অমোঘ মেঘ
কৃষ্ণেন্দু নস্কর
আমি ভেবে হই দিশেহারা;
তোমার বিরহের সুর ধরেছি,
একতারা মন প্রেমের রাগের ছড়ায়,
তীব্র গন্ধে পাগলপারা নেশার আকুল হয়ে ,
সে বোঝেনা কাব্যকথা সোহাগ মাখার দ্রোহে।
রোজ রজনী সাক্ষী রেখে যাকে দিলাম মন,
স্বপ্ন আশার গুড়ে বালি বৃথাই আয়োজন,
তবে কেন বোঝেনা প্রেমিক সত্যি ভালোবাসা,
বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরা আদরবাসার শেষে।
ছাদ বাগানের আলতা রাঙা ছিটায় সূর্য যখন ঢলে,
সুখ পাখিটা সুরে মাতাল সন্ধাপ্রদিপ জ্বলে।
সূর্য রাঙ্গা সিঁদুর ছিটায় নীল আকাশের বেড়া,
মুক্ত আকাশ রাতজাগা মন স্মৃতির কাঁটায় ঘেরা।
মন পাখিটা খেয়াল স্রোতে ছুটছে নীড়ের মায়ায়,
অনু-বাক্য আঁকড়ে বাঁচিয়ে রাখা কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায়,
" কিছু পাখি যাচ্ছে ফিরে ঝাঁকে,
নিড়ের মায়া চোখের কোনে আঁকে,
কিছু পাখির দিন ফুরায় না কভু,
অতীত নিয়ে একলা পড়ে থাকে।
সুর ধরেছি প্রেমরাগে অকারণে মায়ায় জড়াই খুব,
কালসিটে মুছে আদর দাগি তৃষ্ণা কাতর মন
জুড়াতে দিই সাগরে ডুব ।
তোমারি ছুড়ে মারার অবহেলায় কি অদ্ভুত তাইনা!!
জানতে চাও কতটা গিয়েছি দূরে,
সামনে নয় তাকাও পিছন ঘুরে।
চোখের শ্রাবণে অন্ধকার আকাশের ঘনঘটায়,
ফিরে তাকালে অনিক গগনে ঝরতো অঝোর ধারায়,
তোমার ভালবাসার ছিটেফোঁটায়, জানালার সুগন্ধীতে আর মনে মাখা হয়ে ওঠেনা কোন আক্ষেপে অনুযোগের সন্ধিতে।
বোকা পাগলামির জলফড়িংয়ের বুক চিরে,
সৃষ্টি করে ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণা আলিঙ্গনের ভিড়ে।
লুকানো গল্পের নেপথ্য উঠবেনা কষ্টের আসল সত্য,
সংগোপনে আমিটা কলুর বলদের মত,
হদ্যবোকা আত্মপ্রেমি মন,
আমিত্বের অস্তিত্বের মুঠো ছাইয়ে;
নিঃশব্দে কষ্টগুলো ঝেড়ে খোঁজ নাও কি প্রতিরোজ,
অবিরত নিজেকেই ঠকিয়ে চলি ভুল পাত্রে ঢেলে,
আমি জানি তবু যে বুঝতে দিই না তোমাকে
প্রেমময়ে আজ অন্ধকার কবরের গভীরে নিখোঁজ,
তীব্র গন্ধের পাগলপারা নেশায় আকুল হয়ে,
তবুও ছুটি কিট ও কাটার সব যাতনা শয়ে।
কাঁটার ঘায়ে রক্ত রাঙে বুকের ভিতর ক্ষরণ,
কিট গুলো খায় কুরে কুরে হয় না তবুও মরণ।
লুকোচুরি নয়ন মেলায় খেলাতে করলে বাজিমাত,
বিশ্বাসটা ভেঙে চুরে স্মিত হাস্যে করলে ধুলিস্যাৎ,
ঘৃণায় ভরা চোখ দুটো মোর ব্যথায় ভরা বুক,
ঘৃণার মাঝে খুঁজে ফিরি ভালোবাসার সুখ।
কবির ভালোবাসায়
রঙ বেরঙের হৃদয়ের ঊষর জমিন;
যতই দীপ্ত গভীর হোক,
হৃদয় মনের সংগোপনে যতই আপন হোক,
অপাত্রে প্রেম ঢেলেকবি বাড়াই শুধু শোক।
ছাদ বাগানের গোলাপ বলে,
কবে তুমি আমার হবে,নেবে আমার ভার।
ময়না তখন ক্লান্ত সুরে কয়,
কবে পাবো স্বপ্নেদেখা রূপকথার সংসার।
যুদ্ধ শেষে ক্লান্ত দেহ এলিয়ে যখন রাত বিছানায় -
ছড়িয়ে আছে নষ্ট আলো টুকরো শোক,
নিঃস্ব মেয়ের গল্প জুড়ে যাচ্ছে একি কোন ঠিকানায়,
না হয় ভালবাসার বৃষ্টি হোক ।
হে আমার অভিমানী ভাসিয়ে নৈসর্গিক আবেদন,
তোমার বুঝি শুধু ভাবা খিদে নিশীথ রাতের,
তুই আমার একাকিত্বের হৃদয় হরণকারী,
বিনে পয়সায় শরীর বিকয় সস্তা প্রতীত জাতের।
বহমান হিংস্র ঢেউয়ে আমার ভাসিয়ে এসোনা তুমি,
অভিমানী সাগরের দ্বার রুদ্ধদ্বারে,
জ্বলন্ত হৃদয়ের তপ্ত লাভায় একাকিত্বের সোভা ফুটছে,
বাঁচবো কিভাবে নিজেকে ব্যসা ভাবার দ্রহে।
এক সমুদ্র ভালোবেসেও সম্মান যে আমি পাই নি,
ভালবাসার কাঙ্গাল আমি এমন প্রেম তো আমি চাইনি।
এমন জ্বালায় জ্বলবো আমি তোমায় ভালবেসে,
হয়তো ছিল বিধির বিধান ঘটল পরিশেষে ।।
No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....