প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হবে সেই দিন
তসলিমা লস্কর
স্বাধীনতা চাই, -স্বাধীনতা-,
প্রকৃত স্বাধীনতা বলবো আমরা কাকে?
এটাই কি? বলবো সর্বোত্তম
সীমাহীন স্বাধীনতাকে?
এমন কল্পনা নিছক বোকামি,
কোনো ধর্ম নয়, মনুষ্যত্ব দিয়ে অনুধাবন করুন!
কোন সীমা টি ন্যায্য এবং দামি!
সাংগঠনিক আইনগুলো যত জটিল করে রাখে
তাইতো সব স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে।
যদি মনুষ্য হয় অসৎ আনুগত্য আর
পাপাচারের দাস।
এটাই তো পরাধীনতা দেশের সর্বনাশ।
এ পুরুষশাসিত সমাজে
নারীরা আজ পুরুষদের অধীন।
লাঞ্ছিত, অপমানিত, অত্যাচারিত হচ্ছে
মেয়েরা দিনের পর দিন।
কেমন করে বলছেন আপনারা?
দেশ হয়েছে স্বাধীন।
নর ভক্ষক কিছু দানবের দল
যদি ধর্ষিতার স্বাধীনতাকে
করে রাখে অর্থহীন।
তাহলে স্বাধীনতা শব্দটি একদিন উঠবে
ঐ কাঠগড়ার সম্মুখীন।
মানব জাতি কোন না কোনো
পিতা-মাতা থেকে সৃষ্টি।
সেই অর্থে আমরা সকলে সকলের ভাই বোন।
অগ্রজগতের পথ হোক অনুজগতের নিদর্শন।
তাই আসুন সেই বদান্য ব্যক্তিটির জন্য
কাজে পড়ি নেমে-
যে নিজের অধিকার জানে,
যে নিজের কাজ জানে,
যে ভালো মন্দের পার্থক্য করতে জানে,
যে দেশপ্রেম জানে,
যে মানব প্রেম জানে,
যে আমি আপনি ভুল করলে-
প্রতিবাদ করতে জানে,
উপযুক্ত প্রতিবাদী ভাষা জানে,
যে প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকার করতে জানে,
যে সৎ থাকার মর্ম জানে,
যে সৎ বানানোর কারিগরি বিদ্যা জানে,
যে ভালো স্বপ্ন দেখতে জানে, ও অন্যদের ভালো স্বপ্ন দেখাতে জানে,
অগণিত জনতা ঐক্যবদ্ধ হবে যার
ভালবাসা ও সততার টানে।
সেই রাজর্ষি কে দাঁড় করান,
জনসম্মুখে এনে।
চাই স্বাধীকার থেকে প্রাপ্ত স্বাধীনতার মুক্তি।
চাই চিন্তা-চেতনা, কর্মের মিলন ও ভক্তি।
চাই একতা, অহিংসা, সম্ভ্রম,
জন্মদাত্রির প্রতি অনুরক্তি।
চাই প্রেম, প্রীতি, দুর্নিবার ও ত্রাসহীন ধীশক্তি।
আর চাই মানবিকতা, মনোবল, মমত্তো, মহার্ঘ,
ও সচেতন মনোবৃত্তি।
তবেই এদেশের জনগণ পাবে
অধীনতা থেকে নিষ্কৃতি।
তবেই অবসান ঘটাতে পারবে
দুশমন দুষ্কৃতি।
দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আন্দোলনের বিনিময়ে
ভারতীয়রা পেয়েছে স্বাধীন ভূখণ্ড।
তাদের এই মহৎ কার্য,
কিছুতেই হতে দেবে না পন্ড।
বাঙালি আশাবাদী জাতি তারা পথ চলতে অবিচল।
তারা একদিন নারীর অধিকার করবে সচল।
লব্ধ স্বাধীনতাকে জ্বলজ্বলে নক্ষত্রে পরিণত করবে একদিন।
আমাদের আশা-
প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হবে সেই দিন।
তসলিমা লস্কর।
- কুলতলি
দক্ষিণ 24 পরগনা


No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....