পঁচিশ হাজার সাত শো বাহান্ন
মধুসূদন দরিপা
আমাদের বসতবাড়ির কাছেই
মস্ত একটা সরোবর ছিল
সমুদ্রের মতো নীল জল টলটল করতো সেখানে
পদ্ম আর পদ্মপাতা মিলে ছিল
আশ্চর্য এক মায়ার জগত
পাখিরা বসে বসে স্বপ্ন বুনে যেত
উলের কাঁটার মতো
মাছেরা টুপ টুপ করে গিলে নিত
সেইসব নব নব জন্মের বীজ
তাদের পাখনায় শরীরে অলৌকিক রোদ
চুমু খেতে ভেসে উঠত মৎসকন্যারা
সরোবরের তীরে গাছ ছিল অনেক
বিচিত্রবর্ণ বিচিত্রগন্ধ ফুল পাতা
ছিল তাদের অলংকার
এমন একটি পারিজাত উদ্যান অমরাবতীর কাছে
স্বভাবজ কারণে ছুটে আসতো সমুদ্রের বাতাস
সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল ঘড়ির কাঁটার মতো
সাজানো বিয়ের কনেটির মতো অথবা
নিত্যপুজো পাওয়া স্থবির বিগ্রহের মতো
গোল বাধল সেখানে তথাকথিত
কিছু অবতারের অনুপ্রবেশে
যারা এসেই শুরু করলো
সরোবরের জল শোষণ করতে
তারপর যথারীতি একদিন
সরোবরের জল গেল শুকিয়ে
পড়ে রইলো শুধু এক বর্জ্য জমি আর তার গর্ভে শুকিয়ে যাওয়া ফুল পাতা গাছ
মৃত পাখি আর মাছগুলি সব
রাজার পেয়াদা এসে অবতারদের
খাঁচাবন্দী করলো ঠিকই
কিন্তু মায়ার জগতে আর ওঠে না অলৌকিক রোদ
পাখিরা উড়ে এসে বোনে না নব নব স্বপ্নের বীজ
শুধু সমুদ্রের হাওয়া ছুটে আসে এখনও
প্রশ্ন করে আকাশের কাছে
বৃষ্টির জল আসবে কবে ? কবে?
No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....