অশাশ্বত সম্পর্ক
অনন্ত
এই বিশ্ব সংসারে অগণিত গ্রহ,তারা,উল্কা ও নক্ষত্র আপন আপন কক্ষপথে ঘুরে চলেছে।অবিরাম তাদের চলার গতি।চলতে,চলতে একদিন তাদের বিনাশ।মানব সংসারের ক্ষেত্রে ও ঐ নিয়মের অনুবর্তন।
মানুষ জীবজন্তু গাছপালা কীটপতঙ্গ ঘরবাড়ি নদী মাঠ ক্ষেত পথ পথ এসবের সঙ্গে মানুষের কখনো কখনো দীর্ঘস্থায়ী নৈকট্য । বা সহাবস্থান ,তবে চিরস্থায়ী সম্পর্ক কখনোই হয় না । পরিবেশ পরিস্থিতির ভূমিকা এক্ষেত্রে সর্বাধিক । আরো বড় করে ভাবলে হয়তো মনে হতে পারে সবকিছুই সর্ব নিয়ন্তা পরমেশ্বরের পূর্বনির্দিষ্ট।
আমাদের স্থিতিকাল (যার যেমন বয়স) তার মধ্যেই আমরা খেয়াল করলে দেখবো কত কিছুর কাছে আমি গিয়েছি, আবার কত কিছু আমার কাছে এসেছে ।কত পূর্বের অচেনা অজানা মানুষ আপন হয়েছে ,আবার তাদের বেশিরভাগই সরে গিয়েছে ।কেউ পৃথিবীর চেনাজানা পরিবেশ থেকে চির বিদায় নিয়েছে ।অবিরাম এই খেলা ঘটে ই চলেছে । কোন সান্নিধ্য কখনো কখনো আনন্দ ময় হয় ,আবার কখনো কোনো সান্নিধ্য কখনো কখনো বেদনাদায়ক ।স্থায়ী আনন্দময় বেদনাময় বললে পৃথিবীতে কিছুই নেই । আর সেই কারণেই ভগবান গীতায় মানুষকে দুঃখে ও শোকে বিগতস্পৃহঃ হতে বলেছেন।
আধুনিককাল পূর্বকালের দুঃখ কষ্ট বেদনা লাঞ্ছনা এসব বিষয়ে শুনতে বা জানতে আগ্রহী নয়। শুধু যে অনাগ্রহী তাই নয় জোর করে শোনাতে গেলেও তারা ঘোরতর ঔদাসীন্য প্রদর্শন করে থাকে।
আরও একটা ব্যাপার আমরা যে দু'দণ্ড একান্তে বসে স্মৃতি রোমান্থন করব তার সুযোগ ও বড় কম । আধুনিক চলমানতা কাহাকেও স্থির হয়ে বসে ভাববার অবকাশ দেবে না। হৃদয়ের বেদনা হৃদয়ের মধ্যে স্তুপিকৃত করে রেখে ই মানুষকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে।
আমি যা লিখে চলেছি তা পড়ে পাঠক মনে করতে
পারে শুধু আঘাত বিদীর্ণ ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের হাহাকার মাত্র।
জাগতিক নিয়মানুযায়ী আমরা কেউ আগে বা দু চারদিন পরে পৃথিবীর হাট থেকে বিদায় নিচ্ছি বা নে । আমার চেনাজানা পরিচিত যারা বিদায় নিলেন তাদের কথা বাদ দিয়ে যেসব জানা পরিচিত মানুষ এখনও জীবিত আছেন ,তাদের সঙ্গে পুনরায় সাক্ষাৎ করতে চাইলেই কি সাক্ষাৎ করা যায় ? না কখনোই তা সম্ভব হয় না? দীর্ঘ জীবনে মানুষ কবে কোথায় গিয়েছে কতজনের সঙ্গে মিশেছে, সাধারণ পরিচিতি ও নিবিড় সম্পর্ক যাই হোক নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় ।
নদী দিয়ে জলস্রোত এক বার বয়ে যায় তাকে আর ওই ভাবে ফিরে পাওয়া যায় না।
No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....