আমার অবহেলা
রঞ্জিনী
আকাশে কালবৈশাখী ঝড় উঠেছে। ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে আকাশ। ঘনঘন বিদুৎ চমকাছে আকাশে। মেঘ ঝড় বিদ্যুৎ দেখে পালিয়ে যাওয়া মেয়েটি দাঁড়িয়ে থাকে খোলা বারান্দায়। দমকা ঝড়ে স্বাধীন ভাবে উড়তে থাকে তার আঁচল। খোলা চুলে জট পেকে যায় বারংবার এলোমেলো হয়ে। চোখের কাজল ঘেঁটে লেপটে থাকে চোখের তলায় কালি হয়ে। কিন্তু কোনো খেয়াল নেই মেয়ের। ঘন কালো মেঘ মেয়েটির ঘন কাজলে ভয় পেয়ে জিজ্ঞাসা করে বসে...
—ও মেয়ে লেপটে গেছে কাজল। এ যে খুব ঘন!
—এটা কাজল নয়। আমার প্রতি করা তোমার অবহেলা।
—আমার অবহেলা!
—বন্ধ দরজায় যেদিন বারংবার আছড়ে পড়েছিলাম কান্নায় সেদিন তোমার দেখা চেয়ে ছিলাম। পাছে কেউ শুনে নেই আমার কান্নার শব্দ। কিন্তু তুমি আসনি। প্রেমিকে আটকে রাখার জন্য যখন অনুনয় করেছিলাম তোমায়, তখনও ঝড়ে পড়োনি। আগুন লেগেছিল যখন আমার মনে তার অবহেলায়, ভিজতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু তখনও অবহেলা করে দূরে ঢেলে দিয়েছিলে আমায়। আমি কি এতোটাই গুরুত্বহীন মানুষ।
—পাগলি মেয়ে বটে তুমি...বসন্তে কালবৈশাখী আসে বুঝি! আমায় চাইলে অথচ আমার সময়কে ভুলে গেলে হয়। আর এতোটা অযত্নে থেকো না। প্রত্যেক কালবৈশাখীর পর ওলট পালট হয়ে যাওয়া প্রকৃতি বুঝতে পারে তাদের আসল দক্ষতা।
—দক্ষতা!
—আম ঝড়ের দাপটেও জড়িয়ে থাকে তার কুটির। কারন সে ভরসা ও বিশ্বাসযোগ্যতার মানে বোঝে। আবার আমার দাপটে জাম পড়ে গিয়ে বুঝিয়ে দেয় এতোটাও সহজলভ্য না হতে। তাই কালবৈশাখী আসলে মন খারাপ নয় উপভোগ করো।
No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....