Thursday, July 3, 2025

পঁচিশ হাজার সাত শো বাহান্ন মধুসূদন দরিপা

মুকুর অনলাইন আষাঢ় সংখ্যা



পঁচিশ হাজার সাত শো বাহান্ন 

মধুসূদন দরিপা




আমাদের বসতবাড়ির কাছেই

মস্ত একটা সরোবর ছিল

সমুদ্রের মতো নীল জল টলটল করতো সেখানে

পদ্ম আর পদ্মপাতা মিলে ছিল

আশ্চর্য এক মায়ার জগত

পাখিরা বসে বসে স্বপ্ন বুনে যেত 

উলের কাঁটার মতো

মাছেরা টুপ টুপ করে গিলে নিত

সেইসব নব নব জন্মের বীজ

তাদের পাখনায় শরীরে অলৌকিক রোদ

চুমু খেতে ভেসে উঠত মৎসকন্যারা

সরোবরের তীরে গাছ ছিল অনেক 

বিচিত্রবর্ণ বিচিত্রগন্ধ ফুল পাতা 

ছিল তাদের অলংকার

এমন একটি পারিজাত উদ্যান অমরাবতীর কাছে 

স্বভাবজ কারণে ছুটে আসতো সমুদ্রের বাতাস 


সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল ঘড়ির কাঁটার মতো

সাজানো বিয়ের কনেটির মতো অথবা 

নিত্যপুজো পাওয়া স্থবির বিগ্রহের মতো 

গোল বাধল সেখানে তথাকথিত 

কিছু অবতারের অনুপ্রবেশে 

যারা এসেই শুরু করলো 

সরোবরের জল শোষণ করতে 

তারপর যথারীতি একদিন

সরোবরের জল গেল শুকিয়ে 

পড়ে রইলো শুধু এক বর্জ্য জমি আর তার গর্ভে শুকিয়ে যাওয়া ফুল পাতা গাছ

মৃত পাখি আর মাছগুলি সব 

রাজার পেয়াদা এসে অবতারদের

খাঁচাবন্দী করলো ঠিকই

কিন্তু মায়ার জগতে আর ওঠে না অলৌকিক রোদ

পাখিরা উড়ে এসে বোনে না নব নব স্বপ্নের বীজ


শুধু সমুদ্রের হাওয়া ছুটে আসে এখনও 

প্রশ্ন করে আকাশের কাছে 

বৃষ্টির জল আসবে কবে ? কবে?


No comments:

Post a Comment

আপনার মতামত প্রদান করুন....

নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন