Thursday, May 19, 2022

পেঙ্গুইন মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম

পেঙ্গুইন
মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম 



সন্ধ্যা নামি নামি করছে; সুর্য পশ্চিম আকাশে অস্ত যাবার যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে। হতভাগা শহুরে বাসিন্দা, দিগন্তের সবুজের উপর লাল আভায় প্রকৃতির অপরুপ শোভা দেখার সৌভাগ্য এই কংক্রিটের জংগলে নেই। সেই জংগলের বিরুপ প্রভাব পরেছে এই নগরের মানুষের আচরনেও, এরকম একটি আচরনে প্রচন্ড বিরক্ত হলেন করিম সাহেব।
বিরক্তটা হলেন, বাস থেকে নামার সময়। তিনি সচরাচর বাসে চলাফেরা করেন না। আজ গাড়ি না থাকায় বাসে আসতে হলো আনেকটা বাধ্য হয়েই। বাসে তোলার সময় আদর করে তুলবে, কিন্তু নামার সময় ভদ্রতা সভ্যতার ধারে কাছ দিয়েও এরা যায় না । যথাযথভাবে বাস থামিয়ে যাত্রী নামাতে সমস্যা কোথায়? আর একটু হলেইতো দুর্ঘটনা হতে পারতো। সবকিছুতেই বড্ড তারাহুরো।
করিম সাহেবের বয়স ষাটের উপর। পড়নে সাদা পাজামা পাঞ্জাবী। পায়ে কালো স্লিপার। তিনি ভাবছেন, বয়স একটু কম থাকলে হেলপারকে নামিয়ে দু-চার ঘা লাগিয়ে দিতেন। মানুষের জীবনের কোন মূল্য এদের কাছেই নেই। প্রচন্ডরকম বিরক্তি নিয়ে সামনের দিকে তাকালেন। তাকিয়েই একটা দৃশ্য দেখে মনটা অদ্ভুত ছেলেমানুষী খুশিতে ভরে উঠলো।
কতগুলো কোটপরা ভদ্রলোক নিয়ে একটি ১৫-১৬ বছরের ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। ভদ্রলোকগুলি সামনে পিছনে দুলছে। দেখতে মনে হচ্ছে জীবন্ত পেঙ্গুইন। মজাতো, শীতের দেশের অতিথির গরমের দেশে আগমন।
ছেলেটির দিকে তাকালেন। মাঝারি উচ্চতার হালকা পাতলা শরীর, গৌর বর্ণ সাথে অদ্ভুত মায়াময় চোখ। এলোমেলো অবিন্যস্ত চুল। পরনে ছাই রঙের প্যান্ট এবং পুরাতন কুচকানো চেক শার্ট।সাথে একটি কালো ব্যাগ। সেই ব্যাগ থেকে একটা একটা করে খেলনা বের করে পাম্প করে সামনে সাজিয়ে রাখছে বিক্রি করার জন্য।
ছেলেটার কাছে এগিয়ে গেলেন। বাতাসে ফোলানো একটা পেঙ্গুইন হাতে তুলে নিলেন। সত্যিই চমৎকৃত হলেন। ছোট্ট একটা কৌশল কি জীবন্ত করেছে খেলনাটিকে। বাতাসে ফোলানো বেলুনের নিচের দিকে কিছুটা ভর দিয়েছেন। আর তাতেই খেলনাটি দাঁড়িয়েছে। একটু বাতাস পেলেই সামনে পিছনে দুলছে। চায়নার তৈরি, অদ্ভুত এক ব্যবসায়ী জাতি। অসাধারণ উদ্ভাবনী শক্তি।
ছেলেটাকে বললেন, “কিরে কত করে এগুলি?”
ছেলেটি বলল ১২০ টাকা। মনে হচ্ছে খুব একটা বিক্রি বাট্টা হচ্ছে না। অনেকেই দাম জিজ্ঞেস করছে কিন্তু কেউ নিচ্ছে না। ছেলেটি কেমন যেন অসহায় দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে।
তার মায়া হলো। তিনি দামাদামি করে একশ টাকায় একটা খেলনা পেঙ্গুইন কিনে নিলেন। তার তিন বছরের নাতিকে এটা উপহার দিবেন।
খেলনাটি নিয়ে মার্কেটে ঢুকলেন। মার্কেটের ভিতর দিয়ে শর্টকাট ওপাশে গিয়ে রক্সা নিবেন। মার্কেটের পেছনের গেট দিয়ে বের হবার সময় এসির তীব্র বাতাসে পেঙ্গুইনটি হাত থেকে নিচে পরে গিয়ে বাতাসের চাপে ছুটে গেলো, যেনবা জীবন্ত একটা পেঙ্গুইন দৌড়ে যাচ্ছে। তিনি এর পিছনে ছুটে গিয়ে তুলে নেন।
আশেপাশে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিলেন, কেউ তার ছেলে মানুষী দেখে ফেলেনিতো?
বাসায় এসে প্রচন্ড বিরক্ত হলেন। বাসায় কেউ নেই। মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। এতক্ষণ নাতিটিকে খেলনাটি দিয়ে যে হাস্যজ্জল মুখটির কল্পনা করেছিলেন সেটি অধরাই রয়ে গেলো।
ড্রয়িংরুমে খেলনা পেঙ্গুইনটি রেখে ফ্রেস হতে ওয়াস রুমে চলে গেলেন।ফিরে এসে তার স্ত্রীর ফোন পেয়ে জানতে পারলেন, আজ সে ভাইয়েয় বাসায় থেকে যাবেন। মিসেস করিম আরো বললেন, ডাইনং টেবিলে খাবার রাখা আছে। তিনি যেন সময়মতো খেয়ে নেন। এবং ঔষধ খেতে যেন ভুল না করেন।
কথামতো করিম সাহেব খাওয়া দাওয়া সম্পন্ন করে রাত ১০টার দিকে ঘুমাতে গেলেন।
রাত ২টার দিকে অদ্ভুত শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। অনেকটা রাজহাঁসের মতো। আবার মনে হোল,স্টিভেন স্পিলবার্গের জুরাসিক পার্কে মুভিতে কিছু ডাইনোসরের অদ্ভুতভাবে স্বরে ডাকার মতো তবে তিনি তার রুম থেকে ড্রয়িং রুমে এসে যা দেখলেন তারজন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।
একটি পেঙ্গুইন ঘরময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। জীবন্ত একটা পেঙ্গুইন। অবাক চোখে তিনি তাকিয়ে রইলেন। তিনি কি ঠিক দেখছেনতো?
নাকি এটা তার মনের কল্পনা।
পেঙ্গুইনটি দেখে মনে হচ্ছে এটি এডিলি প্রজাতির, এর চোখের চারপাশে সাদা রিং, ঠোটের অঅনেকাংশই ছোট লোম দিয়ে আবৃত এবং সাদা কালোর গাঁয়ের রংটা অনেকটা ট্যাক্সিডো পরিহিত ভদ্রলোকের মতো। অনেকটা রাজহাঁসের মতো শব্দ করছে। ধীরে ধীরে করিম সাহেবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
করিম সাহেব ভাবলেন তিনি স্বপ্ন দেখছেন। এটা হয় কি করে? তবে তাকে আরো অবাক করে দিয়ে কথা বলে উঠলো পেঙ্গুইনটি।
“দাদু, তোমাদের এখানে বড্ডো গরম, এসির টেম্পারেচার শুন্যতে নামিয়ে দাও না। আর গলাটা বড্ডো শুকিয়ে গেছে, একটু ঠান্ডা পানি দিবে?” পেঙ্গুইনটি কথা বলছে। এটা হয় কী করে? চিন্তিত করিম সাহেম মাথা চুলকাতে থাকলেন। তিনি নিশ্চিত হলেন, স্বপ্নই দেখছেন। সন্ধ্যায় নাতির জন্য একাটা খেলনা কিনে এনেছিলেন আবার রাতে ঘুমানোর আগে প্রামাণ্যচিত্র "Penguin :Spy in the Huddle" দেখছিলেন। সবমিলিয়ে উর্বর মস্তিষ্কের এই স্বপ্নের অবতারণা। কিন্তু স্বপ্নে এভাবে যুক্তি খন্ডন সম্ভব কি?
পেঙ্গুইনটি তার ডানা দিয়ে হালকা বারি দিয়ে বলতে থাকল, “উফফ দাদু কি হলো তুমি কি আমাকে মেরে ফেলতে চাইছ?” কন্ঠটা ঠিক যেনো তার আহলাদি নাতি অংকুরের মতো।
পেঙ্গুইনটি উচ্চতায় প্রায় ২ ফুট, চোখে অদ্ভুত এক মায়া। সে মায়াময় চোখে যেনবা কিছু বলতে চাইছে।
ভালো করে তাকিয়ে দেখলেন, অদ্ভুত আহ্লাদী করে রেখেছে ঠোঁটটা। আর দেখে কেন জানি সত্যিই মনে হলো পেঙ্গুইনটি কষ্টে পাচ্ছে। দেখা যাক না কি হয়।
তিনি এসির টেম্পারেচার কমিয়ে গায়ে গরম কাপড় চাপিয়ে আসলেন, “তুইতো দেখি পুরাই এন্টারটিকা বানিয়ে দিয়েছিস। আমারতো ঠান্ডা কমছেই না। তা তোর বাসা কোথায়, আর গ্রীষ্মের দিনেইবা এদেশে উদয় হলি ?”
“এসেছি মেঘের ভেলায় ভেসে। আর থাকি বরফের দেশে। সর্ব উত্তরে,” পেঙ্গুইনটি উত্তর দেয়।
করিম সাহেব হেসে উঠলেন। তার নাতির মতোই বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলছে। তিনি তাল মিলিয়ে গেলেন। একা তিনি, এর সাথে গল্প করে নেহাতই সময় মন্দ কাটবে না। তুই মেঘে উঠলি কি করে? তোর ডানাতো আকাশে উড়ার জন্য যথেষ্ট না। কেন তুমি জেমসের ওই গানটা শুননি,
বিধাতা তুমি ফিরে যাও,
একটু দাঁড়াও যমদূত।
চিঠি এসেছে প্রিয়ার কাছ থেকে,
অদ্ভুত এক দাবী নিয়ে,
আকাশ মাটি যেথায় মিশে,
থাকবে সেথায় সে বসে।
দেখা হবে প্রথম বার,
আমার সঙ্গে প্রিয়ার।
উপহার কি হবে
ভাবছি যে তাই
সূর্য যে তার চাইই চাই।
আকাশ মাটি যেথায় মেশে
থাকবে সেথায় সে বসে
দেখা প্রথম বার
আমার সঙ্গে প্রিয়ার
বাহন কি হবে ভাবছি যে তাই,
মেঘ ছাড়া যে উপায় নাই …..
“আচ্ছা দাদু, দিদাকে প্রথম কি উপহার দিয়েছিলে? হা হা দাদু লজ্জা পেলে? আচ্ছা ঠিক আছে আমি বলছি কিভাবে এসেছি,”
এবার মনে হোল পেঙ্গুইনটা বেশ সিরিয়াস।
“দাদু তুমি কি শুধু হেলিকপ্টারই দেখেছ, মনে হিচ্ছে বিমান দেখনি?” বলেই মনে হোল ফিক করে হেসে ফেলল। আরো বলল, “পাখাদুটো বিমানের ডানার মতো রেখে দু'পায়ে প্যাডেল করলে অনায়েসেই উড়া যায়। তুমিও চাইলেই পারবে। না ইয়ে মানে তোমার হবে না। হাতটা বড্ডই সরু আর সেই সাথে হাতের আঙুলের মাঝে তোমাদের বেশ ফাঁকা। আর বুড়ো হয়ে গেছ, পা দিয়ে যথেষ্ট জোরে প্যাডেল করার শক্তিও নেই তোমার,” বলেই ফিক করে দুষ্টু হাসি হেসে দিল।
মনে মনে হাসলেন, ডিজিটাল যুগের পেঙ্গুইন ভালোই চাপার জোর আছে। অলীক গল্পের বুনট গেঁথে যাচ্ছে ঠিক তার নাতিটার মতো। পুরুষ্কার হিসেবে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি দেয়া যেতেই পারে ভাবলেন। সাথে কিছু মাছ দেয়া যেতে পারে। মনে হয় ক্ষুদাও লেগেছে পেঙ্গুইনটির, লজ্জায় হয়তো চাইছে না।
খাবার খেয়ে পেঙ্গুনইনটি ঘরময় ছোটাছুটি শুরু করল। তিনি এবার ডিপ ফ্রীজের ডালাটি খুলে দিলেন। বাবুর বাথটাবে পানি ঢেলে তাতে বরফ কুঁচি ছেড়ে দিলেন। এবার তার খুশী আটকায় কে?
অদ্ভুত আনন্দে পানিতে সাতার কাটে কিছুক্ষণ, ছুটে বেড়ায়, ভেজা ফ্লোরে স্লিপ কাটে। ঘরে বন্দি দুষ্টু ছেলেটাকে খেলার মাঠে নিলে যেরকম খুশিতে মাতোয়ারা হয়ে যায়।
হঠাৎ মনে হোল বাইরে অনেকগুলি কোটপরা ভদ্রলোক ডাকছে। জানাটা খোলা মাত্রই কোথা থেকে যেন বরফ এসে সমস্ত ঘরটা ভরে গেলো। সাথে সাথে ঘরে ঢুকে গেলো অনেকগুলি পেঙ্গুইন। তিনি এদের পিছনে ছুটতে গিয়ে পিছলে পরে গেলেন। চারপাশে তার নেমে এলো অন্ধকার।
মিসেস করিম কলিংবেল বাজিয়েই চলছেন। কিন্তু দরজা খুলছে না কেউ। শেষে চাবি দিয়ে দরজা খুলে বাসায় ঢুকেই যা দেখলেন, তাতে তার হৃদস্পন্দন থেমে যাবার অবস্থা হলো। করিম সাহেব অচেতন অবস্থায় সোফার পাশে পড়ে আছেন। ঘরময় ছিটানো রয়েছে ছোট ছোট মাছ, কিছু বড় মাছের টুকরা, এখানে ওখানে রয়েছে বরফকুচি, অংকুর জন্য বাথটাবে পানিতে ভাসছে অর্ধগলিত বরফকুচি সাথে বাতাসে ফোলানো খেলনা পেঙ্গুইন। ডিপফ্রীজের ঢাকনাটা খোলা। এসিটার টেম্পারেচার শূন্যতে রাখা রয়েছে, জানালাটা হাট খোলা। টিভিটা চলছে উচ্চ ভলিউমে।
অজানা আশংখায় তিনি দ্রুত চলে গেলেন করিম সাহেবের কাছে। কল দিলেন ১৬২৬৩ নাম্বারে, নিকটস্থ হাসপাতালের সাহায্য পাবার আশায়।
দুই সুপ্তাহ তীব্র ঠান্ডা জ্বরে ভোগার পর করিম সাহেব আজ অনেকটাই সুস্থ। আজ উত্তরায় রবিন্দ্র সরণীতে এসেছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ আবরারের কাছে। সম্পর্কে তার ভাতিজা হয় এবং তাকে অনেক সম্মান করে থাকেন।
ডঃ আবরার মন দিয়ে করিম সাহেবের কথা শুনলেন। মিসেস করিমের কাছেও শুনলেন পরের দিন কিভাবে করিম সাহেবকে পেলেন।
“কাকু আপনার আচরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আপনার মাঝে সিজোফ্রেনিয়া রোগের লক্ষ্মণ রয়েছে। যার ফলে আপনার কথা ও কাজের মধ্যে অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।”
“প্রথমত, আপনি ভাবছেন আপনার সাথে পেঙ্গুইন কথা বলেছে। এটা কোনভাবেই সম্ভব না। কারণ এরকম কোন নজির নেই। পেঙ্গুইনের আমাদের এ আবহাওয়ায় জীবিত থাকা সম্ভব না। সুতরাং এটি হেলুসুলেসান ছাড়া কিছুই হতে পারে না। এটা আপনার অবেচেতন মনের কল্পনা,” কথাগুলি বলে করিম সাহেবের দিকে তাকালো আবরার।
“তবে যে গান গাইল, এটা কি করে সম্ভব। আমিতো স্পষ্ট করেই শুনেছি। সে গানটা ঠিকই গেয়েছে। কিন্তু আমিতো গানটা জানি না। তোমাদের ব্যান্ড সংগীত কখন শুনি না। তাহলে এটা হলো কি করে?” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বলে থামলেন তিনি।
“কাকু আপনি হয়তো নিজে থেকে কখনো শুনেননি। কিন্তু আপনার ছেলে কিন্তু সবসময় শুনতো। সেটা হয়তো অবচেতনে আপনার মনে কখন গেঁথে গিয়েছে আপনি টের পাননি,” আবরার বলতে থাকল,
“কল্পনায় ভেবেছেন আপনি পেঙ্গুইনের সাথে খেলছেন। কন্তু তার প্রায় সব আচরণে অংকুরের ছাপ। আপনি বাসায় একা ছিলেন, ঘুম ভেঙ্গে যাবার পর চাইলেন প্রিয় কারো সাথে কথা বলতে। আর সেটাই পেলেন কল্পিত পেঙ্গুইনের মাঝে,” একটু বিরতি নিয়ে কপালটা চুলকে নিয়ে বলতে শুরু করলেন,
“যাই হোকনা কেন আমাদের বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে। অংকুর দুবছর আগে ওর বাবা- মায়ের সাথে চট্রগ্রাম থেকে ঢাকা আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। যে অভিমানে ওরা বাংলাদেশ ছেড়ে কানাডায় পারি জমায়। আর সেখানে আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় আপনার একমাত্র ছেলে এবং বৌ মা উভয়ের মৃত্যুবরন করে। যত কষ্টই হোক এই বাস্তবতা আপনাকে বা আপনাদের মানতেই হবে। আর অংকুর পেঙ্গুইন খুব পছন্দ করতো। আর আপনি ওকে পেঙ্গুইন নিয়ে অনেক মজার মজার গল্প করতেন।”
“আপনাকে এটাকে নিয়ন্ত্রন করতে হবে। না হলে একটা সময় আসবে যখন আপনি বাস্তবতা ও কল্পনার জগৎ আলাদা করতে পারবেন না। তখন কাকীমার কি হবে? তিনিওতো একই ধরনের কষ্ট বুকে লালন করছেন। এখন যদি আপনাকে হারায় তাহলে তার কি হবে?”
ডঃ আবরার তাকিয়ে দেখেন কাকু, কাকিমার চোখ ছলছল করছে। তিনি আর কিছু বললেন না। ধীরে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকালেন।
রাস্তায় গারিগুলি পাল্লা দিয়ে একে অপরকে ছারিয়ে যেতে। সবার যেনো বড্ডো তারা। আইনের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করছে না। তোয়াক্কা করলে যেনবা বোকা হয়ে যেতে হয়, বড্ড পিছিয়ে পরতে হয়।
অজানা আশংকায় মনটা কেপে উঠে, আহা এবার দুর্ঘটনায় কার জীবনে নেমে আসবে কালো অমানিবাশ, সীমাহীন বোবা বুনো কষ্ট।“ আচ্ছা আমার জীবনের নিরাপত্তা আছে কি?” ভাবছেন ডঃ আবরার ।
তার বুকের গহীন থেকে বের হয়ে আসল একটা দীর্ঘশ্বাস।
এ প্রশ্নের উত্তর তার জানা নেই।






No comments:

Post a Comment

আপনার মতামত প্রদান করুন....

নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন