Monday, December 1, 2025

ছাতিম তলার পাশে রাজর্ষি মন্ডল

মুকুর অনলাইন


ছাতিম তলার পাশে 
রাজর্ষি মন্ডল

আবারও তো ফেরা যায়
ছাতিম তলার পাশ দিয়ে, শিউলি ঝরা পথ ধরে
চোখে মুখে হিম মেখে, দুহাতে এক আঁজলা হিমঝুরি ফুল নিয়ে
তোমার সমাধির পাসটিতে গিয়ে দাঁড়াতেও পারি।

বিকালে তোলা উনুনে রান্নার ফাঁকে
মরে আসা আবছা আলোয় ধোঁয়ায় আবডালে তোমার কুয়াশামাখা মুখে
নবান্নের আমন ধানের গন্ধ।
আলতো চোখে তাকিয়ে, হলুদ আলোর ওম মেখে,
তুমি বললে, চাদরে মাথাটা ঢেকে নিও।
তখনো নিকানো উঠোন জুড়ে ধান সিদ্ধর হাঁড়ি
আর নলেন গুড় জাল দেওয়া তোমার সেই আগুন রাঙা মুখে
মিঠা হাওয়ার বার বার করে ছুঁয়ে ছুঁয়ে ফিরে যাওয়া।

দূরের মাঠে একমুঠি জোনাকির নরম ডাকে
আঁকা ছবিগুলো অস্পষ্ট হতে হতে
বারে বারে ফিরে ফিরে আসে হেমন্ত।

সত্যিই কি ফিরে আসে?

Wednesday, November 26, 2025

শেষ বিকেলের ছায়া" সঙ্গীতা মহাপাত্র

মুকুর অনলাইন

শেষ বিকেলের ছায়া"
সঙ্গীতা মহাপাত্র

শহর থেকে দূরে, একটা শান্ত টিলার ওপর ছিল ওদের ছোট পৃথিবী। অনির্বাণ আর সৃজিতার ভালোবাসা ছিল অনেকটা এই টিলার মতোই – মজবুত, নিরিবিলি, আর চারপাশের কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ওদের প্রেম বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে। অনির্বাণ ছবি আঁকত, তার ক্যানভাসে থাকত সৃজিতার মুখ। আর সৃজিতা? সে কেবল হাসত, আর অনির্বাণের কাঁধে মাথা রেখে দেখত দূরের নীল আকাশ কীভাবে সন্ধ্যার রঙে ডুবছে।
সৃজিতা জানত, অনির্বাণ কোনোদিন বিখ্যাত শিল্পী হতে পারবে না। অনির্বাণও জানত, সৃজিতা একজন অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ডাক্তার, যার গন্তব্য এই টিলার নিচে, ব্যস্ত শহরের আরও গভীরে। তবু ওরা ভালোবাসত, যেন প্রতিটা দিন একে অপরের সাথে থাকার শেষ সুযোগ। প্রতিটা স্পর্শে, প্রতিটা নীরব চাহনিতে ওরা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিত। ওদের সেই গভীরতা বাইরের জগতের কাছে ছিল অদৃশ্য, যেন দুজন ডুবুরি মহাসমুদ্রের গভীরে নিজেদের এক আলাদা জগৎ তৈরি করেছে।
এরপর সেই দিনটা এল। সৃজিতার ডাক এল অনেক দূরের এক দেশ থেকে – এক বিশাল সুযোগ, যা তার জীবনের সব স্বপ্ন পূরণের চাবিকাঠি। অনির্বাণ একটাও কথা বলেনি। সে শুধু এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে সৃজিতার জন্য একটা ক্যানভাস তৈরি করে দিয়েছিল। ক্যানভাসে ছিল তাদের প্রিয় টিলাটা, কিন্তু উপরে কোনো আকাশ ছিল না, ছিল শুধু গাঢ় ধূসর মেঘের প্রতিচ্ছবি।
সৃজিতা চলে গেল। বিমানবন্দরে তারা শেষবার হাত ধরল, কিন্তু কেউ চোখের দিকে তাকায়নি। বিরহের শুরুটা হলো নীরব, কোনো অশ্রু বা চিৎকার ছাড়াই।
তারপর কেটে গেল এক বছর। অনির্বাণ আর টিলা ছাড়ে না। সে প্রতিদিন একই সময়ে, একই জায়গায় বসে থাকে, যেখানে সৃজিতা বসত। সে আর ছবি আঁকে না, কেবল পেন্সিল দিয়ে পুরনো ক্যানভাসের সাদা অংশে এলোমেলো রেখা টানে।
একদিন সকালে, অনির্বাণ একটি চিঠি পেল। সৃজিতার হাতে লেখা, কিন্তু তাতে কোনো ভালোবাসা বা প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি ছিল না। শুধু দুটি লাইন:
“তুমি যেখানে ছিলে, আমি সেখানে পৌঁছাতে পারিনি। আর আমি যেখানে এসেছি, সেখানে তোমাকে আনা সম্ভব নয়। তুমি ভালো থেকো।”
অনির্বাণের হাত থেকে চিঠিটা খসে পড়ল। সে দেখল, আজ তার ক্যানভাসের ওপর ধূসর মেঘগুলো সরে গিয়ে শুধু সাদা শূন্যতা পড়ে আছে। তার গভীর ভালোবাসা আজ আর গভীর নয় – তা এখন এক চিরন্তন বিরহ, যা টিলার মতো স্থির, কিন্তু ভেতরের দিকটা ফাটল ধরা। অনির্বাণ জানে, তার এই নীরব অপেক্ষার আর কোনো শেষ নেই। সৃজিতার পথ এগিয়ে গেছে, আর তার পথটা থেমে গেছে সেই শেষ বিকেলের ছায়ায়।






শৈশবের খোঁজে প্রভাত ভট্টাচার্য

মুকুর অনলাইন





শৈশবের খোঁজে
প্রভাত ভট্টাচার্য


সে খুঁজে বেড়াতে থাকে
তারা হারানো শৈশব
যেখানেই থাকুক না কেন
খুঁজে বার করবেই
জলে অরণ্যে গুহায়
অথবা কৃষ্ণগহবরে
চাই তার সাথে পুনর্মিলন ।
ঐ তো দাঁড়িয়ে আছে
সেই বিস্মৃত শৈশব
সেই উঠোন, ছাদ
হরেক মজা যত, আর
গল্পবলা ঠাকুমা
সবই রয়েছে আগের মত ।
সে হাঁটতে থাকে
শৈশবের হাত ধরে।





স্রোতের সঙ্গে সমীর কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

মুকুর অনলাইন



স্রোতের সঙ্গে
সমীর কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়


স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাই
আমজনতা আমরা সবাই
ভালো মন্দ ঠিক বেঠিক
এসব ভাবার সময় নাই
আসলে পিছনে কারা যেন
দিচ্ছে ঠেলা কষে হেন
নিরুপায় হয়ে ভাসছি ঠিক
জল মাপবার অবসর নাই।



ধারা শোভন মণ্ডল

মুকুর অনলাইন


ধারা
শোভন মণ্ডল

তোমাকে অবশেষে আবিষ্কার করি
খড়ের গাদার ঠিক বিপ্রতীপে আলোর কিরণ আসে
উল্টান তানপুরার মতো তুমি
পড়ে আছে একলাবেলায়

ঠিক তোমারই তলদেশ দিয়ে বয়ে যায় তরল, উষ্ণ স্রাব
বহুমাত্রিক সেই ধারা, স্রোত
কোথায় শঙ্খ, কোথায় তুমি
কোথায় ভগীরথ?


হারানো ঠিকানায় তসলিমা লস্কর

মুকুর অনলাইন


হারানো ঠিকানায়
 তসলিমা লস্কর



“ওরা আমাকে খুব মেরেছে দীর্ঘ তিন বছর ধরে । দেখুন , সেই সব আঘাতের চিহ্ন । রক্ত জমে আছে কালো হয়ে ।” বলতে বলতে সরিফান গভীর শোকে প্রায় বাগরুদ্ধ হয়ে দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে বেদনার নোনা জল ।
আহ্বায়ক বললেন – “এখানে আপনার কান্নাটা অপ্রাসঙ্গিক নয় । আমাদের এই “আপন ঠিকানা” অনুষ্ঠানে আপনার মত প্রায় ৮ শতাধিক মানুষ কেঁদেছে । কেউবা হারানোর বেদনায় , কেউবা ফিরে পাওয়ার আনন্দে । বলুন মন খুলে শুনবো আপনার সব কথা ।”

“আমার বাবা ভাঙ্গারির ব্যবসা করতে করতে অনেক টাকা দেনা হয় । দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে বাবা আমাদের ছোট্ট বাড়িটা বিক্রি করে দেয় । তারপর থেকে আমরা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতাম । দেনা মিটিয়ে বাবা বাড়িওয়ালির কাছ থেকে মোটা টাকা ধার নিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করে । কিন্তু দ্বিতীয় বারও বাবার আরো বেশি টাকা লোকসান হয় । গ্রামের পাঁচ কাঠা জমি বিক্রি করে বাড়িওয়ালির দেনা শোধ করে দেবে বলে বাবা আমাদের দুই ভাই বোনকে রেখে দেশের বাড়িতে চলে আসে । সপ্তাহখানেক পর বাবা ফোন করে বলে – “ আমি কাল টাকা নিয়ে যাচ্ছি ।” পরদিন সকাল দশটার পর আমার চাচার ফোন থেকে কল আসে । খরব শুনি বাবা হঠাৎ সকালে হার্ট অ্যাটাক করে এন্তেকাল করেছে । আমি আর দাদা কেঁদে বুক ভাসাই । কিন্তু বাড়িওয়ালি তবুও আমাদের ছাড়ে না । দু একদিন পর বাড়িওয়ালি দাদাকে ছাড়লো কিন্তু আমাকে ছাড়লো না । দাদা বাড়িওয়ালির কাছে প্রতিশ্রুতি দেয় আমি যে করে হোক এক মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে আমার বোনকে নিয়ে যাব । কথামতো দাদা এক মাসের ভিতরে টাকা জোগাড় করে নিয়ে আসে । কিন্তু ওরা টাকা কেড়ে নিয়ে দাদাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয় , আমাকে যেতে দেয় না । দাদা যাবার সময় কাঁদতে কাঁদতে বলে – “চিন্তা করিস না বোন গ্রামের সবাইকে জানিয়ে আমি এক-দু দিনের মধ্যে তোকে নিয়ে যাব । পরদিন হয়তো লোকজন নিয়ে আমার দাদা এসেছিল । কিন্তু বাড়িওয়ালি রাতারাতি বাড়ি বদল করে আমাকে নিয়ে অনেক দূরে কোন অজানা ঠিকানায় চলে যায় ।
তারপর থেকে আমার উপর অমানবিক অত্যাচার করতে শুরু করে । আমি প্রায় তিন বছর অত্যাচার সহ্য করতে বাধ্য হয়েছি । তারপর আমি একদিন অনেক কৌশলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে আসি । তখন আমার বয়স ১১ বছর । কোথায় যাব কি করব কিছু বুঝতে পারছিলাম না । একটা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম । এক ভদ্রলোক বর্তমানে যিনি আমার বাবা , কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করে । আমি ওনাকে সব কথা বলি উনি আমাকে ওনার বাড়িতে নিয়ে যায় । সেই থেকে ওনাদের মেয়ের পরিচয় আমি বড় হই । ওনারা আমাকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়েছেন । ওনারা না থাকলে হয়তো আমি ভেসে যেতাম । ওনারা আমাকে নিজের বাবা মা’র মতো ভালবাসেন । কিন্তু তবুও আমার জন্মদাতা মা , আর দাদার জন্য আমার মন বড় কাঁদে ।” বলতে বলতে বেদনায় সরিফানের দু’চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে ।
আহ্বায়ক বললেন – “ চিন্তা করবেন না আপনার আপনজনদের ফিরে পেতে আমরা সর্বতোভাবে সাহায্য করবো ইনশাল্লাহ ।”
যথাসম্ভব সরিফানের কাছ থেকে সংগৃহীত ঠিকানা আহ্বায়ক “আপন ঠিকানা” অনুষ্ঠানে প্রচার করেন ।
১৫ -১৬ দিন পর একদিন রাত ১১ টা নাগাদ সরিফানের ফোনে একটা নতুন নাম্বারে কল আসে । ফোন আলাপের পর বুঝতে পারে সেটা তার দাদা । সরিফানের আনন্দে হৃদয়টা উচ্চশিত হয়ে ওঠে । তার দাদা শামীম নিজের পরিচয় দিয়ে দু’-চার কথা বলে ,বলে – “মা সারাক্ষণ শুধু তোর কথা বলে । মা এখন ভীষণ অসুস্থ তাই তোর কোন খবর এখনো মাকে জানানো হয়নি । আগে মার সঙ্গে কথা বল ।”
পরিচয়ের পর সরিফানের মা ফরিদা বলে – “মারে তোর জন্য আমার জীবনটা হুহু করে । তোর একবার দেখা পেলে শান্তিতে মরতে পারবো । কখন আসবি তুই ?

সরিফান – “কাল আমরা যাচ্ছি কেঁদোনা মা , আল্লাহ সব ভালো করে দেবে ।”
  এই ২৫-২৬ বছর ,সাহানাজ নিজের মা দাদার আদর সোহাগ থেকে বঞ্চিত । এত বছর পর হারানো আপনজনদের ফিরে পাওয়া যে কি আনন্দের তা একমাত্র আল্লাহ জানেন । আনন্দে যেন সারারাত ভালো করে ঘুম এলোনা ।
        পরদিন খুব সকালে বের হয়ে তারা সপরিবারে পৌঁছে যায় তার মা দাদার কাছে । পুনর্মিলনের আনন্দে তারা পরস্পর কেঁদে বুক ভাষায় । মা ফরিদা বানুর শারীরিক অবস্থা ভালো নয় । বাঁচার আশা নেই বলে ডাক্তার ফিরিয়ে দিয়েছেন , গায়ে প্রচন্ড জ্বর বইছে । হারানো মেয়েকে ফিরে পেয়ে এক নিমিষে সম্পূর্ণ সুস্থ অনুভব করে ফরিদা বানু । মেয়ের সঙ্গে মন খুলে প্রায় মধ্য রাত পর্যন্ত গল্প করে ।
ফরিদা বানু বলে – “মা তোর পেয়ে যে আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছি দেখ । কত জ্বর ছিল আমার গায়ে সব সেরে গেছে । এখন গরম


লাগছে আমার মাথার কাছে জানালাটা খুলে দিয়ে তোরা গিয়ে সব শুয়ে পড় , রাত প্রায় একটা বাজে । সরিফান জানালা খুলে পাশের তক্তাপসে মেয়েকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে । ফজরের আজান শুনে ঘুম ভাঙ্গে । মা ..মা…বলে সরিফান ডাক দেয় মা আর সাড়া দেয় না ।
     কাছে গিয়ে দেখে , মাথার কাছে উন্মুক্ত জানালা‌ থেকে ওপাশের ফুটন্ত বকুল ফুল গুলো উড়ে এসে ছড়িয়ে পড়েছে মার সারা দেহে । মনে হয় কেউ ছড়িয়ে দিয়ে গেছে তার দেহের উপর । জানালা থেকে মিঠে রোদের আলো এসে স্পর্শ করেছে মার মুখ । ভোরের শান্ত স্নিগ্ধ বাতাসের ছোঁয়ায় এলোমেলো চুল গুলো উড়ছে প্রশান্তির বাতাসে । যেন পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছে মার স্পন্দনহীন দেহ… ।




December 2025

মুকুর অনলাইন 2025



কবিতা

  1. শুয়ে থাকি মানচিত্রে   || রানা জামান
  2. শৈশবের খোঁজে || প্রভাত ভট্টাচার্য
  3. ধূসররঙ || সঞ্জিত কুমার বর্মণ
  4. স্রোতের সঙ্গে || সমীর কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. ব্যাধ ও ব্যাধিনী ||শামীম নওরোজ 
  6. দুটো নদী" || নয়ন মণি মিশ্র
  7. কথা হবে না || রহিত ঘোষাল
  8. ভাগ্যের চাকা || মোঃ আব্দুল রহমান 
  9. শুভাকাঙ্খী || সোমনাথ ঘোষ।
  10. ধারা|| শোভন মন্ডল
  11. ছাতিম তলার পাশে || রাজর্ষি মন্ডল

গুচ্ছ কবিতা

রম্যগল্পঃ

  1. সতান  || প্রদীপ কুমার দে 

গল্পঃ

  1. শেষ বিকেলের ছায়া" || সঙ্গীতা মহাপাত্র
  2. হারানো ঠিকানায় || কলমে --- তসলিমা লস্কর 













 











 









কথা হবে না রহিত ঘোষাল

মুকুর অনলাইন


কথা হবে না
রহিত ঘোষাল



নিজেরই অতীত খুঁড়ে
নিজের পচন দেখি
যে কাঠ ভিজে গেছে
তা দিয়েই জ্বালাই চিতা
ও ঘাটের নাম বৈধব্য
সময় বড় বিপ্রতীপ
চূড়ান্ত কিছুই বলা যাবে না
তুমিও তো মূল্য দাওনি
আমি একা বয়েছি সব ভার
নিখুঁত বলে তোমায় ডাকি
উলে বোনা সেদিনের ঝড়
আর কক্ষনো কথা হবে না
আর কক্ষনো কথা হবে না



দুটো নদী নয়ন মণি মিশ্র

মুকুর অনলাইন


দুটো নদী
নয়ন মণি মিশ্র

দুটো নদী
বুক পকেটে কথা বলছিল
ওরা আর নদী
হয়ে বাঁচতে চায় না
মরুভূমি হবার আর্জি জানিয়ে
ওরা প্রবাহদের ছুড়ে দিয়েছে
স্মৃতির শহরে....
ওরা এত কিছু তো পেয়েছে
একথা শুনে
নদীগুলো হঠাৎ যেন
বৃষ্টি হয়ে গেল !



ব্যাধ ও ব্যাধিনী শামীম নওরোজ

মুকুর অনলাইন

ব্যাধ ও ব্যাধিনী
শামীম নওরোজ


পাখিময় রাতের খবর জানে না ব্যাধিনী।
ব্যাধকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে নিজস্ব নিবাসে।

খাঁচার ভেতর কতিপয় মর্মাহত পাখি ;
ভোর হলে ব্যাধ ও ব্যাধিনী অভূক্ত থেকে যাবে।

রোদ্দুর ছিলো না, তাই ঘুমিয়ে রয়েছে,
কাঁথার মমতা মেখে শুয়ে আছে বেশ।

ব্যাধপুত্র পাখিদের কোলাহলে নেই হয়ে গেছে।
ব্যাধকন্যা পালকের অভিসারে গেছে।

তির আছে...
প্রয়োজন নেই...

পাখিময় রাত্রিটি অসমাপ্ত থেকে গেল।



দুটি কবিতা রথীন পার্থ মণ্ডল

মুকুর অনলাইন


দুটি কবিতা
রথীন পার্থ মণ্ডল

১. খোঁজ

তোমায় দাঁড়াতে বলেছি, পালাতে বলিনি
পালাতে বলিনি জীবন থেকে
এমনকি জীবন থেকে ছেড়েও চলে যেতে বলিনি

তোমায় খুঁজতে বলেছি, হারাতে বলিনি
হারানো সহজ বলে হারিয়ে যেতেও বলিনি
হারাতে বলিনি নিজেকে অন্ধকারের মাঝে

তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে
তোমার সাথে পথ হারাতে হারাতে
তোমার সাথে বাস করার জন্য
আমি একটা শহর চেয়েছিলাম
যা আজও আমি খুঁজে চলেছি।।



২. শুনতে পেতাম তোমার ডাক



চিঠি আছে, চিঠি!

চিঠি আছে, চিঠি!

ডাকের অপেক্ষায় থেকে যাই আজও
শুনতে পেতাম দরজায় কড়া নাড়া--
চিঠি আছে, চিঠি!

জন্ম থেকে জন্মান্তরে
তোমার সাথে পথ চলা
মন থেকে মনান্তরে
জীবন থেকে জীবনের
পথ বেয়ে কত খবর
বয়ে আনা তোমার
রাতের বেলায় ঘুমিয়ে পড়ে
শুনতে পেতাম তোমার ডাক--
চিঠি আছে, চিঠি!

ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে চলে গেছে রানার
আছে শুধু পোস্টম্যান আর
ইমেল হোয়াটসঅ্যাপের টুং টুং করে দরজায়
কড়া নাড়া--
চিঠি আছে, চিঠি!



শুয়ে থাকি মানচিত্রে রানা জামান

মুকুর অনলাইন


শুয়ে থাকি মানচিত্রে 
রানা জামান




স্বদেশের মানচিত্রে দিনরাত শুয়ে থেকে
পারি নি দখলে নিতে এক ইঞ্চি স্বস্তি 
প্রখর রোদের তাপে শরীরের প্রতি অংশ
চৈত্রের কাঠফাটা জমি

এতো কূয়ো দেখি চৌহদ্দির মধ্যে 
সব সমুদ্রের জলে ছয়লাব হয়ে ভ্যাঙ্গায় মুখ
শরীরের রক্তে কী লাভ দরকারে
কোনো কাজে না এসে খেতে থাকলে চিন্তা 

উপার্জনের ইঁদুর পুষে যেতে পারলে
প্রয়োজনে ছেড়ে দিয়ে নো চিন্তা ডু স্ফুর্তি
কিংবা দেহ এ্যামিবার মতো হলে
ইচ্ছেমতো কেটে বেচে দাও মাংসাশীর কাছে

চাল নেই চুলু নেই জীবনের স্বপ্নে 
ঝড় লেগে ভেংগে যায় প্রত্যাশার ডাল-পালা 
জমিনের রত্তি মাত্র না থাকায় 
বীজ সংরক্ষণ করি না, অথবা করি না ক্রয়

মাকড়সার বাসার চেয়েও ভঙ্গুর অস্তিত্বে
ক্ষয়ে যাচ্ছে কাল মানচিত্রে গড়াগড়ি দিয়ে
গতকাল হতে একটু একটু করে খেয়ে যাচ্ছি
জমি না থাক মানচিত্র থাক শিরা-উপশিরায়।



ধূসররঙ সঞ্জিত কুমার বর্মণ

মুকুর অনলাইন





ধূসররঙ
সঞ্জিত কুমার বর্মণ

ভূগোল ইতিহাসের মধ্যে
না, ইন্দ্র ও ধনুর গদ্যে
সবকিছু ধূসররঙের।

ঘোলাটে জলের তলে
না, কাচ ভাঙ্গার ছলে
সবকিছু ধূসররঙের।

রাণীর চিবুকে চুষে
না, টেবিলের নিচে ঘষে
সবকিছু ধূসররঙের।

হেমন্তের পড়ন্ত বিকেলে
না, ময়ূরের পালক খোলে
সবকিছু ধূসররঙের।

গণতন্ত্রের আঁচলে
না, স্বৈরশাসকের অন্তরালে
সবকিছু ধূসররঙের।

দীঘল চুলের সুঘ্রাণে
না, পরকীয়ার টানে
সবকিছু ধূসররঙের।

অনন্ত যাত্রা পথে
না, সারথি’র রথে
সবকিছু ধূসররঙের।

যুগ যুগান্তরে
না, অভিসারে
সবকিছু ধূসররঙের।





সতান প্রদীপ কুমার দে

মুকুর অনলাইন



সতান
প্রদীপ কুমার দে



ছবিটা এরকম,
দাদাবাবু অম্লান ঝার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে বিছানায় পড়ে আছে, বৌদি আদুরী পরকীয়া করে পাড়ার কার্ত্তিককে নিয়ে দাদার সামনে দিয়ে পগারপার! আর সেই সুবাদে ঘরের কাজের পূর্ণ যুবতী ডলি দাদাবাবুর জন্য হা হুতাশ করে আদর করে দাদার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টায় বিফল।

ডলি মোবাইলে পাশের ফ্ল্যাটের রঞ্জনা বৌদির কাছে জানতে চায়,
--  হ্যাঁ বৌদি, দাদা তো অজ্ঞান হয়ে গেছে কি করব?

ওপরপ্রান্ত থেকে প্রশ্ন আসে,
--  কেন বৌদি কোথায়?

-- সে তো দাদাকে মেরে জল দেওয়া কাত্তিককে নিয়ে পালিয়েছে।

--  বাহঃ তাই নাকি তাহলে তুই ওই মিনসের মুখে জল মারতে থাক।

ডলির বেশ দরদ, জল ছিটিয়ে দেয়। বিফলে যায়।

এবার ডলি আর এক বৌদির কাছে সব জানিয়ে ফোন লাগায়,
--  দাদা অজ্ঞান, কি করি গো?

--  বৌদি যখন নেই তখন এই সুযোগ, বেশ করে আদর করতে থাক, দেখবি কাজ হবে।

ডলি সময় নষ্ট না করে দাদার পাশে শুয়ে দাদাকে আদর করে, দাদার জ্ঞান আসে তবে বউ ভেবে জড়িয়ে নেয়, আরও আদর আনন্দ করে জানতে চায়,
-- তুমি তাহলে ফিরে এলে, সোনা?

ডলির খুবই ভাল লাগে, দাদাকে বোঝায় ব্যাপারটা। দাদা ধড়ফড় করে উঠে জানতে চায়,
--  আদুরি ফেরেনিতো?

--  না দাদাবাবু যে যায় সে কি আর ফেরে?

--  যাক বাঁচালি! যাই এবার অন্তত ওই কার্ত্তিক শয়তানটাকে শায়েস্তা করে আসি।

ডলি ঢলিয়ে ঢলিয়ে অম্লানদাদাবাবুর নাগালে এসে আদর করে জানায়,
--  কাকে শয়তান বলছো বাবু? কাত্তিকতো এখন তোমার সতান, সতীনের পু:লিঙ্গ 😁








ভাগ্যের চাকা মোঃ আব্দুল রহমান

মুকুর অনলাইন


ভাগ্যের চাকা
মোঃ আব্দুল রহমান

জীবনে চলার পথটি সুসজ্জিত হলেও
সবার ভাগ্যের চাকা মসৃণ নয়,
রং মাখলেই কি জীবন রঙিন হয়?
যতবার ঐ পথটি বেয়ে যেতে চাই
মাঝ পথ না পেরোতেই---
পাঙ্কচার আর ব্লাস্টের প্রতিধ্বনি!
মেরামতি চলতেই থাকে...

সবার পেরেক গাঁথে না
কিন্তু আমার চাকার সাথে তার দারুন বন্ধুত্ব
তাই আর গন্তব্যে পৌঁছানো হল না!
তবে কি আমি সেই ব্যক্তি
যাকে সবাই ডাকে---
অভাগা!




শুভাকাঙ্খী। সোমনাথ ঘোষ

মুকুর অনলাইন


শুভাকাঙ্খী।
সোমনাথ ঘোষ


নিরুপদ্রবে শান্তি মনে
থাকতে যদি চাও
বল কথা কম শোন বেশি
লাগাতে লাগাম জীবের পেশী।

হয়তো তুমি অনেক জান
ভীষণ রকম বিজ্ঞ
এড়িয়ে চল তর্ক বিবাদ
সেজে থাক অজ্ঞ।

কথায় বলে বোবার
নাকি শত্রু নাই
কথাটা যে মিথ্যে নয়
হাড়ে হাড়ে বুঝছি তাই।

পাগল বুড়ো ভেবে আমায়
করবে জানি অবহেলা
ঘটনা যদি ঘটে এমন
বুঝবে তখন কত ঠেলা

Thursday, July 3, 2025

আষাঢ় সংখ্যা

মুকুর অনলাইন 

আষাঢ় সংখ্যা



Mukur online


অনুগল্প




গল্প




কবিতা 






















ছড়া 



অনেক রাতের প্রশ্ন রহিত ঘোষাল

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


অনেক রাতের প্রশ্ন
রহিত ঘোষাল



কার সাথে হবে প্রেম ?

পথ ছেড়ে উঠে আসি ঘাস মাটিতে ...

পায়ে লেগে যায় জল

কে ধরবে হাত চলন্ত জীবনে ?

কে বসে থাকবে খাবার নিয়ে বেশি রাতে ?

কাঁপা কাঁপা মোমের আলো

ছায়া অবয়ব ফেলে যায় দেয়ালে

ঘুমিয়ে কাদা বেড়ালের স্বপ্ন

উত্তর কলকাতার কোনও গলির ভেতরে

আমার পিঠে এসে লাগবে প্রতিশোধ 


শনির শেষে বি এম মিজানুর রহমান

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



শনির শেষে 
বি এম মিজানুর রহমান 

শনির দশায় পুড়ছে জীবন
মনে বাড়ছে কষ্ট, 
ভাবছো নাকি বন্ধু তোমরা
জীবন তোমার নষ্ট? 

ভ্রষ্ট তুমি হইয়ো না রে
উঠবে কালকে রবি,
শনিবারের পর রবি বার
দেখবে সুখের ছবি।

কবি আমি বলছি তোমায়
মুছো চোখের পানি,
হাসিমুখে রবিবারটা
শুরু করবে জানি।

জেনে রেখো দুখের পরে
রবে তুমি সুখে,
কালকের দিনটা ভালো শুরুর
সাহস রাখবে বুকে।

দুখে পড়ে শনির রাতে
রবি আসবে শেষে,
পারবে তুমি আনতে সময়
কাটবে সুখে হেসে।

তবুও ভেবেছি মোঃ আব্দুল রহমান

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


তবুও ভেবেছি
মোঃ আব্দুল রহমান

নীরবে চেয়ে চেয়ে দেখেছি আকাশ
কতো ছবি আঁকা
বিচিত্র রঙে নির্মিত ঢেউ খেলানো তার সৌন্দর্য
চোখ মেলতেই ধরা পড়ে
কতো মনোহর দৃশ্য - অদৃশ্য লুকিয়ে
রহস্যে মোড়ানো
চমৎকার ওই সাদা সাদা মেঘের ভেলা
গাছগুলোর মাথায় ভেসে চলেছে
রামধনুটাও পথ করে দিল আবারও ওঠার
শ্রাবনের ধারা শেষে
সাঁঝের আকাশ চাঁদের জোছনা মাখে
তারারা দেয় উঁকি
নিশীথে জোনাকির আলোয় ঢেউ তোলে ঝিঁঝির সুর
রহস্য আর রহস্যে মোড়ানো আকাশ
তবুও ভেবেছি এবং ভেবেই চলেছি, একবার
কেবল একবার যদি ছুঁয়ে যেত
এই বুক চেরা হৃদয়টাকে একফালি চাঁদ
হয়তো কিছুটা কলঙ্ক মিশে যেত
আত্মতৃপ্তিতে তবুও নতুন ঘর বাধতাম নতুন সখার মনে
আবারও একটা নতুন জীবন শুরু হতো...

তুমি নেই লালন চাঁদ

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


তুমি নেই 
লালন চাঁদ

এখন দেখলেই বোঝা যায় 
তুমি কতোখানি পাল্টে গেছো 
একদিন তোমার প্রতিটি নখের স্পর্শ ছিলো 
আমার অনুভূতিতে 

একদিন সূর্য হয়ে ভেসে উঠেছিলে 
আমার হৃদয়ে 
আজ সেই সূর্য নেই 
সূর্য ডুবে গেছে কোনো এক অজানা দিগন্তে 

আজও মনে হয় 
তুমি আমি হাঁটছি পাশাপাশি 
আমার একটি হাত তোমার হাতে 
যেনো তুমি আছো অথচ তুমি পাশে নেই 

সে শব দেবাশীষ সরখেল

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


সে শব
দেবাশীষ সরখেল

গণতন্ত্রের উৎসব শুরু
এ সময় ছোট ছোট সামন্তের সিংহাসন টলে ।
গণতন্ত্রের মিহিন বাতাসে
 হিরণ্য অঙ্গুলি কাজ সারে চুপিসারে ।
পল্লবচ্যুত কত ফল
                 ফলাফল
                  উৎসবের হাওয়ায় কত শত নিশান
                             উড়তে থাকে সুপবনে ।

কার মনে কী ছিল কে বা জানে
কে কোন দিকে ফিরে যায় কেবা জানে
কার আহ্বানে দেশ এত সাবালক
 কেই বা তা জানে ।

তোমরা অবশ্য জানো , সে সব
ভাষণ শুনতে থাকে সারি সারি শব
       তোমরা বলছ না
                                সে শব ।

এই জীবন-একটা দারুণ উপহার সুবীর কুমার ঘোষ

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


এই জীবন-একটা দারুণ উপহার
সুবীর কুমার ঘোষ 

আমি আলো খুঁজে পাই প্রতিটি সকালের ভেতর,
পাখির ডাকে মনে হয়, আজ নতুন কিছু ঘটবে।
গাছের পাতায় রোদ নাচে-সেই তো জীবনের ছন্দ,
আমি হাঁটি, পেছনে নয়- সবসময় সামনে।

বন্ধুর হাসি দেখলেই জন্মায় বিশ্বাস, 
চেনা শহরের প্রতিটি রাস্তায় থাকে অজানা সম্ভাবনা,
চোখে চোখ রাখলে মানুষ হয়ে ওঠে আকাশ,
ভালোবাসা আসলে কখনো কমে না, 
শুধু রূপ বদলায়।

আমি দেখি-ছোট ছোট খুশি জমে পাহাড় হয়,
নরম বাতাস বলে, “তুই ঠিকই করছিস, এগিয়ে যা!”
যে কোনো শুরুই একেকটা বিস্ময়,
সময় সবসময় নতুন সুযোগের নাম।

সব ভালোবাসা ফুরায় না- রূপান্তর হয়,
স্বপ্নরা ঘুমোয় না, তারা জেগে থাকে হৃদয়ে।
ভবিষ্যত মানেই নতুন গল্পের প্রতিশ্রুতি,
আমি বিশ্বাস করি, 
এই জীবন-একটা দারুণ উপহার।

আমাকে দেখনি তুমি দেব মাইতি

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



আমাকে দেখনি তুমি
দেব মাইতি 

আমাকে দেখনি তুমি নৌকা বাধা জেলেদের ঘাটে নৌকায় আনমনা উদাস বসে থাকতে
আমাকে দেখনি তুমি শশ্য ভরা ফসলের মাঠে আলপথে শুয়ে থাকতে
আমাকে দেখনি তুমি সবুজ সমারহ গ্রামের রাস্তা দিয়ে পাগলপারা চলে যেতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি বাজ খাওয়া তাল গাছে উঠে টিয়া পাখির বাচ্চা ধরে আনতে
আমাকে দেখনি তুমি কখনো গ্রামের পাঁচাল যাত্রায় সামনে বসে বাঁশিওয়ালার সাথে কথা বলতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি ভোরের বেলা এপাড়া সেপাড়া ঘুরে, ফুল তুলতে
কিংবা ধরো, বেশ কিছু কচিকাঁচার ঘিরে শিলেটে আঙুল দিয়ে শিখিয়ে দিচ্ছি
 অ আ ই ঈ
কিংবা ধরো উদাত্ত কণ্ঠে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে গাইছি কোন প্রিয় গান
কিংবা ধরো খালে বিলে মাছ ধরে বেড়াচ্ছি একদম কাদামাখা বেহুশ
আমাকে কখনো দেখনি তুমি মিষ্টির দোকানে আরো দুটো জিলিপি সিঙাড়া কিনে খাওয়াচ্ছি পাগলটাকেও
ধান উঠে যাওয়া মাঠে ছোটদের সাথে ঘুরি ওড়াচ্ছি
অথবা ধরো ধান কুড়াতে ছোটদের সাথে কিংবা কোদাল দিয়ে ইঁদুরের গর্ত থেকে বার করছি ধান

আমাকে কখনো দেখনি তুমি হুড়োহুড়ি করে মহোৎসবের দিন বাতাসে কুড়তে কিংবা বকুলতলায়
আমাকে কখনো দেখনি তোমায় মন উজাড় করে চিঠি লিখতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি রাত আকাশের দিকে চেয়ে বসে থাকতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি রং তুলি নিয়ে দিন রাত বিভোর ছবি আঁকতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি সাধু ফকিরদের আড্ডায় দুহাত তুলে গান নাচতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি কয়েকটা সবুজ লাউ ডগ লাউ চিচিঙা নিয়ে নদীর ধারে বাজারে হাটের দিন বসে থাকতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি হঠাৎ সাইকেল থেকে নেমে ঝিল থেকে লাল কিংবা সাদা শালুক ফুল তুলে বাড়ি ফিরতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি জেলে নৌকায় মাছ ধরতে গিয়ে নদী চড়ায় আনন্দ হুল্লোড় স্নান করতে
আমাকে কখনো তুমি হলুদ ঝিঙা ফুল কিংবা সর্ষের খেতে কাকতাড়ুয়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে

আমার কিছুটা গেছে মেঘেতে উড়ে কিছুটা প্লাবনে ভেসে
যেটুকু আছে তুলসী তলায় প্রদীপ জ্যোৎনা পড়ে তোমার মুখে


 

শর্ত ছাড়া থেকো জাফর মোল্লা

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



শর্ত ছাড়া থেকো
জাফর মোল্লা 


তোমার সাথে তৈরি হলো যে সম্পর্ক
তাতে যেনো না থাকে কোনো শর্ত।
তুমি ভালো থাকবে, সুখে থাকবে 
এই চাওয়াটা যদি অন্যায় হয়
আমি করতে চাইব না তর্ক।
তবু বলবো থেকো যেও রেখোনা শর্ত।।
ভালোবাসি বলতে হবে মুখে?
অনুভবে , উপলব্ধি তে পাই তোমাকে।
আসতে হবে না কাছে 
শুধু কল্পনার আকাশে, স্বপ্নের বাসরে,পেতে চাই তোমাকে।
তবু বলবো শর্ত দিওনা যেও থেকে।।
দীর্ঘ নয় এ জীবন 
জানি না কখন কে হবে আপন।।
ভালোবাসার শহরে অভাব নেই ভালোবাসার,,
যদিও খুব বেশি মানুষ নেই দরকার 
শুধু একজন ই চাই আমার 
তাই বলবো, শর্ত না দিয়ে তোমার থাকা দরকার।।
তোমাকে রূপায়ণ করেছি মনের কোণে।
কারো স্থান নেই তো আর সেখানে।
শুধু ভিড় করে অভিমান, অভিযোগ,
রাগ আর অপেক্ষা।
যদিও প্রয়োজন নেই তা থাকার।
তবু আসে তো সংগোপনে 
তাই বলবো, শর্ত নয় থেকে যাও মোর জীবনে।।


উপকথা শোভন মণ্ডল

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


উপকথা
শোভন মণ্ডল


এক ঝড়ে ভেঙে যায় সোনার মুকুট
আঙুলে ক্ষত জাগে
পুরনো উপকথা থেমে যায়, ছড়িয়ে পড়ে মালা আর পুঁতি
এ সবই কালের দাগ, শতরঞ্জ-চাল
সর্বত্র প্রলেপ থাকে
নিদারুণ অভিঘাত
শেষ হয় জলছবি, নীল হরমোন
খুলে রাখি সব উত্তাপ
অস্ত্র আর বর্ম

কোনো এক রাতে তপন ঘোষ

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



কোনো এক রাতে
তপন  ঘোষ

যাবো চাঁদের পাহাড়ে 
যাবে সাথে 
ফিরে আসবো কলঙ্ক মেখে।
যাবো অরণ্যের গভীরে 
কোনো এক শব্দহীন বৃক্ষের প্রেমে, 
মাতাবো তোমায় বাদামী ঘ্রাণে 
যাবে তুমি, 
হারাবো যা আছে তোমার আমার।
নীলাভ এক সমুদ্রের হাওয়ায় ভেসে
মিশে রবো সমুদ্র পাখী হয়ে
পাখিদের সাথে,
ফিরবো কি ফিরবো না, জানি না
যাবে তুমি। 
যাবো জোনাকির স্রোতে
জোছনার যৌবনে 
ফাগুনের প্রথম পূর্ণিমায়
নির্ভার এক রাতে
মেঘমালা হয়ে
মেঘ বালিকায়, 
যাবে তুমি 
যাবে তো।

ইচ্ছে সোমনাথ ঘোষ

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


ইচ্ছে 
সোমনাথ ঘোষ

ইচ্ছে করে আবার যাই ফিরে 
কৈশোর থেকে যৌবনের সন্ধিক্ষণে 
মনের মাঝারে কতশত রঙ্গিন স্বপ্ন 
জেগে উঠুক প্রতিনিয়ত ক্ষনে ক্ষনে।

ইচ্ছে আমার আবার না হয় আঁকি
মনের ক্যানভাসে কল্পনার জাল বুনি
নিত্যনতুন রঙ্গিন স্বপ্ন আছে যতো
প্রেয়সীর যা কিছু তার মনের মতো।

ইচ্ছে করে আবার প্রেয়সীর আলীঙ্গন
পুষ্প দলের ন্যায় উষ্ণ ওষ্ঠের চুম্বন 
দুজনে মিলে একসাথে হাতে হাত ধরি
লক্ষবিহীন আসমুদ্র হিমাচল ছুটে চলি।

যুদ্ধ বুঝে অস্ত্র বিক্রেতার জিভ রানা জামান

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



যুদ্ধ বুঝে অস্ত্র বিক্রেতার জিভ

রানা জামান



যুদ্ধ কেনো বুঝে অস্ত্র বিক্রেতার তেজারতি বুদ্ধি 

সর্পিল স্বভাবে জলে অন্তরীক্ষে স্থলে

লাশের সংখ্যার জ্যামিতিক বৃদ্ধি অস্ত্রের ক্ষমতা

প্রদর্শনে দেখায় কারিশমা অহর্নিশ

মিসাইল হোক ব্যালিস্টিক কিংবা স্কাড 

ড্রোনে সওয়ার হয়ে ধ্বংসযজ্ঞ শূয়রের খেলা


আয়রন ডোম উড়ানোয় খর্চা পেটের নাড়ীতে

ক্ষত সৃষ্টি করে সক্ষমতা বৃদ্ধি করে কার?

তুড়িতে সিজ্জিল কিংবা হোভেইজ মিসাইল 

মারণাস্ত্র হয়ে কাঁপায় ইজরেল 

হায়দার অথবা খাইবার মিসাইল অপ্রতিরোধ্য হয়ে

মুসলিম বিশ্বে ফুটায় খুশির বাজিপটকা


আমেরিকা বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা কিংবা 

টমাহক মিসাইল মেরে তৃপ্তির কুইনাইন গিলে

আত্মতৃপ্তির ঘুণপোকা ঢুকায় মগজে

ঘাতন বিক্রির সাথে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে 

বাহবা কুড়ায় টেবিলের নিচে অর্থ নিয়ে

অস্ত্র বিক্রেতারা নিঃস্বার্থে করে না কোনো কাজ

লাভের চা-পাতা তুলে তাজা তাজা


কবরের সংখ্যা বৃদ্ধির পৌনপুনিকতা, তা শিশুর 

কিংবা অশীতিপর বৃদ্ধের, তাতে জেদ

বাড়ে প্রতিপক্ষ নিধনে যে কোনো মূল্যে

মূল্য দিয়ে যায় আমজনতা সাধের বাড়িটা

ধ্বংস হতে দিয়ে, জীবন তো যেতেই থাকে 

শিল ও পাটার ঘষাঘষি গুঁড়ো করে মরিচের দেহ


ক্ষেত্রফল রবিন বিশ্বাস

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


ক্ষেত্রফল 
রবিন বিশ্বাস



সমগ্ৰ জীবনের ক্ষেত্রফল জুড়ে রয়ে গেছে শূন্যতা । খরস্রোতা নদী এখন শান্ত; নির্ভিক অদম্য ইচ্ছের অধীন। নোনা উপকূল জুড়ে ছড়িয়ে আছে অবসাদ, বিন্দু বিন্দু অশ্রু- জলীয় বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে আকাশে বৃত্ত পথে। অদৃশ্য বাতাসের ভেতর যদি একবার ডুবে যেতে পার- তুমিও বুঝতে পারবে জলের অদৃশ্য পরিণতি, যা সতত আমরা মনে রাখি না , আবার মেনে নিতেও পারিনা। দিন দিন শূন্যের উপর দিয়ে আরও উপরে উঠে যাচ্ছি মাথার ভেতর শুধু খেলা করে বেড়াচ্ছে গভীর গাঢ় কিছু ওষুধের ঘ্রাণ ।আমার সমগ্ৰ উপকূল জুড়ে ছড়িয়ে আছে রঙবেরঙের ঘুমের ওষুধ - যার মধ্যে সর্বক্ষণ ভালবাসা খেলা করে।

কথাগুলো তীর্থঙ্কর সুমিত

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


কথাগুলো 
তীর্থঙ্কর সুমিত


কথাগুলো...
ভালো থাকার অভ্যেস
সব বদলে বদলে এখন
নতুন হয়ে উঠেছে নদীপাড়
কত না জানা ব্যর্থতা খুঁটে খায় চড়ুইয়ের দল
অনন্ত বিকেলে আঁকা
শকুন্তলার চোখ ভেজানো এক ছবি
যে ছবি
জল ছুঁয়ে, মাঠ ছুঁয়ে
দূর দিগন্তে ___

আজ বৃষ্টির প্রয়োজন ।।

বর্ষা কালের ছবি শঙ্কর কুমার চক্রবর্তী

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


বর্ষা কালের ছবি
শঙ্কর কুমার চক্রবর্তী

কদম ফুলের গন্ধ আসে
ছাতার চলছে মিছিল,
পথ ঘাট সব কর্দমাক্ত
চলার পথ খুব পিছিল।

কার বাড়িতে ইলিশ ভাজছে
হালকা আসে গন্ধ,
জল ছিটিয়ে বাস চলে যায়
জানলা গুলো বন্ধ।

তুমুল জোরে বৃষ্টি হচ্ছে
রিকশা নেই তো কাছে,
রোগা লোকের ঢুকবো ছাতায়
চোখ তাকিয়ে আছে।

বর্ষাতে তুই ডাকিস কেন
ও বসন্তের কোকিল,
মামলা ঠুকবে আসছে দাঁড়া
মস্ত বড়ো উকিল।

এই তো জীবন অর্পিতা সাহা

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



 এই তো জীবন 
 অর্পিতা সাহা


কথার পিঠে কথা সাজিয়ে গল্প বলা যায় 
অভিমানে ডুবে থাকা মন আদুরে স্পর্শ পেতে চায়,
নদী যেমন সাগরে মিশে পূর্ণতা পায়__

চোরাবালিতে পা ডুবিয়ে ভালোবাসা খুঁজে মরছ
তলিয়ে যেতে পারো যে কোনও মুহূর্তে__ 
মনের মধ্যে শব্দের পাহাড় জমছে 
তবু তুমি মৌন থাকবে; 

তবে থাক সব না বলা কথারা__ 
জীবনের গল্পগুলো তো অধরাই থাকে, 

আমার অবহেলা রঞ্জিনী

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


আমার অবহেলা 
রঞ্জিনী 


আকাশে কালবৈশাখী ঝড় উঠেছে। ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে আকাশ। ঘনঘন বিদুৎ চমকাছে আকাশে। মেঘ ঝড় বিদ্যুৎ দেখে পালিয়ে যাওয়া মেয়েটি দাঁড়িয়ে থাকে খোলা বারান্দায়। দমকা ঝড়ে স্বাধীন ভাবে উড়তে থাকে তার আঁচল। খোলা চুলে জট পেকে যায় বারংবার এলোমেলো হয়ে। চোখের কাজল ঘেঁটে লেপটে থাকে চোখের তলায় কালি হয়ে। কিন্তু কোনো খেয়াল নেই মেয়ের। ঘন কালো মেঘ মেয়েটির ঘন কাজলে ভয় পেয়ে জিজ্ঞাসা করে বসে... 
—ও মেয়ে লেপটে গেছে কাজল। এ যে খুব ঘন! 
—এটা কাজল নয়। আমার প্রতি করা তোমার অবহেলা। 
—আমার অবহেলা! 
—বন্ধ দরজায় যেদিন বারংবার আছড়ে পড়েছিলাম কান্নায় সেদিন তোমার দেখা চেয়ে ছিলাম। পাছে কেউ শুনে নেই আমার কান্নার শব্দ। কিন্তু তুমি আসনি। প্রেমিকে আটকে রাখার জন্য যখন অনুনয় করেছিলাম তোমায়, তখনও ঝড়ে পড়োনি। আগুন লেগেছিল যখন আমার মনে তার অবহেলায়, ভিজতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু তখনও অবহেলা করে দূরে ঢেলে দিয়েছিলে আমায়। আমি কি এতোটাই গুরুত্বহীন মানুষ। 
—পাগলি মেয়ে বটে তুমি...বসন্তে কালবৈশাখী আসে বুঝি! আমায় চাইলে অথচ আমার সময়কে ভুলে গেলে হয়। আর এতোটা অযত্নে থেকো না। প্রত্যেক কালবৈশাখীর পর ওলট পালট হয়ে যাওয়া প্রকৃতি বুঝতে পারে তাদের আসল দক্ষতা। 
—দক্ষতা! 
—আম ঝড়ের দাপটেও জড়িয়ে থাকে তার কুটির। কারন সে ভরসা ও বিশ্বাসযোগ্যতার মানে বোঝে। আবার আমার দাপটে জাম পড়ে গিয়ে বুঝিয়ে দেয় এতোটাও সহজলভ্য না হতে। তাই কালবৈশাখী আসলে মন খারাপ নয় উপভোগ করো। 

অন্তরের আলেখ্য তাপসী আচার্য

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


অন্তরের আলেখ্য
তাপসী আচার্য

আলোকের ঝঙ্কার বেজে ওঠে অন্ধকারে,
প্রতিটি প্রহরে ঝরঝরে স্বপ্নের ঝরনা।
অজানার আকাশে উড়ে যায় মন,
অতৃপ্তি আর আকাঙ্ক্ষার মিলনমেলা।
জীবনের পাথেয় যেন এক অমূল্য পদ্ম,
অপূর্ব স্নিগ্ধতা লুকানো প্রকৃতির গোপন গহ্বরে।
চিন্তার পাখি উড়ে উঁচু শিখরে,
অজস্র প্রশ্নের রঙিন পালক নিয়ে।
অস্তিত্বের দীপ জ্বলে অনন্তে,
অবিরাম খুঁজে চলে সত্যের আভাস।
বৈচিত্র্যের ভেতর নিহিত সামঞ্জস্য,
প্রতিটি ছন্দে মিলেমিশে থাকে বাসা।
অন্তরঙ্গতার এই সুরে বাঁধা জীবন,
অভিজাত আলোকের কাব্য রচনা করে।
অজানার পথে হাঁটতে থাকি নিরন্তর,
স্মৃতির গানে ভাসে অমোঘ মেঘের ছায়া।

পঁচিশ হাজার সাত শো বাহান্ন মধুসূদন দরিপা

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



পঁচিশ হাজার সাত শো বাহান্ন 

মধুসূদন দরিপা




আমাদের বসতবাড়ির কাছেই

মস্ত একটা সরোবর ছিল

সমুদ্রের মতো নীল জল টলটল করতো সেখানে

পদ্ম আর পদ্মপাতা মিলে ছিল

আশ্চর্য এক মায়ার জগত

পাখিরা বসে বসে স্বপ্ন বুনে যেত 

উলের কাঁটার মতো

মাছেরা টুপ টুপ করে গিলে নিত

সেইসব নব নব জন্মের বীজ

তাদের পাখনায় শরীরে অলৌকিক রোদ

চুমু খেতে ভেসে উঠত মৎসকন্যারা

সরোবরের তীরে গাছ ছিল অনেক 

বিচিত্রবর্ণ বিচিত্রগন্ধ ফুল পাতা 

ছিল তাদের অলংকার

এমন একটি পারিজাত উদ্যান অমরাবতীর কাছে 

স্বভাবজ কারণে ছুটে আসতো সমুদ্রের বাতাস 


সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল ঘড়ির কাঁটার মতো

সাজানো বিয়ের কনেটির মতো অথবা 

নিত্যপুজো পাওয়া স্থবির বিগ্রহের মতো 

গোল বাধল সেখানে তথাকথিত 

কিছু অবতারের অনুপ্রবেশে 

যারা এসেই শুরু করলো 

সরোবরের জল শোষণ করতে 

তারপর যথারীতি একদিন

সরোবরের জল গেল শুকিয়ে 

পড়ে রইলো শুধু এক বর্জ্য জমি আর তার গর্ভে শুকিয়ে যাওয়া ফুল পাতা গাছ

মৃত পাখি আর মাছগুলি সব 

রাজার পেয়াদা এসে অবতারদের

খাঁচাবন্দী করলো ঠিকই

কিন্তু মায়ার জগতে আর ওঠে না অলৌকিক রোদ

পাখিরা উড়ে এসে বোনে না নব নব স্বপ্নের বীজ


শুধু সমুদ্রের হাওয়া ছুটে আসে এখনও 

প্রশ্ন করে আকাশের কাছে 

বৃষ্টির জল আসবে কবে ? কবে?


উভচর হওয়ার তাগিদ নীলম সামন্ত

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


উভচর হওয়ার তাগিদ
নীলম সামন্ত 

তোমার চোখের নিচে দমকে দমকে বেড়ে ওঠা 
উভচর বাসস্থান ছেড়ে যারা আলোআঁধারি খুঁজে নেয় 
তাদের মধ্যে বেমানান কিছু নেই 

তবুও তরতাজা গাছে বেমানান শুকনো পাতা,
পরিত্যক্ত পাখির বাসা ইত্যাদি থেকেই যায় 

এর চেয়ে বৃষ্টি আসুক
ফুটিফাটা নক্ষত্রপুঞ্জ হুড়মুড়িয়ে আসবে 
সাথে যারা ডুবে ডুবে আলো গিলেছে 
তাদের চোখ জিভ দেখে 
আমরা কেউই টিটকিরি দেব না। 

বরং নতুন করে গান বাঁধব—
ম্যান্ডোলিন বাজিয়ে মৃত কথাদের জাগিয়ে তুলব। 

মৃত্যুর পরেও জন্ম হয়,
ঠিক যেভাবে গতকাল কিংবা বিচ্ছিন্ন অতীত 
হঠাৎ হঠাৎই মাথায় ঝনঝন করে 
আমরাও মরিয়া হয়ে উঠি আরও একবার
বারবার উভচর হওয়ার তাগিদে।

কুলকুণ্ডলিনীর কথা বলি না কৌশিক চক্রবর্ত্তী

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা

কুলকুণ্ডলিনীর কথা বলি না
কৌশিক চক্রবর্ত্তী

অসংখ্য কুলকুণ্ডলিনীর গভীরে সংবেদনশীল গুহা
তোমার বাসস্থান নির্বাচনে আমি সাহসী বরাবর
পথে ছড়িয়ে দেওয়া একাঙ্ক নাটকে অভিনেতা হব ভেবে
প্রথম পা ফেলেছি প্রকাশ্য দরজায়

গেরিলা যুদ্ধে প্রাণ দিইনি শেষ শনিবার
কোনোমতে আঙুলগুলোর ছবি এঁকেছি তোমার ঘরের দেয়ালে
পরিচয়পর্বের দিন মনে পড়ে
চোখের সামনে তখন শ্রেণীবদ্ধ প্রজনন

সমস্ত ক্রিয়ার এক সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান
ক্ষণজন্মা রাতের ওজন যতবার মেপেছি
ল্যাম্পপোস্ট ফিরিয়ে দিয়েছে তোমার ফেলে যাওয়া খোলস
এটাই প্রতিক্রিয়া ভেবে সেল্ফি তুলেছি ইচ্ছেমতো
চৌকাঠে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিক্রিয়াশীল রোদ্দুর।

তুমি কাছে আসার কথা বলোনি
নির্দিষ্ট সময়ে বুনে দাওনি ধর্মগ্রন্থের মলাট
শেষ যখন জানতে চাইলাম ঘনিষ্ঠতার কথা
তুমি বললে স্পটলাইট সরিয়ে নিতে-

তুমি জানো
অন্ধকারে আমি কুলকুণ্ডলিনীর কথা বলি না। 

গ্রামবাংলার শিল্প উদয় নারায়ণ বাগ

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



গ্রামবাংলার শিল্প 
উদয় নারায়ণ বাগ 

দিন গেছে চলে কত কথা বলে 
রয়ে যায় তার চিহ্ন, 
যন্ত্রের চাপে আধুনিক যুগ 
হয়েছে আজকে ভিন্ন। 

হস্তশিল্প লুপ্তের পথে
হারিয়েছে গ্রাম কর্ম,
হাতে গড়া টোকা ঝাঁটা ঝুড়ি কুলো
বোঝে না কেউ তো মর্ম।

টুংটাং ধ্বনি কামারের দোরে 
হয়েছে সকল বন্ধ, 
কুমোরের হাঁড়ি চাহিদার তরে 
বাজার আজকে মন্দ। 

নারীরা করতো নকশির কাঁথা 
মন-মাধুরিতে তৈরী। 
আধুনিক যুগে স্পঞ্জের গদি 
হয়েছে কাঁথার বৈরী। 

ধোঁয়া উড়া কল সমাজের বুকে 
এনেছে সুখের পরশ,
কীভাবেতে তবে ওই শিল্পীর
মুখেতে রইবে হরষ।

নিজ পেশা ছেড়ে শিল্পীরা ছুটে
মনে নিয়ে ভাঙা দ্বন্দ্ব। 
লেগেছে তাদের ক্লান্ত হৃদয়ে 
আধুনিকতার গন্ধ। 

হিমঘরে রাখা গ্রাম্য শিল্প 
শিল্পীর যত সৃষ্টি, 
ইতিহাস পাতে ছবি হয়ে আজ
গ্রামবাংলার কৃষ্টি।।

অদৃষ্ট প্রসেনজিৎ বিশ্বাস

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা




অদৃষ্ট
প্রসেনজিৎ বিশ্বাস

হু হু করে ঢুকে পড়ছে বিষবাষ্প,
সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা,
না, আর মুক্তি নেই এই শেষ থেকে,
মৃতের স্তূপে ইতিউতি উড়ছে শকুনের দল,
পচে, গলে, খসে পড়ছে মন ও প্রাণ।

ধূসর বিকেল আবছায়া এঁকে দেয় চোখেমুখে,
দুর্ভিক্ষের সাইরেন স্তব্ধ করে দেয় কিছু বোবা উল্লাস,
অপরকে বাঁকা চোখে দেখা সন্দিহান চোখ,
প্রত্যক্ষ করে চলে এক জান্তব বিভীষিকা।

সময়ের অদৃষ্টে চলতে চলতে-
মানুষ নয়, প্রকৃতিই হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রণকর্তা...
এক অপার হুজুগে মেতে উঠে মৃত্যুরা
দখল করে নিতে চায় আমার প্রাচীন শহরকে,
আর মানুষ পড়ে থাকে সেই মহাকালের অতলে।।

আত্মিক যোগ সমীর কুমার দত্ত

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা

আত্মিক যোগ 
সমীর কুমার দত্ত 
                  

একরত্তি ছেলেটা নামে দুষ্টু কাজেও দুষ্টু। বাবা মা'র সাত রাজার ধন এক মানিক। মরা হাজা ছেলে। সবে ধন নীলমণি। আবার দুষ্টুমিতে সকলকে অতিষ্ঠ করে তোলে।যখন তখন বাবা- মায়ের কাছে মার‌ও খায় । আর অমনি নিরাপদ আশ্রয়ে দাদু -ঠাকুমার কাছে দৌড়ে যায়। তবে হলে কি হবে বুদ্ধি ধরে খুব। ঠাম্মা - দাদুর সঙ্গে থেকে হয়েছে চালাক চতুর। দাদু সবসময় বুদ্ধিদীপ্ত গল্প বলে বলে ওকে অনেক চালাক করে দিয়েছেন। দাদু ছেলে বৌমাদের কাছে প্রায়শই বলেন, " ও আমার বাবা এসেছে। ভাব ভঙ্গি, চলন বলন , কথা বলার ধরণ সব আমার বাবার মতো।" আগে শুতো বাবা মায়ের মাঝে।এখন তার শোবার জায়গা হলো বদল। এখন সে শোয় ঠাকুর দাদা ও ঠাকুমায়ের মাঝে। অনেক দিন সে বাবা মায়ের কাছছাড়া। এখন তার জগৎ শুধু ঠাকুর দাদা আর ঠাকুমায়ের ছত্রছায়া। দাদুর সঙ্গে পার্কে যাওয়া , দাদুর সঙ্গে স্কুলে যাওয়া, সবেতেই দাদু। "গত জন্মে ছেলের ওপর জোর খাটাতে পারেনি বলে, এ জন্মে নাতি হয়ে এসে উসুল করে নিতে চায়।"— দাদু মাঝে মাঝেই এই কথা বলে থাকেন।একদিন সে লিখলো চিঠি ঘুমের ঘোরে বাবা মাকে।

"বাবা -মা, তোমরা কেমন আছো? তোমাদের অনেক দিন দেখিনি। আমার মন কেমন করছে তোমাদের দেখতে না পেয়ে। তোমরা সেই যে চলে গেলে , আমি তখন ঘুমচ্ছিলাম, আর এলেই না। আমি দুষ্টুমি করি বলে চলে গেলে? আমি সেই থেকে আর দুষ্টুমি করি না। সত্যি বলছি। তোমরা চলে যাবার পর দাদু, ঠাম্মি, কাকা মণি, কাকীমণি কি কন্নাই না কাঁদছিলো! আমি জিজ্ঞেস করেছি কতো বার—তোমরা কাঁদছো কেন? ওরা কোন উত্তর দিচ্ছে না। ঠাকুমা তো খুব কাঁদছে। যতো বলছি — কেঁদে না। কাঁদলে আমার ভালো লাগেনা। তবুও শুনছে না।

আমার এখানে আর ভালো লাগে না, তোমাদের দেখতে না পেয়ে। তোমরা এসে আমায় নিয়ে যাও। জানো তো কাল রাত্রে একটা স্বপ্ন দেখেছি। তোমরা একটা গাড়ি করে কোথায় যেন চলেছো। কোথায়? তা আমি বলতে পারবো না। হঠাৎ একটা গাড়ি এসে তোমাদের গাড়িটাকে খুব জোরে ধাক্কা মারলো। দুটো গাড়ি দুমড়ে মুচড়ে গেলো। আর কিছু মনে নেই। তারপর আমার ঘুমটা ভেঙে গেলো। চোখ খুলে দেখি আমি বিছানায় শুয়ে আছি। আমার পাশে কেউ নেই। সকলের কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। আমার ছুটি পড়লে তোমাদের কাছে যাবো। আমি আর দুষ্টুমি করি না। সত্যি বলছি। তোমরা ভালো থেকো।কেমন?
            —ইতি
        তোমাদের দুষ্টু "
  
দুষ্টুর এই স্বপ্ন দেখার আগেই বাড়ির মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ এমন কিছু ঘটনা ঘটে চলছিলো যা স্বাভাবিক ছিলো না। হঠাৎ হঠাৎ শব্দ হ‌ওয়া, যার স্বাভাবিক কোন কারণ ছিলো না। দুষ্টু ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়তো। প্রায় দিনই স্কুল কামাই হতো। হঠাৎ হঠাৎ চোট লাগতো। বাড়ির লোকেরা এ সবের কারণ জানতো। সবচেয়ে বড়ো কথা বাবা মা'র দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর কথা কোনদিন তাকে জানানো হয় নি। তার অজ্ঞাত থাকলেও মৃত্যুর ঠিক অব্যবহিত পূর্বেই সে স্বপ্নে দেখে নিয়েছে।

হঠাৎই ঠাম্মির গলা শোনা গেলো, "দুষ্টু উঠে পড়ো। ছটা বাজে।স্কুল যেতে হবে। স্কুলের নাম শুনলে দুষ্টু তাড়াতাড়ি উঠে পড়ে প্রস্তুত হয়ে যায়। কারণ স্কুলে গেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পাবে , ঘরে তো ওর সমবয়সী কেউ নেই। ওই দাদুকে খেলতে হয়। পার্কে খেলতে গেলে দাদু, এসে সন্ধ্যে হলে দাদুর কাছে হোম ওয়ার্ক করা, সব‌ই দাদু। দাদুময় জীবন। স্কুলের জন্য রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ে। দুষ্টু সামনে আর দাদু ব‌ইয়ের ব্যাগ বহে নিয়ে পিছনে পিছনে যেতে থাকেন। মুহূর্তের মধ্যে রাস্তায় পা দেবার সঙ্গে সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটা মাল বোঝাই লরি ব্রেক ফেল করেই হোক,আর ভুলক্রমে অ্যাক্সিলেটরে পা পড়ে যাওয়ার জন্যেই হোক লরিটা দুষ্টুকে ও ওর দাদুকে নিয়ে একটা দেওয়ালে পিষে দিলো মুহূর্তের মধ্যে।এতো চকিতে ঘটনাটা ঘটে গেলো যে কিছু করার সুযোগ‌ই পেলেন না দাদু নিজেকে ও নাতিকে বাঁচাতে। দু দুটো প্রাণ চলে গেলো কতো সহজে।

দু দুটো মৃত্যু কতো অনিবার্য ছিলো। ছেলে বৌয়ের মৃত্যু যেমন আচম্বিতে ঘটে গেছে, আর তাদের অতৃপ্ত আত্মা তাদের সন্তানকে টেনে নিতে চেয়েছে। কিন্তু সন্তান তো একা একা যাবে না। দাদুর সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক। সুতরাং সে দাদুকে না নিয়ে যাবে না। ছেলে বৌ এর নিয়তি ছিলো এক‌ই স্থানে,এক‌ই সময়ে মৃত্যু বরণ করা তেমনি দাদু নাতির নিয়তিও তাই ছিলো। কেউ কাকেও ভালোবাসলেই শুধু হয় না। আত্মিক সম্পর্ক থাকা চাই। আত্মার সঙ্গে আত্মার যোগ না হলে এমনটি ঘটে না। বাবা মা'র অতৃপ্ত আত্মা প্রিয় ছেলের আত্মাকে টানতে চেয়েছে। ছেলের আত্মা তার ধ্যান জ্ঞান দাদুর আত্মাকে না নিয়ে যাবে না।

ছিনতাই সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা

ছিনতাই
সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায় 


ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে।রাস্তায় কোন লোকজন নেই।এক বৃদ্ধ ছাতা মাথায় দিয়ে পাড়ার গলির দিয়ে চলেছেন কোথাও।বয়সের ভারে শরীর সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। হঠাৎ উল্টো দিক থেকে একটি যুবক আসছিলো,সে করলো কি বৃদ্ধের হাত থেকে ছাতাটা জোর করে ছিনিয়ে নিলো।হয়তো ভেবেছে বৃদ্ধ মানুষ কিছু তো করতে পারবে না আর বৃষ্টি থামার কোন নাম নেই।তাই ছাতার একটা খুব দরকার ছিলো তার।

ছাতা ছিনতাই হওয়ার পর বৃদ্ধের মধ্যে কিন্ত তেমন কোন প্রতিক্রিয়া চোখে পড়লো না।তিনি চিৎকার চেঁচামেচি কিছুই করলেন না।উল্টে ফোকলা দাঁতে হাসি হাসি মুখ করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঠায় ভিজতে লাগলেন।উপরন্তু ছেলেটির উদ্দেশ্যে শোনা গেলো বলছেন-যা বাবা,ছাতা নিবি বলবি তো,আমি এমনিতেই দিয়ে দিতাম।অতো টানাটানি করার কি ছিলো?

ঠিক এই মুহূর্তে গলির বাঁকে উল্টোদিক দিয়ে একটা টোটো আসছিলো।আজকাল পড়ার অলিগলি দিয়ে টোটো ঢুকে যায়।টোটোটিতে একটি কম বয়সী তরুনী আসছিলেন।তিনি ছেলেটিকে লক্ষ করে চিৎকার করে বলতে লাগলেন-পালালে কি হবে? আমি তো মোবাইলে ছবি তুলে নিয়েছি।পুলিশকে পাঠাবো।দেখাচ্ছি মজা,বলে মোবাইলটা দেখাতে লাগলেন।

এই কথা শুনতে পেয়ে হঠাৎ কি হলো,ছেলেটি এক পাক ঘুরে দৌড়ে গিয়ে বৃদ্ধের হাতে ছাতাটা আবার ধরিয়ে দিয়ে পালালো‌।বৃদ্ধ এতেও বলছেন-না না,তোমার দরকার তো নিয়ে যাও না বাবা।আমার বৃষ্টিতে ভেজা অভ্যেস আছে। 

ইতিমধ্যে টোটোটি বৃদ্ধের কাছে পৌঁছেছে।কম বয়সী টোটো চালক বৃদ্ধকে বললো-দাদু ঠিক আছে তো? কোথাও লাগে নি তো?বৃদ্ধ হয়তো শুনতে পাননি ভালোমতো।বললেন-

না বাবা,টোটো লাগবে না আমার। ভালো থেকো।

তরুনী অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন বৃদ্ধের দিকে।

Wednesday, April 23, 2025

কবিতায় কৃষ্ণেন্দু নস্কর

সাহিত্যের অঙ্গনে ! 

সেই গল্পটা 
কৃষ্ণেন্দু নস্কর 


আচ্ছা মেঘের বিয়েটা তো পাহাড়ের সাথে হলো না!....

কেহ কি পাহাড়ের মরুহৃদয়,পাঁজরের খঞ্জনির
বারিধারা শুনিয়াছো ? সাতরাঙা সব স্বপ্ন কল্পতরীর !...
দেখিয়াছ কি বৃত্ত বিহীন মেঘের ধারা বেগ,
শিখর চূড়ার দিগন্ত চুমি ঝড়ের মত্তলীলা,
বজ্রপ্রিয়ার অন্তসীলা নির্জন গিরি শিরে।
শুভ্রতুষারে রাতের সূর্যাস্ত মরুসাগর নীড়ে,
সপ্ত-ঋষির তানপুরার নীরব রাগিনির লিন,
সোনার-অর্ঘ্যে ঘুঙুরের মতো কেঁদে ।
পাহাড় এখনো নোয়ায়নি শির, আকাশ হৃদয়ে আঁকে। 

মেঘ যে বড় পাহাড় খোঁজে!...ছায়াহীন মরুতলে।
আজি এ রণে সাধিব না কভু পড়ে থাকা রনস্থল,
সোহাগ দিয়ে ছুপিয়েছি তব সুপ্ত শিশুর ঘুমন্ত আঁচল।
বিপনী সময় বন্দীনু পুলকে জ্যোৎস্নার রঙে হেসে,
কল্পনা আজি চলিছে উড়িয়ে সোহাগের ফুলে ভেসে।
শিশির কাঁদেনা শীতের শুন্যে পাহাড় উদাসী থির 
নীলিমার জটা,কালো আঁখি পুটে শিশির বারি স্থির ।
অ-থই নিথর পাহাড় জ্বলে, মুদে আসে আঁখিপাতা মহিতলে,
হিমু-উষ্ণতা যে নেই তাহার করাল জ্যোৎস্নায় মৃয়মান।

ডাকহীন নিস্তব্ধ দুপুর স্তরে,ছটায় ছটায় জোছনা ঝরে 
বৃত্তবিহীন পরাগ টোপার বানাঘাত কি তব হরে ।
কাপয়ে গোধন বজ্র শনিতে ধার শিখন্ডি-পশ্চাতে,
গ্রহণ করোহ স্পর্শে অঙ্গ,অনল প্রাচীরে গ্রাসিলে বীরের যম।
নিজ গৃহ পথ সম্ভাশে শৃগাল,পঙ্খিল শলিলে নবমৃত সুকুমার।
বিমোহিত আজি ছন্দপতন আপন গতিতে ক্ষয় ,
চঞ্চলা ধারায় তবু যেন,ফেলে আসা পথ নিরব ছুটিয়া ধায়,
রক্তপ্লূত রৌদ্র অতীত শিঞ্জিতের তালে,এখনো কুসুম দামের ঘ্রাণ।

ভাবছো তোমরা ব্যাথা লাগে কিনা?
পাহাড় বহিয়া ছটায় ছটায় তপ্ত চাঁদোয়া পুলিন ।
পাথরের বুকে কামাতুর গিরি অথৈ পাদদেশ ।
এত দাবানলে বনদাহ,জ্বলিলো সকলি,
সাবক সহিতো মরিল,পক্ষী নিড়ের দগ্ধ কালিন্দী,
গবাক্ষ পথ স্নিগ্ধ ক্ষয়ে ক্ষয়ে,

যে !.প্রহর রাত্রে রুধীরের স্রোত পেশোয়ান পড়িয়া নাচে।
যে পুরুষ চিলিয়ানাওয়ালা দেখিয়াছে,
সেও হতাশ্বাসে এ রণে ভাসে ।
বনের লতার মত ফুলিয়া ফুলিয়া দুলিয়া,
কালিয়া দমনে কালনাগিনীরা, মেঠে শ্মশান ঘাস বনে।
কার ও মাথুর মিলনে অনন্ত নীল, আছে সমুদ্রের মৃদু মৃদু নিনাদ ।

দেখিয়াছ কি! আছে আমার মাঝে?...অপূর্ব এক সাজে 
দেখেছো তো শুধু বালারুণ রশ্মি, অনন্ত উজ্জ্বল রেখা,
তীরে জলচর-পক্ষিকুল নিল-জল শ্বেতরেখা,
তরঙ্গ শীরে ফেনোমালার অর্ণবপোত, 
শুষ্ক কুসুম আকাশ পৃথিবী, নব পল্লবীত চূতো বৃক্ষ,
সূর্যকিরণ ক্রীড়া,
গিরিখাদে ছিটিয়ে রয়েছে উদয় রক্তক্ষর।
চক্ষু বোধাতিত গুনে কাল-ভৈরব ,
ভাসিয়া বাল্য-প্রনয়ে অভিসম্পাত।

ফেনচক্র মধ্যে মেঘরুদ্ধতপ্ত, লহরির পর লহরী তুলিয়া,
প্রহর রাত্রে নিঃশ্বাস বায়ুর গর্জন।
যেন চন্দ্র-কর শরীর গড়িছে, নৃত্যে সবুজের উপবন।
পাহাড় ছিল মেঘের ঢেউ জলে সলিলে ,
মেঘ ছিল পাহাড়ের আলিঙ্গনে অন্ত-মিলে।.......
......আজীবন।





রঙিন মোড়কে
                                                    
কৃষ্ণেন্দু নস্কর 

পেশাদার জাদুকরের সাজানো মঞ্চে দাবানলের গভীর শ্বাসে অবসাদের স্বাদে,
 আজ বিশ্বাসের পুতুল ঝুলছে অবিশ্বাসের দেওয়ালের রঙিন মোড়কে ভোগের পণ্যে।

 অপ্রকাশিত অভিযোগ ভেতরে চাপা দিয়ে,
   ধমনীতে আর ঢেউ তুলি না,
হৃদ- যন্ত্রের জলপ্রপাতে মৃত্যুমুখী চোখের আঙিনে,
                                                 গঙ্গা-যমুনার যাত্রাপালায় পেশীদের বিদ্রোহ,
                      নাভিশ্বাসে চলে আজ দিনযাপন,
            গহিন লুকানো ব্যথার খবর পায়না নক্ষত্রপুঞ্জ।

 তাইতো নিকষ কালো অন্ধকারে প্রেমের আসক্তিতে,
                                                  শতাব্দী অস্তিত্ব কাল-গব্বরে স্থবির,
                              গিলে খায় পুরো আকাশটা,
উড়নচণ্ডী আমার মন-পাখি; সাজবেলার আকাশে; নিরব খুঁজে শুকতারাদের ঘুম,
                       কৃষ্ণ চাঁদের আলোয় স্বপ্নের আবেশ।
     অতি আদরে গড়ে তোলা আমার ভালোবাসার কুঞ্জটা ভেঙেছে ভূধরে,
      নাগপাশের বাঁধন ঔদ্ধত্যতার কথার বানে ছিঁড়েছে রঙিন মোড়ক।

 আমার ভালোবাসার অভ্যান্তরে উথাল পাতাল জোয়ার ভাটা,
 আখ্যায়িত সংজ্ঞা এভারেস্টের রূপ নেয়,
অপ্রকাশিত রাত্রির দ্বিপ্রহরে ভাবনার ছেদ,
দীর্ঘশ্বাসে আজও বয়ে চলা অবহেলার পাহাড়ে ;
তুমিহীন বিবর্ণতার আকাশ।
 আত্মসম্মান খর্ব হলেও!......
 আমাদের অবচেতনে জাগ্রত হয় ভুক্তভোগী আমিটার

" জলে আগুন ধরে স্নান ঘরে পুড়ে গেছে একটি সমুদ্র ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ”

 শেষ বিকালের স্মৃতিগুলো আজও মনে আড়াল করি;
                   কতশত খুনসুটি,হাজারো স্মৃতি ধুয়ে চলে পুড়িয়ে চোখের পাতা,
 তোমার মনের সুন্দর টকটকে ঝকঝকে পাঠাগারের মরীচিকায় ;
                    অহেতুন এলোমেলো ভাবনা ঝড় আজ স্মৃতির ছেড়া পাতায়।
 হাসনা মাতাল গন্ধে নিশুতি রাতে চলে শহরতলীর বাঁকে সেই একলা পাখির খোঁজ,
স্রোতের বিপরীতে বৈঠা জলের বুকে এলোচুলে জড়ানো ঝড়ো বাতাসে ; 
                                    শুনবো তোমার আহ্বান,
 আমি যে ভালোবাসা হীন শহরে এক ক্ষুদ্র ছাপোষ প্রাণী।

 জীবন খাতার পরিধি গেলে অন্য বর্ণের ভিন্নমাত্রা যোগ করে অর্ধ সমাপ্তির ছবির আদলে,
শূন্যতার খাতায় অবাধ বিচরণ আলোক রশ্মি জ্বলে।
সেথায় হিসেবের অংক ভুল চুল, ছন্দ হারিয়ে খুঁজি মিঠে কবিতায় ঝরনার সুখ।
 কড়া ভাষা পাওয়া তার উত্তরের অপেক্ষায় উন্মুখ ছিদ্র নৌকায় প্রকাশিত ইচ্ছেগুলো মুক্ত চন্দ্রে লাজের তালে সাজায় জীবনপাতা,
ঘোমটা তোলে মুগ্ধনীয় হরেক রকম সাজ।
 সুযোগ-সন্ধানী বহুরূপী মন কোথায় লুকাবে এ-লাজ … সুযোগ এসেছে আজ শেষবার আকাশ দেখার,
 বুকের গহীন জমানো কালো মেঘে আবার হারিয়ে যাব প্রেয়সির হাতের ভাঁজে, অমৃত সুধার সন্ধানে শতাব্দীর পর শতাব্দী বিশ্বের কলঙ্ক কুড়াইয়া।



নীলদর্পণ 
 কৃষ্ণেন্দু নস্কর



🫀অবহেলার বাতায়নের রুদ্ধ দ্বারের নীলনদে;
       উত্তাল ঢেউয়ে আজীবন অপেক্ষায় সূর্য ডোবে;
 দৃষ্টি থমকে আলো নিভে যায়।
                   সম্পর্কের তিক্ততার চে বিচ্ছেদটাই শ্রেয়!..
 একই বৃত্তে বাস তবুও ঐ কয়েক আলোকবর্ষ;
     দূরত্বের ছেদ ছুঁয়ে যায় না ;ইচ্ছে পূরনের বোবা চিৎকার।
   যে তুমি দিয়েছো আমার বিরান স্নেহের এক আকাশ পরশ,
 ঐ নীলস্রোতের আদরে;
আমি অজস্র বার দিয়েছি ডুব-সাঁতার।
  তোমারে জ্যোৎস্নামাখা বিনিদ্র আঁখির ;
কাজল হরণীর-শুক্লা-দ্বাদশীর রাতে,
  এক মাতাল ঝড়ে অজস্র কামনাগুলো;
মিশে পদ্মপাতায় জ্বলে; ঠোঁটে চিলতে হাসির তট।
 আমি মেলবোনা আর স্বপ্নডানা কৃষ্ণচূড়ার বুকে ;
                        ঐ নীল মেঘের ছোঁয়ায়,
  আমি লিখবো না আর রাতের সূর্যের জ্বলে-নেভা কোন কাব্য কথা ;
                       ঐ ছেড়া স্মৃতির পাতায়।

  
🫀তুমি তো ছিলে শীতল ভরের কুয়াশায় চাদরের-আলিঙ্গন,
                উষ্ণ-উত্তপ্ত বৈ রোদে; বৃষ্টি ভেজা ছোঁয়া।
 নিশীথের ঘন কালো নিঃসঙ্গতায় দেখ তবুও প্রদীপ জ্বলে!.
 অতল স্মৃতি হাতড়ে আপন বাহুডোরে;
                                         আবেগ জড়ানো অশ্রুকণায় ;
                 আমি আকাশ ছুঁতে পারিনি, 
কোন অভিমানী মেঘের আড়ালে-করছে গ্রাস;
                       পুরো আমিত্বটা কে,
         আঁধারে মিলিয়ে যাওয়ার সময় এবার!.........
     দীর্ঘশ্বাসে আজ ধুলো জমা ঝাপসা হৃদয়ের আয়না;
   এখানে শালীনতার মরন কুপ, মস্তিষ্কের স্নিগ্ধ নিস্তব্ধতায় 
         গোপনে অপ্রকাশ্যে শুকনো ঠোঁটের আলিঙ্গন।

🫀এক বরফ-শীতল সকালে উষ্ণ-
                                   রোদের বৃষ্টি ভেজা সাগর দ্বারে 
                বাস্তবতার ছোঁয়াচে রোগ কৃত্রিম পরিহাস,
        ক্লান্ত কোমল ঠোঁট দুটি যেন কাজল আঁকা দু-চোখ;
          বিদ্যুতের আভাসে আচ্ছন্ন ক্ষণিকের উত্তোলন।
 আমিও অভিমানে হারাবো মেঘের ঘনঘটায় ;
                       বৃষ্টির ফোটা হয়ে ক্লান্ত দৃষ্টিতে পরিপূরক হব;
 তোমাতে বিলীন হয়ে নৃত্যে ডুবে,
       স্বর্গের পরাজিত কানন থেকে মর্তের নন্দন-কাননে;
  সোঁদা গন্ধ বিচ্ছুরিত করে ;নকশী- কাঁথায় আঁকা জলছবিই , 
          ছুঁয়ে যাব তোমার ভিতরে থাকা আমিটা কে।

🫀 বিশ্বচরাচরের কঠিনতম নেশার স্রোতে ;
                               ভাসতে ভাসতে মোহনায় সাদৃশ্য হব,
স্মৃতিগুলো নীল খামে বন্দি রেখে ;
                                       মন খারাপের কবরে লুটিয়ে ;
ঐক্যতায় সর্বদা থাকিব একতায়।
                               ভয়ঙ্কর কৌশল- ফাঁদের অন্ধকারে-
মুঠো-জোনাকি আলো-কুড়াইয়া ;
                             জোসনায় ভেজা উৎকণ্ঠিত আবেগে,
      ব্যালকনিতে দেখো চাঁদও হাসে মেঘের ফাঁকে ফাঁকে,
       অনুভূতির হিসাবের মূল্যায়ন এখানে শূন্যতায় পূর্ণ।




🫀প্রকৃতির মাঝে নির্ঘুম রাতের তিক্ততার মহিরুরে, 
               আজও রাখালের বাঁশির সুরে; সুখ কুড়িয়ে চলা; 
চারপাশে ব্যর্থতার পর্যবসিত শিখার বজ্রনিনাদে।
             সুঘ্রান ছাড়ানো নিল পথের পাড়ে অভিশপ্ত রশ্মিই-
থমকে দাঁড়ানো বিকেলের রং!.....
  নিস্তব্ধতার আড়াল ভেঙে; হৃদয়ে আঁখিতে রক্তের বুদবুদ, বীভৎস বধ্যভূমিতে শুকনো ঠোঁটের পরশ-লতায় "নীলদর্পণ "




                                      


Monday, April 14, 2025

বৈশাখ

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

বৈশাখ
মুহাম্মদ মুকুল মিয়া 


বৈশাখে ঝড় হয়
আম পড়ে কতো, 
বেল-তেতুল-অরবড়ই
আছে শতো শতো।

ঝিঝি ডাকে তরুশাখে
ঝাঁজ মাখা হাওয়া,
ভালো লাগে দুপুরে 
মন মতো নাওয়া।

সোনালু-জারুল ফুল
মন কেড়ে নেয়,
হারানো স্মৃতিগুলো 
শুধু দোলা দেয়।

গাছতলে খোকা-খুকি 
মিছেমিছি রাধে,
চোখ-মুখে ধোঁয়া লাগে 
কখনো বা কাঁদে! 

হাসি-গান-আনন্দ
ফিরে ফিরে চাই, 
বৈশাখী দিনগুলো 
স্বাগত জানাই।

অল্প বৃষ্টির অর্থ

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

অল্প বৃষ্টির অর্থ 
রহিত ঘোষাল


বৃষ্টি নেমে এলো
অলীক আলোর ইশারায়
মেঘের অভিমান
পথ ভুল করে আমার শুষ্ক বুক
ভিজিয়ে দিয়ে গেলো
এই আশ্লেষ, এই দীর্ণ ঝড়
কী বিচিত্র জলের আয়না
আমার অবসাদ, আমার পরাভব—
 ভিজে যায় আত্মাভিমান


Sunday, April 13, 2025

বসন্ত এসেছে

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !


বসন্ত এসেছে 
অনুপ কুমার জানা 

  শীতের শেষে শিশু আমে 
  অপরূপ ঘ্রাণ এসে নামে , 
কাঁঠালের মুচি পড়ে টুপটাপ
শিমুলপাতাও দিতে থাকে ঝাঁপ ! 

বসন্ত এসেছে প্রকৃতির কোলে
রূপের , রসের সৌন্দর্য্য ঢেলে ,
আকাশ, বাতাস সুবাসে ভরা
হৃদয় সবারই পাগল পাড়া !

কুহু কুহু কোকিলের ধ্বনি 
বসন্ত উৎসবের আগমনি ;  
নেড়া শিমূল তো লালে লাল 
ওরে, বসন্তে বৃক্ষ বেসামাল ! 

পলাশ শাখায় রক্তিম শিখা
বসন্তে আজ আবির মাখা ;
হোলির বাদ্য বেজেছে দুয়ারে 
  এসেছে বসন্ত বছর পরে ।

আবিরে,রঙে শরীর একাকার
পোশাক-পরিচ্ছদে কতো বাহার ,
  হৃদয়ে হৃদয়ে প্রীতির বাঁধন 
ভালোবাসায় ভরা মন সারাক্ষণ !  

পাড়ায় পাড়ায় কৃষ্ণের নাম
বাহিরে, মন্দিরে বা কৃষ্ণ-ধাম ;
হরিনাম সংকীর্তন আবির মেখে
প্রীতির আবেগ সবারই চোখে ! 

গেরুয়া,লাল, সবুজ আবিরে 
মুখমণ্ডল,মস্তক সজ্জিত করে  
ঘুরছে জোটে এ'বাড়ি ও'বাড়ি
কেহ বা রোষে দিচ্ছে আড়ি !

বসন্ত উৎসব বছরের শেষে
পরিবর্তন মরশুমের মুহূর্তে এসে
ধুয়ে-মুছে দেয় হৃদয়ের গ্লানি
নীতি কথা নয় বিজ্ঞানের বাণী ! 

মিলন

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

মিলন
রায় শর্মা

খুঁজে বেড়াও আমায় তুমি 
দেশ বিদেশে অনেক দূরে 
দেখবে আমি কাছেই আছি 
তোমার দুটি নয়ন জুড়ে।

তোমার দেহের গন্ধে মিশে 
আতর হয়ে জড়াই গায়ে
তোমার চলার পথের ধারে
দাঁড়াই আমি বটের ছায়ে।

তোমার স্নানের পুকুর জলে
পড়বে যখন সাঁঝের ছায়া 
বিজলী হয়ে জ্বলব আমি 
বাড়িয়ে দিয়ে প্রেমের মায়া।

পুকুর পাড়ে বসবে যখন
ভেজা গায়ে স্নানের শেষে
বাতাস হয়ে আসব কাছে
জড়িয়ে ধরি তোমায় এসে।

তোমার দেহের পরশ পেয়ে
আমার মনে শিউর লাগে
তোমার আমার মিলন ক্ষণে
হাসনুহানার সুবাস জাগে।

আসি যদি কোন দিন ফিরে

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !


আসি যদি কোন দিন ফিরে
সোমনাথ ঘোষ।

আসি যদি কোন দিন ফিরে
অন্য রূপে অন্য কলেবরে
সেই প্রায় শুকিয়ে যাওয়া
নদীটির সাদা বালুর তীরে
চিনিতে কি পারিবে তুমি 
এই অর্বাচীন অধমেরে। 

যে নদীর বালুতটে মোরা
লিখেছিলাম আমাদের নাম

গেয়ে ছিলাম মোরা জীবনের
সুখ দুঃখের প্রেমের গান
বিধাতার নিষ্ঠুর নিদানের তরে
তোমার আর ফেরা হয়নি ঘরে। 

আমি প্রায়শই সেই বালুতটে
একাকী উদাসীন ভাবে বসে বসে
নির্লিপ্ত ভাবে আমার সময় কাটে
কত যে পুরাতন স্মৃতি করি রোমন্থন
এটাই আমার এখন অবলম্বন।

জ্যান্ত লাশ

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

জ্যান্ত লাশ
মোঃ আব্দুল রহমান

শরীরে রক্ত চলে ভালই
নয়নে দৃষ্টি অবিরত
মাঝে মাঝে শ্বাসও চলে ঠিকঠাক।

কেবল অনুভূতির মৃত্যু ঘটে
তার সাথে --- বিবেক, মনুষ্যত্ব, নৈতিকতা
আত্মাকেও যেন ধুকে ধুকে মরতে হচ্ছে।

চেষ্টা চলছে নৃশংসভাবে হত্যা করার
মৃত্যু তবুও ভাল --- একটু শান্তির অথবা তৃপ্তির
জ্যান্ত লাশের খবর কেউ পায় না!

চিরকাল নিখোঁজ হয়ে থাকে নির্জনে মানবতা
একেবারে লোকালয়ের আড়ালে।






মহিষাসুর

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

মহিষাসুর

 কীর্তিময় দাস ( আত্মমগ্ন)

আজকাল মহিষাসুর রাও খুব স্বাভাবিক ভাবে সমাজে মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ায়। তাদের মাথায় সিং থাকে না ঠিকই,, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো মানবিকতা ও থাকে না ।। এরা সমাজে ঘুরে বেড়ায় ভালো মানুষ এর ছদ্মবেশে । এরাও ধর্ষণ এর বিরুদ্ধে "শাস্তি চাই, justice ⚖️ চাই বলে " কাঠ বোর্ড তুলে ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকে ,, আর মিছিল করে শুনশান, নীরবতা, এর মাঝে যদি কোনো একলা পথিক পায় তাহলে এদের বীভৎস,, বর্বর রুপ বাইরে বেরিয়ে আসে ,, এরাই জাস্টিস এর বোর্ড টা কে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে একলা মেয়েটার টুটি চেপে ধরে আর নিজেদের তেষ্টা, খিদা মিটায়। এরাই সেই অসুর যারা ভালো মানুষ এর মুখোশ পরে কলেজ এ যায়,, অফিস এ যায়,, এদের মধ্যে কেউ বা কোনো উচ্চ পদস্ত সরকারি কর্মচারী ও বটে ,, কিন্তু ঐযে বললাম এদের খিদা আর পিপাসা তখনই পায় যখন কোনো মেয়ে কে একলা দেখে ,,,।।
আর এদের তেষ্টা পেলে ভুলে যায় যে মেয়েটার কতো বয়স কিনা কিংবা যে মেয়ে টাও একজন মানুষ তার ও বাঁচার অধিকার আছে ।। তাঁরা তাদের খিদা মেটানোর পর টুটি চেপে ধরে রাখা হাত টা দিয়ে হয়তো বাড়ি গিয়ে নিজের মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আর নিজেই বলে সমাজ টা বাজে দিকে যাচ্ছে ।। ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ। ধিক্কার ওই সব সকোল্ড পাবলিক দের যারা অসুরদের কাছে পন নিয়ে তাদের সমাজে ছেড়ে রেখেছে ।।তাই দেবীর আগমনে এদের বধ করা বেশী জরুরি, যার ফলে ঘরের 
দুর্গারা তাদের দশ হাতের মহিমায় গড়তে পারে সমাজ,, বানাতে পারে ইতিহাস, নাশ করতে পারে অন্ধকার ও এগিয়ে রাখে মানবিক ঐতিহ্য কে আমাদের এই মহান দেশে।।

কি আসে যায় লোকের কথায়

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

কি আসে যায় লোকের কথায় 
 ডাঃ জাফর মোল্লা 


যতই ভালো করে চলো
রাখবে না কেউ মনে।
একটু ভুলে সবাই মিলে 
জ্বলবে তেলে বেগুনে।।

জনায় জনায় সব জায়গায় 
তোমার সমালোচনা করবে।
যার মুখে যা আসে 
সবাই তা বলবে।।

বানানো ঘটনা বলতে ছাড়বে না 
সবাই পথে ঘাটে।
রাখবে না মনে কোনো ক্ষণে 
তোমার ভালোটা মোটে।।

আষাঢ় নামে যেমন ধামে 
হঠাৎ হয় বর্ষন।
কুসংস্কারে মন এমন লোকজন 
তোমাকে দুষবে তেমন।।

একটিও বার করবে না বিচার 
তোমার ভালো দিক।
কেমন লোকজন এ সকল জন
ধিক শত ধিক।।

কারোর কথায় না দিয়ে সায়
নিজের পথে চলো।
কি আসে যায় লোকের কথায় 
কে কি বললো।।


চাষীর পৃথিবী

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !

চাষীর পৃথিবী
স্বপ্না মজুমদার

চাষীর পৃথিবী আর কি হতে পারে
কিছুটা জমি, খান কয়েক বলদ লাঙল হলেই চলে
চাষীর পৃথিবীর সুখ, চাষীই জানে,অসময়ে হওয়া
বৃষ্টি, খুশি আনে, হিসেব চলে মনে মনে
ফসল কতোটা হতে পারে!!

সেই পৃথিবীর উৎপাদনের যথার্থ মূল্যায়ন হয় না
সব সময়,,হতাস চাষীর দুঃখ, চোখের জলের
হিসেব কে রাখে--------

কখনো কখনো ওঠে না চাষের যথাযথ খরচ
চলবে কিভাবে চাষীর সংসার, গরীব চাষীর
গরীবতা ঘোচে না কখনো!
বাজারে পৌঁছোয় সবজি, চাল, ক্রেতা খুশি হয়
নেয্য মূল্যে পেলে------
চাষীর ঘরে উঠলো কি নেয্য মূল্য টুকু?
কে দেখবে, কে বুঝবে চাষীর মনের কথা!!

ওরাই তো প্রকৃত সমাজ বন্ধু
দিনের পর দিন উদয় অস্ত পরিশ্রম করে চলে
রোদ ঝড় জলে চাষের মাঠে থাকে, ওদের কথাও
ভাবতে হবে, বুঝতে হবে --------
আজ, অনেকে এই কাজ ছেড়ে জীবিকার টানে
অন্য কাজে হচ্ছে নিযুক্ত, তাহলে চাষের মাঠের
পরিচর্যা করবে কে!!

চাহিদা নেই বেশি চাষীর মনে, চাষ করেই জীবিকা
তার চলে--------
ঘর পরিবার, জীবন ধারণে
এভাবেই ওরা অভ্যস্থ।।




বৈশাখী সংখ্যা ১৪৩২

সাহিত্যের অঙ্গনে ! বৈশাখী সংখ্যা !


পয়লা বৈশাখ বাঙালীদের জীবনে একটি গুরুত্ব পূর্ণ দিন, ধর্ম-জাতি -বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মেতে ওঠে এক উৎসব মুখর আনন্দে। কৃষি থেকে কৃষ্টি সকল জগতে এক উন্মাদনা বিরাজ করে। গীতিতে ,কবিতায় ও নৃত্যে র মাধ্যমে এছাড়াও বিভিন্ন খেলা ধুলার মাধ্যমে নতুন বর্ষকে বরণ করা হয় । আবার এই বৈশাখ এ নতুন পরিকল্পনা,নতুন স্বপ্ন বোনা হয় পুরো একটি বছরের জন্য। এভাবেই বৈশাখ ফিরে আসে নতুন হয়ে বারে বারে।।।।

নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন