অরন্ধন
অনুপ কুমার জানা
বরষার দৃষ্টি এখনও ফিকে
ফ্যাপসা গরমও দিকে দিকে ,
শরৎ আকাশের শুভ্র ভেলা
শারদীয়ার আগাম হৃদয় দোলা !
ভাদ্রের রান্না আশ্বিনে খাওয়া
অরন্ধন উৎসবের বইছে হাওয়া ,
গরম ভাতে ঠাণ্ডা জল ঢালা
হৃদয়ে হৃদয়ে মিলন মেলা !
শ্রদ্ধা-ভক্তি মনসার নামে
কৃপা যেন মিলে পরিণামে ,
প্রবীনাদের পূজা নিষ্ঠা ভরে
প্রাচীন রীতি অনুসরণ করে ।
ভাদ্র সংক্রান্তির পূর্ব দিবস
গৃহিণীদের নিষ্ঠা অতি নিরলস ,
ভক্তিতে পূজিত উনুন মাতাজী
রাতভোর রান্না কতো ভাজাভুজি ।
চালকুমরোর ঘন্ট, কচুর শাক
ছোলার ডাল , আরও টুকটাক ;
এ'সকল পদ প্রতি অরন্ধনে
আয়োজক-আমন্ত্রিত প্রীতির বন্ধনে !
সব্জি, নারকেল ভাজায় ভাজায়
প্রীতির মিলন জমে মজায় ;
পান্তা ভাতেতে হৃদয় ঠাণ্ডা
শেষ পাতেতে মিষ্টি-মণ্ডা !
চিংড়ি , ইংলিশ অনেকের মতে
পাতখানি তখন বেজায় মাতে !
বিশ্বকর্মা বাবার সাক্ষী রেখে
পাড়া-পড়শির আশীর্বাদ মাখে !
রন্ধন রাতের ধৈর্য, পরিশ্রম
প্রীতির বাঁধনে খুশির দম ;
আয়োজক-নিমন্ত্রিতের মৌন প্রার্থনায়
বছর বছর উৎসবটি জমায় !
জ্যান্ত লাশের সারি
নবী হোসেন নবীন
প্ল্যাটফরমে পড়ে আছে জ্যান্ত লাশের সারি
ধীরে ধীরে প্রাণ পায় মৃত রেলগাড়ি।
লাশেরা ঘুমায়
বেগে চলে যায় রেলগাড়ি।
বুকের ভেতর জেগে থাকে সর্বগ্রাসী ক্ষুধা
জেগে জেগে পাহারা দেয়
লাশ যেন না পালায়।
সজন হতে সমাজ হতে পালাতে পারলেও
ক্ষুধা হতে পালাতে পারে না লাশ।
প্রত্যুষে পুলিশের বেত্রাঘাতে
ঘুম ভাঙ্গে জ্যান্ত লাশের।
ডাস্টবিনে চলে যায়
উচ্ছিষ্ট খাবারের আশায়।
লাশে আর কুকুরে যুদ্ধ লেগে যায়
আবার সন্ধিও হয়ে যায়
সন্ধ্যায় ফিরে আসে প্ল্যাটটফরমের ঠিকানায়
রেল আসে রেল যায় লাশেরা ঘুমায়।
চলন্ত রেলের জানালা দিয়ে
রঙিন চশমায় চেয়ে দেখে মানবতা
দেখে দেখে চলে যায় আপন ঠিকানায়।
হোক সংগ্রাম
ডাঃ জাফর মোল্লা
আর কতো দিন হবে বিলীন
বিচার চেয়ে পথে?
প্ররোচনা প্রহসন কেনো ও এখন
চলছে এদের সাথে??
ন্যায় বিচার পাবে কি আর
যারা গেলো চল?
বুঝতে পারিনা এই ঠিকানা
দেবে একটু বলে??
ধর্ষণ কারি বধের ধাড়ি
কেনো পাচ্ছে পার?
মজলুম রাই খুব অসহায়
পাবে না সু বিচার??
রাঘব বোয়াল কোন গোয়াল
করেছে এখন দখল?
চুপ থেকে চারিদিকে
খোঁজ করো ভাই সকল।।
বিচারের বাণী কাঁদছে জানি
নিরবে নিভৃতে।
বিচার ব্যবস্থা অচল অবস্থা
বেড়ি তাহার হাতে।।
আজকে আমার কালকে তোমার
ভাই বা বোন মরবে।
তোমার পরাণ এমন পাষাণ
চুপ করে শুধু দেখবে??
ধর্ম না খুঁজে জাত না ভেঁজে
এসো সব একসাথে।
জালিমের শিরায় আগুন ধরায়
ঘুমাতে দেব না রাতে।।
এক হও এক হও
সকল মানবগণ।
কঠিন শাস্তি উঠুক দাবি
সংগ্রাম হোক আমরণ।।
ভয়
সোমনাথ ঘোষ
আমি একজন সাধারণ মেয়ে
না রূপসী নয় কিন্তু কুৎসিত নয়
অবস্য মেয়ে বললে হবে ভুল
এখন আমি একজন নারী
একজন কন্যাসন্তানের জননী।
সমাজ সংসারটা কেমন যেন
বদলে গেছে
আমিও পড়েছি স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে
কখনো মনে জাগেনি তো ভয়
লাঞ্ছিত বা ধর্ষণের শিকার হয়ে
ফিরতে হবে ঘরে।
এখন আমি প্রতিমুহূর্তে পাই যে ভয়
মেয়ে কে কলেজে পাঠিয়ে ভাবি কি জানি কখন কি হয়
এখন আর রাতে নিশ্চিন্তে আসে না ঘুম আমার
আগামীকাল কলেজে যে যাবে মেয়ে আবার।