নদী
অনুপ কুমার জানা
পার্বত্য অঞ্চল থেকে সৃষ্টি হয় নদী ,
বহে চলে মালভূমি , সমভুমির উপর দিয়ে ,
চলার পথে বিজরিত কতো সুখ , দুঃখ , বেদনা ,
অবশেষে মিলিত হয় সাগর , মহাসাগরে গিয়ে ।
কে বলে নদী নির্জীব , প্রাণ নেই তার ?
আমার চোখে সে শুধু প্রাণবন্ত নয় ,
প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে তার দেহ-মনে
যে প্রাণে রয়েছে অফুরন্ত শক্তির সঞ্চয় ।
মানুষের মতো নদীরও জীবন চতুরাশ্রম ,
তরুণ , যৌবন , পরিণত , বার্ধক্যে বিভাজিত ইহা ,
উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে প্রতিটি পর্যায়ে
উপহার দেয় প্রতিটি ধাপে বিভিন্ন ভুমিরুপ দিয়া ।
বিবিধ নামে পরিচিত এ'সকল নদী গুলো ,
প্রধান নদী থেকে হয়েছে শাখানদী , উপনদী ক্রমে ,
পুরুষের নামেও ডাকি মোরা কভুও তাদের ,
কভুও পরিচিত আবার তারা মেয়েদের নামে ।
তরুণ ও যৌবনে উদ্যাম শক্তিতে বহে চলে তারা
অসম্ভব বলে কোন কিছুই নেই তাদের এখানে ,
নুড়ি , বালির সাথে বহে নিয়ে যায় পাথরকেও
গিরিখাত , ক্যানিয়ন , জলপ্রপাত সৃষ্টি করে সেখানে ।
সমতল ভূমিতে নদীর পরিণত ও বৃদ্ধাবস্থা ,
এখানে সমস্ত নদী কি অত্যন্ত ধীর ও স্থিতি ,
সামান্য বাধাতে পরিবর্তন করে গতিপথ ,
সমাজে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের যেমন হয় পরিণতি ।
অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ কখনো কখনো সৃষ্টি করে নদী ,
কোন কোন নদীর মৃত্যু ঘটে এখানে ;
অকাল মৃত্যু যেমন ঘটে যায় প্রতিটি প্রজাতিতে
ব্যাতিক্রমও ঘটে না তেমন নদীদের জীবনে ।
মানুষের সাথে নদীর কিছু পার্থক্য রয়েছে ,
ভুমিকম্পে হতে পারে নদীর বৃদ্ধাবস্থার পরিবর্তন ;
প্রকৃতির ভুমি তখন হয়ে যায় ওলোট পালোট
নদী তখন ফিরে পেতে পারে তার নতুন যৌবন ।
নদীর প্রবাহের সাথে বহে মানুষের প্রবাহ ,
কতো গ্ৰাম , কতো শহর গড়ে নদীর দু'পাশে ,
বাণিজ্যের বাহক হয় এই কল্পতরু নদী
ক্লান্তিও দূর হয় মোদের নদী-সমীরের পরশে ।


No comments:
Post a Comment
আপনার মতামত প্রদান করুন....