Wednesday, August 28, 2024

পাচন

সাহিত্যের অঙ্গনে !!


পাচন

দোষে-গুণেই মানুষ।
দোষ একটাই। হলধর প্রায় তিনজনের খাবার একাই গোগ্রাসে গিলে ফ্যালে; যেমন কুচকুচে গায়ের রং, তেমনি অসুরের মতো শক্তি শরীরে।
একবার মাঠে নামলে মোষের মতো ঘোঁস-ঘোঁস করতে করতে একসাথে তিনজনের কাজ চুটকিতে একাই সেরে ফ্যালে।

শশধর সমাজদারের মতো এককালের জমিদার গোছের কিছু মালিক তা মানতে চান না কিছুতে। তাঁদের কাজ চাই, একহাতে আরও বেশী কাজ চাই ওঁদের।
'বড়লোক' হলেও সবার মনটা তো আর ততটা 'বড়ো' হয় না; 'ছোটলোকি' স্বভাব আর কঞ্জুসি ভাবটা সহজে যায় না।

গড়িমসি আর গা-জোয়ারি করতে করতে 'জলপানের' সময়টা পার করে শশধর যখন 'গামলা' ভরা পান্তাভাতের পরিবর্তে স্রেফ বেতের একঝুড়ি সাদা খই নিয়ে 'জমির চাষ পরখ করতে' হাজির হয়েছিল হলধরের সামনে.....
মাথার উপরের জ্যৈষ্ঠের ঝনঝনে চড়া সূর্যের ঝাঁঝটা সহ্য করে তখনও হলধর ঘুড়ছিল বলদ জোড়ার পিছে পিছে!
বহুক্ষণ ধরেই পেটে তার আগুন জ্বলছিল, আর চিনচিন করে ভেতরটা সমানে পুড়ছিল....
তাই, মাথার উপরের চড়া সূর্যটাকে সহ্য করলেও হলধর আর কিছুতেই সহ্য করতে পারল না শশধরের এমন 'ইতরামো'!

আচানক, একলাফে তাড়া করে জাপটে ধরলো শশধরকে আর মুহূর্তে বলদজোড়াকে ছেড়ে 'হালের জোয়ালে' বেঁধে ফেললো শশধরকে!

তারপরই সপাসপ পিঠে 'হ্যালাপান্টির' পাচন....

চল!..হুট..হুট.! চল....

উত্তম ভট্টাচার্য

No comments:

Post a Comment

আপনার মতামত প্রদান করুন....

নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন