সঙ্গিনী
মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম
চাঁদ যেনো মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলছে। কখনো মনে হচ্ছে চাঁদটিকে ঘিরে রয়েছে একটা বৃত্ত; রংধনুর কয়েকটি রঙ ধার নিয়ে সৃষ্ট সেই বৃত্ত। খুব বেশীক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না সে বৃত্ত; নিমিষেই মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে চাঁদ। অনেকটা সাদা কালো ছবির মতো; কখনো বা হালকা মেঘের নীচে; পরক্ষণেই কালো মেঘের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে। এরপর অপেক্ষার পালা কিছুক্ষণের; চাঁদ স্বরুপে হাজির। চাঁদের বুড়ি হাসি দিয়ে আলোকিত করতে চাইছে পৃথিবীকে।
বর্ষাকাল, চারদিকে থৈ থৈ পানি। আমাদের গ্রামের এলাকায় বর্ষাকালে বাড়ির চারপাশে পানি চলে আসে। চকে ধানি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। বসত ভিটেতে মাটি ফেলে উচুঁ করে ফেলা হয় বিধায় বাড়িতে পানি উঠতে পারে না। বড় ধরনের বন্যা হলে ভিন্ন কথা; বসত ভিটেও পানির নীচে চলে যায়।
রাত এখন দশটা পেড়িয়ে ১১ টা ছুই ছুই করছে। নতুন বৌকে নিয়ে নৌভ্রমণে বের হয়েছি। গ্রামের মানুষের বর্ষাকালে খুব একটা কাজ থাকে না এবং যাতায়াত অনেকটা সহজতর হয়। দেখা যায় এ সময় বিয়ের ধুম পরে যায় আমাদের এলাকায়। আমি সেই সুযোগটাই নিয়েছি।
বিয়ে করেছি দুমাস হয়নি; এখনো দুজনকে নতুন করে আবিষ্কার করে যাচ্ছি। যৌথ পরিবার; চাইলেও বৌয়ের খুব কাছে আসতে পারি না। তাই সুযোগ পেলেই মিষ্টি ঠোঁটে একটা আল্পনা এঁকে দেই; জড়িয়ে ধরে থাকি; মাতাল করা শরীরের সুবাস নেই; ছাড়তে চাই না; বৌ লজ্জায় নিজেকে ছাড়িয়ে ছুটে পালায়। আড়ালে গিয়ে ভেঙ্গচি কাটে; মনমাতানো হাসি দিয়ে পালায়।
ঘুরতে বের হওয়ায় সে বেজায় খুশী এটা সে গোপন করছে না। তাই তার কথার ফুলঝুড়ি ছুটছে। অদ্ভূত কারণে এসময় বৌকে একটা হরর গল্প শোনাতে ইচ্ছে হোলো। যেমন ভাবা তেমন কাজ,
“তোমাকে একটা গল্প বলি ‘আউট সাইডার’- বিখ্যাত লাভক্রাফটিয়ান হরর,” তার রেশমের মতো নরম সিল্কি চুল নিয়ে খেলতে থাকি।
ওহহো বলা হয়নি, আমি তৌছিফ। বৌয়ের নাম রাত্রি; অষ্টাদশী আগুন ঝড়া মায়াবী-সুন্দরী যুবতী।
“মজার না ছাই, ওই ব্যাটার হরর গল্প শুনবো না,” বলেই রাত্রি আরো ঘনিষ্ট করে জড়িয়ে ধরে আমাকে। হয়তো অবাক হয়েছে বৌটা ভাবছে, “আমাকে কি সে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে? আর কি কি অদ্ভূত খ্যাপাটে পাগলামো রয়েছে আমার। না হলে এরকম রোমান্টিক মুহুর্তে কেউ এমন অদ্ভূত কথা বলে? পাগল একটা।” সে যাই ভাবুক পাত্তা দেয় কে?
আবারো বলে উঠে, “উহু আমি কোন ভয়ের গল্প শুনতে চাই না। রাত্রি দ্বি-প্রহরে নির্জন বিলে এমনিতেই যথেষ্ট ভয় করছে। ওই হরর গল্প শুনে আরো বেশী ভয় পেতে চাই না।”
“তাহলে কি গান গাইবো?” বলেই আমি গাইতে শুরু করি,
নীল চাঁদোয়া।।
আকাশটাকে আজ লাগছে যেন-
মাঝে মাঝে কিছু কিছু তাঁরা বোনা,
বৃষ্টি ধোয়া।।
“কিন্তু আজকের চাঁদটা কেমন যেনো ফ্যাকাসে,” ঠিক গানটা মানাচ্ছে না, ভাবছিলাম আমি। বরং বৌটাকে হরর গল্প বলে কিছুটা ভড়কে দিলে মন্দ হয় না। তাহলে ভয়ে শরীরের সাথে আরো ঘনিষ্ট হয়ে সেঁটে থাকবে, সে বেশ লাগবে। ওর শরীরের স্পর্শে অদ্ভুত এক আবেশ জড়িয়ে যাই, অজানা এক শিহরণে জেগে উঠে সমস্ত শরীর। জানিনা কী জাদু আছে সেই স্পর্শে। ইচ্ছে করে সারাক্ষণ পাজরের ভিতর পুরে রাখি বৌকে।
“শোনা, এইচ পি লাভক্রাফটের ‘দ্যা কল অফ খথুলহু’ এর একটা উক্তি?” শুরুটা একটা রেফারেন্স দিলে মন্দ হয় না। আমি বলতে থাকি, “সম্ভবত পৃথিবীর জন্মের আগেও তারা ছিলেন, তারপর হারিয়ে গেছেন... কখনো লোককথায়, কখনো পুঁথিতে আবার কখনো কোনো উন্মাদের স্মৃতিতে তাদের মৃদু অস্তিত্ত্ব আজও টিকে আছে......, ঈশ্বর, দানব কিংবা কোন অপার্থিব সত্তা হিসেবে...”
“মানে কি?” কিছুটা বিস্ময় ও বিরক্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করে রাত্রি। মওকা পেয়ে যাই যেনো, অধীর আগ্রহ নিয়ে লাভক্রাফটের সৃষ্ট গড নিয়ে বলেতে থাকি;
“গড খথুলহু মিথোস- একটি অতি দানবীয় সত্তা; লম্বায় প্রায় ১২০০ ফুট, মুখটা লম্বাটে-অক্টোপাসের মতো; যার পিঠে রয়েছে বিশাল দুটি ডানা। আর ড্যাগন খথুলহু মিথোসের সুমুদ্র দেবতা। যে কিনা সুমুদ্রে ঘুমিয়ে থাকে। অতিকার আকৃতির সাপের মতো প্রাণি; কিন্তু মুখটা পিরহানহা মাছের মতো; ১০০০ ফুট লম্বা………” আরো কিছু বলতে চাইছিলাম; কিন্তু থামিয়ে দেয় রাত্রি,
“তো?”
মুখটা না তুলেই আমার বুকে মাথা রেখেই জিজ্ঞেস করে রাত্রি। ওর সতেজ নিঃশ্বাস টের পাই আমার বুকে। ভয়ে জড়সড় হয়ে আরো বেশী আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আমায়। মজা পেয়ে যাই আমি; বলতে থাকি, “আমার মনে হচ্ছে ড্যাগনের ঘুম ভেঙ্গে গেছে, সে আমাদের কাছেই ঘোরাফেরা করছে,” ফিস ফিস করে করে রাত্রির কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে বলি আমি।
মিষ্টি কাঁঠালীচাঁপার গন্ধ পাই বৌয়ের শরীর থেকে। তাকিয়ে দেখি মেঘ কেঁটে গেছে, ঝকঝকে চাঁদ উঁকি দিয়েছে আকাশে। নৌকা লোকালয় ছেড়ে বেশ আগেই পৌঁছে গেছে গজারিয়া বিলে। বাতাসের সৃষ্ট ঢেউ এসে বাড়ি মারছে নৌকায়। নৌকা চালাচ্ছি না এখন, সে নিজের ইচ্ছায় ভেসে চলছে। ঢেউয়ের ধাক্কায় দুলে উঠছে নৌকাটি; সেই সাথে সৃষ্টি করছে সুন্দর কলকল সুরের মুর্ছনা। গ্রাম থেকে বেশ দূরে চলে এসেছি; সেই দূরে গ্রামের কিছু কিছু বাড়িতে দেখা যাচ্ছে টিমটিমে আলো। অনেকটা জমে থাকা গাড় অন্ধকারে জোনাক পোকার মতো। বিল থেকে অনেকটা দূরে রাতের নিস্তদ্ধতা ছেদ করে হাইওয়ে দিয়ে ছুটে চলছে গাড়ি। আর খোলা আকাশের নীচে শুধু আমরা দুজনা। কাছে কোথাও বড় কোন মাছ পানিতে ঘাই দিচ্ছে। “শোনাটা দেখো না, আমরা আমরা সুমুদ্রে চলে এসেছি। আমাদের নৌকার শব্দে ড্যাগন ব্যাটার ঘুম ভেঙ্গে গেছে। বিরক্ত হয়ে তাই পানিতে ঘাই দিচ্ছে,” ভয়টা জমাতে ফিসফিস করে আবারো বলে উঠি, ভাবটা এমন- চাইছিনা ড্যাগন আমাদের কথা কোন ভাবেই শুনে ফেলুক।
“তাই না?” বলেই আমার বুক থেকে মুখটা তুলে তাকাতেই বিদ্যুত পৃষ্টের মতো ছিটকে পড়ি আমি। ভয়ংকর চিৎকার দিয়ে উঠি নিজের অজান্তেই। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি রাত্রির দিকে। ভয়ের এক শীতল স্রোতধারা নেমে যায় শিরদাঁড়া বেয়ে। নড়তে চড়তেও ভুলে যাই; আমি ঠিক দেখছেতো? হাতের দিকে তাকাই, থিকথিকে জেলীর মতো একগুচ্ছ চুল উঠে এসেছে আমার হাতে। সামনে যে আছে তাকে রাত্রি না বলে তার পানিতে ফুলে উঠা গলিত লাশ বলাই শ্রেয়তর। গালের গলিত মাংস ফুরে উপহাস করছে হলদেটে দাত, নাকের বেশীরভাগ অংশের অস্তিত্ব নেই, সেখানে রয়েছে বড় বিশ্রী একটা গহ্ববর। অস্বাভিক বড় চোখ দুটি বের হয়ে আসছে, মাথায় থিকথিকে জেলীর মতো চুল খুবলে উঠে গেছে, সেখানে কিলবিল করছে বিশ্রী পোকা। বেঢপ পেট, হাত-পাগুলি অস্বাবিক রকমের ফোলা। পড়নে পঁচা শুতোর শাড়ি। শরীর থেকে বের হচ্ছে ভকভকে পঁচা বিশ্রী গন্ধ। কিছু বোঝার আগেই আমার গায়ে ঝাপিয়ে পড়ে কুৎসিক সেই প্রাণিটি। শক্ত গলা চেপে ধরে আমার। ক্রমশই গলায় বাড়াতে থাকে হাতের চাপ। শ্বাস নেয়ার জন্য ছটফট করছি, ভারী হয়ে আসছে আমার শরীর।
মানুষ বেঁচে থাকতে খড়কুটো আঁকড়ে ধরেও চেষ্টা করে; আমি নিজেকে ছারানোর চেষ্টা করে যেতে থাকি। আমার ডান হাতটা বিশ্রীভাবে শরীরের নীচে আটকে গেছে। বা হাত দিয়ে গলায় চেপে ধরা হাত সড়াতে চেষ্টা করি; তবে ঐগুলিকে হাত না বলে পঁচা মাংস সর্বশ হাড় বলাটাই শ্রেয়তর। কষ্টে আমার চোখটা চোখজোড়া অক্ষিকোটর থেকে বের হয়ে আসতে চাইছে। এবার চুলের মুঠি ধরে টান দিয়ে সড়ানোর চেষ্টা করি, লাভ হয় না; এক মুঠি চুল উঠে আসে হাতে। ভয়ংকর চিৎকার দিয়ে উঠে সে, মুখ দিয়ে বিশ্রী লালা বের হয়ে আসে তার। রাগে সে যনো হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, গলায় হাতের চাপ আরো বেড়ে যায় তার। আমি চোখে সর্ষে ফুল দেখতে থাকি।
এবার আশে পাশে কিছু পাওয়া যায় কিনা খুঁজতে থাকি। কাঠের একটা আলগা পাটাতন হাতের নাগালে চলে আসে,আঘাত করি বিভৎস পিশাচকে। তীব্র গোঙ্গানী দিয়ে উঠে, না মায়া লাগেনি; আমি আবারো আঘাত করি। এবার ফল পাই; কিছুটা শিথিল হয় তার গলায় বসে থাকা হাত ও শরীরের চাপ। এই সুযোগে ডান হাতটাও বের করে ফেলি। তার শিথিল হয়ে যাওয়া দুহাতের বুড়ো আংগুল ধরে জোড়ে চাপ দেই। হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার মিষ্টি শব্দ কানে আসে। তীব্র চিৎকার করে সরে যায়; এবার প্রচন্ড একটা ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দেই। সে উল্টে গিয়ে নৌকার গুলুয়ের উপর আছড়ে পড়ে। তীব্র ভাবে দুলে উঠে নৌকাটি। আমি কোনরকমে নৌকাটিকে শক্ত করে ধরে পানিতে পতন ঠেকাই।
কিছুটা ধাতস্ত হবার চেষ্টা করি,যদিও বিশ্রী গন্ধে তীব্র বমি পাচ্ছে। সেটা উপেক্ষা করে তার দিকে তাকাই; তার নড়াচড়া খেয়াল করি। বাঁচতে হলে এখুনি কিছু করতে হবে; নতুবা প্রাণ নিয়ে বাসায় ফেরা হবে না; দেখা হবে না বৌয়ের সাথে । পায়ের কাছেই বৈঠা দেখতে পাই; সেটা হাতে নিয়েই তার মাথায় তীব্র একটা আঘাত করি এবার। থ্যাপ করে একটা শব্দ হয়। থেমে থাকি না; আঘাত করতেই থাকি। মাথা ফেটে গলগল করে বিশ্রী পঁচা রক্ত বের হতে থাকে। মুখে ছিটকে আসে গা ঘিন ঘিন করা জেলীর মতো কিছু। হয়তো ফেটে যাওয়া মাথার ঘিলু বা রক্ত হবে। আমার হুশ হয় না; আমি বৈঠা চালাতেই থাকি সপাটে। অবশেষে বৈঠা ভেঙ্গে গেলে থেমে যাই। প্রচন্ড ঘৃনা নিয়ে তাকাই তার দিকে, মায়া ডাহুকিনি। আমি পেড়েছি, মুক্ত আমি। মরা দেহটি পানিতে ফেলে দিতেই প্ররিশ্রান্ত আমি জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ি নৌকায়।
কতক্ষণ জ্ঞান ছিলো না, জানা নেই। জ্ঞান ফিরতেই আমি নিজেকে উজ্জ্বল আলোয় ঘেরা অনিন্দ সুন্দর স্থানে আবিষ্কার করি। জানি না এখন রাত কত গভীর হয়েছে? মোমের মতো নরম আলো এসে ধাক্কা মারে চোখে; নরম নীলাভ আলো। বুঝতে পারছি না কোথায় আছি; কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানি, সেখানে জোছনার আলো পড়ে ঝিকচমিক করছে। জলাশয়ের পাশ থেকে উঠে গেছে গাছের সারি, তবে আমাদের পরিচিত সবুজ রঙের বদলে আগুনের মতো উজ্জ্বল কমলা রঙের। জোসনার আলোয় অদ্ভুত লাগছে সেই গাছ; মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেলো চিলের মতো দেখতে কুচকুচে কালো একটা পাখি, শোনা যাচ্ছে ঝি ঝি পোকার আর ব্যাঙের ডাক, দূরে কোথাও ডেকে উঠছে অচেনা নিশুতি পাখি। আশেপাশে কোন জন বসতির চিহ্ন নেই; আমি উঠে বসে পরি।
মুগ্ধ আমি এই অপরুপ সুধা উপভোগ করতে থাকি। গা চিটচিট করছে; তাকিয়ে দেখি নোংরা পঁচা রক্তে ভরে আছে সমস্ত শরীর, অনেকটা কোরবানীর গরুর পঁচা রক্তের মতো। বাতাসে ভেসে আসছে বেলী ফুলের সাথে কর্পুরের মিশ্রিত অদ্ভূত এক গন্ধ।
চিটচিটে শরীরকে ধুয়ে ফেলার জন্য নৌকার কিনার গিয়ে পানিতে হাত দেই। শীতল পানি; এক আজলা পানি নিয়ে মুখে ছিটিয়ে দেই; সমস্ত শরীরটা জুড়িয়ে গেলো যেনো-নিমিষেই শরীরের সমস্ত ক্লান্তি উধাও। এবার ভালো করে পানির দিকে তাকাই; কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানি; নীচ অবধি দেখা যাচ্ছে। পানিতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে ইচ্ছে হলো। স্বাসরোধ করে ধরার জন্য গলায় এখনো চাপা ব্যাথা করছে; হয়তো কালসিটে পড়ে গেছে গলায়।
পানির দিকে তাকাই; তবে বোধহয় না তাকালেই ভালো হতো। নিজের প্রতিবিম্ব দেখেই চমকে উঠি আমি। হাড় জিরজিরে কঙ্কালসার একটা মুখ। যার বেশীর ভাগেই মাংসের অস্তিত্ব নেই। অক্ষিকোটর থেকে বের হয়ে এসেছে হলদেটে চোখ, যার মনির রঙ টকটকে লাল।
এই বিভৎস চেহারা দেখে আমি দ্বিতীয়বারের মতো জ্ঞান হারাই। আকাশে উড়ে যায় অচেনা পাখি, দূরে কোথাও জেগে উঠে অচেনা কোন প্রাণি, শোনা যাচ্ছে পাতা মাড়িয়ে কাছে চলে আসার শব্দ। হঠাৎ করেই চারদিকে নেমে এলো শুনসান নিরবতা; বন্ধ হয়ে গেছে ঝিঝি পোকা, ব্যাঙ ও অচেনা নিশুতি পাখির ডাক।
পদটিকাঃ
গত শ্রাবণ মাসের শেষের দিকের ঘটনা; বিয়ের পর বৌ নিয়ে বরযাত্রী ফেরার পথে ট্রলার ডুবিতে হারিয়ে যায় দশজন। কয়েকটি লাশ খুঁজে পাওয়া গেলেও; তন্যতন্য করে খুঁজেও সন্ধান মিলেনি বর ও কনের।

No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....