Friday, June 24, 2022

সাহিত্যের অঙ্গনে ।। 24june2022 ।। সপ্তম সংখ্যা

 সাহিত্যের অঙ্গনে ।। 24june2022 ।। সপ্তম সংখ্যা



বন্ধু চল ।। সুনন্দা বোস

সাহিত্যের অঙ্গনে ।। 24june2022 ।। সপ্তম সংখ্যা


বন্ধু চল
সুনন্দা বোস 


বন্ধু চল হাসতে যাই
টুকরো হাসির হার বানাই।
তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে,
দিগন্তে ওই অস্তরাগে_
আকাশ যেথায় রঙ মাখে,
ধানের গন্ধে বাতাস ওড়ে।
অস্তরাগে আবীর খেলে,
পাকা ধানের গন্ধ মেখে,
খুশির গাছের মিষ্টি ফল,
আঁচল ভরে কুড়িয়ে আনি।
ঘোড়ার দৌড়ে ছুটলি বেশ,
এবার একটু জিরিয়ে নিই।
তুই হলি না হয় বিশেষ কেউ,
আমি হলাম অজানা ঢেউ।
মান অভিমান ভুলে এবার
বন্ধু চল হাসতে যাই।
একটু পরেই আঁধার হবে,
আলোর রেখা মিলিয়ে যাবে,
আধার শেষের নতুন ভোরে,
ইচ্ছে যদি আর না ফেরে। 

সুনন্দা বোস
পেশায় শিক্ষিকা
নেশা লেখালেখি


বেঁচে থাকতে হয় বলেই বাঁচি সঞ্জিত ।। কুমার বর্মণ

সাহিত্যের অঙ্গনে ।। 24june2022 ।। সপ্তম সংখ্যা


বেঁচে থাকতে হয় বলেই বাঁচি
সঞ্জিত কুমার বর্মণ 

বেঁচে থাকতে হয় বাঁচি -
কে বড় চাকরিজীবী আর কে বড় ব্যবসায়ী, 
এসব আর বিবেচনা করি না।
শুধু বেঁচে থাকি। 

বেঁচে থাকতে হয় তাই বাঁচি,
কে বিখ্যাত আর কে কুখ্যাত -
কে অর্থশালী আর কে অর্থহীন
এসব বিচার করার ধৈর্য নেই
শুধু বেঁচে থাকি।


বেঁচে থাকতে হয় বলেই বেঁচে থাকি -
শুধু বেঁচে থাকি।  

কে মহাজ্ঞানী আর কে জ্ঞানী -
এসব আর বিবেচনা করি না।
এসব আর আমার কাছে মুখ্য নয়।
বেঁচে থাকাই আজ বিশেষ জরুরি
কর্ম করে বাঁচতে হয় বলে কর্ম করি -
এতে বাঁচি আর মরি- ভাবী না কে আমার বৈরী।


বেঁচে থাকতে হয় বলেই বাঁচি
বেঁচে থাকতে হয় বলেই স্বপ্ন দেখি না মিছামিছি। 
শুধু সৎ পথে মানবতার বীজ রচি
মানবের তরে মানব শুধু ভজি
বেঁচে থাকতে হয় বলেই বাঁচি। 

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 

২৫ শে অক্টোবর ’ ১৯৮৫ সালে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলাধীন ফুলবাড়িয়ার নাবির বহর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। পিতা: ব্রজেন্দ্র চন্দ্র বর্মণ, মাতা: সরজা বালা বর্মণ। 

শিক্ষাজীবন থেকে সাহিত্যের প্রতি প্রচণ্ড অনুরাগ আর ভালবাসার সুবাদে লেখালেখি শুরু। পড়াশুনা ও করেছেন ইংরেজি সাহিত্যে। লিখতেন কবিতা, ছড়া ও ছোট গল্প সহ গ্রামীণ জীবনের পটভূমিকায় নানান সমস্যার কথা। নির্সগ প্রেমিক কবি সঞ্জিত কুমার বর্মণ মা মাটি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। ইতিমধ্যে কতিপয় দৈনিক পাতায় তার সমসাময়িক বিষয়ের উপর ভিত্তি করে কবিতা প্রকাশিত হয়ে পাঠক নন্দিত হয়েছে। 

পেশাগত জীবনে সঞ্জিত কুমার বর্মণ উত্তর লস্কর চালা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ইংরেজি ’র প্রভাষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

পাজামার দড়ি ।। মৃণালেন্দু দাশ

সাহিত্যের অঙ্গনে ।। 24june2022 ।। সপ্তম সংখ্যা

পাজামার দড়ি
মৃণালেন্দু দাশ 

ঘুম নেই । চুড়ান্ত হওয়ার আগেই
ঢিল পড়ল জলে ,শুনি আঙুল মটকানো শব্দ
ঢিলে হয় পাজামার দড়ি , লোম খাঁড়া ---

জরায়ুর মধ্যে বীজ , জন্ম নিচ্ছে ধান

অঙ্গশোভা স্পষ্ট করে উঠোন ভাঙছে কেউ , ছায়া
পড়ছে চৌকাঠে ----

নির্ঘুম রাত্রির শরীর থেকে বেরিয়ে আসছে একটি সাপ
তার হিসহিসে তোলপাড় সমুদয় 


মৃণালেন্দু দাশ
জন্মঃ ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৭
বর্তমানে রেলের কর্মজীবন থেকে অবসর প্রাপ্ত

তার প্রকাশিত কাব্যগ্ৰন্থঃ
১. অহল্যা কন্যা আমার (১৯৮৬)
  প্রকাশ সহায়তা বাংলা আকাদেমী ,
তথ্য সংস্কৃতি বিভাগ,পঃবঃ সরকার ।
২.বজ্রবিদ্যুত ঘুড়ি (২০১৮) ।
প্রঃ আলোপৃথিবী (২য়সং ২০১৯)
৩.আত্মকাঠ ডিঙি নৌকো রোজ,বারোমাস (২০১৯)। প্রঃ বই টার্মিনাস ।
৪. মায়া প্রপঞ্চময় (২০২০),কলকাতা বইমেলা ।
   প্রঃ বই টার্মিনাস ।
৫. দাউ দাউ দেহ ----ইবুক (২০২২)।
  প্রঃ শব্দ লেখা ।

এছাড়া নিয়মিত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ৪০বছর যাবৎ লেখা লেখি র সাথে যুক্ত আছেন।

এছাড়া ও তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ---
উল্লেখ্য
"ব্যস"
"ঞ্জাণালোক"
অল্পক্ষণ( ছোটদের পাতা )
"এইকাল" (ছোটদের পাতা ও সাহিত্যের পাতার  বিভাগীয় সম্পাদক)






আমি সম্পর্ক ।। সায়ন্তন রায়

সাহিত্যের অঙ্গনে ।। 24june2022 ।। সপ্তম সংখ্যা

আমি সম্পর্ক
সায়ন্তন রায় 

আমি সম্পর্ক,
কোন কিছুতেই নেই কার্পণ্য। 
আমি পারি, সবই পারি।
হিংসা, ক্রোধকে পরিত্যাগ করি।

আমি সম্পর্ক,
থাকি সবার মধ্যে।
জীব থেকে জড় হোক,
কাজ থেকে গল্প হোক।

আমি সম্পর্ক,
আমার আছে গভীর অর্থ।
করি সব সমস্যার সমাধান,
আমার নেই কোন পরিমান।

আমি সম্পর্ক,
বোঝো আমার অর্থ।
আমি নিঃসৃত করি মনের কথা,
আমি বইতে পারিনা কোন মিথ্যা।
আমি সম্পর্ক,
আজ আমি খুবই বিপন্ন।
এই কলুষিত সময়ে,
হাজির না হয়ে সরে যাচ্ছি সবশেষে।

আমি সম্পর্ক,
আমি থাকি সবার ভালর জন্য।
যদি আমায় বাঁচিয়ে রাখো আজ,
আমি সাজাবো এক নতুন সমাজ। 

সায়ন্তন রায় 

পড়াশুনার সাথে গৃহ শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত 
নেশা লেখা লেখি , এবং
বিশেষ পছন্দ  গান করা এবং বই পড়া।

নিষিদ্ধ প্রেম ।। সীমান্ত কুমার রায়


নিষিদ্ধ প্রেম 
সীমান্ত কুমার রায় 
হে প্রেম, তুমি প্রতিপদে আশানুরূপ না হলেও 
প্রত্যেক প্রাণে, মনেও আজও বিরাজিত 
শহুরে এঁদো গলি হতে, তস্য পাড়া গাঁ হয়ে চরাচরব্যাপী।
প্রত্যেক মানব-মানবীর অন্তভূমিতে বিচিত্ররূপে;
আজও তুমি বহুল চর্চিত, বলা চলে তা অতিরঞ্জিত।
কবরীতে, ঠোঁটে, একে-অপরের কথার ভঙ্গিতে,
ঋতুতে ঋতুতে নবপল্লবে হয়ে ওঠে সে বিকশিত।
কখনোবা প্রেম-বীরত্বের গল্পগাথায় মুড়ে 
দিকে দিকে প্রসারিত, হয় মুখে মুখে গুঞ্জিত। 

দিনের শেষে এমনই কিছু প্রেম 
চেনা ছন্দ ভুলে হাতড়ে নিষিদ্ধপথের দুয়ারে পৌছায়,
আবার কিছু বা আছে তারা মৃত্যুকে জয় করে নেয় !
কি বলা যায় এই প্রেমকে-
হঠকারিতা, নাকি তার ভবিতব্য ?
যদি বা তাই হয়, হে প্রেম আমি চাইনা তোমাকে!
প্রেম হেসে বলে, আমিতো আছি, রয়েও যাবো 
তবে বুঝে নিতে হবে আমার অসীমতাকে, 
তবেই তো করা হবে আমৃত্যুর সঠিক মূল্যায়ন।
নাহলে হেলায় হারাতে হবে নিজেকে ! 

সীমান্ত কুমার রায়,
স্কূল ম্যাগাজিনে প্রথম লেখা,
পত্রিকায়,ই-ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখালেখি ।
পেশাগত ভাবে শিক্ষকতা র সাথে যুক্ত।

জন্ম ও মৃত্যু ।। সুজিত কুমার রায়

 সাহিত্যের অঙ্গনে ।। 24june2022 ।। সপ্তম সংখ্যা

 জন্ম ও মৃত্যু 
সুজিত কুমার রায় 

আত্মা থাকে অবিনশ্বর
শরীর যাবে পঞ্চভূতে 
বাঁচিস তুই যে কটি দিন
থাকিস যেনো রাজ সুখে
হিসাব নিকাশ ,লাভ লোকসান
থাকবে কি আর দিনের শেষে?
যখন, দানব বেশে মৃত্যু এসে -
দুয়ারে কড়া নাড়বে হেসে।।


পালাই পালাই করলে ও মন
যাওয়া যাবে না কোনো দিকেই।।
আবাসনের উচু তলে ---
কিংম্বা ওই গাছের তলে
সবার তখন এক ঠিকানা..
আগুন আর মাটির দেশে।।
মোহের পিছে ছুটে মরা ...
প্রাপ্তি বড়ই কম,
সুখ,দুঃখের দোলাচলে 
জীবন বিহ্ববল।।

সুজিত কুমার রায় 

Friday, June 17, 2022

সাহিত্যের অঙ্গনে।।17june2022।। ষষ্ঠ সংখ্যা

সাহিত্যের অঙ্গনে।।17june2022।। ষষ্ঠ সংখ্যা

এই সংখ্যার সূচী .......


সম্পূর্ন পাঠ করতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন......




কৃষ্ণের দোসর ।। মৃণালেন্দু দাশ

সাহিত্যের অঙ্গনে।।17june2022।। ষষ্ঠ সংখ্যা

কৃষ্ণের দোসর
মৃণালেন্দু দাশ


সে ছিল । ছিলই ,

এত তীব্র তাঁর উপস্থিতি
এখন কোথায় যে , জানিনা ...
আবার আছেন

তার কথা রয়ে গেছে বাতাসের কানে
বাতাস ধরে রেখেছে সুরে
সুর ভেসে যায়

স্রোতে ,

স্রোতে স্রোতে উতল আকাশ
দাঁড় বায় গাভী , কৃষ্ণের দোসর তারা


চুপি চুপি বিহানবেলা  নেমেছে জলে

গোপিরা চলেছে ত্বরা জল ভরিতে , কাঁখে কলসি


মৃণালেন্দু দাশ
জন্মঃ ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৭
বর্তমানে রেলের কর্মজীবন থেকে অবসর প্রাপ্ত

তার প্রকাশিত কাব্যগ্ৰন্থঃ
১. অহল্যা কন্যা আমার (১৯৮৬)
  প্রকাশ সহায়তা বাংলা আকাদেমী ,
তথ্য সংস্কৃতি বিভাগ,পঃবঃ সরকার ।
২.বজ্রবিদ্যুত ঘুড়ি (২০১৮) ।
প্রঃ আলোপৃথিবী (২য়সং ২০১৯)
৩.আত্মকাঠ ডিঙি নৌকো রোজ,বারোমাস (২০১৯)। প্রঃ বই টার্মিনাস ।
৪. মায়া প্রপঞ্চময় (২০২০),কলকাতা বইমেলা ।
   প্রঃ বই টার্মিনাস ।
৫. দাউ দাউ দেহ ----ইবুক (২০২২)।
  প্রঃ শব্দ লেখা ।

এছাড়া নিয়মিত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ৪০বছর যাবৎ লেখা লেখি র সাথে যুক্ত আছেন।

এছাড়া ও তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ---
উল্লেখ্য
"ব্যস"
"ঞ্জাণালোক"
অল্পক্ষণ( ছোটদের পাতা )
"এইকাল" (ছোটদের পাতা ও সাহিত্যের পাতার  বিভাগীয় সম্পাদক)

চিঠি ।। সুনন্দা বোস

সাহিত্যের অঙ্গনে।।17june2022।। ষষ্ঠ সংখ্যা

চিঠি 
সুনন্দা বোস 
এ চিঠি পৌঁছবে না,
শেষ বিকেলের ডাকে,
যখন তুমি এলোচুলে আলসে ধরে উন্মনা,
কাজল কালো চোখ, রাখবে অস্তরাগে।
হঠাৎ করে চুলের রাশি,
উড়ছে হাওয়ায় এলোমেলো,
দমকা হাওয়া ঝাপটা দিয়ে,
বছর পঁচিশ পিছিয়ে দিল।
আমি তখন চায়ের কাপে,
গা এলিয়ে ব্যালকনিতে।
খুঁজছি তোমায় উষ্ণতায়,
চায়ের কাপের বাষ্প ধোঁয়ায়।
হাওয়ায় ভাসে মনের খবর,
মন মানুষের জবরদখল।
চায়ের কাপের বাষ্প গলে,
তোমার চোখে বৃষ্টি নামে।
সেই চিঠি যে পৌঁছে যাবে,
মনের টানে তোমার কাছে।
ডাক বিভাগের কর্তামশাই,
ভীষণভাবে ব্যর্থ তাই।
                           


সুনন্দা বোস
পেশায় শিক্ষিকা
নেশা লেখালেখি


স্বার্থান্বেষীর সেবায় দুর্বৃত্তরা ।। সীমান্ত কুমার রায়

সাহিত্যের অঙ্গনে।।17june2022।। ষষ্ঠ সংখ্যা

স্বার্থান্বেষীর সেবায় দুর্বৃত্তরা 
সীমান্ত কুমার রায় 
রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপগুলো পেড়িয়ে, 
লাশকাটা ঘরটির দুয়ারে বসে খেলছিলো 
ছোট্ট দুটি ছেলে-মেয়ে।
পাশেই উৎসুকভাবে অপেক্ষারত শুকনো দুটি চোখ! 

স্বার্থান্বেষীদের সেবা-শুশ্রূষায় মজে মগজহীন দুর্বৃত্তরা, 
তাদের ঔদ্ধত্য আচরণে প্রকাশিত অমানসিক বর্বরতায় 
রাজপথ তোমার-আমার রক্তে ধুয়ে যায়।
অনাথরা শৈশবকে হারিয়ে শ্রমিকে, কেউবা 
নেশাখোর হয়ে তোমাদের দাস-এ পরিণত হয়! 

পাশের দোকানে দুরাভাষে চলতেই থাকবে 
অভীষ্টলোভিদের বাদ-প্রতিবাদের ভন্ড সভা,
বাহবা দিয়ে করজোড়ে দাও হাততালি!

সীমান্ত কুমার রায়,
স্কূল ম্যাগাজিনে প্রথম লেখা,
পত্রিকায়,ই-ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখালেখি ।
পেশাগত ভাবে শিক্ষকতা র সাথে যুক্ত।

প্রাণ হীন পুতুল ।। শ্রী লোহারাম দে

সাহিত্যের অঙ্গনে।।17june2022।। ষষ্ঠ সংখ্যা


প্রাণ হীন পুতুল 
শ্রী লোহারাম দে 

এঁটেল মাটির একটি পুতুল 
গড়ে ছিলাম আমি,
সে পুতুলে আমারে কয় 
প্রভু তুমি আমার স্বামী। 

শুকিয়ে রোদে যত্ন করে 
তারে শক্ত করিলাম,
কুমোর শালায় পুড়িয়ে 
তারে  দড় করিলাম । 

এখন মাটির পুতুল 
আমার চেয়ে অনেক বেশি দড়,
প্রাণ হীন সেই পুতুলে কয় 
তুমি আমার পূজা করো।



পল্লী কবি শ্রী লোহারাম দে 
স্বাধীনতা সংগ্রামী সত্যনারায়ণ দে ও
ক্ষান্ত বালা দেবী র পুত্র 

বহু পত্র পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয়।

হৃদয় আজ শুধু হৃদয়কেই চায় ।। তপন ঘোষ

সাহিত্যের অঙ্গনে।।17june2022।। ষষ্ঠ সংখ্যা


হৃদয় আজ শুধু হৃদয়কেই চায়
তপন ঘোষ 

বিকেলের নরম রোদ বেয়ে
সন্ধ্যা আসে চারিদিকে  ঘিরে, 
একা একা বসে থাকি এই মাঠে,এই ঘাসে
নরম রোদের মতো নরম গালিচায়।
হয়তো বসে থাকি কারো অপেক্ষায় 
ফিরবে সে এ পথেই,নরম পায়ের ছাপ রেখে, 
প্রতি সন্ধ্যার মত,
যেমন পাখিরা ফিরে আসে নিজেরাই 
বকুলে,অশ্বত্থে তমাল না হয় জারুলে।
প্রতি সন্ধ্যায় ,পাখি দেখার ছল করে
হয়তো আমাকেই দেখে বারবার, 
আমিও চেয়ে থাকি নির্বিকার দুচোখে
যেমন নক্ষত্রও চেয়ে দেখে, 
এমন স্নিগ্ধ, সুষমা গভীরতা আমাদের। 
চেয়ে দেখে  নীরব ভালোবাসা সব
হয়তো বুঝে গেছে সেও,
হৃদয় আজ শুধু হৃদয়কেই চায়।

তপন ঘোষ
রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর 
পেশায় ব্যাঙ্ক কর্মী ।
নেশা কবিতা লেখা 
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 
অন্তরীক্ষে  দহন
  মুক্ত রাশি রাশি
হে নিঃসঙ্গ তুমি বিহঙ্গ হও 
অনিত্য যে সুর নিত্য বাজে


কলম ।। অনুপ কুমার জানা

সাহিত্যের অঙ্গনে।।17june2022।। ষষ্ঠ সংখ্যা


কলম  
অনুপ কুমার জানা 

কলম তোমার হৃদয় নরম
যে যা বলে সেটাই শোন ,
প্রতিবাদ তোমার ব্যাঘ্রসম
তবুও সদাই থাকো মৌন । 

সুখির কথায় সুখটি পেয়ে
ভাষায় ভরাও অজস্র সুখে ।
স্বর্গ রাজ্যে যাও যে চলে
অমৃত সুধা সর্বাঙ্গে মেখে । 

দুখির হৃদয়ও স্পর্শ করো ,
অশ্রু ঝরাও অঝোর ধারায় ,
হৃদয়-মনও মলিনকরো 
নীরব নীরস নিদারুণ নেশায় । 

প্রতিশ্রুতি তব ঝর্ণাসম ,
ঝর ঝর ধারায় ঝরতে থাকো ,
পরশে তব পাষাণও গলে ,
আশা-আকাঙ্খার স্বপ্ন আঁকো । 

ঘৃণা করুণার ঘটকও তুমি ,
ঘটাও কতো মনের বিচ্ছেদ ,
রূপ রস গন্ধ হয়ে যায় ম্লান
দৈহিক বন্ধনও হয় ভেদাভেদ । 

প্রেম-ভালোবাসা ঢালো কলকল ,
আষাঢ়ের উথ্থিত জলরাশিসম ,
কতো হিয়ার বন্ধন রয়ে যায় অটুট ,
প্রেমিক প্রেমিকা পায় জীবনের মর্ম । 

যন্ত্রনা প্রদান তব বেত্রাঘাত সম ,
কাঠিন্য রূঢ়তায় হৃদয় বিঁধো ,
করো বেস্বাদ জীবনের স্বাদ 
ইহলোক ছাড়তে করো বাধ্য ।

প্রেরণায় নয়ন সবুজে ভরাও ,
ব্যর্থতার কালো মুছে যায় তখন ,
নিরাশা হতাশায় রূপান্তর হয় ,
আশার আলোতে জাগাও সঞ্জীবন ।

অনুপ কুমার জানা 
পশ্চিম মেদিনীপুরের ভূঞ্যাড়া গ্ৰামের  শীতল চন্দ্র জানা র পুত্র কবি অনুপ কুমার জানা পেশায় ফার্মাকেমিস্ট্ এবং ‌‌নেশা ছোট বেলা থেকেই কবিতা ও গল্প লেখার। 
শিক্ষা : বি এস পি অনার্স (রসায়ন) ।




আজকের পড়াশোনা ।। সায়ন্তন রায়


আজকের পড়াশোনা
সায়ন্তন রায় 

ব্যাগ ভর্তি  বই, পেন আর খাতা,
পড়েই চলি শুধু অগণিত পাতা।
খাতা ভর্তি আছে যতো গৃহ কাজ -
পারছি না তাতো সমাধান আর। 

মায়ের বকুনি আর শিক্ষকের ধমক,
হতবুদ্ধি হয়ে, হয়েছি নিরব।
বিজ্ঞান সব সূত্র গেছে আজ ভেগে,
ইতিহাস ও ভূগোল সব গেছে মিলেমিশে, 

প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে ,সম্প্রতি রীতি -
দৌড় দৌড় খেলায় কেটেছে অনেক দিনরাতি ।
চাই এ সবের ইতি,আসুক অন্য প্রভাত 
মুক্ত বাতাসে ভরে দিক আজ -স্বস্তির নিস্বাস। 

সায়ন্তন রায় 

পড়াশুনার সাথে গৃহ শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত 
নেশা লেখা লেখি , এবং
বিশেষ পছন্দ  গান করা এবং বই পড়া।

ওরা ।। সুজিত কুমার রায়


ওরা
সুজিত কুমার রায়
ক্ষুধা আছে ভরা
গরীবের ঘরে,
আর আছে অভাব দৈন্য।
পালঙ্ক সুখ জানে না তারা,
ভূমিতলে শুয়ে আনন্দ মেখে গায়ে
সুখে র সাগরে ভাসে।
গ্রীন টি আর সাস্থ্য পানীয়
এসব কথা তারা জানেনা এখনও
মোটা ভাত ,মুড়ি সহ অনুপান
প্রাতঃরাশ সারা হলো 
তৃপ্ত পরান।
পশু পাখি সব নিয়ে 
সুখী পরিবার ।
রোদ, বৃষ্টি খেলা করে ঘরে --
এমন বসতি তার।
আত্ম অভিমানে সচেতন অতি,
আপন করতে জানে এমনই রীতি ।
ছোট্ট একটি মন শুধু আছে আর 

ভালোবাসা প্রেম মিলে মিশে একাকার।

সুজিত কুমার রায়





Friday, June 10, 2022

পঞ্চম সংখ্যা।।10june2022

সাহিত্যের অঙ্গনে ।।পঞ্চম সংখ্যা।। ১০জুন২০২২



এই সংখ্যার সূচী.......







ছোটর গল্প মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম

সাহিত্যের অঙ্গনে ।।পঞ্চম সংখ্যা।। ১০জুন২০২২


ছোটর গল্প 

মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম



“বন্ধুর বিপদ হলে কি করতে ? আর সে যদি হয় বিশেষ কেউ ?”

আমিও অরনীর বিপদে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। উচ্ছল হাসি খুশি, চঞ্চল স্বভাবের অরনী- আমার খুব প্রিয় বন্ধু। সে এখন কথা বলছে ওর সাথে। এটা দেখেই আত্মারাম খাঁচা থেকে বের হবার অবস্থা। এখন সুযোগ পেলেই এফোর ওফোড় করে দিবে। বিপদের ঘন্টি বাজতে দেখলাম। আর বিপদটা দেখামাত্রই সতর্ক করার চেষ্টা করি। তারস্বরে চিৎকার করে পথরোধের চেষ্টা করি।বলতে চেয়েছি সামনে বিপদ,  

“জলদি পালাও, ও তোমার ক্ষতি করবে।”

মাত্র কয়েক গজ দূরে থেকে তাকে সতর্ক করতে চাচ্ছি, কিন্তু আমার কথা শুনতে পারছে বলে মনে হলো না। আমি ছোটখাটো হতে পারি, কিন্তু আমার চিৎকারে কানে তালা লেগে যাবার কথা। 

“বয়ড়া হয়ে গেল নাকি ?” মনে হচ্ছে সাময়িক লোভ সামলাতে সে দিকবিদিক শুন্য হয়ে গেছে। দ্রুত ছুটে যাচ্ছে তার কাছে।

হাতে সময় নেহাতই কম, কিছু একটা করতে হবে, সুপারসনিক বিমানের গতিতে তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টার সাথে আবারও তাকে সতর্ক করতে চেষ্টা করলাম । এবার তার নাম-অরনী বলে আবারো চিৎকার করলাম। কিন্তু এবারো ফিরে তাকালো না।

আমি আরো কাছে গিয়ে চোখে চোখ রাখলাম, দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলাম। কিন্তু কোন ভ্রুক্ষেপই নেই।

অভিমান, হয়তো। 

না বলেই যে চলে যাওয়া। তবে চলে যাওয়া না বলে আমি বাধ্য হয়েছিলাম বলাটাই শ্রেয়তর। ইচ্ছে থাকলেও আসতে পারি নি। এখনতো এসেছি।

আমি ওকে সতর্ক করতে চাচ্ছি, চাইছি সম্ভাব্য প্রাণ সংহার থেকে তাকে বাঁচাতে। মনে হয় ওর অভিমান কমছেই না।

“নাকী আমাকে খেয়ালই করছে না ?”

হাতে খুব বেশী সময় নেই। ওকে বাঁচাতেই হবে। যা করার খুব দ্রুত করতে হবে। এবারে  সমস্ত শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলাম অরনীকে। তবে ফলশ্রুতিতে যা ঘটল তাতে অজানা এক আশংকায় আমার শরীর কেঁপে উঠল আমার। অতি প্রাকৃতিক বিষয়ে বিশ্বাস না থাকলেও নিজেকে অন্যভাবে ভাবতে হচ্ছে। 

আমি অরনীর শরীর এফোর ওফোড় করে বেরিয়ে গেলাম। কিন্তু অরনী টের পর্যন্ত পেলো না।

“এর অর্থ কি দাঁড়ায় ?”

সে অরনীকে দুপায়ো শত্রুদের থেকে রক্ষা করেছে। এবার সে শুরু করবে নতুন চাতুরী। এই মূর্তিমান রাক্ষসের হাত থেকে কিভাবে রক্ষা করব ?

কিছুদিন আগের ঘটনা। 

সময়টা খারাপ, গ্রীষ্মকাল,খাবারের খুব সংকট। সারাদিন হন্য হয়ে খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়াতে হয়। তবে খাবারের অভাবে সবসময়ই ত্রাহিত্রাহি অবস্থা থাকে। সবাই হন্য হয়ে ছুটে বেড়ায় খাবারের জন্য। 


ঠিক এই সময়ে যদি কোন খাবার, জীভে জল আসবেই বইকি। আর অতি সুস্বাদু খাবার হলেতো লাজবাব। মাইরি বলছি অধুনা নাম শোনা যায় তোমাদের মুশকান জুবেরি রন্ধন শিল্পকে সে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। যার খাবারের লোভে দুরদুরান্ত থেকে মানুষজন সুন্দরপুর হাজির হয়। কিম্বা তোমরা দ্রৌপদী নাম শুনেছ, যে কিনা তার রান্না দিয়ে তার পঞ্চস্বামীকে বশ করে রাখত। তারাও এধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করতে পারে কিনা সন্দেহ।

আমি সম্মোহিত হয়ে খাবারের দিকে ছুটে গেলাম। আশেপাশে কোনকিছুরই খেয়ালই ছিলো না। দিকবিদিকশুন্য হয়ে ছুটে গেলাম, আমি চাইছিলাম যেকোনভাবেই আমাকে পেতে হবে। কতদিন ঠিকমতো খাই না।

এসময়ই দৃশ্যপটে তার আগমন। মিয়াও রাক্ষস। ঘুটঘুটে কালো বিশাল ল্ম্বাটে আকারের।পিছল থিকথিকে শরীর। টকটকে লাল চোখ, লম্বাটে কালো দীর্ঘ দাড়ি। শয়তানটাকে দেখলেই পিলে চমকে যায়। ফরেন মাল, আফ্রিকা থেকে নাকি এই দেশে আগমন।

আমি পালাবো, নাকি খাবারটি খাব ভাবছি। চাচা আপন প্রাণ বলে প্রবাদ আছে। কিন্তু লোভনীয় খাবারটির লোভও ছাড়তে পারছি না।

তবে এবার মিয়াও রাক্ষসটির আচরণে অবাক হবার পালা।

ওই খাবারটি খেয়ো না। বিপদে পড়বে। আমার পুরাই তব্দা হবার পালা। ভুতের মুখে রাম নাম। মতলব কি? আমি অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাই তার দিকে। এতো দেখছি পুরাই ভোল পাল্টে, মিয়াও রাক্ষস, গিরগিটি হয়ে গেছে। 

ওইটা কি খাবারটা বাগানোর ধান্দায় আছে? বৈচিত্র কিছু না। এখন সময়টা বড্ড খারাপ। 

তীব্রতর খাবার সংকট।

গ্রীষ্মের তীব্রতর খরতাপে আমাদের বাসস্থান সংকুচিত হয়ে গেছে। একই সাথে দুপেয়ো সত্রুদের ক্রমাগত ভুগর্ভ্যস্ত পানি উত্তোলনের ফলে দুরাবস্থা আরো তীব্র হয়েছে।ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে নদী, খাল, বিল, পুকুরসহ সকল জলাশয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন এবং একইভাবে আমদের অবস্থাও। এসময়ে আমাদের খাবারের খুব সংকট থাকে। 

আমার সামনে রয়েছে ভিনগ্রহের খাবার। যা রান্নার সাধ্যি স্বয়ং  দ্রৌপদী আছে কি না সন্দেহ।

এখন আমার কি মিয়াও রাক্ষসের কথা শোনা উচিত?আমি পাত্তা দিলাম না। আমি মনে মনে একটা ফন্দি আটলাম। খাবারটি নিয়েই চম্পট দিবো। দ্রুত ঐ গর্তে/গুহায় ঢুকে যেতে পারলেই কেল্লাফতে। ঐ মিয়াও রাক্ষসের সাধ্য নেই কিছু করার। আমি মনে মনে খাবার ও গর্তটার মধ্যকার দুরত্ব হিসেব করে নিলাম। আমার বিশ্বাস ও আমাকে ধরতে পারবে না।

তবে রাক্ষসটা আমার মনের কথা বুঝতে পারল। আমার পথ রোধ করে দাঁড়ায়। এবং তখন সে বলল, “ভাই শোন, আমি তোমার ভালোর জন্যই বলছি। ঐ খাবারটি খেয়ো না।”

“কেন ?” আমি বেশ রাগত স্বরেই বললাম। আসলে আমি কোনভাবেই খাবারটি হারাতে চাচ্ছিলাম না। অগ্নিমূর্তি ধারণ করলাম, নিজের কাছেই মনে হোল আমার চোখ দিয়ে আগুনের হল্কা বের হচ্ছে।

“আহা রেগে যাচ্ছ কেন ?” মিয়াও রাক্ষসটা বলল। সে আরো বলল, “এই যে খাবারের জন্য তুমি হা পিত্যিস করছ। ভাবছ, আমাদের কারো সাদ্ধ্যি নেই এই খাবার তৈরী করার। এমনকি মুশকান জুবেরি বা দ্রৌপদীও তৈরি করতে পারবে না। রান্নাতো দুরের কথা, কখনই চোখে দেখেনি।”

উত্তরে আমি বললাম, “আমি ক্ষুদার্থ। ঐ আহারে আমি আমার উদোরপুর্তি করবো।” 

“বোকা, ওটা খাবার না। ওটা একটা ফাঁদ। বাঁকানো একটা আংটায় খাবারটা ঝুলানো আছে, ওটাকে বর্শি বলে।


বর্শিটা দিয়ে একটা ছিপের সাথে বাধা আছে। আর ছিপটা ধরে আছে একটা দু'পায়ের দৈত্য। যদিওবা ওরা নিজেদের সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে দাবী করে থাকে। কিন্তু ওদের শুধু চাইই চাই। সমস্ত পৃথিবীর দখল নিয়ে আছে। কিন্তু তবুও তৃপ্তি নেই। আরো চাই। হেন অকাজ নেই যা তারা করতে পারে না।”

“হুহ”, আমি ঘোত করে একটা শব্দ করলাম। “এসেছে একজন সবজান্তা যুধিষ্ঠির। এতই যদি হবে, তবে এই পুঁচকে আমাকে নিয়ে কিইবা করবে ?” 

“প্রথমেই বটি দিয়ে তোমার শরীরের আঁশটে ছাড়াবে। এরপরে কেটে তোমার নারিভুরি বের করবে। কাটাকুটি শেষ হলে লবন দিয়ে আচ্ছামত ধোলাই করে পানিতে পরিষ্কার করবে। পরিষ্কার করা হলে মসলা দিয়ে মেখে, ফুটন্ত চুলার উপর ফ্রাইপ্যানে ফুটন্ত তেলে ভাজবে। এরপর তোমাকে খেয়ে উদরপূর্তি করবে।”

“ফু, আষাঢ়ে গল্প না বলে তুমি তোমার কাজে যাও।” কেন জানি মিয়াও রাক্ষসটাকে এখন আর তেমন তেমন ভয় করছে না। যেনবা দন্ত নখ হীন সর্প। ঠিক যেন বাপুরাম সাপুড়ার সর্প বিশেষ। একটু একটু মায়াও হচ্ছে।আহা বেচারা। 

“তুমি বিশ্বাস করলে না। একুটু অপেক্ষা কর। অন্যকাওকে খেতে দাও। দেখ কি হয়। ভয় নেই আমি এই খাবার খাচ্ছি না।”

আমরা অপেক্ষায় রইলাম। কিছুক্ষণ পরে ছোট্ট একটি মাছ যেই না খাবারটি খেতে গেল, চোখের নিমিষেই ভোজবাজীর মতো উপরে উঠে গেল। মনে হোল অদৃশ্য শক্তি দানবীয় শক্তিবলে উপরে তুলে নিল। 

আমি মিয়াও রাক্ষসের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলাম। তাকে ধন্যবাদ দিলাম।

তাকে বললাম, “কিছু মনে কোরো না, তোমরা সুদুর আফ্রিকা থেকে এসেছ বলে কতই না উপহাস করেছি। নাম দিয়েছি মিয়াও রাক্ষস। অযাচিত দুর্নাম ছড়িয়েছি, হেনো জিনিস নেই তোমরা খাও না। রাক্ষস হলেও তোমরা তেলাপোকা থেকে উন্নত কিছু না।”

আমি আরো আবেগে বলে ফেললাম, “বন্ধু তুমি আমার জীবন বাঁচিয়েছ। বলো কি চাই তোমার।”

কুটিল হিংস্র হাসির কেঁপে উঠল মিয়াও রাক্ষসের ঠোটটা। খুশিতে যেন টগবগ করে ফুটছে। নগ্ন লালসা যেন চোখ ঠিকরে বের হয়ে আসতে চাইছে। হা হা করে পৈচাসিক হাসি হেসে বলল, “ওরে বোকা মাছ, আমি এখন তোকে খাব।”

হতভম্ব আমি স্থির দাঁড়িয়ে রইলাম। নড়াচড়ার শক্তিও রইলো না। ভয়েয় অদ্ভুত শিহরণ আমার মাথা থেকে লেজ অবধি নেমে গেলো। আমি বোকার মতো রাক্ষসের অনেকটা কাছে চলে গেছি। চাইলেও পালাতে পারব না। তাকিয়ে আছি, বিশাল একটা হা আমাকে গ্রাস করতে দ্রুত ধেয়ে আসছে। তীব্র ভয় নিয়ে আমি চোখ বন্ধ করলাম।

কিছুক্ষণ পরে তীব্র শব্দ ও উজ্জ্বল আলোর ঝলকানিতে জ্ঞান হারালাম। কতক্ষন অচেতন ছিলাম আমি জানি না, আমি আদৌ বেঁচে আছি কি না তাও ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। চারপাশের চিরচেনা জলজ পরিবেশ একেবারেই অনুপস্থিত। আরো অনেক পরে আমি বুঝতে পেরেছিলাম আমি অদ্ভুত কোন কারনে স্থলভাগে চলে এসেছি। এর থেকেও বড় কথা, ধীরে ধীরে খেয়াল করলাম, আমি দুপায়ের রাক্ষস যা মানুষ নামে পরিচিত আমি তাদের কথা বুঝতে পারছি।পড়তে পারছি ওদের লেখাগুলি।

আমি মনে প্রানে চাই আমার গোত্রের সবাইকে সাহায্য করতে। কিন্তু আমি ওদের কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না। এমনকি কিছুতেই বুঝতে পারছিনা আমার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মূল কারন।

প্রথমে ভেবেছিলাম, আমি হয়তো ভুত হয়ে বিচরন করছি। হয়তোবা মৎস্য সমাজের প্রথম ভুত। কিন্তু কিছু ঘটনা প্রমাণ করে আমার এই ধারণা ভুল।

আমি মানব সমাজে ঘুরে বেরাই। ওদের জ্ঞান নিয়ে নিজেকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ করছি। প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি স্বগোত্রীয়দের সাথে যোগাযোগ করতে। কিন্তু মানুষ আজ অবধি আমাদের সাথে সফলভাবে যোগাযোগ করতে পারে নি। আমদের ভাষাটাও রপ্ত করতে পারেনি।

আমি অপেক্ষায় আছি, একদিন ঠিকই সফল হবো।

ইদানীং আমি গুগলিং করতে শিখছি।এখানে সময় দিচ্ছি। তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের আইডি খুলেছি। তোমরা কি আমার সাথে থাকবে ? আমাকে সাহায্য করবে ?

আমি জানি তোমরা আমাকে নিরাশ করবে না। 





চোখের জলেও প্লাবন হানে ।। তপন ঘোষ

সাহিত্যের অঙ্গনে ।।পঞ্চম সংখ্যা।। ১০জুন২০২২

চোখের জলেও প্লাবন হানে

তপন ঘোষ 



হৃদয়ের খেলায় কখন যে পরাজিত আমি

বোঝাই কিভাবে, 

কোন প্রগলভ ভাষায়?

সমুদ্রের ফেনায়িত উচ্ছলতায়

পাহাড়ের নিস্তব্ধতায়,

না হয় শরৎ শেষে হৈমন্তিকতায়।

মেঘ বালিকার এলোমেলো চুল হয়ে

ভেসে আসা মেঘ বেয়ে,

মেঘদূতের মতো যক্ষ হ'য়ে? 


হৃদয়টা তো দিয়েছেই কবে

দিয়েছি টুকরো টুকরো করে, 

দেখো ওখানেও জড়িয়ে আছো তুমি

আছো মিশে প্রতিটা অণুতে। 

আছো কতো ভাবে,কতোটা পূর্ণতায়,

আরোধ্য এক ভালোবাসা হয়ে।


তপন ঘোষ
রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর 
পেশায় ব্যাঙ্ক কর্মী ।
নেশা কবিতা লেখা 
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 
  • অন্তরীক্ষে  দহন
  •   মুক্ত রাশি রাশি
  • হে নিঃসঙ্গ তুমি বিহঙ্গ হও 
  • অনিত্য যে সুর নিত্য বাজে



ভাবনায় আমরা আলাদা || সীমান্ত কুমার রায়

সাহিত্যের অঙ্গনে ।।পঞ্চম সংখ্যা।। ১০জুন২০২২

ভাবনায় আমরা আলাদা 
সীমান্ত কুমার রায় 

প্রিয় হওয়া যায় তখনই 
যখন হয়তো কারো প্রয়োজন, 
তবে আমার কাছে প্রিয় হয় সেইজন 
যাকে প্রয়োজনের অধিক প্রয়োজন।

তুমি ও তোমরা তো ভালবাসো হয়তো দরকারে 
কাউকে বিকল্প বানাতে,
আর আমি ভালোবাসি আমার আত্মার সাথে 
তোমার আত্মার মিলন ঘটাতে। 

কেউবা আছে সম্পর্কের মাঝে 
শুধুই পেতে চায় দামী দামী উপহার,
আর এক আমি আশাকরি একে-অপরের প্রতি 
সৌহার্দ্যপূর্ণ সুমধুর ব্যবহার।

সময়ের সাথে সাথে তোমাদের গড়া সম্পর্কগুলো 
হয়ে ওঠে নড়বড়ে,
আর আমার মনটা যে তা পরখ করে রোজ 
হতাশ হয়ে গুমরে গুমরে মরে!

আর এখন দেখি তোমার মাঝের প্রেমগুলো সব 
এক হতে দুই বা তারও অধিকের মাঝে পরিব্যাপ্ত!
আর আমার মাঝের হতচ্ছাড়া প্রেম 
এক তোমাতেই শুধু আবদ্ধ।



সীমান্ত কুমার রায়,
স্কূল ম্যাগাজিনে প্রথম লেখা,
পত্রিকায়,ই-ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখালেখি ।
পেশাগত ভাবে শিক্ষকতা র সাথে যুক্ত।





নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন