Thursday, July 3, 2025

আষাঢ় সংখ্যা

মুকুর অনলাইন 

আষাঢ় সংখ্যা



Mukur online


অনুগল্প




গল্প




কবিতা 






















ছড়া 



অনেক রাতের প্রশ্ন রহিত ঘোষাল

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


অনেক রাতের প্রশ্ন
রহিত ঘোষাল



কার সাথে হবে প্রেম ?

পথ ছেড়ে উঠে আসি ঘাস মাটিতে ...

পায়ে লেগে যায় জল

কে ধরবে হাত চলন্ত জীবনে ?

কে বসে থাকবে খাবার নিয়ে বেশি রাতে ?

কাঁপা কাঁপা মোমের আলো

ছায়া অবয়ব ফেলে যায় দেয়ালে

ঘুমিয়ে কাদা বেড়ালের স্বপ্ন

উত্তর কলকাতার কোনও গলির ভেতরে

আমার পিঠে এসে লাগবে প্রতিশোধ 


শনির শেষে বি এম মিজানুর রহমান

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



শনির শেষে 
বি এম মিজানুর রহমান 

শনির দশায় পুড়ছে জীবন
মনে বাড়ছে কষ্ট, 
ভাবছো নাকি বন্ধু তোমরা
জীবন তোমার নষ্ট? 

ভ্রষ্ট তুমি হইয়ো না রে
উঠবে কালকে রবি,
শনিবারের পর রবি বার
দেখবে সুখের ছবি।

কবি আমি বলছি তোমায়
মুছো চোখের পানি,
হাসিমুখে রবিবারটা
শুরু করবে জানি।

জেনে রেখো দুখের পরে
রবে তুমি সুখে,
কালকের দিনটা ভালো শুরুর
সাহস রাখবে বুকে।

দুখে পড়ে শনির রাতে
রবি আসবে শেষে,
পারবে তুমি আনতে সময়
কাটবে সুখে হেসে।

তবুও ভেবেছি মোঃ আব্দুল রহমান

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


তবুও ভেবেছি
মোঃ আব্দুল রহমান

নীরবে চেয়ে চেয়ে দেখেছি আকাশ
কতো ছবি আঁকা
বিচিত্র রঙে নির্মিত ঢেউ খেলানো তার সৌন্দর্য
চোখ মেলতেই ধরা পড়ে
কতো মনোহর দৃশ্য - অদৃশ্য লুকিয়ে
রহস্যে মোড়ানো
চমৎকার ওই সাদা সাদা মেঘের ভেলা
গাছগুলোর মাথায় ভেসে চলেছে
রামধনুটাও পথ করে দিল আবারও ওঠার
শ্রাবনের ধারা শেষে
সাঁঝের আকাশ চাঁদের জোছনা মাখে
তারারা দেয় উঁকি
নিশীথে জোনাকির আলোয় ঢেউ তোলে ঝিঁঝির সুর
রহস্য আর রহস্যে মোড়ানো আকাশ
তবুও ভেবেছি এবং ভেবেই চলেছি, একবার
কেবল একবার যদি ছুঁয়ে যেত
এই বুক চেরা হৃদয়টাকে একফালি চাঁদ
হয়তো কিছুটা কলঙ্ক মিশে যেত
আত্মতৃপ্তিতে তবুও নতুন ঘর বাধতাম নতুন সখার মনে
আবারও একটা নতুন জীবন শুরু হতো...

তুমি নেই লালন চাঁদ

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


তুমি নেই 
লালন চাঁদ

এখন দেখলেই বোঝা যায় 
তুমি কতোখানি পাল্টে গেছো 
একদিন তোমার প্রতিটি নখের স্পর্শ ছিলো 
আমার অনুভূতিতে 

একদিন সূর্য হয়ে ভেসে উঠেছিলে 
আমার হৃদয়ে 
আজ সেই সূর্য নেই 
সূর্য ডুবে গেছে কোনো এক অজানা দিগন্তে 

আজও মনে হয় 
তুমি আমি হাঁটছি পাশাপাশি 
আমার একটি হাত তোমার হাতে 
যেনো তুমি আছো অথচ তুমি পাশে নেই 

সে শব দেবাশীষ সরখেল

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


সে শব
দেবাশীষ সরখেল

গণতন্ত্রের উৎসব শুরু
এ সময় ছোট ছোট সামন্তের সিংহাসন টলে ।
গণতন্ত্রের মিহিন বাতাসে
 হিরণ্য অঙ্গুলি কাজ সারে চুপিসারে ।
পল্লবচ্যুত কত ফল
                 ফলাফল
                  উৎসবের হাওয়ায় কত শত নিশান
                             উড়তে থাকে সুপবনে ।

কার মনে কী ছিল কে বা জানে
কে কোন দিকে ফিরে যায় কেবা জানে
কার আহ্বানে দেশ এত সাবালক
 কেই বা তা জানে ।

তোমরা অবশ্য জানো , সে সব
ভাষণ শুনতে থাকে সারি সারি শব
       তোমরা বলছ না
                                সে শব ।

এই জীবন-একটা দারুণ উপহার সুবীর কুমার ঘোষ

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


এই জীবন-একটা দারুণ উপহার
সুবীর কুমার ঘোষ 

আমি আলো খুঁজে পাই প্রতিটি সকালের ভেতর,
পাখির ডাকে মনে হয়, আজ নতুন কিছু ঘটবে।
গাছের পাতায় রোদ নাচে-সেই তো জীবনের ছন্দ,
আমি হাঁটি, পেছনে নয়- সবসময় সামনে।

বন্ধুর হাসি দেখলেই জন্মায় বিশ্বাস, 
চেনা শহরের প্রতিটি রাস্তায় থাকে অজানা সম্ভাবনা,
চোখে চোখ রাখলে মানুষ হয়ে ওঠে আকাশ,
ভালোবাসা আসলে কখনো কমে না, 
শুধু রূপ বদলায়।

আমি দেখি-ছোট ছোট খুশি জমে পাহাড় হয়,
নরম বাতাস বলে, “তুই ঠিকই করছিস, এগিয়ে যা!”
যে কোনো শুরুই একেকটা বিস্ময়,
সময় সবসময় নতুন সুযোগের নাম।

সব ভালোবাসা ফুরায় না- রূপান্তর হয়,
স্বপ্নরা ঘুমোয় না, তারা জেগে থাকে হৃদয়ে।
ভবিষ্যত মানেই নতুন গল্পের প্রতিশ্রুতি,
আমি বিশ্বাস করি, 
এই জীবন-একটা দারুণ উপহার।

আমাকে দেখনি তুমি দেব মাইতি

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



আমাকে দেখনি তুমি
দেব মাইতি 

আমাকে দেখনি তুমি নৌকা বাধা জেলেদের ঘাটে নৌকায় আনমনা উদাস বসে থাকতে
আমাকে দেখনি তুমি শশ্য ভরা ফসলের মাঠে আলপথে শুয়ে থাকতে
আমাকে দেখনি তুমি সবুজ সমারহ গ্রামের রাস্তা দিয়ে পাগলপারা চলে যেতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি বাজ খাওয়া তাল গাছে উঠে টিয়া পাখির বাচ্চা ধরে আনতে
আমাকে দেখনি তুমি কখনো গ্রামের পাঁচাল যাত্রায় সামনে বসে বাঁশিওয়ালার সাথে কথা বলতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি ভোরের বেলা এপাড়া সেপাড়া ঘুরে, ফুল তুলতে
কিংবা ধরো, বেশ কিছু কচিকাঁচার ঘিরে শিলেটে আঙুল দিয়ে শিখিয়ে দিচ্ছি
 অ আ ই ঈ
কিংবা ধরো উদাত্ত কণ্ঠে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে গাইছি কোন প্রিয় গান
কিংবা ধরো খালে বিলে মাছ ধরে বেড়াচ্ছি একদম কাদামাখা বেহুশ
আমাকে কখনো দেখনি তুমি মিষ্টির দোকানে আরো দুটো জিলিপি সিঙাড়া কিনে খাওয়াচ্ছি পাগলটাকেও
ধান উঠে যাওয়া মাঠে ছোটদের সাথে ঘুরি ওড়াচ্ছি
অথবা ধরো ধান কুড়াতে ছোটদের সাথে কিংবা কোদাল দিয়ে ইঁদুরের গর্ত থেকে বার করছি ধান

আমাকে কখনো দেখনি তুমি হুড়োহুড়ি করে মহোৎসবের দিন বাতাসে কুড়তে কিংবা বকুলতলায়
আমাকে কখনো দেখনি তোমায় মন উজাড় করে চিঠি লিখতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি রাত আকাশের দিকে চেয়ে বসে থাকতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি রং তুলি নিয়ে দিন রাত বিভোর ছবি আঁকতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি সাধু ফকিরদের আড্ডায় দুহাত তুলে গান নাচতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি কয়েকটা সবুজ লাউ ডগ লাউ চিচিঙা নিয়ে নদীর ধারে বাজারে হাটের দিন বসে থাকতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি হঠাৎ সাইকেল থেকে নেমে ঝিল থেকে লাল কিংবা সাদা শালুক ফুল তুলে বাড়ি ফিরতে
আমাকে কখনো দেখনি তুমি জেলে নৌকায় মাছ ধরতে গিয়ে নদী চড়ায় আনন্দ হুল্লোড় স্নান করতে
আমাকে কখনো তুমি হলুদ ঝিঙা ফুল কিংবা সর্ষের খেতে কাকতাড়ুয়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে

আমার কিছুটা গেছে মেঘেতে উড়ে কিছুটা প্লাবনে ভেসে
যেটুকু আছে তুলসী তলায় প্রদীপ জ্যোৎনা পড়ে তোমার মুখে


 

শর্ত ছাড়া থেকো জাফর মোল্লা

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



শর্ত ছাড়া থেকো
জাফর মোল্লা 


তোমার সাথে তৈরি হলো যে সম্পর্ক
তাতে যেনো না থাকে কোনো শর্ত।
তুমি ভালো থাকবে, সুখে থাকবে 
এই চাওয়াটা যদি অন্যায় হয়
আমি করতে চাইব না তর্ক।
তবু বলবো থেকো যেও রেখোনা শর্ত।।
ভালোবাসি বলতে হবে মুখে?
অনুভবে , উপলব্ধি তে পাই তোমাকে।
আসতে হবে না কাছে 
শুধু কল্পনার আকাশে, স্বপ্নের বাসরে,পেতে চাই তোমাকে।
তবু বলবো শর্ত দিওনা যেও থেকে।।
দীর্ঘ নয় এ জীবন 
জানি না কখন কে হবে আপন।।
ভালোবাসার শহরে অভাব নেই ভালোবাসার,,
যদিও খুব বেশি মানুষ নেই দরকার 
শুধু একজন ই চাই আমার 
তাই বলবো, শর্ত না দিয়ে তোমার থাকা দরকার।।
তোমাকে রূপায়ণ করেছি মনের কোণে।
কারো স্থান নেই তো আর সেখানে।
শুধু ভিড় করে অভিমান, অভিযোগ,
রাগ আর অপেক্ষা।
যদিও প্রয়োজন নেই তা থাকার।
তবু আসে তো সংগোপনে 
তাই বলবো, শর্ত নয় থেকে যাও মোর জীবনে।।


উপকথা শোভন মণ্ডল

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


উপকথা
শোভন মণ্ডল


এক ঝড়ে ভেঙে যায় সোনার মুকুট
আঙুলে ক্ষত জাগে
পুরনো উপকথা থেমে যায়, ছড়িয়ে পড়ে মালা আর পুঁতি
এ সবই কালের দাগ, শতরঞ্জ-চাল
সর্বত্র প্রলেপ থাকে
নিদারুণ অভিঘাত
শেষ হয় জলছবি, নীল হরমোন
খুলে রাখি সব উত্তাপ
অস্ত্র আর বর্ম

কোনো এক রাতে তপন ঘোষ

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



কোনো এক রাতে
তপন  ঘোষ

যাবো চাঁদের পাহাড়ে 
যাবে সাথে 
ফিরে আসবো কলঙ্ক মেখে।
যাবো অরণ্যের গভীরে 
কোনো এক শব্দহীন বৃক্ষের প্রেমে, 
মাতাবো তোমায় বাদামী ঘ্রাণে 
যাবে তুমি, 
হারাবো যা আছে তোমার আমার।
নীলাভ এক সমুদ্রের হাওয়ায় ভেসে
মিশে রবো সমুদ্র পাখী হয়ে
পাখিদের সাথে,
ফিরবো কি ফিরবো না, জানি না
যাবে তুমি। 
যাবো জোনাকির স্রোতে
জোছনার যৌবনে 
ফাগুনের প্রথম পূর্ণিমায়
নির্ভার এক রাতে
মেঘমালা হয়ে
মেঘ বালিকায়, 
যাবে তুমি 
যাবে তো।

ইচ্ছে সোমনাথ ঘোষ

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


ইচ্ছে 
সোমনাথ ঘোষ

ইচ্ছে করে আবার যাই ফিরে 
কৈশোর থেকে যৌবনের সন্ধিক্ষণে 
মনের মাঝারে কতশত রঙ্গিন স্বপ্ন 
জেগে উঠুক প্রতিনিয়ত ক্ষনে ক্ষনে।

ইচ্ছে আমার আবার না হয় আঁকি
মনের ক্যানভাসে কল্পনার জাল বুনি
নিত্যনতুন রঙ্গিন স্বপ্ন আছে যতো
প্রেয়সীর যা কিছু তার মনের মতো।

ইচ্ছে করে আবার প্রেয়সীর আলীঙ্গন
পুষ্প দলের ন্যায় উষ্ণ ওষ্ঠের চুম্বন 
দুজনে মিলে একসাথে হাতে হাত ধরি
লক্ষবিহীন আসমুদ্র হিমাচল ছুটে চলি।

যুদ্ধ বুঝে অস্ত্র বিক্রেতার জিভ রানা জামান

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



যুদ্ধ বুঝে অস্ত্র বিক্রেতার জিভ

রানা জামান



যুদ্ধ কেনো বুঝে অস্ত্র বিক্রেতার তেজারতি বুদ্ধি 

সর্পিল স্বভাবে জলে অন্তরীক্ষে স্থলে

লাশের সংখ্যার জ্যামিতিক বৃদ্ধি অস্ত্রের ক্ষমতা

প্রদর্শনে দেখায় কারিশমা অহর্নিশ

মিসাইল হোক ব্যালিস্টিক কিংবা স্কাড 

ড্রোনে সওয়ার হয়ে ধ্বংসযজ্ঞ শূয়রের খেলা


আয়রন ডোম উড়ানোয় খর্চা পেটের নাড়ীতে

ক্ষত সৃষ্টি করে সক্ষমতা বৃদ্ধি করে কার?

তুড়িতে সিজ্জিল কিংবা হোভেইজ মিসাইল 

মারণাস্ত্র হয়ে কাঁপায় ইজরেল 

হায়দার অথবা খাইবার মিসাইল অপ্রতিরোধ্য হয়ে

মুসলিম বিশ্বে ফুটায় খুশির বাজিপটকা


আমেরিকা বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা কিংবা 

টমাহক মিসাইল মেরে তৃপ্তির কুইনাইন গিলে

আত্মতৃপ্তির ঘুণপোকা ঢুকায় মগজে

ঘাতন বিক্রির সাথে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে 

বাহবা কুড়ায় টেবিলের নিচে অর্থ নিয়ে

অস্ত্র বিক্রেতারা নিঃস্বার্থে করে না কোনো কাজ

লাভের চা-পাতা তুলে তাজা তাজা


কবরের সংখ্যা বৃদ্ধির পৌনপুনিকতা, তা শিশুর 

কিংবা অশীতিপর বৃদ্ধের, তাতে জেদ

বাড়ে প্রতিপক্ষ নিধনে যে কোনো মূল্যে

মূল্য দিয়ে যায় আমজনতা সাধের বাড়িটা

ধ্বংস হতে দিয়ে, জীবন তো যেতেই থাকে 

শিল ও পাটার ঘষাঘষি গুঁড়ো করে মরিচের দেহ


ক্ষেত্রফল রবিন বিশ্বাস

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


ক্ষেত্রফল 
রবিন বিশ্বাস



সমগ্ৰ জীবনের ক্ষেত্রফল জুড়ে রয়ে গেছে শূন্যতা । খরস্রোতা নদী এখন শান্ত; নির্ভিক অদম্য ইচ্ছের অধীন। নোনা উপকূল জুড়ে ছড়িয়ে আছে অবসাদ, বিন্দু বিন্দু অশ্রু- জলীয় বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে আকাশে বৃত্ত পথে। অদৃশ্য বাতাসের ভেতর যদি একবার ডুবে যেতে পার- তুমিও বুঝতে পারবে জলের অদৃশ্য পরিণতি, যা সতত আমরা মনে রাখি না , আবার মেনে নিতেও পারিনা। দিন দিন শূন্যের উপর দিয়ে আরও উপরে উঠে যাচ্ছি মাথার ভেতর শুধু খেলা করে বেড়াচ্ছে গভীর গাঢ় কিছু ওষুধের ঘ্রাণ ।আমার সমগ্ৰ উপকূল জুড়ে ছড়িয়ে আছে রঙবেরঙের ঘুমের ওষুধ - যার মধ্যে সর্বক্ষণ ভালবাসা খেলা করে।

কথাগুলো তীর্থঙ্কর সুমিত

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


কথাগুলো 
তীর্থঙ্কর সুমিত


কথাগুলো...
ভালো থাকার অভ্যেস
সব বদলে বদলে এখন
নতুন হয়ে উঠেছে নদীপাড়
কত না জানা ব্যর্থতা খুঁটে খায় চড়ুইয়ের দল
অনন্ত বিকেলে আঁকা
শকুন্তলার চোখ ভেজানো এক ছবি
যে ছবি
জল ছুঁয়ে, মাঠ ছুঁয়ে
দূর দিগন্তে ___

আজ বৃষ্টির প্রয়োজন ।।

বর্ষা কালের ছবি শঙ্কর কুমার চক্রবর্তী

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


বর্ষা কালের ছবি
শঙ্কর কুমার চক্রবর্তী

কদম ফুলের গন্ধ আসে
ছাতার চলছে মিছিল,
পথ ঘাট সব কর্দমাক্ত
চলার পথ খুব পিছিল।

কার বাড়িতে ইলিশ ভাজছে
হালকা আসে গন্ধ,
জল ছিটিয়ে বাস চলে যায়
জানলা গুলো বন্ধ।

তুমুল জোরে বৃষ্টি হচ্ছে
রিকশা নেই তো কাছে,
রোগা লোকের ঢুকবো ছাতায়
চোখ তাকিয়ে আছে।

বর্ষাতে তুই ডাকিস কেন
ও বসন্তের কোকিল,
মামলা ঠুকবে আসছে দাঁড়া
মস্ত বড়ো উকিল।

এই তো জীবন অর্পিতা সাহা

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



 এই তো জীবন 
 অর্পিতা সাহা


কথার পিঠে কথা সাজিয়ে গল্প বলা যায় 
অভিমানে ডুবে থাকা মন আদুরে স্পর্শ পেতে চায়,
নদী যেমন সাগরে মিশে পূর্ণতা পায়__

চোরাবালিতে পা ডুবিয়ে ভালোবাসা খুঁজে মরছ
তলিয়ে যেতে পারো যে কোনও মুহূর্তে__ 
মনের মধ্যে শব্দের পাহাড় জমছে 
তবু তুমি মৌন থাকবে; 

তবে থাক সব না বলা কথারা__ 
জীবনের গল্পগুলো তো অধরাই থাকে, 

আমার অবহেলা রঞ্জিনী

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


আমার অবহেলা 
রঞ্জিনী 


আকাশে কালবৈশাখী ঝড় উঠেছে। ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে আকাশ। ঘনঘন বিদুৎ চমকাছে আকাশে। মেঘ ঝড় বিদ্যুৎ দেখে পালিয়ে যাওয়া মেয়েটি দাঁড়িয়ে থাকে খোলা বারান্দায়। দমকা ঝড়ে স্বাধীন ভাবে উড়তে থাকে তার আঁচল। খোলা চুলে জট পেকে যায় বারংবার এলোমেলো হয়ে। চোখের কাজল ঘেঁটে লেপটে থাকে চোখের তলায় কালি হয়ে। কিন্তু কোনো খেয়াল নেই মেয়ের। ঘন কালো মেঘ মেয়েটির ঘন কাজলে ভয় পেয়ে জিজ্ঞাসা করে বসে... 
—ও মেয়ে লেপটে গেছে কাজল। এ যে খুব ঘন! 
—এটা কাজল নয়। আমার প্রতি করা তোমার অবহেলা। 
—আমার অবহেলা! 
—বন্ধ দরজায় যেদিন বারংবার আছড়ে পড়েছিলাম কান্নায় সেদিন তোমার দেখা চেয়ে ছিলাম। পাছে কেউ শুনে নেই আমার কান্নার শব্দ। কিন্তু তুমি আসনি। প্রেমিকে আটকে রাখার জন্য যখন অনুনয় করেছিলাম তোমায়, তখনও ঝড়ে পড়োনি। আগুন লেগেছিল যখন আমার মনে তার অবহেলায়, ভিজতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু তখনও অবহেলা করে দূরে ঢেলে দিয়েছিলে আমায়। আমি কি এতোটাই গুরুত্বহীন মানুষ। 
—পাগলি মেয়ে বটে তুমি...বসন্তে কালবৈশাখী আসে বুঝি! আমায় চাইলে অথচ আমার সময়কে ভুলে গেলে হয়। আর এতোটা অযত্নে থেকো না। প্রত্যেক কালবৈশাখীর পর ওলট পালট হয়ে যাওয়া প্রকৃতি বুঝতে পারে তাদের আসল দক্ষতা। 
—দক্ষতা! 
—আম ঝড়ের দাপটেও জড়িয়ে থাকে তার কুটির। কারন সে ভরসা ও বিশ্বাসযোগ্যতার মানে বোঝে। আবার আমার দাপটে জাম পড়ে গিয়ে বুঝিয়ে দেয় এতোটাও সহজলভ্য না হতে। তাই কালবৈশাখী আসলে মন খারাপ নয় উপভোগ করো। 

অন্তরের আলেখ্য তাপসী আচার্য

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


অন্তরের আলেখ্য
তাপসী আচার্য

আলোকের ঝঙ্কার বেজে ওঠে অন্ধকারে,
প্রতিটি প্রহরে ঝরঝরে স্বপ্নের ঝরনা।
অজানার আকাশে উড়ে যায় মন,
অতৃপ্তি আর আকাঙ্ক্ষার মিলনমেলা।
জীবনের পাথেয় যেন এক অমূল্য পদ্ম,
অপূর্ব স্নিগ্ধতা লুকানো প্রকৃতির গোপন গহ্বরে।
চিন্তার পাখি উড়ে উঁচু শিখরে,
অজস্র প্রশ্নের রঙিন পালক নিয়ে।
অস্তিত্বের দীপ জ্বলে অনন্তে,
অবিরাম খুঁজে চলে সত্যের আভাস।
বৈচিত্র্যের ভেতর নিহিত সামঞ্জস্য,
প্রতিটি ছন্দে মিলেমিশে থাকে বাসা।
অন্তরঙ্গতার এই সুরে বাঁধা জীবন,
অভিজাত আলোকের কাব্য রচনা করে।
অজানার পথে হাঁটতে থাকি নিরন্তর,
স্মৃতির গানে ভাসে অমোঘ মেঘের ছায়া।

পঁচিশ হাজার সাত শো বাহান্ন মধুসূদন দরিপা

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



পঁচিশ হাজার সাত শো বাহান্ন 

মধুসূদন দরিপা




আমাদের বসতবাড়ির কাছেই

মস্ত একটা সরোবর ছিল

সমুদ্রের মতো নীল জল টলটল করতো সেখানে

পদ্ম আর পদ্মপাতা মিলে ছিল

আশ্চর্য এক মায়ার জগত

পাখিরা বসে বসে স্বপ্ন বুনে যেত 

উলের কাঁটার মতো

মাছেরা টুপ টুপ করে গিলে নিত

সেইসব নব নব জন্মের বীজ

তাদের পাখনায় শরীরে অলৌকিক রোদ

চুমু খেতে ভেসে উঠত মৎসকন্যারা

সরোবরের তীরে গাছ ছিল অনেক 

বিচিত্রবর্ণ বিচিত্রগন্ধ ফুল পাতা 

ছিল তাদের অলংকার

এমন একটি পারিজাত উদ্যান অমরাবতীর কাছে 

স্বভাবজ কারণে ছুটে আসতো সমুদ্রের বাতাস 


সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল ঘড়ির কাঁটার মতো

সাজানো বিয়ের কনেটির মতো অথবা 

নিত্যপুজো পাওয়া স্থবির বিগ্রহের মতো 

গোল বাধল সেখানে তথাকথিত 

কিছু অবতারের অনুপ্রবেশে 

যারা এসেই শুরু করলো 

সরোবরের জল শোষণ করতে 

তারপর যথারীতি একদিন

সরোবরের জল গেল শুকিয়ে 

পড়ে রইলো শুধু এক বর্জ্য জমি আর তার গর্ভে শুকিয়ে যাওয়া ফুল পাতা গাছ

মৃত পাখি আর মাছগুলি সব 

রাজার পেয়াদা এসে অবতারদের

খাঁচাবন্দী করলো ঠিকই

কিন্তু মায়ার জগতে আর ওঠে না অলৌকিক রোদ

পাখিরা উড়ে এসে বোনে না নব নব স্বপ্নের বীজ


শুধু সমুদ্রের হাওয়া ছুটে আসে এখনও 

প্রশ্ন করে আকাশের কাছে 

বৃষ্টির জল আসবে কবে ? কবে?


উভচর হওয়ার তাগিদ নীলম সামন্ত

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা


উভচর হওয়ার তাগিদ
নীলম সামন্ত 

তোমার চোখের নিচে দমকে দমকে বেড়ে ওঠা 
উভচর বাসস্থান ছেড়ে যারা আলোআঁধারি খুঁজে নেয় 
তাদের মধ্যে বেমানান কিছু নেই 

তবুও তরতাজা গাছে বেমানান শুকনো পাতা,
পরিত্যক্ত পাখির বাসা ইত্যাদি থেকেই যায় 

এর চেয়ে বৃষ্টি আসুক
ফুটিফাটা নক্ষত্রপুঞ্জ হুড়মুড়িয়ে আসবে 
সাথে যারা ডুবে ডুবে আলো গিলেছে 
তাদের চোখ জিভ দেখে 
আমরা কেউই টিটকিরি দেব না। 

বরং নতুন করে গান বাঁধব—
ম্যান্ডোলিন বাজিয়ে মৃত কথাদের জাগিয়ে তুলব। 

মৃত্যুর পরেও জন্ম হয়,
ঠিক যেভাবে গতকাল কিংবা বিচ্ছিন্ন অতীত 
হঠাৎ হঠাৎই মাথায় ঝনঝন করে 
আমরাও মরিয়া হয়ে উঠি আরও একবার
বারবার উভচর হওয়ার তাগিদে।

কুলকুণ্ডলিনীর কথা বলি না কৌশিক চক্রবর্ত্তী

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা

কুলকুণ্ডলিনীর কথা বলি না
কৌশিক চক্রবর্ত্তী

অসংখ্য কুলকুণ্ডলিনীর গভীরে সংবেদনশীল গুহা
তোমার বাসস্থান নির্বাচনে আমি সাহসী বরাবর
পথে ছড়িয়ে দেওয়া একাঙ্ক নাটকে অভিনেতা হব ভেবে
প্রথম পা ফেলেছি প্রকাশ্য দরজায়

গেরিলা যুদ্ধে প্রাণ দিইনি শেষ শনিবার
কোনোমতে আঙুলগুলোর ছবি এঁকেছি তোমার ঘরের দেয়ালে
পরিচয়পর্বের দিন মনে পড়ে
চোখের সামনে তখন শ্রেণীবদ্ধ প্রজনন

সমস্ত ক্রিয়ার এক সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান
ক্ষণজন্মা রাতের ওজন যতবার মেপেছি
ল্যাম্পপোস্ট ফিরিয়ে দিয়েছে তোমার ফেলে যাওয়া খোলস
এটাই প্রতিক্রিয়া ভেবে সেল্ফি তুলেছি ইচ্ছেমতো
চৌকাঠে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিক্রিয়াশীল রোদ্দুর।

তুমি কাছে আসার কথা বলোনি
নির্দিষ্ট সময়ে বুনে দাওনি ধর্মগ্রন্থের মলাট
শেষ যখন জানতে চাইলাম ঘনিষ্ঠতার কথা
তুমি বললে স্পটলাইট সরিয়ে নিতে-

তুমি জানো
অন্ধকারে আমি কুলকুণ্ডলিনীর কথা বলি না। 

গ্রামবাংলার শিল্প উদয় নারায়ণ বাগ

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



গ্রামবাংলার শিল্প 
উদয় নারায়ণ বাগ 

দিন গেছে চলে কত কথা বলে 
রয়ে যায় তার চিহ্ন, 
যন্ত্রের চাপে আধুনিক যুগ 
হয়েছে আজকে ভিন্ন। 

হস্তশিল্প লুপ্তের পথে
হারিয়েছে গ্রাম কর্ম,
হাতে গড়া টোকা ঝাঁটা ঝুড়ি কুলো
বোঝে না কেউ তো মর্ম।

টুংটাং ধ্বনি কামারের দোরে 
হয়েছে সকল বন্ধ, 
কুমোরের হাঁড়ি চাহিদার তরে 
বাজার আজকে মন্দ। 

নারীরা করতো নকশির কাঁথা 
মন-মাধুরিতে তৈরী। 
আধুনিক যুগে স্পঞ্জের গদি 
হয়েছে কাঁথার বৈরী। 

ধোঁয়া উড়া কল সমাজের বুকে 
এনেছে সুখের পরশ,
কীভাবেতে তবে ওই শিল্পীর
মুখেতে রইবে হরষ।

নিজ পেশা ছেড়ে শিল্পীরা ছুটে
মনে নিয়ে ভাঙা দ্বন্দ্ব। 
লেগেছে তাদের ক্লান্ত হৃদয়ে 
আধুনিকতার গন্ধ। 

হিমঘরে রাখা গ্রাম্য শিল্প 
শিল্পীর যত সৃষ্টি, 
ইতিহাস পাতে ছবি হয়ে আজ
গ্রামবাংলার কৃষ্টি।।

অদৃষ্ট প্রসেনজিৎ বিশ্বাস

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা




অদৃষ্ট
প্রসেনজিৎ বিশ্বাস

হু হু করে ঢুকে পড়ছে বিষবাষ্প,
সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা,
না, আর মুক্তি নেই এই শেষ থেকে,
মৃতের স্তূপে ইতিউতি উড়ছে শকুনের দল,
পচে, গলে, খসে পড়ছে মন ও প্রাণ।

ধূসর বিকেল আবছায়া এঁকে দেয় চোখেমুখে,
দুর্ভিক্ষের সাইরেন স্তব্ধ করে দেয় কিছু বোবা উল্লাস,
অপরকে বাঁকা চোখে দেখা সন্দিহান চোখ,
প্রত্যক্ষ করে চলে এক জান্তব বিভীষিকা।

সময়ের অদৃষ্টে চলতে চলতে-
মানুষ নয়, প্রকৃতিই হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রণকর্তা...
এক অপার হুজুগে মেতে উঠে মৃত্যুরা
দখল করে নিতে চায় আমার প্রাচীন শহরকে,
আর মানুষ পড়ে থাকে সেই মহাকালের অতলে।।

আত্মিক যোগ সমীর কুমার দত্ত

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা

আত্মিক যোগ 
সমীর কুমার দত্ত 
                  

একরত্তি ছেলেটা নামে দুষ্টু কাজেও দুষ্টু। বাবা মা'র সাত রাজার ধন এক মানিক। মরা হাজা ছেলে। সবে ধন নীলমণি। আবার দুষ্টুমিতে সকলকে অতিষ্ঠ করে তোলে।যখন তখন বাবা- মায়ের কাছে মার‌ও খায় । আর অমনি নিরাপদ আশ্রয়ে দাদু -ঠাকুমার কাছে দৌড়ে যায়। তবে হলে কি হবে বুদ্ধি ধরে খুব। ঠাম্মা - দাদুর সঙ্গে থেকে হয়েছে চালাক চতুর। দাদু সবসময় বুদ্ধিদীপ্ত গল্প বলে বলে ওকে অনেক চালাক করে দিয়েছেন। দাদু ছেলে বৌমাদের কাছে প্রায়শই বলেন, " ও আমার বাবা এসেছে। ভাব ভঙ্গি, চলন বলন , কথা বলার ধরণ সব আমার বাবার মতো।" আগে শুতো বাবা মায়ের মাঝে।এখন তার শোবার জায়গা হলো বদল। এখন সে শোয় ঠাকুর দাদা ও ঠাকুমায়ের মাঝে। অনেক দিন সে বাবা মায়ের কাছছাড়া। এখন তার জগৎ শুধু ঠাকুর দাদা আর ঠাকুমায়ের ছত্রছায়া। দাদুর সঙ্গে পার্কে যাওয়া , দাদুর সঙ্গে স্কুলে যাওয়া, সবেতেই দাদু। "গত জন্মে ছেলের ওপর জোর খাটাতে পারেনি বলে, এ জন্মে নাতি হয়ে এসে উসুল করে নিতে চায়।"— দাদু মাঝে মাঝেই এই কথা বলে থাকেন।একদিন সে লিখলো চিঠি ঘুমের ঘোরে বাবা মাকে।

"বাবা -মা, তোমরা কেমন আছো? তোমাদের অনেক দিন দেখিনি। আমার মন কেমন করছে তোমাদের দেখতে না পেয়ে। তোমরা সেই যে চলে গেলে , আমি তখন ঘুমচ্ছিলাম, আর এলেই না। আমি দুষ্টুমি করি বলে চলে গেলে? আমি সেই থেকে আর দুষ্টুমি করি না। সত্যি বলছি। তোমরা চলে যাবার পর দাদু, ঠাম্মি, কাকা মণি, কাকীমণি কি কন্নাই না কাঁদছিলো! আমি জিজ্ঞেস করেছি কতো বার—তোমরা কাঁদছো কেন? ওরা কোন উত্তর দিচ্ছে না। ঠাকুমা তো খুব কাঁদছে। যতো বলছি — কেঁদে না। কাঁদলে আমার ভালো লাগেনা। তবুও শুনছে না।

আমার এখানে আর ভালো লাগে না, তোমাদের দেখতে না পেয়ে। তোমরা এসে আমায় নিয়ে যাও। জানো তো কাল রাত্রে একটা স্বপ্ন দেখেছি। তোমরা একটা গাড়ি করে কোথায় যেন চলেছো। কোথায়? তা আমি বলতে পারবো না। হঠাৎ একটা গাড়ি এসে তোমাদের গাড়িটাকে খুব জোরে ধাক্কা মারলো। দুটো গাড়ি দুমড়ে মুচড়ে গেলো। আর কিছু মনে নেই। তারপর আমার ঘুমটা ভেঙে গেলো। চোখ খুলে দেখি আমি বিছানায় শুয়ে আছি। আমার পাশে কেউ নেই। সকলের কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। আমার ছুটি পড়লে তোমাদের কাছে যাবো। আমি আর দুষ্টুমি করি না। সত্যি বলছি। তোমরা ভালো থেকো।কেমন?
            —ইতি
        তোমাদের দুষ্টু "
  
দুষ্টুর এই স্বপ্ন দেখার আগেই বাড়ির মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ এমন কিছু ঘটনা ঘটে চলছিলো যা স্বাভাবিক ছিলো না। হঠাৎ হঠাৎ শব্দ হ‌ওয়া, যার স্বাভাবিক কোন কারণ ছিলো না। দুষ্টু ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়তো। প্রায় দিনই স্কুল কামাই হতো। হঠাৎ হঠাৎ চোট লাগতো। বাড়ির লোকেরা এ সবের কারণ জানতো। সবচেয়ে বড়ো কথা বাবা মা'র দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর কথা কোনদিন তাকে জানানো হয় নি। তার অজ্ঞাত থাকলেও মৃত্যুর ঠিক অব্যবহিত পূর্বেই সে স্বপ্নে দেখে নিয়েছে।

হঠাৎই ঠাম্মির গলা শোনা গেলো, "দুষ্টু উঠে পড়ো। ছটা বাজে।স্কুল যেতে হবে। স্কুলের নাম শুনলে দুষ্টু তাড়াতাড়ি উঠে পড়ে প্রস্তুত হয়ে যায়। কারণ স্কুলে গেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পাবে , ঘরে তো ওর সমবয়সী কেউ নেই। ওই দাদুকে খেলতে হয়। পার্কে খেলতে গেলে দাদু, এসে সন্ধ্যে হলে দাদুর কাছে হোম ওয়ার্ক করা, সব‌ই দাদু। দাদুময় জীবন। স্কুলের জন্য রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ে। দুষ্টু সামনে আর দাদু ব‌ইয়ের ব্যাগ বহে নিয়ে পিছনে পিছনে যেতে থাকেন। মুহূর্তের মধ্যে রাস্তায় পা দেবার সঙ্গে সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটা মাল বোঝাই লরি ব্রেক ফেল করেই হোক,আর ভুলক্রমে অ্যাক্সিলেটরে পা পড়ে যাওয়ার জন্যেই হোক লরিটা দুষ্টুকে ও ওর দাদুকে নিয়ে একটা দেওয়ালে পিষে দিলো মুহূর্তের মধ্যে।এতো চকিতে ঘটনাটা ঘটে গেলো যে কিছু করার সুযোগ‌ই পেলেন না দাদু নিজেকে ও নাতিকে বাঁচাতে। দু দুটো প্রাণ চলে গেলো কতো সহজে।

দু দুটো মৃত্যু কতো অনিবার্য ছিলো। ছেলে বৌয়ের মৃত্যু যেমন আচম্বিতে ঘটে গেছে, আর তাদের অতৃপ্ত আত্মা তাদের সন্তানকে টেনে নিতে চেয়েছে। কিন্তু সন্তান তো একা একা যাবে না। দাদুর সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক। সুতরাং সে দাদুকে না নিয়ে যাবে না। ছেলে বৌ এর নিয়তি ছিলো এক‌ই স্থানে,এক‌ই সময়ে মৃত্যু বরণ করা তেমনি দাদু নাতির নিয়তিও তাই ছিলো। কেউ কাকেও ভালোবাসলেই শুধু হয় না। আত্মিক সম্পর্ক থাকা চাই। আত্মার সঙ্গে আত্মার যোগ না হলে এমনটি ঘটে না। বাবা মা'র অতৃপ্ত আত্মা প্রিয় ছেলের আত্মাকে টানতে চেয়েছে। ছেলের আত্মা তার ধ্যান জ্ঞান দাদুর আত্মাকে না নিয়ে যাবে না।

ছিনতাই সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা

ছিনতাই
সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায় 


ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে।রাস্তায় কোন লোকজন নেই।এক বৃদ্ধ ছাতা মাথায় দিয়ে পাড়ার গলির দিয়ে চলেছেন কোথাও।বয়সের ভারে শরীর সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। হঠাৎ উল্টো দিক থেকে একটি যুবক আসছিলো,সে করলো কি বৃদ্ধের হাত থেকে ছাতাটা জোর করে ছিনিয়ে নিলো।হয়তো ভেবেছে বৃদ্ধ মানুষ কিছু তো করতে পারবে না আর বৃষ্টি থামার কোন নাম নেই।তাই ছাতার একটা খুব দরকার ছিলো তার।

ছাতা ছিনতাই হওয়ার পর বৃদ্ধের মধ্যে কিন্ত তেমন কোন প্রতিক্রিয়া চোখে পড়লো না।তিনি চিৎকার চেঁচামেচি কিছুই করলেন না।উল্টে ফোকলা দাঁতে হাসি হাসি মুখ করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঠায় ভিজতে লাগলেন।উপরন্তু ছেলেটির উদ্দেশ্যে শোনা গেলো বলছেন-যা বাবা,ছাতা নিবি বলবি তো,আমি এমনিতেই দিয়ে দিতাম।অতো টানাটানি করার কি ছিলো?

ঠিক এই মুহূর্তে গলির বাঁকে উল্টোদিক দিয়ে একটা টোটো আসছিলো।আজকাল পড়ার অলিগলি দিয়ে টোটো ঢুকে যায়।টোটোটিতে একটি কম বয়সী তরুনী আসছিলেন।তিনি ছেলেটিকে লক্ষ করে চিৎকার করে বলতে লাগলেন-পালালে কি হবে? আমি তো মোবাইলে ছবি তুলে নিয়েছি।পুলিশকে পাঠাবো।দেখাচ্ছি মজা,বলে মোবাইলটা দেখাতে লাগলেন।

এই কথা শুনতে পেয়ে হঠাৎ কি হলো,ছেলেটি এক পাক ঘুরে দৌড়ে গিয়ে বৃদ্ধের হাতে ছাতাটা আবার ধরিয়ে দিয়ে পালালো‌।বৃদ্ধ এতেও বলছেন-না না,তোমার দরকার তো নিয়ে যাও না বাবা।আমার বৃষ্টিতে ভেজা অভ্যেস আছে। 

ইতিমধ্যে টোটোটি বৃদ্ধের কাছে পৌঁছেছে।কম বয়সী টোটো চালক বৃদ্ধকে বললো-দাদু ঠিক আছে তো? কোথাও লাগে নি তো?বৃদ্ধ হয়তো শুনতে পাননি ভালোমতো।বললেন-

না বাবা,টোটো লাগবে না আমার। ভালো থেকো।

তরুনী অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন বৃদ্ধের দিকে।

নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন