সেদিন সন্ধ্যায়
অনুপ কুমার জানা
তখন আমি দশম শ্রেণীতে
সখ জাগলো সিনেমা দেখার ,
স্কুলে , কলেজে , রাস্তায় সবার মুখে ,
" টারজান এখন নিচ্ছে বাজার "।
দিবাকর , দিলীপ , মৃণালকে নিয়ে
গেলাম গৌড়ায় ইভিনিং শো-তে ,
শেষ হয় হয় কৈশোর আমাদের
দেখলাম " টারজান " মোজ-মস্তিতে !
অদম্য শক্তি টারজানের কতো !
বন্দুক , পিস্তল তুচ্ছ তার নিকট ;
লৌহসম তার দেহখানি হলেও
রোমান্সে ভরা স্বীকৃত অকপট !
সিনেমার যবনিকা আটটা তিরিশে
ঘুটঘুটে অন্ধকার , কৃষ্ণপক্ষের তিথি ,
টর্চের বাহুল্যতা ছিল না কারও
অন্ধকারে সাইকেলিং নিশ্চিত নির্বুদ্ধি !
কৈশোর যদিও কাটেনি তখনও
" টারজান" দিয়েছে যৌবনের জোশ ,
নয়ন যদিও দৃষ্টিদানে অপরাগ
আকুল হৃদয়ও করেনি আপোষ ।
চলেছি তবু , যেন চোখ বন্ধ সবার
দুম ! -- পড়লাম আমি পিচের কিনারায় ,
ফেরা তো বড় দুর্গম বাড়িতে আজ
বাড়ির কথা স্মরণে কণ্ঠ শুকায় !
নিকটস্থ দিবাকরের আত্মীয় বাড়ি
অগত্যা চারজনেই গেলাম সেখানে ,
রাত্রিটা কাটিয়ে ফিরবো সকালেই
ওদিকে সোরগোল আমাদের সন্ধানে !
বাড়ি ফিরতেই ধুন্দুমার কাণ্ড !
কৈফিয়ৎ দিতে প্রাণ ওষ্ঠাগত ,
মায়ের সহায়তায় বাঁচালাম পিঠ
পুনরাবৃত্তি হবে না প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ।
No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....