সমীরন’দা আমার সহকর্মী
স্নেহাশীষ দাস
গ্যালভ্যানোমিটার এর ল্যাব করতে গিয়ে প্রথম দেখা।
তৃতীয় বর্ষের সমীরন হোঁচট খেয়েছিলো,
কাঁচা কলাপাতায় মোড়া সালোয়ার পরিহিতার,
কাজল কালো নয়নের ট্যারা চাহনীতে। ।
সমীরন’দা আমার সহকর্মী। ।
অনন্যা তখন স্কুলের গন্ডী টপকে ফিজিক্স অনার্স।
সিনিয়র দাদার ঈশারায় সাড়া দিলো অনায়াসেই।
ডেনিম জিন্স আর রিমলেস চশমায় প্রেমে পড়লো,
শ্যামসুন্দর কলেজের অষ্টাদশী। ।
সমীরন’দা আমার সহকর্মী । ।
কলেজের শেষদিন।
ডি পি ডি’র ক্লাস শেষে,
ডার্ক রূমের ল্যাব পেরিয়ে,
শেষ সূর্যের আলো গায়ে মেখে,
স্টুডেন্টস ইউনিয়নের রূম বামদিকে রেখে,
উনিশের মেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো সমীরনের বুকে। ।
অবলা সিগারেট টা ছিটকে পড়লো ছাতিমতলায়। ।
সমীরন’দা আমার সহকর্মী। ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে,
সংসারের চাপ মাথায় নিয়ে,
সারাদিন টিউশান আর এস এস সি।
দিনের শেষে প্রেমের তরী,
নিরুদ্দেশ ঠিকানায় চলতে থাকে।
মাঝি বসে রয় কিনারায় । ।
সমীরন’দা আমার সহকর্মী । ।
হাইওয়ে ধরে গাড়ী ছুটে চলে।
একটার পর একটা সিগারেট জ্বলতে থাকে,
বাম হাতের তর্জনী আর মধ্যমার মাঝখানে।
দূর্গাপুর ব্যারেজে এসে থমকে দাঁড়ায়। ।
সমীরন’দা আমার সহকর্মী। ।
বসন্ত আর গ্রীষ্মের প্রবল দাবদাহে,
শুকনো দামোদরে সমীরন খুঁজতে থাকে,
সতেরো বছর আগের সেই বসার জায়গা,
যেখানে বসে শত প্রতিশ্রুতি মিথ্যে করে,
অকাল বন্যায় আজকের দিনে,
অনন্যা দামোদরের কোলে হারিয়ে গিয়েছিলো,
সমীরন কে একলা করে। ।
ব্যারেজের লক আজ আর খুললো না। ।
সমীরন’দা আমার সহকর্মী। ।
No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....