বাল্যকালের দুষ্টুমি
তসলিমা লস্কর
পড়তে গেলাম পাঠশালাতে
বেতের লাঠি নিয়ে হাতে ,
এলেন শিক্ষাগুরু
ভয়ে বুকটা দুরুদুরু।
যেই না লাঠি পড়লো পিঠে
উহঃ আহঃ আওয়াজ ওঠে !
দিলাম দৌড় রুদ্ধশ্বাসে
কেউ নেই তো আশেপাশে !
লুকিয়ে গেলাম ধানের ক্ষেতে,
বেরিয়ে এলাম নিশিত রাতে।
চুরি করতে মায়ের শাড়ি,
খাটের নিচে হামাগুড়ি।
একটা শাড়ি বাহুতে চেপে
বেরিয়ে এলাম ধুলো মেখে।
কোথাও কেউ নেই তো কাছে !
উঠলাম গিয়ে আমের গাছে।
শাড়ি জড়িয়ে দুই ডালে,
ঘুমিয়ে গেলাম তার তলে।
নেমে এলাম লুকিয়ে ভোরে।
খিদে পেয়েছে ভীষণ জোরে !
মতিলালের কলা বাগানে ,
গেলাম আমি সংগোপনে।
চট জড়ানো কলার কাঁদি,
রেখে গেছেন বস্তা বাঁধি।
পেকে হলুদ পুরোপুরি,
খেয়ে নিলাম উদর ভরি।
এমন করে দুদিন গেলো,
পরদিন আবার সন্ধ্যা হলো।
যেই শুয়েছি আমের ডালে,
একটা কলা পরল তলে।
বাবা নিচে দাঁড়িয়ে ছিলো
ভাবলো হঠাৎ একি হলো !
তাকিয়ে দেখে উপর পানে,
ঝুলে আছি আমি ওখানে ।
বাবা বলে চেঁচিয়ে তখন,
দেখে যা- তোরা বাঁদর নাচন-
নামা ওকে ঘাড়টা ধরে,
গাছের মাথায় রাত দুপুরে !
ওই তো বাঁদর আছে বসে
জোরসে দু,ঘা দেবো কষে।
সবাই ঘিরে গাছের গোড়া
দেখে চক্ষু ছানাবড়া
No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....