Friday, January 12, 2024

গোধূলির আমন্ত্রণে বীরেন্দ্র নাথ মহাপাত্র

সাহিত্যের অঙ্গনে !! গোধূলির আমন্ত্রণে  বীরেন্দ্র নাথ মহাপাত্র



গোধূলির আমন্ত্রণে 
               বীরেন্দ্র নাথ মহাপাত্র


- আরে দিদি, একটু ধীরে চলুন, আপনার আঁচলের কোণটা লেগে গেছে যে, এক্ষুণি ছিঁড়ে যাবে, না হলে টান পড়লে বক্ষ আবরণী আলগা হয়ে যাবে, এর ফলে অত লোকের সামনে অপযস্ত হয়ে যাবেন - ।
    একটু মুচকি হেসে বললেন, - দেন না দাদা, আমার দুই হাতে ব্যাগ,একটু ছাড়িয়ে, সময় হয়ে এল, পুরুলিয়া সুপার ধরবার - ।
         - ও, আমি - ও যাব, ঠিক আছে, একটু শান্ত হয়ে দাঁড়ান, প্যাঁচ খেয়ে গেছে, ছাড়াতে সময় লাগবে -।
   - ও - দাদা, একটু সরে দাঁড়ান না, কি করছেন ? এখন ও দেখছি,এই বয়সে - !
- একটু সামলিয়ে কথা বলবেন , ভদ্র মহিলা বিপদে পড়ে গেছে, সাহায্যের হাত তো বাড়ালে কি কোন প্রেম, ভালবাসা হয়ে যায়, যত সব ইয়ের দল - ।
   - আরে ! আপনি সেই বীরেন দা - না -, কিগো, তুমি এখন ও আমারে চিনতে পারছ না, আর চিনবে কি করে ? চিরকাল সেই রকম লাজুক হয়ে রয়ে গেলে, কোন চাওয়া - পাওয়ার আশাকে জোর করে ছিনিয়ে নিতে শিখলে না, তোমাকে এখন ও একজন পুরুষ ভাবতে ভীষণ লজ্জা বোধ হয় - ।
   - ও - এবারে চিনতে পারছি,তুমি কি সেই মোনালি -?
    - কি মনে হয় ? এখন ও কি সন্দেহ আছে তোমার - ?
   চল,চল,একটু পা চালিয়ে,ট্রেনটি ধরতে হবে ,সেখানে গিয়ে সব কথা হবে -।
     

   - কি করে হবে ? নিশ্চয় reservation, তাহলে -?
 - দেখি, টিকিট - ।
    D - 4- 31,32,
  - আরে আমার তো - D -4, 33,
 হাওড়া 18 নং প্লাটফর্মে লোকের প্রচুর ভীড় ,সবাই ট্রেনটি আশা পর্যন্ত অপেক্ষায় । বসার জায়গা এক বিন্দু - ও নেই । ট্রেনটি ছাড়বে 4.50 মিনিটে, ট্রেনটি আসল বটে, কিন্তু একটু দেরীতে । আমরা সিটের কাছে চলে এলাম ।
    তখন আমি বললাম, - তোমার দুটি সিট কার কার -? 
 - মেয়ে আসার কথা ছিল,কিন্তু ও - আমার সঙ্গে এল না,ওটা আমার লোকসান হলো আর কি -!
   যাই হোক সমস্যা সমাধান হয়ে গেল, ওর মেয়ের শিটে পাশের স্বামী ,স্ত্রীর ছেলে ৬- ৭ বছরের ,তাকে শিট করে দেওয়া হলো, আমি আমার শিটে বসে গেলাম ।
একটুক্ষণ বাদে ট্রেনটি নিজ গতি নিয়ে চলতে শুরু করল ।
- শুনে ছিলাম তুমি ব্যাঙ্কের ম্যানাজার বিনায়ক বাবুকে বিয়ে করেছিলে, তা এখন তোমাদের দাম্পত্য জীবন কেমন চলছে -।
- এর স্থায়িত্ব মাত্র চার বছর দুই মাস ।যখন শুনলাম ও - ওই ব্যাঙ্কের এক চাকুরী রতা মেয়েকে বিয়ে করবে বলে সন্মতি দিয়েছে, এর ফলে ছিলা- অছিলায় আমাকে অনেক কথা শুনিয়ে চলছে,তখন আমি এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, তা হলো ডিভোর্স,তখন বুঝতে পারি না যে আমি তিন মাসের গর্ভবতী,এর জন্য ঘরে বাইরে অনেক কথা শুনতে হয়েছে,এমন কি আমার বাপের বাড়ি থেকে aboretion করার চাপ দিতে থাকে,তাতে আমি সম্পূর্ণ অমত হই, যাকে আমি এই পৃথিবীতে আনছি ,তার কি দোষ ? বার বার চাপ দিয়ে ও বাপের বাড়ির লোকেরা হতাশ হয়ে যায় । তবে আমার মধ্যে জীবনে একটা challenge এসে গেল,আমাকে যে কোন প্রকারে একটা চাকুরী করতেই হবে, তা - না হলে এ - জীবনের তরী কোনমতে মাঝ নদীতে বাইতে পারব না, হয়তো ভগবান এ আমার কাতর আর্তনাদ শুনতে পেয়েছিলেন, তাই যখন গর্ভের আসন্ন সময়,তখন interview দিয়ে রেলওয়ে তে একটি চাকুরী ও পেয়ে যাই - ।
- তুমি এই মেয়েকে নিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে গিয়েছিলে বুঝি -?
  - সে আর বলতে, স্কুলে ভর্তি থেকে এই বিয়ে করার আগে পর্যন্ত, তবে ওটা মেয়ের ব্যাঙ্কের চাকুরী পাওয়ার পর আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে আসে , ও - আমাকে না জানিয়ে বিয়ে প্রায় ৮ বছর,আমার সঙ্গে কোন যোগাযোগ রাখে না,তবে ও - যখন বুঝল,মায়ের দুরবস্থা,তখনই আজকে আসবে বলেছিল,কিন্তু জামাইয়ের হঠাৎ অফিসের বিরাট জরুরী কাজের ভিত্তিতে শিলিগুড়ি,চলে যাওয়ায় মেয়ের আসা স্থগিত হয়ে যায় - ।
 - তা আজ কত বছর হলো অবসর নিলে, এখন ও কি বাপের বাড়িতে -?
 - না, এখন নিজে খড়্গপুরে বারবেটিয়া তে মাকে নিয়ে বাড়ি করে আছি,বাবা আজ ৬ বছর হলো মারা গিয়েছেন । ভাই তার সংসার নিয়ে ওই খড়গপুর এ পুরাতন বাজারে থাকে । শুধু আমার কথা শুনে যাচ্ছ,তোমার এখন কেমন চলছে -?
 - আরে অবসর কালীন অবস্থা,যেমন চলে,সেই রকম চলছে, ও হ্যাঁ, তুমি যখন ডিভোর্স নাও, তখন তোমার বয়স কত ছিল -?
- তখন আমার বয়স ছিল ৩১ বছর,আর এখন আমার বয়স ৬৫ বছর -।
- সত্যি বলতে, তোমার এই কঠিন ও সংগ্রামী বহুল জীবন,বিরাট প্রশংসার দাবী রাখে -।
- তা ,তুমি চাকুরী পেয়ে কি বিয়ে করেছিলে না বাবা ও মায়ের সুপূত্তুর হয়ে বিয়ের পিড়িতে একেবারে বসে গিয়েছিলে -?
একটু মুচকি হেসে বললাম, - একেবারে ঠিক ধরেছ, তবে তোমার প্রতি অবিচার আমি করে ফেলেছিলাম, তা - এখন - তোমার কাছে বলতে আমার কোন দ্বিধা নেই -।
দেখতে দেখতে ট্রেন খড়গপুর প্রায় এসে গেল বোধ হয় ।
- এবার আমার নামার সময় হয়ে আসছে, শুধু একটু অনুরোধ করব কি, আগে যা হয়েছে,সেটা উভয়েই বাতিলের খাতায় ঝেড়ে ফেলে দাও , তাই তোমাকে আমি আমার তরফ থেকে গোধূলির আমন্ত্রণ জানিয়ে গেলাম,যদি মনে করো,একবার হলে ও আমার বাড়ি এসে ঘুরে যেও, প্লাটফর্মে মোনালি নেমে হাত নাড়ল আর আমি ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে হাত নাড়লাম ।




No comments:

Post a Comment

আপনার মতামত প্রদান করুন....

নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন