Thursday, June 2, 2022

শাল মহুয়ার বনে ।।সুজিত কুমার রায়

 শাল মহুয়ার বনে 
সুজিত কুমার রায়

শাল মহুয়ার বনে,সোনাঝুরি,কৃষ্ণচূড়া
কদম,শিমুল,বট,পলাশ,কাজু,আতা,সবেদা,বেল গাছ গুলো সব মিলে মিশে একপায়ে সারি সারি দাড়িয়ে।পাশে নদীর জলের কল কল শব্দ প্রকৃতির রাশি রাশি সৌন্দর্য্য। কোথাও বা লাল ধুলো আকাশে বাতাসে  মিশে রামধনুর রং এঁকে দিচ্ছে।
শুধুকি তাই রং বাহারি কৃষ্ণচূড়া ফুলে, নানা রকম ফলে ভরে আছে, বাবুই পাখি দের নিখুঁত কাজ করা বাসা গুলো ঝুলছে গাছের ডালে। তাদের কলরব,কাঠ পোকাদের ডাক, বড় বড় লাল পিপড়ে রা লাইন দিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে ব্যাস্ত ,মৌমাছিরা কখনো ফুলে আবার কখনো বা মৌচাকে নিজ কাজের মধ্যে,মন মাতাল করা পরিবেশ ।      মহুয়ার গন্ধে বাতাসের শব্দে আর ঐ যে বনের পাশের গ্রাম থেকে, বাঁশি আর ধামসা মাদলের সুর আসে।জোনাকিদের আলোর ঝিকিমিকি, ভ্রমরের গানের সুর,ঝি ঝি  পোকাদের ডাক,এসব প্রকৃতির শোভা বাড়িয়ে দেয়। সকাল বেলায় কৃষ্ণচূড়া  গাছের ফাঁকে রৌদ্রের কিরণ ,
আবার রাতের বেলায় চাঁদের আলো রুপালি জ্যোৎস্না মাতাল করে দেয়।
প্রকৃতি যেনো অম্লান বদনে হাসে
আহা অপরূপ আনন্দ চারিপাশে
কতো শোভা শাল মহুয়ার বনে,
ভাবের ঘরের ভিতরে ও বাহিরে
এই প্রকৃতি নিজ মনে কথা বলে। রুপমনি, টুসুমনি,বাহামনি রা দলবেঁধে কাঠ কুড়াতে এসে কান্নার শব্দ পায়। কে যেনো কাঁদছে, দেখে তারা চারদিকে ঘুরে,ঘুরে, ঘুরে বেলাশেষে কিছুই পায় না,কেও তো নেই তবে এ  কান্না কার? কেনো আমরা শুনতে পাই? দিন যায় রাত  যায় তবুও কারোর কান্না খুঁজে  পাই না। অবশেষে রূপ মনি, টুসু মনি, বুদন মঙ্গল, বস্কি রা  বলে ঐ যে গাছ লাগায় দিকে দিকে শহর থেকে পাখিদের জন্য  জল,ছোলা নিয়ে আসে নাম তার বাবু বটে জানি, এই বনে ওর  কথা সবাই শোনে । এই কান্নার শব্দের উৎস হয়তো জানতে পারলে সেই জানতে পারে।
অবশেষে একদিন তারা দরবার করে ,এ কান্না কার ?
তালপাতার মাথালি টুপি পরে
পাখিদের খাবার নিয়ে এসে যোগ দেয় সেই দরবারে, তাকে দেখে সকলে একসাথে হাত জোর করে বলে বাবু জোহর তোকে ,
বাবু এ কান্নার শব্দ কোথা থেকে আসে? বাবু নমস্কার দিয়ে বলে ঠিক করে কান পেতে মন দিয়ে শোন বুঝতে পারবি রে এ কান্নার শব্দ এই বনের বটে, প্রকৃতির কান্না বটে,
এই গাছ গুলো দারুন যন্ত্রণায় কাঁদছে আর বলছে কতো কতো জীবন বায়ু দিচ্ছি আমরা,আমাদের
ফুল খোঁপায় লাগাস তোরা,মধু নিয়ে যাস মোদের কাছ থেকে , কতো রং বাহারি ফুলের শোভায় এখানে সব বেড়াতে আসে,কতো আনন্দ নিস সাথে,জ্বালানি নিস আমাদের কাছে।
শান্তির শীতল ছায়া, খাবার জন্য
শাল পাতা আর কি বাকি আছে?
দেখেছিস নদীতে কতো কিছু ভাসে?
আমরা বৃক্ষ আমরা উদ্ভিদ,বিজ্ঞান ভূগোল আমাদের মানে, পরিবেশ কে রক্ষা করো স্কুলে বলে তবুও তোরা খাবার খেয়ে নোংরা করিস প্যাকেট ফেলে, ইচ্ছা মতো পাতা ছিরিস, ডাল কাটিস আবার মনে হলে গাছ কাটিস। বারুদের গন্ধে বাতাসে জ্বর আসে, নদীতে রক্ত আর মরা মানুষ ভাসে, কাক ময়না টিয়ারা জল পায়না দিনের শেষে।              
  নদীর কোল কেটে করছো খালি তাই আমরা আজ স্তব্ধ।                  
আমরা গাছ ,আমাদের ও
প্রাণ আছে আমাদের ও লাগে আমাদেরও কষ্ট হয়।তাই আজ প্রকৃতির অনুরোধ -
পরিবেশ বান্ধবগন নদী কেটনা, আনাচে কানাচে জলে  নোংরা ফেলোনা।
মন হলেই ফুল নষ্ঠ করোনা ,গাছের ওপর, ফুলের অপর অত্যাচার করোনা, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কে রক্ষা করো।
মনেরেখো আমরা গাছ আমাদের প্রাণ আছে শুধু বলতে কথা পারিনা,  ভালো মন্দ সব দেখি। দিন রাত দাঁরিয়ে কতো কিছুর সাক্ষী আমারা ।
আমরা আপনাদের প্রাকৃতিক বন্ধু তাই আমাদের প্রাণ বাঁচান প্রকৃতি কে রক্ষা করুন, ভালো বাসুন।
সুন্দর প্রকৃতির মাঝে মানব প্রকৃতি ও সুন্দর হয়ে উঠবে।।


সুজিত কুমার রায়


No comments:

Post a Comment

আপনার মতামত প্রদান করুন....

নবতম প্রকাশিত সংখ্যা

অপূর্ণ স্বপ্ন

অপূর্ণ স্বপ্ন  বিপ্লব মাহাতো পূর্ণিমা রাতে চাঁদের এ কী মেলা, ও সুন্দরী, ভালো লাগে না আর লুকোচুরি খেলা। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে যাবো দূরদেশে, ...

আরও পড়ুন