Thursday, June 2, 2022

প্রতিচ্ছায়া ||মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম

প্রতিচ্ছায়া
মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম 


“১”

পাশ দিয়ে যাওয়া তরুনীর চোখের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠে নাভিদ।
নিষ্প্রান এক জোড়া চোখ।
একজন রিক্সাওয়ালা যাচ্ছে পাশ দিয়ে; তার চোখও যেনবা মৃত মানুষের;
ঘোলাটে,
স্থির,
কোন চঞ্চলতা নেই।
এবার এক মেয়েকে তার মায়ের সাথে স্কুলে যেতে দেখে।
দিব্যি উচ্ছাস খেলা করছে মেয়েটির চোখেমুখে, প্রাণ খুলে গল্প করছে মায়ের সাথে।
মায়ের চোখেও টের পাওয়া যায় প্রাণের উত্তাপ।
সকাল মোটে সারে সাতটা, এর মধ্যেই শুরু হয়েছে নগরের ব্যস্ততা। তারই যান্ত্রিক ছাপ পরেছে যেনবা মানুষের চোখে মুখে। চাপের শহর ঢাকার সকাল, হঠাৎ অদ্ভুত খেয়াল চাপে নাভিদের মাথায়। হিসেব করতে থাকে, কটা চোখে প্রাণের উচ্ছ্বাস পাওয়া যায়। একটা রেশিও বের করার আইডিয়া পেয়ে বসে।
কিন্তু রেশিওটা শেষ পর্যন্ত বের করা হয়নি নাভিদের। অফিসে প্রচন্ড কাজের চাপে ভুলে যায়।কাজের চাপ কমতেই মনে কিছু একটা করা হয়নি। কিন্তু কী করতে চেয়েছিল কিছুতেই মনে করতে পারে না। চাপা এক অস্বস্তি নিয়েই অফিস থেকে বের হয়ে যায়।

“২”

নাভিদ কাঁচা বাজার করে ফিরছে; গিয়েছিলো রেলক্রসিংয়ের ওপাশের বাজারে। শেষ বিকেলের হালকা উত্তাপ মেখে বাজারে গেলেও, এখন সন্ধ্যা পেরিয়ে আঁধার নেমেছে। অস্বস্তি কাটাতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে বন্ধুর সাথে আড্ডা দিয়ে তবেই বাসার পথ ধরেছে।
ফিরতি পথে কিছুটা এগুতেই শুনতে পায় চিৎকার; একই সাথে গা শিউরানো অদ্ভুত শব্দ। স্থির দাঁড়িয়ে যায় নাভিদ, চলার শক্তি যেনবা হারিয়ে ফেলে হঠাৎ। পা দুটিকে মনে হয় তার শীষার মতো ভারী।
বাসের ধাক্কায় পরে গিয়েছে লোকটি। এপাশে, ঢালের নিচ থেকে স্পষ্ট দেখতে পায় নাভিদ, অলৌকিকভাবে লোকটি বাসের চার চাকার মাঝে পড়ে রয়েছে।
বাঁচবে কি?
ঠিক সেই মুহুর্তে মানুষের হৈচৈ, গাড়ির স্পীড বাড়িয়ে দেয় ড্রাইভার।
ঠিক তখনি শুনতে পায় অদ্ভুত শব্দটি, বুঝতে পারে এর উৎস ছিল পাজড়ের হার ভাঙ্গার; যার তীব্রতা পায় মাথার খুলি ভাঙ্গায়। ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে, ভাবছে সে দুঃস্বপ্ন দেখছে। চোখ খুললেই দেখবে নিজের বিছানায় শুয়ে আছে।
শেষ রক্ষা আর হয় না, গাড়টি চলে যায় লোকটার শরীরের উপর দিয়ে; স্পট ডেড।
লাশটিকে ঘিরে মানুষের জটলা। সোডিয়াম লাইটের আলোয়, দূর থেকে দেখতে পায় রক্তাক্ত রাস্তা; ছিন্ন মাংসের টুকরো আর খুলি ভেঙ্গে বের হওয়া থকথকে মগজ। ভয়ে চোখ ফিরেয়ে নেয় নাভিদ।
ওভার ব্রীজ দিয়ে রাস্তার ওপাশে যাবার সময় আবার লাশটির মুখের দিকে তাকায় নাভিদ।
কিন্তু এ কী!!!!!
মুখটি বিশ্রীভাবে থেতলে গেছে, ভরে গেছে টকটকে তাজা লাল রক্তে। দূর থেকেও ভয়ে কাঁপতে থাকে নাভিদ। ওভার ব্রীজের রেলিংটা ধরে কোনমতে তার দাঁড়িয়ে থাকে, ঘোলাটে হয়ে আসছে সবকিছু।
লাশটা আর কারো নয়, তার নিজের।
তাহলে, এখানে সে কে?
ঝুপ করেই আঁধার ঘিরে নেমে আসে। খুব কাছে দিয়ে উড়ে যায় একটি বাদুর, মানুষের কোলাহল আর যান্ত্রিক শব্দ ছাপিয়ে কানে ভেসে আসে অচেনা পৈশাচিক এক হাসি।
পাশ দিয়েই চলে যায় এক শ্রমিক, বড্ড নিষ্প্রান।










No comments:

Post a Comment

আপনার মতামত প্রদান করুন....

নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন