটা কে,
         আঁধারে মিলিয়ে যাওয়ার সময় এবার!.........
     দীর্ঘশ্বাসে আজ ধুলো জমা ঝাপসা হৃদয়ের আয়না;
   এখানে শালীনতার মরন কুপ, মস্তিষ্কের স্নিগ্ধ নিস্তব্ধতায় 
         গোপনে অপ্রকাশ্যে শুকনো ঠোঁটের আলিঙ্গন।

🫀এক বরফ-শীতল সকালে উষ্ণ-
                                   রোদের বৃষ্টি ভেজা সাগর দ্বারে 
                বাস্তবতার ছোঁয়াচে রোগ কৃত্রিম পরিহাস,
        ক্লান্ত কোমল ঠোঁট দুটি যেন কাজল আঁকা দু-চোখ;
          বিদ্যুতের আভাসে আচ্ছন্ন ক্ষণিকের উত্তোলন।
 আমিও অভিমানে হারাবো মেঘের ঘনঘটায় ;
                       বৃষ্টির ফোটা হয়ে ক্লান্ত দৃষ্টিতে পরিপূরক হব;
 তোমাতে বিলীন হয়ে নৃত্যে ডুবে,
       স্বর্গের পরাজিত কানন থেকে মর্তের নন্দন-কাননে;
  সোঁদা গন্ধ বিচ্ছুরিত করে ;নকশী- কাঁথায় আঁকা জলছবিই , 
          ছুঁয়ে যাব তোমার ভিতরে থাকা আমিটা কে।

🫀 বিশ্বচরাচরের কঠিনতম নেশার স্রোতে ;
                               ভাসতে ভাসতে মোহনায় সাদৃশ্য হব,
স্মৃতিগুলো নীল খামে বন্দি রেখে ;
                                       মন খারাপের কবরে লুটিয়ে ;
ঐক্যতায় সর্বদা থাকিব একতায়।
                               ভয়ঙ্কর কৌশল- ফাঁদের অন্ধকারে-
মুঠো-জোনাকি আলো-কুড়াইয়া ;
                             জোসনায় ভেজা উৎকণ্ঠিত আবেগে,
      ব্যালকনিতে দেখো চাঁদও হাসে মেঘের ফাঁকে ফাঁকে,
       অনুভূতির হিসাবের মূল্যায়ন এখানে শূন্যতায় পূর্ণ।




🫀প্রকৃতির মাঝে নির্ঘুম রাতের তিক্ততার মহিরুরে, 
               আজও রাখালের বাঁশির সুরে; সুখ কুড়িয়ে চলা; 
চারপাশে ব্যর্থতার পর্যবসিত শিখার বজ্রনিনাদে।
             সুঘ্রান ছাড়ানো নিল পথের পাড়ে অভিশপ্ত রশ্মিই-
থমকে দাঁড়ানো বিকেলের রং!.....
  নিস্তব্ধতার আড়াল ভেঙে; হৃদয়ে আঁখিতে রক্তের বুদবুদ, বীভৎস বধ্যভূমিতে শুকনো ঠোঁটের পরশ-লতায় "নীলদর্পণ "




                                      


Monday, April 14, 2025

বৈশাখ

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

বৈশাখ
মুহাম্মদ মুকুল মিয়া 


বৈশাখে ঝড় হয়
আম পড়ে কতো, 
বেল-তেতুল-অরবড়ই
আছে শতো শতো।

ঝিঝি ডাকে তরুশাখে
ঝাঁজ মাখা হাওয়া,
ভালো লাগে দুপুরে 
মন মতো নাওয়া।

সোনালু-জারুল ফুল
মন কেড়ে নেয়,
হারানো স্মৃতিগুলো 
শুধু দোলা দেয়।

গাছতলে খোকা-খুকি 
মিছেমিছি রাধে,
চোখ-মুখে ধোঁয়া লাগে 
কখনো বা কাঁদে! 

হাসি-গান-আনন্দ
ফিরে ফিরে চাই, 
বৈশাখী দিনগুলো 
স্বাগত জানাই।

অল্প বৃষ্টির অর্থ

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

অল্প বৃষ্টির অর্থ 
রহিত ঘোষাল


বৃষ্টি নেমে এলো
অলীক আলোর ইশারায়
মেঘের অভিমান
পথ ভুল করে আমার শুষ্ক বুক
ভিজিয়ে দিয়ে গেলো
এই আশ্লেষ, এই দীর্ণ ঝড়
কী বিচিত্র জলের আয়না
আমার অবসাদ, আমার পরাভব—
 ভিজে যায় আত্মাভিমান


Sunday, April 13, 2025

বসন্ত এসেছে

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !


বসন্ত এসেছে 
অনুপ কুমার জানা 

  শীতের শেষে শিশু আমে 
  অপরূপ ঘ্রাণ এসে নামে , 
কাঁঠালের মুচি পড়ে টুপটাপ
শিমুলপাতাও দিতে থাকে ঝাঁপ ! 

বসন্ত এসেছে প্রকৃতির কোলে
রূপের , রসের সৌন্দর্য্য ঢেলে ,
আকাশ, বাতাস সুবাসে ভরা
হৃদয় সবারই পাগল পাড়া !

কুহু কুহু কোকিলের ধ্বনি 
বসন্ত উৎসবের আগমনি ;  
নেড়া শিমূল তো লালে লাল 
ওরে, বসন্তে বৃক্ষ বেসামাল ! 

পলাশ শাখায় রক্তিম শিখা
বসন্তে আজ আবির মাখা ;
হোলির বাদ্য বেজেছে দুয়ারে 
  এসেছে বসন্ত বছর পরে ।

আবিরে,রঙে শরীর একাকার
পোশাক-পরিচ্ছদে কতো বাহার ,
  হৃদয়ে হৃদয়ে প্রীতির বাঁধন 
ভালোবাসায় ভরা মন সারাক্ষণ !  

পাড়ায় পাড়ায় কৃষ্ণের নাম
বাহিরে, মন্দিরে বা কৃষ্ণ-ধাম ;
হরিনাম সংকীর্তন আবির মেখে
প্রীতির আবেগ সবারই চোখে ! 

গেরুয়া,লাল, সবুজ আবিরে 
মুখমণ্ডল,মস্তক সজ্জিত করে  
ঘুরছে জোটে এ'বাড়ি ও'বাড়ি
কেহ বা রোষে দিচ্ছে আড়ি !

বসন্ত উৎসব বছরের শেষে
পরিবর্তন মরশুমের মুহূর্তে এসে
ধুয়ে-মুছে দেয় হৃদয়ের গ্লানি
নীতি কথা নয় বিজ্ঞানের বাণী ! 

মিলন

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

মিলন
রায় শর্মা

খুঁজে বেড়াও আমায় তুমি 
দেশ বিদেশে অনেক দূরে 
দেখবে আমি কাছেই আছি 
তোমার দুটি নয়ন জুড়ে।

তোমার দেহের গন্ধে মিশে 
আতর হয়ে জড়াই গায়ে
তোমার চলার পথের ধারে
দাঁড়াই আমি বটের ছায়ে।

তোমার স্নানের পুকুর জলে
পড়বে যখন সাঁঝের ছায়া 
বিজলী হয়ে জ্বলব আমি 
বাড়িয়ে দিয়ে প্রেমের মায়া।

পুকুর পাড়ে বসবে যখন
ভেজা গায়ে স্নানের শেষে
বাতাস হয়ে আসব কাছে
জড়িয়ে ধরি তোমায় এসে।

তোমার দেহের পরশ পেয়ে
আমার মনে শিউর লাগে
তোমার আমার মিলন ক্ষণে
হাসনুহানার সুবাস জাগে।

আসি যদি কোন দিন ফিরে

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !


আসি যদি কোন দিন ফিরে
সোমনাথ ঘোষ।

আসি যদি কোন দিন ফিরে
অন্য রূপে অন্য কলেবরে
সেই প্রায় শুকিয়ে যাওয়া
নদীটির সাদা বালুর তীরে
চিনিতে কি পারিবে তুমি 
এই অর্বাচীন অধমেরে। 

যে নদীর বালুতটে মোরা
লিখেছিলাম আমাদের নাম

গেয়ে ছিলাম মোরা জীবনের
সুখ দুঃখের প্রেমের গান
বিধাতার নিষ্ঠুর নিদানের তরে
তোমার আর ফেরা হয়নি ঘরে। 

আমি প্রায়শই সেই বালুতটে
একাকী উদাসীন ভাবে বসে বসে
নির্লিপ্ত ভাবে আমার সময় কাটে
কত যে পুরাতন স্মৃতি করি রোমন্থন
এটাই আমার এখন অবলম্বন।

জ্যান্ত লাশ

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

জ্যান্ত লাশ
মোঃ আব্দুল রহমান

শরীরে রক্ত চলে ভালই
নয়নে দৃষ্টি অবিরত
মাঝে মাঝে শ্বাসও চলে ঠিকঠাক।

কেবল অনুভূতির মৃত্যু ঘটে
তার সাথে --- বিবেক, মনুষ্যত্ব, নৈতিকতা
আত্মাকেও যেন ধুকে ধুকে মরতে হচ্ছে।

চেষ্টা চলছে নৃশংসভাবে হত্যা করার
মৃত্যু তবুও ভাল --- একটু শান্তির অথবা তৃপ্তির
জ্যান্ত লাশের খবর কেউ পায় না!

চিরকাল নিখোঁজ হয়ে থাকে নির্জনে মানবতা
একেবারে লোকালয়ের আড়ালে।






মহিষাসুর

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

মহিষাসুর

 কীর্তিময় দাস ( আত্মমগ্ন)

আজকাল মহিষাসুর রাও খুব স্বাভাবিক ভাবে সমাজে মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ায়। তাদের মাথায় সিং থাকে না ঠিকই,, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো মানবিকতা ও থাকে না ।। এরা সমাজে ঘুরে বেড়ায় ভালো মানুষ এর ছদ্মবেশে । এরাও ধর্ষণ এর বিরুদ্ধে "শাস্তি চাই, justice ⚖️ চাই বলে " কাঠ বোর্ড তুলে ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকে ,, আর মিছিল করে শুনশান, নীরবতা, এর মাঝে যদি কোনো একলা পথিক পায় তাহলে এদের বীভৎস,, বর্বর রুপ বাইরে বেরিয়ে আসে ,, এরাই জাস্টিস এর বোর্ড টা কে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে একলা মেয়েটার টুটি চেপে ধরে আর নিজেদের তেষ্টা, খিদা মিটায়। এরাই সেই অসুর যারা ভালো মানুষ এর মুখোশ পরে কলেজ এ যায়,, অফিস এ যায়,, এদের মধ্যে কেউ বা কোনো উচ্চ পদস্ত সরকারি কর্মচারী ও বটে ,, কিন্তু ঐযে বললাম এদের খিদা আর পিপাসা তখনই পায় যখন কোনো মেয়ে কে একলা দেখে ,,,।।
আর এদের তেষ্টা পেলে ভুলে যায় যে মেয়েটার কতো বয়স কিনা কিংবা যে মেয়ে টাও একজন মানুষ তার ও বাঁচার অধিকার আছে ।। তাঁরা তাদের খিদা মেটানোর পর টুটি চেপে ধরে রাখা হাত টা দিয়ে হয়তো বাড়ি গিয়ে নিজের মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আর নিজেই বলে সমাজ টা বাজে দিকে যাচ্ছে ।। ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ। ধিক্কার ওই সব সকোল্ড পাবলিক দের যারা অসুরদের কাছে পন নিয়ে তাদের সমাজে ছেড়ে রেখেছে ।।তাই দেবীর আগমনে এদের বধ করা বেশী জরুরি, যার ফলে ঘরের 
দুর্গারা তাদের দশ হাতের মহিমায় গড়তে পারে সমাজ,, বানাতে পারে ইতিহাস, নাশ করতে পারে অন্ধকার ও এগিয়ে রাখে মানবিক ঐতিহ্য কে আমাদের এই মহান দেশে।।

কি আসে যায় লোকের কথায়

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

কি আসে যায় লোকের কথায় 
 ডাঃ জাফর মোল্লা 


যতই ভালো করে চলো
রাখবে না কেউ মনে।
একটু ভুলে সবাই মিলে 
জ্বলবে তেলে বেগুনে।।

জনায় জনায় সব জায়গায় 
তোমার সমালোচনা করবে।
যার মুখে যা আসে 
সবাই তা বলবে।।

বানানো ঘটনা বলতে ছাড়বে না 
সবাই পথে ঘাটে।
রাখবে না মনে কোনো ক্ষণে 
তোমার ভালোটা মোটে।।

আষাঢ় নামে যেমন ধামে 
হঠাৎ হয় বর্ষন।
কুসংস্কারে মন এমন লোকজন 
তোমাকে দুষবে তেমন।।

একটিও বার করবে না বিচার 
তোমার ভালো দিক।
কেমন লোকজন এ সকল জন
ধিক শত ধিক।।

কারোর কথায় না দিয়ে সায়
নিজের পথে চলো।
কি আসে যায় লোকের কথায় 
কে কি বললো।।


চাষীর পৃথিবী

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

চাষীর পৃথিবী
স্বপ্না মজুমদার

চাষীর পৃথিবী আর কি হতে পারে
কিছুটা জমি, খান কয়েক বলদ লাঙল হলেই চলে
চাষীর পৃথিবীর সুখ, চাষীই জানে,অসময়ে হওয়া
বৃষ্টি, খুশি আনে, হিসেব চলে মনে মনে
ফসল কতোটা হতে পারে!!

সেই পৃথিবীর উৎপাদনের যথার্থ মূল্যায়ন হয় না
সব সময়,,হতাস চাষীর দুঃখ, চোখের জলের
হিসেব কে রাখে--------

কখনো কখনো ওঠে না চাষের যথাযথ খরচ
চলবে কিভাবে চাষীর সংসার, গরীব চাষীর
গরীবতা ঘোচে না কখনো!
বাজারে পৌঁছোয় সবজি, চাল, ক্রেতা খুশি হয়
নেয্য মূল্যে পেলে------
চাষীর ঘরে উঠলো কি নেয্য মূল্য টুকু?
কে দেখবে, কে বুঝবে চাষীর মনের কথা!!

ওরাই তো প্রকৃত সমাজ বন্ধু
দিনের পর দিন উদয় অস্ত পরিশ্রম করে চলে
রোদ ঝড় জলে চাষের মাঠে থাকে, ওদের কথাও
ভাবতে হবে, বুঝতে হবে --------
আজ, অনেকে এই কাজ ছেড়ে জীবিকার টানে
অন্য কাজে হচ্ছে নিযুক্ত, তাহলে চাষের মাঠের
পরিচর্যা করবে কে!!

চাহিদা নেই বেশি চাষীর মনে, চাষ করেই জীবিকা
তার চলে--------
ঘর পরিবার, জীবন ধারণে
এভাবেই ওরা অভ্যস্থ।।




বৈশাখী সংখ্যা ১৪৩২

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !


পয়লা বৈশাখ বাঙালীদের জীবনে একটি গুরুত্ব পূর্ণ দিন, ধর্ম-জাতি -বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মেতে ওঠে এক উৎসব মুখর আনন্দে। কৃষি থেকে কৃষ্টি সকল জগতে এক উন্মাদনা বিরাজ করে। গীতিতে ,কবিতায় ও নৃত্যে র মাধ্যমে এছাড়াও বিভিন্ন খেলা ধুলার মাধ্যমে নতুন বর্ষকে বরণ করা হয় । আবার এই বৈশাখ এ নতুন পরিকল্পনা,নতুন স্বপ্ন বোনা হয় পুরো একটি বছরের জন্য। এভাবেই বৈশাখ ফিরে আসে নতুন হয়ে বারে বারে।।।।

নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন