অন্যরূপে
অনন্ত
পৃথিবীর প্রতিটি দেশ কিছু না কিছু কুসংস্কারে আচ্ছন্ন।
ভারতবর্ষ এর বাইরে ছিল না ।একটা সময় ,অন্যান্য দেশ অপেক্ষা ভারতবর্ষে অস্পৃশ্যতার অভিশাপ ছিল অনেক বেশী।বড় বড় নেতারা ও মহাপুরুষদের বাণী, উল্লেখ্য বিবেকানন্দের কথা, যারা আমাদেরকে সেই অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে এসেছিলেন। অর্থাৎ ভারতীয়রা কিছু পরিমাণে হলেও, ওই অভিশাপ থেকে একটু একটু করে মুক্তি লাভ করেছিল ।
আমাদের এই উদ্যোগের বাদ সাজল আরেকটি মহামারী ,করোনা ।যে দূরত্ব ঘুচানোর উদ্দেশ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চলছিল, সেই দূরত্ব বেড়ে গেল শুধুমাত্র অন্য নামে অন্য রূপে ।
একসময় জাতপাতের বিভেদ করে , ধনী গরীব এর ওপর ভিত্তি করে দূরত্বকে বাড়ানো হয়েছিল ।এখন দূরত্ব বাড়ানোর জন্য নতুন বিষয় রোগের সংক্রমণ ।
ছোঁয়াচে রোগ তাতে আবার মৃত্যুর পরিমাণ বেশী,উপযুক্ত প্রতিকার হীন অবস্থা সব মিলিয়ে আর এই মৃত্যুভয় আমদের দিশেহারা করে দিয়েছে ।
আমরা পরম আত্মীয় কেও পাঠিয়ে দিলাম দূরে, এবং স্পর্শ করার কথা ভাবতেও পারতাম না ।
এইরকম যে বিষয়টা তাকে আমরা কখনই অস্পৃশ্যতা বলব না ,কারণ কার্য একই হলেও কারণ আলাদা।যাই হোক এই আধুনিক অস্পৃশ্যতার আধুনিক নাম হল সোশ্যাল ডিসটেন্স।
সামাজিক দূরত্ব, বহু শতাব্দীর নিরলস প্রচেষ্টায় একটু একটু করে তা দূরে ঠেলে দিয়ে আমরা আধুনিক মানুষ হয়ে উঠেছিলাম।সময়ের চক্রে আবার সেই ছায়া ফিরে এল অন্যভাবে ।সেই বিষয়টিকে সাদর আমন্ত্রণ হল মহা সমারোহে।
কেবলমাত্র স্বাভাবিক জীবন স্রোত থেকে দূরে থেকে, মনের গতি প্রকৃতির বিরুদ্ধে বিপরীত স্রোত এ প্রবাহিত হয়ে এইভাবে দুটো বছর, কিভাবে কি অবস্থার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে, তার স্মৃতি রোমন্থন না করাই ভালো।
সেই পূর্ব স্রোত কিভাবে ফিরে আসবে? কতটা স্বাভাবিক হবে ?তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অবশ্য সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই যখন স্বাভাবিক হয়ে যায়, এই আশায় থাকবে মানব জগৎ এই সোসিয়াল ডিস্টান্সিং নামক অস্পৃশ্য বস্তুটি ও আস্তে আস্তে একদিন বিদায় নেবে পৃথিবী থেকে।।

No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....