পাগলিনী।
সোমনাথ ঘোষ।
বেশ কয়েক দিন ধরে
দেখছি পাড়ায় করছে ঘোরাঘুরি
একটি শ্যামলা পাগলী গোছের মেয়ে
পরনে শতছিন্ন ময়লা এক জামা
কি জানি কোথা থেকে এল
নেই কাহারও জানা।
বয়স তো দেখি নয়তো বেশি
শীর্ন ক্লিষ্ট কিন্তু মুখে সদাই হাসি
কি জানি কি যে খায়
কোথায় যে রাত কাটায়?
পরিধেয় বস্ত্রের অবস্থা করুন
ঢাকতে লজ্জা যতটুকু প্রয়োজন
উপযাচক হয়ে করেনি কেউ তো আয়োজন
কহিত তো না কথা কভু কারও সনে
অথবা বকবক করিত না আপন মনে ।
কেউ কিছু দিলে খাবার তরে
নিত খেয়ে দেখতাম তৃপ্তি করে
মাতৃ ভাষা কোনটি তাহার
ধর্ম টা বা কি
কেউ কখনও এটা নিয়ে মাথা
ঘামায়নি।
থাকতো সে নিজের মনে করতো ঘোরাঘুরি
করুন মুখটি ছিল বড় মায়াময়
কি জানি কাদের বাড়ির মেয়ে
সে যে বড্ড অসহায়।
বিগত বেশ কয়েক দিন ধরে
দেখি না তো পাগলী মেয়েটারে
কি জানি যে কোথায় গেল
শেষে কি ওর নিজের বাড়ি
ফিরে পেল?
হঠাৎ করে এক সকাল বেলায়
আসছে দেখি সেই অবলা অসহায়
প্রায় উলঙ্গ নারী শরীর নিয়ে
দেখি কোন এক পাপিষ্ঠ দূর্মুখ
মাতৃত্বের বীজ দিয়েছে বুনে।
ভারাক্রান্ত অসহায় মনটা নিয়ে
কত কিছুই করছি কাটা ছেড়া
লজ্জায় মরমে আমি দিশেহারা
অন্যায় করেছে এক পশুসম দূর্মুখ
আমি ও যে তারই মত এক মানুষ।
বিগত এই পাশবিক অন্যায়ের
প্রতিবাদে
হয়েছে কত মোমবাতির মিছিল
মানবাধিকারের কতই না কচকচি
কিন্তু আজ কে করিবে প্রতিবাদ
অবলা অসহায় পাগলীটারে যোগাতে আশ্বাস।
No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....