সেই গল্পটা
কৃষ্ণেন্দু নস্কর
আচ্ছা মেঘের বিয়েটা তো পাহাড়ের সাথে হলো না!....
কেহ কি পাহাড়ের মরুহৃদয়,পাঁজরের খঞ্জনির
বারিধারা শুনিয়াছো ? সাতরাঙা সব স্বপ্ন কল্পতরীর !...
দেখিয়াছ কি বৃত্ত বিহীন মেঘের ধারা বেগ,
শিখর চূড়ার দিগন্ত চুমি ঝড়ের মত্তলীলা,
বজ্রপ্রিয়ার অন্তসীলা নির্জন গিরি শিরে।
শুভ্রতুষারে রাতের সূর্যাস্ত মরুসাগর নীড়ে,
সপ্ত-ঋষির তানপুরার নীরব রাগিনির লিন,
সোনার-অর্ঘ্যে ঘুঙুরের মতো কেঁদে ।
পাহাড় এখনো নোয়ায়নি শির, আকাশ হৃদয়ে আঁকে।
মেঘ যে বড় পাহাড় খোঁজে!...ছায়াহীন মরুতলে।
আজি এ রণে সাধিব না কভু পড়ে থাকা রনস্থল,
সোহাগ দিয়ে ছুপিয়েছি তব সুপ্ত শিশুর ঘুমন্ত আঁচল।
বিপনী সময় বন্দীনু পুলকে জ্যোৎস্নার রঙে হেসে,
কল্পনা আজি চলিছে উড়িয়ে সোহাগের ফুলে ভেসে।
শিশির কাঁদেনা শীতের শুন্যে পাহাড় উদাসী থির
নীলিমার জটা,কালো আঁখি পুটে শিশির বারি স্থির ।
অ-থই নিথর পাহাড় জ্বলে, মুদে আসে আঁখিপাতা মহিতলে,
হিমু-উষ্ণতা যে নেই তাহার করাল জ্যোৎস্নায় মৃয়মান।
ডাকহীন নিস্তব্ধ দুপুর স্তরে,ছটায় ছটায় জোছনা ঝরে
বৃত্তবিহীন পরাগ টোপার বানাঘাত কি তব হরে ।
কাপয়ে গোধন বজ্র শনিতে ধার শিখন্ডি-পশ্চাতে,
গ্রহণ করোহ স্পর্শে অঙ্গ,অনল প্রাচীরে গ্রাসিলে বীরের যম।
নিজ গৃহ পথ সম্ভাশে শৃগাল,পঙ্খিল শলিলে নবমৃত সুকুমার।
বিমোহিত আজি ছন্দপতন আপন গতিতে ক্ষয় ,
চঞ্চলা ধারায় তবু যেন,ফেলে আসা পথ নিরব ছুটিয়া ধায়,
রক্তপ্লূত রৌদ্র অতীত শিঞ্জিতের তালে,এখনো কুসুম দামের ঘ্রাণ।
ভাবছো তোমরা ব্যাথা লাগে কিনা?
পাহাড় বহিয়া ছটায় ছটায় তপ্ত চাঁদোয়া পুলিন ।
পাথরের বুকে কামাতুর গিরি অথৈ পাদদেশ ।
এত দাবানলে বনদাহ,জ্বলিলো সকলি,
সাবক সহিতো মরিল,পক্ষী নিড়ের দগ্ধ কালিন্দী,
গবাক্ষ পথ স্নিগ্ধ ক্ষয়ে ক্ষয়ে,
যে !.প্রহর রাত্রে রুধীরের স্রোত পেশোয়ান পড়িয়া নাচে।
যে পুরুষ চিলিয়ানাওয়ালা দেখিয়াছে,
সেও হতাশ্বাসে এ রণে ভাসে ।
বনের লতার মত ফুলিয়া ফুলিয়া দুলিয়া,
কালিয়া দমনে কালনাগিনীরা, মেঠে শ্মশান ঘাস বনে।
কার ও মাথুর মিলনে অনন্ত নীল, আছে সমুদ্রের মৃদু মৃদু নিনাদ ।
দেখিয়াছ কি! আছে আমার মাঝে?...অপূর্ব এক সাজে
দেখেছো তো শুধু বালারুণ রশ্মি, অনন্ত উজ্জ্বল রেখা,
তীরে জলচর-পক্ষিকুল নিল-জল শ্বেতরেখা,
তরঙ্গ শীরে ফেনোমালার অর্ণবপোত,
শুষ্ক কুসুম আকাশ পৃথিবী, নব পল্লবীত চূতো বৃক্ষ,
সূর্যকিরণ ক্রীড়া,
গিরিখাদে ছিটিয়ে রয়েছে উদয় রক্তক্ষর।
চক্ষু বোধাতিত গুনে কাল-ভৈরব ,
ভাসিয়া বাল্য-প্রনয়ে অভিসম্পাত।
ফেনচক্র মধ্যে মেঘরুদ্ধতপ্ত, লহরির পর লহরী তুলিয়া,
প্রহর রাত্রে নিঃশ্বাস বায়ুর গর্জন।
যেন চন্দ্র-কর শরীর গড়িছে, নৃত্যে সবুজের উপবন।
পাহাড় ছিল মেঘের ঢেউ জলে সলিলে ,
মেঘ ছিল পাহাড়ের আলিঙ্গনে অন্ত-মিলে।.......
......আজীবন।
রঙিন মোড়কে
কৃষ্ণেন্দু নস্কর
পেশাদার জাদুকরের সাজানো মঞ্চে দাবানলের গভীর শ্বাসে অবসাদের স্বাদে,
আজ বিশ্বাসের পুতুল ঝুলছে অবিশ্বাসের দেওয়ালের রঙিন মোড়কে ভোগের পণ্যে।
অপ্রকাশিত অভিযোগ ভেতরে চাপা দিয়ে,
ধমনীতে আর ঢেউ তুলি না,
হৃদ- যন্ত্রের জলপ্রপাতে মৃত্যুমুখী চোখের আঙিনে,
গঙ্গা-যমুনার যাত্রাপালায় পেশীদের বিদ্রোহ,
নাভিশ্বাসে চলে আজ দিনযাপন,
গহিন লুকানো ব্যথার খবর পায়না নক্ষত্রপুঞ্জ।
তাইতো নিকষ কালো অন্ধকারে প্রেমের আসক্তিতে,
শতাব্দী অস্তিত্ব কাল-গব্বরে স্থবির,
গিলে খায় পুরো আকাশটা,
উড়নচণ্ডী আমার মন-পাখি; সাজবেলার আকাশে; নিরব খুঁজে শুকতারাদের ঘুম,
কৃষ্ণ চাঁদের আলোয় স্বপ্নের আবেশ।
অতি আদরে গড়ে তোলা আমার ভালোবাসার কুঞ্জটা ভেঙেছে ভূধরে,
নাগপাশের বাঁধন ঔদ্ধত্যতার কথার বানে ছিঁড়েছে রঙিন মোড়ক।
আমার ভালোবাসার অভ্যান্তরে উথাল পাতাল জোয়ার ভাটা,
আখ্যায়িত সংজ্ঞা এভারেস্টের রূপ নেয়,
অপ্রকাশিত রাত্রির দ্বিপ্রহরে ভাবনার ছেদ,
দীর্ঘশ্বাসে আজও বয়ে চলা অবহেলার পাহাড়ে ;
তুমিহীন বিবর্ণতার আকাশ।
আত্মসম্মান খর্ব হলেও!......
আমাদের অবচেতনে জাগ্রত হয় ভুক্তভোগী আমিটার
" জলে আগুন ধরে স্নান ঘরে পুড়ে গেছে একটি সমুদ্র ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ”
শেষ বিকালের স্মৃতিগুলো আজও মনে আড়াল করি;
কতশত খুনসুটি,হাজারো স্মৃতি ধুয়ে চলে পুড়িয়ে চোখের পাতা,
তোমার মনের সুন্দর টকটকে ঝকঝকে পাঠাগারের মরীচিকায় ;
অহেতুন এলোমেলো ভাবনা ঝড় আজ স্মৃতির ছেড়া পাতায়।
হাসনা মাতাল গন্ধে নিশুতি রাতে চলে শহরতলীর বাঁকে সেই একলা পাখির খোঁজ,
স্রোতের বিপরীতে বৈঠা জলের বুকে এলোচুলে জড়ানো ঝড়ো বাতাসে ;
শুনবো তোমার আহ্বান,
আমি যে ভালোবাসা হীন শহরে এক ক্ষুদ্র ছাপোষ প্রাণী।
জীবন খাতার পরিধি গেলে অন্য বর্ণের ভিন্নমাত্রা যোগ করে অর্ধ সমাপ্তির ছবির আদলে,
শূন্যতার খাতায় অবাধ বিচরণ আলোক রশ্মি জ্বলে।
সেথায় হিসেবের অংক ভুল চুল, ছন্দ হারিয়ে খুঁজি মিঠে কবিতায় ঝরনার সুখ।
কড়া ভাষা পাওয়া তার উত্তরের অপেক্ষায় উন্মুখ ছিদ্র নৌকায় প্রকাশিত ইচ্ছেগুলো মুক্ত চন্দ্রে লাজের তালে সাজায় জীবনপাতা,
ঘোমটা তোলে মুগ্ধনীয় হরেক রকম সাজ।
সুযোগ-সন্ধানী বহুরূপী মন কোথায় লুকাবে এ-লাজ … সুযোগ এসেছে আজ শেষবার আকাশ দেখার,
বুকের গহীন জমানো কালো মেঘে আবার হারিয়ে যাব প্রেয়সির হাতের ভাঁজে, অমৃত সুধার সন্ধানে শতাব্দীর পর শতাব্দী বিশ্বের কলঙ্ক কুড়াইয়া।
নীলদর্পণ
কৃষ্ণেন্দু নস্কর
🫀অবহেলার বাতায়নের রুদ্ধ দ্বারের নীলনদে;
উত্তাল ঢেউয়ে আজীবন অপেক্ষায় সূর্য ডোবে;
দৃষ্টি থমকে আলো নিভে যায়।
সম্পর্কের তিক্ততার চে বিচ্ছেদটাই শ্রেয়!..
একই বৃত্তে বাস তবুও ঐ কয়েক আলোকবর্ষ;
দূরত্বের ছেদ ছুঁয়ে যায় না ;ইচ্ছে পূরনের বোবা চিৎকার।
যে তুমি দিয়েছো আমার বিরান স্নেহের এক আকাশ পরশ,
ঐ নীলস্রোতের আদরে;
আমি অজস্র বার দিয়েছি ডুব-সাঁতার।
তোমারে জ্যোৎস্নামাখা বিনিদ্র আঁখির ;
কাজল হরণীর-শুক্লা-দ্বাদশীর রাতে,
এক মাতাল ঝড়ে অজস্র কামনাগুলো;
মিশে পদ্মপাতায় জ্বলে; ঠোঁটে চিলতে হাসির তট।
আমি মেলবোনা আর স্বপ্নডানা কৃষ্ণচূড়ার বুকে ;
ঐ নীল মেঘের ছোঁয়ায়,
আমি লিখবো না আর রাতের সূর্যের জ্বলে-নেভা কোন কাব্য কথা ;
ঐ ছেড়া স্মৃতির পাতায়।
🫀তুমি তো ছিলে শীতল ভরের কুয়াশায় চাদরের-আলিঙ্গন,
উষ্ণ-উত্তপ্ত বৈ রোদে; বৃষ্টি ভেজা ছোঁয়া।
নিশীথের ঘন কালো নিঃসঙ্গতায় দেখ তবুও প্রদীপ জ্বলে!.
অতল স্মৃতি হাতড়ে আপন বাহুডোরে;
আবেগ জড়ানো অশ্রুকণায় ;
আমি আকাশ ছুঁতে পারিনি,
কোন অভিমানী মেঘের আড়ালে-করছে গ্রাস;
পুরো আমিত্বটা কে,
আঁধারে মিলিয়ে যাওয়ার সময় এবার!.........
দীর্ঘশ্বাসে আজ ধুলো জমা ঝাপসা হৃদয়ের আয়না;
এখানে শালীনতার মরন কুপ, মস্তিষ্কের স্নিগ্ধ নিস্তব্ধতায়
গোপনে অপ্রকাশ্যে শুকনো ঠোঁটের আলিঙ্গন।
🫀এক বরফ-শীতল সকালে উষ্ণ-
রোদের বৃষ্টি ভেজা সাগর দ্বারে
বাস্তবতার ছোঁয়াচে রোগ কৃত্রিম পরিহাস,
ক্লান্ত কোমল ঠোঁট দুটি যেন কাজল আঁকা দু-চোখ;
বিদ্যুতের আভাসে আচ্ছন্ন ক্ষণিকের উত্তোলন।
আমিও অভিমানে হারাবো মেঘের ঘনঘটায় ;
বৃষ্টির ফোটা হয়ে ক্লান্ত দৃষ্টিতে পরিপূরক হব;
তোমাতে বিলীন হয়ে নৃত্যে ডুবে,
স্বর্গের পরাজিত কানন থেকে মর্তের নন্দন-কাননে;
সোঁদা গন্ধ বিচ্ছুরিত করে ;নকশী- কাঁথায় আঁকা জলছবিই ,
ছুঁয়ে যাব তোমার ভিতরে থাকা আমিটা কে।
🫀 বিশ্বচরাচরের কঠিনতম নেশার স্রোতে ;
ভাসতে ভাসতে মোহনায় সাদৃশ্য হব,
স্মৃতিগুলো নীল খামে বন্দি রেখে ;
মন খারাপের কবরে লুটিয়ে ;
ঐক্যতায় সর্বদা থাকিব একতায়।
ভয়ঙ্কর কৌশল- ফাঁদের অন্ধকারে-
মুঠো-জোনাকি আলো-কুড়াইয়া ;
জোসনায় ভেজা উৎকণ্ঠিত আবেগে,
ব্যালকনিতে দেখো চাঁদও হাসে মেঘের ফাঁকে ফাঁকে,
অনুভূতির হিসাবের মূল্যায়ন এখানে শূন্যতায় পূর্ণ।
🫀প্রকৃতির মাঝে নির্ঘুম রাতের তিক্ততার মহিরুরে,
আজও রাখালের বাঁশির সুরে; সুখ কুড়িয়ে চলা;
চারপাশে ব্যর্থতার পর্যবসিত শিখার বজ্রনিনাদে।
সুঘ্রান ছাড়ানো নিল পথের পাড়ে অভিশপ্ত রশ্মিই-
থমকে দাঁড়ানো বিকেলের রং!.....
নিস্তব্ধতার আড়াল ভেঙে; হৃদয়ে আঁখিতে রক্তের বুদবুদ, বীভৎস বধ্যভূমিতে শুকনো ঠোঁটের পরশ-লতায় "নীলদর্পণ "
No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....